Skip to content
সালিশ ও মধ্যস্থতা

মধ্যস্থতা ও আপস আলোচনা

বেশিরভাগ বিরোধই শেষমেশ মীমাংসায় গিয়ে ঠেকে। প্রশ্ন হলো, সেখানে পৌঁছাতে কতটা সময় আর অর্থ খরচ হয়। মধ্যস্থতা সেই মুহূর্তটিকে এগিয়ে নিয়ে আসে। আমাদের প্রিন্সিপাল একজন স্বীকৃত মধ্যস্থতাকারী (মিডিয়েটর), আর আমরা মধ্যস্থতায় আইনজীবী হিসেবে এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবেও কাজ করি।

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (ধারা ৮৯ক)অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
বাংলাদেশে সরকারি বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা বোঝাতে খোলা দরজা ও আবেদনপত্রের চিত্র

মামলার আগে ও মামলা চলাকালে মধ্যস্থতা

ব্যবসায়িক, সম্পত্তি, পারিবারিক ও চাকরি সংক্রান্ত বিরোধে আমরা ক্লায়েন্টের পক্ষে মধ্যস্থতা ও সুসংগঠিত আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব করি, আর পক্ষগুলো নিরপেক্ষ কাউকে চাইলে আমরা মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করি। মামলা দায়েরের আগেই বেসরকারিভাবে, অথবা মামলা চলাকালীন আদালত-সংযুক্তভাবে—দুইভাবেই মধ্যস্থতা হতে পারে।

আদালত-সংযুক্ত মধ্যস্থতা

বাংলাদেশের কার্যপদ্ধতিতে মামলার মধ্যেই মধ্যস্থতা যুক্ত করা আছে। দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৮৯ক ধারা অনুযায়ী দেওয়ানি মামলা মধ্যস্থতায় পাঠানো যায়, অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এ ঋণ আদায়ের মামলায় মীমাংসার বিধান আছে, আর পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ একাধিক পর্যায়ে মীমাংসাকে উৎসাহ দেয়। আদালতে থাকা মামলাও এভাবে মিটিয়ে ফেলা যায়।

বেসরকারি মধ্যস্থতা

কোনো মামলা দায়ের না হয়ে থাকলে, বেসরকারি মধ্যস্থতা আরও দ্রুত হয় আর বিরোধটিকে জনসমক্ষে আসা থেকে দূরে রাখে। যেসব ক্ষেত্রে পক্ষগুলোর মধ্যে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মতো কিছু থাকে—ব্যবসায়িক অংশীদার, যৌথ মালিক, পরিবারের সদস্য, নিয়োগকর্তা ও কর্মী—সেখানে এটি বিশেষভাবে কার্যকর।

মধ্যস্থতা যা নয়

মধ্যস্থতা কোনো দুর্বলতার লক্ষণ বা সহজ বিকল্প নয়, আর সত্যিকারের জবরদস্তি, সহিংসতা বা প্রকাশ্য রায়ের প্রয়োজন থাকলে তা উপযুক্ত নয়। এমন হলে আমরা সরাসরি তা বলে দিই, প্রতিটি বিরোধকে মীমাংসার দিকে ঠেলে না দিয়ে।

প্রস্তুতি নিয়ে মধ্যস্থতায় আসুন, নিজের হিসাব ও পিছু হটার সীমা ঠিক করে। সবচেয়ে ভালো ফল যারা পায়, তারা সবচেয়ে আক্রমণাত্মক পক্ষ নয়; তারা জানে ঠিক কী তাদের প্রয়োজন আর কতটা মেনে নেওয়া সম্ভব।

যা সঙ্গে থাকলে সুবিধা হয়

  • বিরোধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও আপনি কী চান তার বিবৃতি
  • মূল কাগজপত্র ও অঙ্ক-সংখ্যা
  • মামলা করলে বাস্তবসম্মতভাবে সবচেয়ে ভালো ও সবচেয়ে খারাপ ফলাফল কী হতে পারে
  • ইতিমধ্যে দেওয়া বা পাওয়া কোনো প্রস্তাব

কোথায় হয়, কত সময় লাগে

বেসরকারি মধ্যস্থতা কয়েক দিনের মধ্যেই আয়োজন করা যায় আর প্রায়ই এক বা কয়েকটি সেশনেই শেষ হয়ে যায়। আদালত-সংযুক্ত মধ্যস্থতা মামলার মধ্যেই হয়, সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত পর্যায়ে। যেভাবেই হোক না কেন, এতে সময় লাগে সপ্তাহ, একটি বিতর্কিত মামলায় যেমন বছরের পর বছর লাগতে পারে তেমনটা নয়।

মধ্যস্থতা ও আপস আলোচনা বোঝাতে ব্যবহৃত ছবি
মধ্যস্থতা যেভাবে হয়
1

উপযুক্ততা যাচাই

আপনার বিরোধের জন্য মধ্যস্থতা ঠিক ও নিরাপদ কি না আমরা যাচাই করি, আর না হলে তা সরাসরি বলে দিই।

2

অবস্থান প্রস্তুত করা

আপনার হিসাব, অগ্রাধিকার আর পিছু হটার সীমা আমরা ঠিক করে দিই।

3

মধ্যস্থতা পরিচালনা

সেশনে আমরা আপনার প্রতিনিধিত্ব করি, অথবা নিযুক্ত হলে নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে কাজ করি।

4

ফলাফল নথিভুক্ত করা

যেকোনো সমঝোতা এমন রূপে লিপিবদ্ধ করি যা বাধ্যতামূলক ও কার্যকর করা যায়।

প্রায়ই এক বা কয়েকটি সেশনেই শেষ হয়ে যায়।পরামর্শের সময় নিন

আগে ফ্রি গাইডগুলো পড়ুন

প্রথম সাক্ষাতে ক্লায়েন্টরা যা জিজ্ঞেস করেন, তার বেশির ভাগের উত্তর আমাদের ফ্রি গাইডে ধাপে ধাপে দেওয়া আছে। আগে নিচের গাইডগুলো পড়ুন; চেম্বারকে দিয়ে কাজ করাতে চাইলে কনসালটেশন বুক করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

মধ্যস্থতায় রাজি হলে কি আমাকে দুর্বল মনে হবে?

না। ব্যবসায়িক পক্ষগুলো নিয়মিতই মধ্যস্থতা করে, আর এখানকার আদালতগুলোও একে সক্রিয়ভাবে উৎসাহ দেয়। প্রস্তুতিহীন থাকাই একটি অবস্থানকে দুর্বল করে, কথা বলার আগ্রহ নয়।

মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে কী হবে?

মামলা চলতে থাকে, আর মধ্যস্থতায় বলা কিছুই আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায় না। ব্যর্থ মধ্যস্থতাও সাধারণত বিষয়গুলো সংকুচিত করে দেয় আর পরের ধাপ দ্রুততর করে।

আদালতে থাকা মামলাও কি মধ্যস্থতায় নেওয়া যায়?

হ্যাঁ। বাংলাদেশের কার্যপদ্ধতিতে এর বিধান আছে, যার মধ্যে আছে দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারা এবং পারিবারিক ও ঋণ আদায়ের মামলাও। মামলা দায়ের হয়ে গেলেও দরজা বন্ধ হয়ে যায় না।

কোন বিরোধে মামলার আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক?

২০২৫–২৬ সালে সংশোধিত আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০ অনুযায়ী, যেসব জেলায় এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে সেখানে তফসিলভুক্ত বিরোধ আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যেতে হয়: পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩-এর পারিবারিক বিষয়, যৌতুক দাবির মামলা (যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮, ৩–৪ ধারা), বাড়িভাড়া বিরোধ, অগ্রক্রয় ও পিতা-মাতার ভরণপোষণ। মধ্যস্থতা বিনামূল্যে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয়।

লিগ্যাল এইডের জন্য কীভাবে আবেদন করব?

জেলা জজ আদালতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের কাছে আবেদন করুন, অথবা জাতীয় আইনগত সহায়তা হেল্পলাইন ১৬৬৯৯-এ ফোন করুন। যোগ্য ব্যক্তি বিনামূল্যে আইনজীবী পান, আর লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতা সবার জন্য বিনামূল্যে।

আইন লাইব্রেরি

এই গাইডের পেছনের আইন ও ফরম

বিডি অ্যাডভোকেসিতে সংরক্ষিত প্রামাণিক পাঠ। ধারা নম্বরগুলো এই গাইডে ব্যবহৃত।

শেয়ার করুন

দ্রুত মিটিয়ে ফেলুন

স্বীকৃত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে মধ্যস্থতা ও আপস আলোচনা। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।