Skip to content
উত্তরাধিকার, উইল ও সম্পত্তি

সাকসেশন সার্টিফিকেট: আবেদন থেকে ব্যাংকের টাকা ছাড় পর্যন্ত

ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র অফিস, কোম্পানি বা বিমা প্রতিষ্ঠান বলেছে সাকসেশন সার্টিফিকেট ছাড়া মৃত ব্যক্তির টাকা দেবে না। আমরা আরজি তৈরি করি, সঠিক আদালতে দাখিল করি, প্রতিটি ওয়ারিশকে নোটিশ দিই, আপত্তি সামলাই এবং প্রতিষ্ঠান যে সনদ গ্রহণ করবে সেটি আপনার হাতে দিই।

উত্তরাধিকার আইন ১৯২৫, দশম খণ্ড (ধারা ৩৭২)কোর্ট ফি আইন ১৮৭০, তফসিল ১ অনুচ্ছেদ ১১ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১, ধারা ১০৩
আদালতের সিলমোহরযুক্ত সনদ, ব্যাংক পাসবই ও সঞ্চয়পত্রের বান্ডিল: বাংলাদেশে সাকসেশন সার্টিফিকেটের আবেদন

এটি কি আপনার সমস্যা?

  • ব্যাংক বা সঞ্চয়পত্র অফিস মৃত বাবা-মা বা স্বামী/স্ত্রীর টাকা ছাড়ছে না
  • অ্যাকাউন্ট, এফডিআর, শেয়ার বা পলিসিতে নমিনি নেই, অথবা নমিনি ভাগ দিতে রাজি নন
  • ওয়ারিশরা বিভিন্ন শহরে বা বিদেশে; একজনের হাতে টাকা তোলার ক্ষমতা দরকার
  • আগের সনদে কোনো ওয়ারিশ বাদ পড়েছেন; তা বাতিল বা সংশোধন করতে হবে
  • ওয়ারিশ সনদ, সাকসেশন সার্টিফিকেট না প্রবেট, কোনটি লাগবে বুঝতে পারছেন না

আমরা আপনার জন্য যা করি

আপনার আসলে কোন কাগজ লাগবে, তা বলা

ওয়ারিশ সনদ ওয়ারিশদের তালিকা; সাকসেশন সার্টিফিকেট দিয়ে ঋণ ও সিকিউরিটি (টাকা) তোলা যায়; প্রবেট বা লেটার্স অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উইল বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য। আমরা আগে ব্যাংক বা কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে তাদের চাহিদা লিখিতভাবে নিই, কারণ ভুল সনদের আবেদনেই এসব কাজে কয়েক মাসের বদলে এক বছর লাগে।

আরজি তৈরি ও দাখিল

উত্তরাধিকার আইন ১৯২৫-এর দশম খণ্ড অনুযায়ী মৃত ব্যক্তি যেখানে থাকতেন সেই জেলার জেলা জজ আদালতে (ঢাকায় নির্ধারিত যুগ্ম জেলা জজ আদালতে) আরজি তৈরি করি; প্রতিটি ওয়ারিশের নাম, সম্পর্ক ও ঠিকানা এবং প্রতিটি অ্যাকাউন্ট বা সার্টিফিকেটের নম্বর ও পরিমাণ উল্লেখ করে।

নোটিশ, শুনানি ও আপত্তি

আদালত ওয়ারিশদের নোটিশ দেয় ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আমরা সবাইকে যথাযথভাবে নোটিশ পৌঁছাই, মূল কাগজ ও আবেদনকারীদের সাক্ষ্যসহ শুনানিতে হাজির হই এবং সহ-ওয়ারিশ বা নমিনির আপত্তি সামলাই। ওয়ারিশরা একমত হলে তাদের সম্মতিপত্র দাখিল করি, যাতে একজনই আবেদন করতে পারেন।

কোর্ট ফি, সনদ ও ব্যাংক

আদালত সন্তুষ্ট হলে কোর্ট ফি জমার আদেশ দেয়, সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে। আমরা ফি জমা দিই, সনদ তুলি এবং প্রতিটি ব্যাংক বা অফিসে কভার লেটারসহ সত্যায়িত কপি পাঠাই, যাতে দ্বিতীয় দফা ছাড়াই টাকা ছাড় হয়।

নমিনি বিরোধ ও সনদ বাতিল

নমিনি টাকা পান সব ওয়ারিশের পক্ষে ট্রাস্টি হিসেবে, মালিক হিসেবে নয়। সব টাকা রেখে দেওয়া নমিনির বিরুদ্ধে আমরা ওয়ারিশদের পক্ষে কাজ করি, এবং ওয়ারিশ গোপন করে নেওয়া সনদ বাতিলের আবেদন করি।

যে সম্পদ তুলতে হবে কেবল সেটিই আরজিতে রাখুন। কোর্ট ফি সম্পদের মূল্যের শতাংশ, তাই অপ্রয়োজনীয় সম্পদ উল্লেখ করা মানে টাকা নষ্ট।

ফি, সময় ও কাগজপত্র

ফিকোর্ট ফি: ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত নেই; ২০,০০০ থেকে ১ লাখ পর্যন্ত ১%; ১ লাখের ওপরে ২%, কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই; আদালতের আদেশে পরিশোধ। আপত্তিহীন আবেদনে পেশাগত ফি নির্দিষ্ট ও লিখিতভাবে জানানো হয়; বিরোধপূর্ণ মামলায় ধাপ অনুযায়ী।
কত সময় লাগেঢাকায় আপত্তিহীন আবেদনে দাখিল থেকে সনদ পর্যন্ত সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস। সমন সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনে যায়; কোর্ট ফি জমার ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে সনদ হয়। বিরোধপূর্ণ মামলায় বেশি সময় লাগে।
যা সাথে আনবেনমৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, সব ওয়ারিশের এনআইডি, ব্যাংক বা সম্পদের বিবরণী, প্রতিষ্ঠানের চিঠি, অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি।

আপনার কাছ থেকে যা লাগবে

  • মৃত্যু সনদ (অনলাইন নিবন্ধন) এবং থাকলে হাসপাতাল বা দাফনের সনদ
  • ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ওয়ারিশ সনদ
  • প্রতিটি ওয়ারিশের এনআইডি, জন্মসনদ বা পাসপোর্ট, ছবি ও বর্তমান ঠিকানা
  • প্রতিটি সম্পদ ও তার মূল্য দেখানো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, এফডিআর রসিদ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার বা বিমার কাগজ
  • ব্যাংক বা কোম্পানির সাকসেশন সার্টিফিকেট চাওয়া চিঠি
  • যারা আবেদন করছেন না তাদের লিখিত সম্মতি বা অনাপত্তি; প্রবাসী ওয়ারিশের দূতাবাস-সত্যায়িত বা অ্যাপোস্টিল করা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি

যে ভুলগুলো প্রতি সপ্তাহে দেখি

  • মৃত ব্যক্তি মুসলিম ও উইল নেই, তবু প্রবেটের আবেদন। প্রবেট উইলের জন্য; টাকার জন্য সাকসেশন সার্টিফিকেট।
  • সময় বাঁচাতে কোনো ওয়ারিশ বাদ দেওয়া। সনদ বাতিল হয় এবং টাকার হিসাব দিতে হয়।
  • ভুল জেলায় দাখিল। আবেদন হয় মৃত ব্যক্তি যেখানে থাকতেন সেখানে, আবেদনকারী যেখানে থাকেন সেখানে নয়।
  • আরজিতে পারিবারিক জমি উল্লেখ। সাকসেশন সার্টিফিকেট জমি হস্তান্তর করে না; জমি উত্তরাধিকারে যায় ও নামজারিতে রেকর্ড হয়।
  • ধরে নেওয়া যে নমিনিই টাকার মালিক। হাইকোর্ট বিভাগ নমিনিকে ওয়ারিশদের ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য করে।
আমরা যেভাবে কাজ করি
1

কোন সনদ, নিশ্চিত করা

ব্যাংক বা কোম্পানির চাহিদা লিখিতভাবে নিই এবং সম্পদ ও ওয়ারিশদের তালিকা করি।

2

আরজি দাখিল

খসড়া, যাচাই ও আবেদনকারীদের সইয়ের পর প্রাথমিক কোর্ট ফিসহ দাখিল ও নম্বর।

3

নোটিশ ও শুনানি

প্রতিটি ওয়ারিশকে নোটিশ; মূল কাগজসহ শুনানিতে হাজির হয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ।

4

ফি ও সনদ

আদেশের সময়ের মধ্যে মূল্যভিত্তিক কোর্ট ফি জমা, সনদ সংগ্রহ এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সত্যায়িত কপি পৌঁছানো।

প্রবাসী ওয়ারিশদের দেশে আসতে হয় না: রেজিস্ট্রি করা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নিতে একজন ওয়ারিশ বা আমরা তাদের পক্ষে কাজ করি।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে সাকসেশন সার্টিফিকেট করতে কত খরচ?

কোর্ট ফি ঋণ ও সিকিউরিটির মূল্যের ওপর: ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত নেই, ২০,০০০ থেকে ১ লাখে ১%, ১ লাখের ওপরে ২%, কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। আপত্তিহীন আবেদনে আমাদের পেশাগত ফি নির্দিষ্ট এবং দাখিলের আগে লিখিতভাবে জানানো হয়।

ঢাকায় সাকসেশন সার্টিফিকেট পেতে কত দিন লাগে?

আপত্তিহীন আবেদনে দাখিল থেকে সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস। সমন প্রায় ৭ থেকে ১০ দিনে যায়, কোর্ট ফি জমার কয়েক দিনের মধ্যে সনদ হয়। সহ-ওয়ারিশ বা নমিনির আপত্তি থাকলে বেশি সময় লাগে।

কোন আদালত সাকসেশন সার্টিফিকেট দেয়?

উত্তরাধিকার আইন ১৯২৫-এর দশম খণ্ড অনুযায়ী মৃত ব্যক্তি যেখানে থাকতেন সেই জেলার জেলা জজ আদালত। ঢাকায় অর্পিত ক্ষমতায় নির্ধারিত যুগ্ম জেলা জজ আদালত এসব আবেদন শোনে।

ব্যাংকের জন্য ওয়ারিশ সনদ কি যথেষ্ট?

টাকার জন্য সাধারণত নয়। ওয়ারিশ সনদ ওয়ারিশদের তালিকা; জমির নামজারি ও অফিসের কাজে লাগে। ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র অফিস ও কোম্পানি নিজেদের সুরক্ষায় আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেট চায়, যাতে লেখা থাকে কে টাকা তুলতে পারবেন।

নমিনি কি সব টাকা পান?

না। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১০৩ ধারায় ব্যাংক নমিনিকে টাকা দিতে পারে, তবে হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তে নমিনি সব আইনসম্মত ওয়ারিশের পক্ষে ট্রাস্টি হিসেবে টাকা রাখেন এবং অংশ অনুযায়ী বণ্টন করতে বাধ্য।

একজন ওয়ারিশ কি একাই আবেদন করতে পারেন?

হ্যাঁ, অন্যদের লিখিত সম্মতি বা অনাপত্তি নিয়ে, অথবা তাদের নোটিশ দিয়ে। প্রতিটি ওয়ারিশের নাম থাকতে হবে; ওয়ারিশ গোপন করে নেওয়া সনদ বাতিল হতে পারে।

জমির জন্য কি সাকসেশন সার্টিফিকেট লাগে?

না। জমি উত্তরাধিকারসূত্রে ওয়ারিশদের কাছে যায় এবং ওয়ারিশ সনদ দিয়ে নামজারিতে রেকর্ড হয়। সাকসেশন সার্টিফিকেট ঋণ ও সিকিউরিটির জন্য: ব্যাংকের টাকা, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বিমার টাকা।

প্রবাসী ওয়ারিশরা কি আবেদন করতে পারেন?

হ্যাঁ। বাংলাদেশ মিশনে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নিতে সই করে বা অ্যাপোস্টিল করিয়ে পাঠালে আমরা তাদের পক্ষে দাখিল ও হাজির হই।

কাজ শুরুর আগে ফি লিখিতভাবে নিশ্চিত করা হয়। সরকারি ফি ও কোর্ট ফি আলাদা এবং রসিদসহ।

শেয়ার করুন

ব্যাংকে আটকে থাকা টাকা ছাড় করান

ব্যাংকের চিঠি, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশদের তালিকা পাঠান। সঠিক সনদ ও কোর্ট ফি এক কর্মদিবসে জানাব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।