সাকসেশন সার্টিফিকেট: খরচ, প্রক্রিয়া ও প্রোবেটের সঙ্গে পার্থক্য
দুটোই এমন আদালতি নথি যা দিয়ে কেউ মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ নিয়ে কাজ করতে পারেন, আর মানুষ প্রায়ই এই দুটি গুলিয়ে ফেলেন। সাকসেশন সার্টিফিকেট দেনা ও সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত, প্রোবেট উইলের সত্যতা প্রমাণ করে। ভুল আবেদন করলে মাসের পর মাস সময় নষ্ট হয়।
সংক্ষেপে উত্তর
সাকসেশন সার্টিফিকেট থাকলে একজন ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির দেনা ও সিকিউরিটিজ আদায় করতে পারেন—ব্যাংক ব্যালেন্স, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বিমার টাকা। প্রোবেট হলো আদালতের নিশ্চয়তা যে উইলটি আসল এবং তাতে নাম থাকা নির্বাহক (এক্সিকিউটর) দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। উইল না থাকলে প্রোবেটের আবেদন করা যায় না। ব্যাংক বা কোম্পানির কাছে আটকে থাকা টাকা ছাড়ানোই যদি লক্ষ্য হয়, তাহলে সাধারণত সাকসেশন সার্টিফিকেটই সঠিক আবেদন।
সাকসেশন সার্টিফিকেট যা কভার করে না
এটি দেনা ও সিকিউরিটিজ জাতীয় অস্থাবর সম্পত্তি কভার করে। এতে জমি হস্তান্তর হয় না। অনেকে মনে করেন এটি দিয়ে বাড়ি বা জমির বিরোধ মিটে যাবে, বাস্তবে তা হয় না। প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টিত হয়, আর মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তার প্রতিকার বাটোয়ারা মামলা বা স্বত্ব ঘোষণার মামলা—সার্টিফিকেট নয়।
প্রোবেট ও লেটার্স অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
উইলে নির্বাহকের নাম থাকলে প্রোবেট মঞ্জুর করা হয়। উইল থাকলেও নির্বাহক দায়িত্ব পালনে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে, অথবা উইল ছাড়াই সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা করতে হলে, সমতুল্য অনুমতিপত্র হলো লেটার্স অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এসবের কতটা বাধ্যতামূলক তা সম্প্রদায়ভেদে ভিন্ন হয়, আর অনেকটাই নির্ভর করে সম্পদ যে প্রতিষ্ঠানের কাছে আছে তারা আসলে কী চায় তার ওপর।
আবেদনে যা থাকে
আবেদনটি এখতিয়ারসম্পন্ন জেলা জজ আদালতে দাখিল করতে হয়। এতে মৃত ব্যক্তির পরিচয়, মৃত্যুর তারিখ, উত্তরাধিকারী এবং নির্দিষ্ট দেনা ও সিকিউরিটিজের বিবরণ উল্লেখ থাকতে হয়। আদালত নোটিশ জারি ও প্রকাশ করে, যাতে প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিদার থাকলে আপত্তি জানাতে পারেন। কেউ আপত্তি না করলে অনুমতিপত্র মঞ্জুর হয়ে যায়; কোনো উত্তরাধিকারী আপত্তি করলে বিষয়টি বিতর্কিত হয়ে পড়ে এবং সময় অনেক বেশি লাগে।
যেসব কাগজপত্র লাগবে
- মৃত্যুসনদ
- সম্পর্কের প্রমাণ: জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া ওয়ারিশ বা পারিবারিক সনদ
- প্রতিটি সম্পদের বিবরণ: হিসাব নম্বর, সনদ বা শেয়ার নম্বর
- উইল থাকলে তার কপি
- ঠিকানাসহ উত্তরাধিকারীদের সম্পূর্ণ তালিকা
কত সময় লাগে, কত খরচ হয়
কোনো আপত্তি না উঠলে সাধারণত আবেদন থেকে মঞ্জুর হওয়া পর্যন্ত কয়েক মাস সময় লাগে, নোটিশের সময়কাল ধরে। আদালতের ফি নির্ধারিত হয় কভার করা দেনা ও সিকিউরিটিজের মূল্যের ভিত্তিতে, তাই বাস্তবসম্মত কারণেই আবেদন শুধু প্রয়োজনীয় সম্পদের মধ্যে সীমিত রাখা ভালো। বিতর্কিত মামলায় সময় অনেক বেশি লাগে।
কী প্রয়োজন তা নির্ধারণ
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিখিতভাবে জেনে নিন কোন নথি লাগবে, এবং প্রতিটি সম্পদ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করুন।
প্রস্তুত ও দাখিল
আবেদনে উত্তরাধিকারী, সম্পদ ও সম্পর্কের প্রমাণ উল্লেখ করে জেলা জজ আদালতে দাখিল করা হয়।
নোটিশ ও আপত্তি
আদালত নোটিশ জারি ও প্রকাশ করে, এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিদারের কোনো আপত্তি থাকলে তা নিষ্পত্তি করা হয়।
মঞ্জুর ও সংগ্রহ
মঞ্জুর হলে সার্টিফিকেটটি প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিয়ে সম্পদ প্রকৃতপক্ষে সংগ্রহ করা হয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
সাকসেশন সার্টিফিকেট দিয়ে কি বাবার জমি হস্তান্তর হবে?
না। এটি দেনা ও সিকিউরিটিজ কভার করে, স্থাবর সম্পত্তি নয়। জমি প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টিত হয়, আর এ নিয়ে বিরোধ থাকলে বাটোয়ারা মামলা বা স্বত্ব ঘোষণার মামলা করতে হয়।
উইল আছে। তাহলেও কি প্রোবেট লাগবে?
এটি নির্ভর করে সম্প্রদায় এবং সম্পদ যে প্রতিষ্ঠানের কাছে আছে তারা কী দাবি করে তার ওপর। প্রথমে তাদের কাছে লিখিতভাবে জেনে নিন, কারণ সেই উত্তরই সাধারণত ঠিক করে দেয় কোন আবেদন করতে হবে।
একজন উত্তরাধিকারী কি একাই আবেদন করতে পারেন?
একজন উত্তরাধিকারী আবেদন করতে পারেন, তবে প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর নাম প্রকাশ করতে হবে এবং তাদের নোটিশ দিতে হবে। কোনো উত্তরাধিকারীকে বাদ দিলে পরে অনুমতিপত্র চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
বাংলাদেশে সাকসেশন সার্টিফিকেটের খরচ কত?
প্রধান খরচ হলো আদালতের ফি, যা সার্টিফিকেটে কভার হওয়া দেনা ও সিকিউরিটিজের মূল্যের শতাংশ হিসেবে ধার্য হয় (একটি নির্ধারিত সীমার মধ্যে), এর সঙ্গে থাকে আইনজীবীর ফি ও অন্যান্য খরচ। যেহেতু এটি মূল্যভিত্তিক, ছোট এস্টেটে খরচ কম আর বড় এস্টেটে বেশি; আপনার প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী একটি আনুমানিক খরচ জেনে নিন।
সাকসেশন সার্টিফিকেট পেতে কত সময় লাগে?
দাখিলের পর আদালত নোটিশ জারি করে এবং সার্টিফিকেট মঞ্জুরের আগে আপত্তির জন্য সময় দেয়। বাস্তবে সাধারণত কয়েক মাস সময় লাগে, আর আপত্তি উঠলে বা উত্তরাধিকারীদের মধ্যে মতৈক্য না থাকলে সময় আরও বেশি লাগে।
সাকসেশন সার্টিফিকেট ও ওয়ারিশ সনদের মধ্যে পার্থক্য কী?
এ দুটি আলাদা নথি। ওয়ারিশ সনদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশন থেকে ইস্যু হয় এবং তাতে আইনি উত্তরাধিকারীদের তালিকা থাকে। সাকসেশন সার্টিফিকেট আদালত থেকে মঞ্জুর হয় এবং তাতে নাম থাকা উত্তরাধিকারীকে মৃত ব্যক্তির নির্দিষ্ট দেনা ও সিকিউরিটিজ আদায়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়। ব্যাংক ও কোম্পানি সাধারণত শুধু ওয়ারিশ সনদ নয়, টাকা বা শেয়ার ছাড়ার আগে আদালতের সার্টিফিকেটই চায়।
মৃত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলতে কি সাকসেশন সার্টিফিকেট লাগবে?
সামান্য ব্যালেন্সের বেশি হলে সাধারণত হ্যাঁ লাগবে। উত্তরাধিকারীদের কাছে মৃত ব্যক্তির টাকা ছাড়ার আগে ব্যাংক সাধারণত সাকসেশন সার্টিফিকেট, অথবা উইল থাকলে প্রোবেট বা লেটার্স অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চায়।
কোন আদালত সাকসেশন সার্টিফিকেট ইস্যু করে?
মৃত ব্যক্তি যেখানে বসবাস করতেন বা সম্পদ যেখানে অবস্থিত, সেই এলাকার এখতিয়ারসম্পন্ন জেলা জজ আদালতে আবেদনটি করতে হয়।
সাকসেশন সার্টিফিকেট কি চ্যালেঞ্জ বা বাতিল করা যায়?
হ্যাঁ। যেহেতু নোটিশ প্রকাশ করা হয় এবং উত্তরাধিকারীদের বক্তব্য শোনার অধিকার আছে, প্রক্রিয়া চলাকালীন এটি নিয়ে আপত্তি তোলা যায়, আর পরে অন্য উত্তরাধিকারীদের গোপন রেখে বা ভুল তথ্য দিয়ে সার্টিফিকেট নেওয়ার মতো ত্রুটির কারণে এটি বাতিলও হতে পারে।
কোন অনুমতিপত্র লাগবে বুঝতে পারছেন না?
প্রতিষ্ঠানের চিঠিটি নিয়ে আসুন, একটি আলোচনাতেই আমরা বলে দেব।
