বিয়ে ও নিবন্ধন
বিয়ে ততটাই নিরাপদ যতটা তার কাগজপত্র। পরে পাসপোর্ট, ভিসা, ব্যাংক, স্কুলে ভর্তি বা দেনমোহর-উত্তরাধিকারের দাবির জন্য বিয়ে প্রমাণ করতে নিবন্ধনই কাজে লাগে। আমরা প্রথমবারেই সব সম্প্রদায়ের বিয়ে সঠিকভাবে নিবন্ধন করি, আর যেসব বিয়ে কখনো ঠিকভাবে নিবন্ধিত হয়নি সেগুলোও সমাধান করি।
এই সেবায় যা আছে
বিয়ে কীভাবে হয় ও নিবন্ধিত হয় তা সম্প্রদায়ভেদে ভিন্ন। মুসলিম বিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিবন্ধন করেন ও কাবিননামায় লিপিবদ্ধ করেন, আর এই নিবন্ধন আইনত বাধ্যতামূলক। হিন্দু বিয়ে ২০১২ সালের আইনের অধীনে নিবন্ধিত হতে পারে। খ্রিস্টান বিয়ে খ্রিস্টান বিবাহ আইন, ১৮৭২-এর অধীনে পড়ে। ভিন্ন ধর্মের ও সিভিল বিয়েতে বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২ প্রযোজ্য। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করি, আর যে বিয়ে হয়ে গেছে কিন্তু কখনো ঠিকভাবে নিবন্ধিত হয়নি, সেই সাধারণ সমস্যাও সমাধান করি।
মুসলিম বিয়ে ও কাবিননামা
কাবিননামা হলো বিয়ের চুক্তি ও বিয়ের প্রমাণ। এতে দেনমোহর, তা তাৎক্ষণিক না বিলম্বিত এবং পক্ষগুলোর সম্মত শর্ত—তালাকের অর্পিত অধিকারসহ—লিপিবদ্ধ থাকে। শুরুতেই এসব এন্ট্রি ঠিকভাবে করা পরবর্তী বেশিরভাগ বিরোধ ঠেকিয়ে দেয়। আমরা শর্তগুলো নিয়ে পরামর্শ দিই এবং নিবন্ধন ঠিকভাবে হয় তা নিশ্চিত করি।
হিন্দু, খ্রিস্টান ও সিভিল বিয়ে
হিন্দু বিয়ে এখন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর অধীনে নিবন্ধিত হতে পারে, যা দম্পতিদের একটি নির্ভরযোগ্য রেকর্ড দেয়। খ্রিস্টান বিয়ে সম্পন্ন ও নিবন্ধিত হয় খ্রিস্টান বিবাহ আইন, ১৮৭২-এর অধীনে। পক্ষরা ভিন্ন ধর্মের হলে, বা কোনো ধর্মীয় আইনের অধীনে বিয়ে করতে না চাইলে, বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২ একটি সিভিল পথ দেয়।
‘কোর্ট ম্যারেজ’ ও এফিডেভিট
বাংলাদেশের আইনে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বলে কিছু নেই। এফিডেভিট বা নোটারির সিল বিয়ে তৈরি করে না, নিবন্ধনের বিকল্পও হয় না। আপনার ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী সঠিক অনুষ্ঠান ও তার নিবন্ধিত রেকর্ডই আপনাকে সুরক্ষা দেয়। কাউকে এফিডেভিট যথেষ্ট বলে জানানো হয়ে থাকলে, আমাদের কাছে এসে তা ঠিক করিয়ে নিন।
যেসব কাগজপত্র লাগবে
- বয়সের প্রমাণ হিসেবে উভয় পক্ষের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ
- পাসপোর্ট আকারের ছবি
- মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে, দেনমোহরসহ কাবিননামার বিবরণ
- বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে, পাসপোর্ট এবং সিঙ্গেল-স্ট্যাটাস বা নো-ইমপেডিমেন্ট সনদ
- সাক্ষীদের বিবরণ ও পরিচয়পত্র
কোথায় হয়, কত সময় লাগে
মুসলিম বিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার নিবন্ধন করেন। হিন্দু ও খ্রিস্টান নিবন্ধন সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে নিযুক্ত রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে হয়, আর বিশেষ বিবাহ সেই আইনের অধীনে নিবন্ধিত হয়, যাতে একটি নোটিশ সময়কাল থাকে। সহজ নিবন্ধন দ্রুত হয়ে যায়। বিলম্বিত নিবন্ধন, কোনো সংশোধন বা বিদেশি নাগরিক জড়িত থাকলে, অতিরিক্ত কাগজপত্র ও যাচাইয়ের কারণে বেশি সময় লাগে।
যোগ্যতা ও কাগজপত্র যাচাই
আমরা বয়স, পারিবারিক অবস্থা এবং আপনার বিয়ের জন্য প্রযোজ্য আইন নিশ্চিত করি, আর প্রতিটি পক্ষকে ঠিক কী আনতে হবে তা স্পষ্ট করে দিই।
রেকর্ড প্রস্তুত করা
কেউ স্বাক্ষর করার আগেই আমরা কাবিননামার শর্ত, বা প্রাসঙ্গিক ফরম, চূড়ান্ত করি যাতে এন্ট্রিগুলো সঠিক ও সম্পূর্ণ হয়।
সঠিক কর্মকর্তার মাধ্যমে নিবন্ধন
আপনার সম্প্রদায় ও এলাকার সঠিক রেজিস্ট্রার সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ে নিবন্ধন করেন।
প্রত্যয়িত কপি সংগ্রহ
পাসপোর্ট, ভিসা, ব্যাংক ও ভবিষ্যতের যেকোনো দাবির জন্য ব্যবহারযোগ্য প্রত্যয়িত কপি আমরা সংগ্রহ করে দিই।
আগে ফ্রি গাইডগুলো পড়ুন
প্রথম সাক্ষাতে ক্লায়েন্টরা যা জিজ্ঞেস করেন, তার বেশির ভাগের উত্তর আমাদের ফ্রি গাইডে ধাপে ধাপে দেওয়া আছে। আগে নিচের গাইডগুলো পড়ুন; চেম্বারকে দিয়ে কাজ করাতে চাইলে কনসালটেশন বুক করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
এফিডেভিট কি বিয়ে হিসেবে গণ্য হয়?
না। এফিডেভিট একটি শপথনামা, বিয়ে নয়, আর এতে কিছুই নিবন্ধিত হয় না। বৈধ বিয়ের জন্য আপনার ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী সঠিক অনুষ্ঠান ও নিবন্ধন প্রয়োজন। কেউ ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বিক্রি করতে চাইলে সাবধান থাকুন।
আমরা বছর আগে বিয়ে করেছি কিন্তু কখনো নিবন্ধন করিনি। এখনো কি করা যাবে?
সাধারণত হ্যাঁ। বিলম্বিত নিবন্ধন সম্ভব এবং তা করা খুবই দরকারি, কারণ রেকর্ড ছাড়া পাসপোর্ট, উত্তরাধিকার বা দেনমোহরের দাবির জন্য বিয়ে সহজে প্রমাণ করা যায় না। আমরা বিলম্বিত নিবন্ধনের কাজ করি।
একজন বাংলাদেশি কি এখানে বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করতে পারেন?
হ্যাঁ, সঠিক কাগজপত্র থাকলে, যার মধ্যে আছে বিদেশি পক্ষের পাসপোর্ট ও সিঙ্গেল-স্ট্যাটাস সনদ। প্রক্রিয়াটি একটু বেশি সময় নেয়, আর আমরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তা পরিচালনা করি।
বিয়ের আগে কি কাবিননামা যাচাই করে দেন?
হ্যাঁ। দেনমোহরের শর্ত, ১৮ নম্বর ঘরে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা এবং দুই পক্ষের তথ্য আমরা যাচাই করি, যাতে সই করার আগেই দলিলটি আপনাকে সুরক্ষা দেয়।
কাবিননামায় কাজী ভুল করলে কি করব?
নাম, তারিখ বা দেনমোহরের অঙ্কে ভুল থাকলে প্রমাণসহ নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়; অপর পক্ষ আপত্তি করলে আদালতের ঘোষণা লাগে। পাসপোর্ট বা মামলায় দলিলটি লাগার আগেই ঠিক করে নিন।
এই গাইডের পেছনের আইন ও ফরম
বিডি অ্যাডভোকেসিতে সংরক্ষিত প্রামাণিক পাঠ। ধারা নম্বরগুলো এই গাইডে ব্যবহৃত।
বিয়ে বা নিবন্ধন নিয়ে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলুন
লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে, কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।
