Skip to content
হোম/আইনি গাইড/দেনমোহর ও ভরণপোষণ
পারিবারিক

দেনমোহর ও ভরণপোষণ আইন বাংলাদেশে: আপনার অধিকার ও দাবি করার উপায়

দেনমোহর হলো বিয়ের কাবিননামায় নির্ধারিত একটি ঋণ। আর ভরণপোষণ হলো ক্রমাগত ভরণপোষণ দেওয়ার একটি দায়িত্ব। দুটো আলাদা অধিকার, প্রায়ই গুলিয়ে ফেলা হয়, আর দুটো নিয়েই বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল তথ্য প্রচুর ছড়ায়।

পর্যালোচনা: সেপ্টেম্বর ২০২৬মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
বাংলাদেশে পারিবারিক আইনে দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবি

দেনমোহর একটি ঋণ, উপহার নয়

দেনমোহর কাবিননামায় নির্ধারিত হয় এবং তা স্ত্রীর প্রাপ্য। বিয়ে ভেঙে গেলে, বছরের পর বছর পার হয়ে গেলে বা স্ত্রী নিজে তালাক চাইলেও এই দেনমোহর মাফ হয়ে যায় না। স্বামীর মৃত্যুর পর এটি তার সম্পত্তির ওপর একটি দাবি হিসেবে দাঁড়ায়, ঋণের মতোই।

তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত দেনমোহর

দেনমোহর সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। তাৎক্ষণিক দেনমোহর যেকোনো সময় বিয়ে চলাকালীন চাওয়া মাত্র দিতে হয়। বিলম্বিত দেনমোহর তালাক বা মৃত্যুর মাধ্যমে বিয়ে শেষ হলে প্রাপ্য হয়। কোনটি কোন ভাগে পড়ে তা কাবিননামায় লেখা থাকে, আর যেকোনো দাবির শুরু সেখান থেকেই।

সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা হলো যে স্ত্রী নিজে তালাক চাইলে দেনমোহর হারিয়ে ফেলেন। সাধারণভাবে এটি ঠিক নয়। শুধু খোলার ক্ষেত্রেই দেনমোহর ছাড় দেওয়া হয়, যেখানে বিনিময়ে সম্মত হয়ে মুক্তি নেওয়া হয়, আর তাও যতটুকু সম্মত হয়েছে ততটুকুই। অন্য কোনো কারণে তালাক হলে, বা মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯-এর অধীনে আদালতের মাধ্যমে তালাক হলে, দেনমোহর বাতিল হয়ে যায় না।

ভরণপোষণ একটি আলাদা দায়িত্ব

বিয়ে চলাকালীন ও ইদ্দতকালে

বিয়ে চলাকালীন স্বামীকে স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে হবে, আর তালাকের পর ইদ্দতকাল পর্যন্তও তাকে ভরণপোষণ দিতে হবে। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে, বকেয়া সময়ের ভরণপোষণ মাফ না হয়ে বরং পরে দাবি করা যায়।

সন্তানের ভরণপোষণ

হেফাজত যার কাছেই থাকুক না কেন, সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব বাবার—খাবার, পোশাক, বাসস্থান, লেখাপড়া ও চিকিৎসা। ছেলের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব চলে যতদিন না সে নিজে উপার্জনক্ষম হয়, আর মেয়ের ক্ষেত্রে যতদিন না তার বিয়ে হয়। হেফাজত ও ভরণপোষণের সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে নেওয়া হয়, আর হেফাজত নিয়ে বিরোধে ভরণপোষণ আটকে রাখা আইনসম্মত নয়।

দাবি বাস্তবে যেভাবে করা হয়

দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা পারিবারিক আদালতে হয়, স্ত্রী যে জেলায় থাকেন সেখানেই। আদালত প্রক্রিয়ার মধ্যেই মধ্যস্থতাকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর অনেক দাবিরই সেখানে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। বিরোধ চললে ও মামলা বিচার পর্যন্ত গড়ালে সাধারণত কয়েক মাস থেকে প্রায় এক বছর সময় লাগে।

তামাদি: দেরি হয়ে গেছে ভেবে বসবেন না

তামাদির বিধান আছে, তবে তা প্রায়ই মানুষ যা ভাবে তার চেয়ে পরে শুরু হয়। বিলম্বিত দেনমোহরের সময়সীমা সাধারণত বিয়ে শেষ হওয়া থেকে গোনা হয়, বিয়ের দিন থেকে নয়, আর লিখিত স্বীকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পরামর্শ ছাড়া কোনো দাবিকে মৃত ধরে নেবেন না।

এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রক্রিয়া সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শ নয় এবং এতে আইনজীবী-ক্লায়েন্ট সম্পর্ক তৈরি হয় না। পর্যালোচনা: সেপ্টেম্বর ২০২৬।
দাবি কীভাবে এগোয়
1

কাবিননামা পড়ুন

তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত দেনমোহর আলাদা করুন এবং আজ আসলে কত পাওনা তা বের করুন।

2

লিখিতভাবে দাবি জানান

একটি লিখিত ও দলিলযুক্ত দাবিতে অনেক ক্ষেত্রেই শুনানি ছাড়াই মীমাংসা হয়ে যায়।

3

পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের

সমঝোতা না হলে, স্ত্রী যেখানে থাকেন সেখানেই মামলা দায়ের করা হয়।

4

আদেশ কার্যকর করুন

আদেশ নিয়ে তা কার্যকর করুন, প্রয়োজনে বেতন বা সম্পত্তির বিরুদ্ধেও।

দেনমোহর ও ভরণপোষণের অনেক দাবিই মধ্যস্থতার পর্যায়ে মিটে যায়।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

আমি নিজে তালাক চাইলে কি দেনমোহর হারাব?

সাধারণত না। শুধু খোলার ক্ষেত্রেই এটি হয়, যেখানে দেনমোহর মুক্তির বিনিময় হিসেবে সম্মত হওয়া হয়, আর তাও যতটুকু সম্মত হয়েছে ততটুকুই। অন্য পথে তালাক হলে দেনমোহর বাতিল হয় না।

ইদ্দতের পর কি ভরণপোষণ দাবি করা যায়?

ইদ্দতকাল পর্যন্ত ভরণপোষণের বিষয়টি স্পষ্ট। তার পরের অবস্থান আরও সীমিত এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে, তাই আপনি যা শুনেছেন তার ওপর নয়, নিজের ঘটনার ভিত্তিতে পরামর্শ নিন।

উনি বলছেন সামর্থ্য হলে দেবেন। আমি কি অপেক্ষা করব?

এটি লিখিতভাবে ও তারিখসহ নিয়ে নিন। তামাদির হিসাবে লিখিত স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ, আর একটি অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি সাধারণত আপনার এমন সময় নষ্ট করে যা আর ফিরে পাওয়া যায় না।

বকেয়া দেনমোহর কীভাবে দাবি বা আদায় করব?

প্রথমে লিখিত দাবি জানান, আর তাতে কাজ না হলে পারিবারিক আদালতে দেনমোহরটি ঋণ হিসেবে আদায়ের জন্য মামলা করুন। আদালত পরিমাণ নির্ধারণ করে ডিক্রি দিতে পারে, আর তা স্বামীর সম্পত্তির বিরুদ্ধে কার্যকর করা যায়। কাবিননামা ও দেনমোহর নিয়ে কোনো লিখিত স্বীকৃতি থাকলে তা সংরক্ষণ করুন।

তালাকের পরও কি দেনমোহর দাবি করা যায়?

হ্যাঁ। বিলম্বিত দেনমোহর তালাক বা মৃত্যুতে প্রাপ্য হয়ে যায়, আর বকেয়া তাৎক্ষণিক দেনমোহরও প্রাপ্যই থেকে যায়। তালাক হলেই দেনমোহরের দেনা মুছে যায় না।

তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত দেনমোহরের মধ্যে পার্থক্য কী?

তাৎক্ষণিক দেনমোহর বিয়ে চলাকালীন যেকোনো সময় চাওয়া মাত্র দিতে হয়; বিলম্বিত দেনমোহর তালাক বা মৃত্যুতে বিয়ে শেষ হলে দিতে হয়। মোট দেনমোহর এই দুই ভাগে কীভাবে বিভক্ত তা সাধারণত কাবিননামায় লেখা থাকে।

স্ত্রী বা সন্তান কত ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী?

এর কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক নেই। স্বামীর সামর্থ্য এবং স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তিসঙ্গত প্রয়োজন বিবেচনা করে আদালত ভরণপোষণ নির্ধারণ করে। বিয়ের অবস্থা যা-ই হোক, সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব বাবার থেকেই যায়।

দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা কোন আদালতে হয়?

দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবি পারিবারিক আদালত আইন অনুযায়ী পারিবারিক আদালতে দায়ের করা হয়।

দেনমোহরের দাবি করার কোনো সময়সীমা আছে কি?

একটি তামাদি আছে, তাই দেরি হয়ে গেছে ভেবে বসে থাকবেন না, তবে দেরিও করবেন না। বিশেষত বিলম্বিত দেনমোহরের সময়সীমা বিয়ে শেষ হওয়া থেকে গোনা হয়। দাবি বাতিল হয়ে গেছে ধরে নেওয়ার আগে আপনার পরিস্থিতিতে সঠিক সময়সীমা সম্পর্কে পরামর্শ নিন।

কাবিননামা নিয়ে আসুন, আমরা জানিয়ে দেব আপনার অবস্থান কী

প্রথম পরামর্শ মানেই একটি খোলামেলা আলোচনা, কোনো চুক্তি নয়।