Skip to content

গ্রেপ্তারের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা: অধিকার, রিমান্ড ও জামিন

প্রথম দিনটাই অনেক কিছু ঠিক করে দেয়, যা বেশিরভাগ পরিবার বোঝে না: রিমান্ড হবে কি না, জামিনের আবেদন আদৌ হবে কি না, আর কী লেখা হবে। পরিবারগুলো সেই দিনটা থানায় পরিচিত কাউকে খুঁজে নষ্ট করে। এখানে আছে ধাপগুলো, আর প্রতিটি ধাপে আপনি কী কাজের কাজ করতে পারেন।

সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৩ ও ৩৫ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮, ধারা ৪৬ক-৪৬ঙ, ৫৪, ৬১, ১৬৭ (২০২৬ সংশোধিত)বাংলাদেশ বনাম ব্লাস্ট (২০১৬)
শেয়ার করুন
বাংলাদেশে গ্রেপ্তারের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় অধিকার, রিমান্ড ও জামিন
এক নজরে
  • গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়
  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানাতে হবে; গ্রেপ্তারের স্মারক তৈরি করতে হবে
  • পুলিশ রিমান্ড: একটি মামলায় সর্বোচ্চ ১৫ দিন
  • প্রথম হাজিরার আগেই আইনজীবী ঠিক করুন

এই গাইডে: ধাপ ১: কোথায় ও কেন, তা জানুন · ধাপ ২: গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের যা করণীয় · ধাপ ৩: ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির · রিমান্ড · জামিন · পরিবার যা নিয়ে যাবে · যা করবেন না

সংক্ষেপে উত্তর

গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে, তিনি নিজের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে পারবেন, আর যাত্রার সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর পর পুলিশকে লিখিত গ্রেপ্তারের স্মারক তৈরি করতে হবে, পরিচয় দেখাতে হবে, আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো আত্মীয় বা বন্ধুকে জানাতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে প্রথম হাজিরাতেই রিমান্ড মঞ্জুর বা নামঞ্জুর হয়, আর প্রথমবার জামিন চাওয়া যায়। সেখানে আইনজীবী রাখুন।

ধাপ ১: কোথায় ও কেন, তা জানুন

থানা, মামলা নম্বর (বা জিডি নম্বর) আর কোন কোন ধারায় অভিযোগ, তা জানুন। এসব ছাড়া কোনো আবেদন তৈরি করা যায় না। থানায় জিজ্ঞেস করুন, গ্রেপ্তারের স্মারক চান, আর গ্রেপ্তারের সময়, স্থান ও কর্মকর্তাদের নাম লিখে রাখুন। থানা যদি ব্যক্তিকে আটকের কথা অস্বীকার করে, সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবীকে জানান। এই অস্বীকার নিজেই গুরুতর বিষয়।

ধাপ ২: গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের যা করণীয়

  • দৃশ্যমান পরিচয়পত্র রাখা এবং চাইলে পরিচয় দেওয়া।
  • পরিবারের কোনো সদস্য বা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখে সময় ও স্থানসহ গ্রেপ্তারের স্মারক তৈরি করা।
  • গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জানানো যে তিনি আত্মীয় বা বন্ধুকে খবর দিতে ও আইনজীবীর পরামর্শ নিতে পারেন, আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই ব্যক্তিকে জানানো।
  • আহত বা অসুস্থ হলে চিকিৎসা পরীক্ষা করানো এবং ফলাফল লিখে রাখা।

৫৪ ধারায় এখনো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার করা যায়, তবে ২০২৬ সালের আইন আপিল বিভাগের বাংলাদেশ বনাম ব্লাস্ট মামলার নির্দেশনা অনুসারে এই ক্ষমতা সংকুচিত করেছে এবং কারণ লিখে রাখা বাধ্যতামূলক করেছে। শুধু অস্পষ্ট সন্দেহে গ্রেপ্তার এখন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে চ্যালেঞ্জ করা অনেক সহজ।

ধাপ ৩: ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির

প্রথম দিকের সব ধাপের মধ্যে এই শুনানিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সাধারণত হয় কারাগারে পাঠানোর (বিচারিক হেফাজত) আবেদন করে, নয়তো রিমান্ড চায়। আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করতে, জামিন চাইতে, চিকিৎসা পরীক্ষার আবেদন করতে আর কোনো নির্যাতন হয়ে থাকলে তা রেকর্ডে আনতে পারেন। আইনজীবী ছাড়া দাঁড়ানো মানুষ প্রায়ই এমন রিমান্ডে যান, যা প্রস্তুত আইনজীবী ঠেকাতে পারতেন।

রিমান্ড

রিমান্ড স্বয়ংক্রিয় নয়। পুলিশকে কেস ডায়েরি দিয়ে এর যৌক্তিকতা দেখাতে হয়, আর ম্যাজিস্ট্রেটকে কারণ লিখতে হয়। একটি মামলায় পুলিশ হেফাজত মোট ১৫ দিনে সীমিত; এর বেশি আটক থাকলে তা কারাগারে। পুলিশ হেফাজতের আগে ও পরে চিকিৎসা পরীক্ষা করাতে হয়। রিমান্ড মঞ্জুর হলে আইনজীবীর সাক্ষাৎ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করুন। পরের হাজিরায় আঘাতের কথা জানানো অত্যন্ত জরুরি।

জামিন

  • জামিনযোগ্য অপরাধ। জামিন অধিকার। যথাযথ জামিনদার দিলে থানা বা আদালত জামিন দিতে বাধ্য।
  • জামিন অযোগ্য অপরাধ। জামিন আদালতের বিবেচনায়, অসম্ভব নয়। নারী, শিশু, অসুস্থ ও দুর্বল ব্যক্তির জামিনে আইন নমনীয়। প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট শোনেন; নামঞ্জুর হলে দায়রা জজ; তারপর হাইকোর্ট বিভাগ।

মামলার কাগজ, ব্যক্তির এনআইডি, ঠিকানার প্রমাণ আর প্রস্তুত জামিনদারসহ আবেদনের সফল হওয়ার সম্ভাবনা, খালি হাতে সেদিনই চেষ্টা করা আবেদনের চেয়ে অনেক বেশি।

পরিবার যা নিয়ে যাবে

  • গ্রেপ্তার ব্যক্তির এনআইডি বা জন্মসনদ এবং ঠিকানার প্রমাণ।
  • এনআইডিসহ দুজন জামিনদার, পারলে ওই জেলায় স্থায়ী ঠিকানা বা সম্পত্তি আছে এমন কেউ।
  • স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসার কাগজপত্র।
  • চাকরি, পড়াশোনা বা পারিবারিক দায়িত্বের প্রমাণ, যা জামিনের যুক্তিতে সাহায্য করে।

ছাপার উপযোগী তালিকা পাবেন আমাদের গ্রেপ্তার চেকলিস্টে।

যা করবেন না

  • থানায় টাকা দিয়ে “মিটমাট” করার চেষ্টা করবেন না। এতে মামলা শেষ হয় না, বরং নতুন মামলা হতে পারে।
  • গ্রেপ্তার ব্যক্তি যেন না পড়ে কোনো বিবৃতিতে সই না করেন। স্বীকারোক্তির মূল্য আছে কেবল ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সুরক্ষাসহ লিপিবদ্ধ হলে; অন্য কিছুতে সইয়ের চাপ দিলে তা জানাতে হবে।
  • পরের তারিখের অপেক্ষায় থাকবেন না। প্রথম শুনানিই পরের সবকিছুর রূপ ঠিক করে।

আইনজীবী রাখার সামর্থ্য না থাকলে সরকারি আইনগত সহায়তা হেল্পলাইন ১৬৬৯৯-এ কল করুন; জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আইনজীবী দিতে পারে।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
প্রথম ২৪ ঘণ্টা
১

খোঁজ ও তথ্য

থানা, মামলা নম্বর, ধারা, গ্রেপ্তারের সময়, আর গ্রেপ্তারের স্মারকের কপি।

২

আইনজীবী ঠিক করুন

প্রথম হাজিরার আগে, এনআইডি, ঠিকানার প্রমাণ ও জামিনদার প্রস্তুত রেখে।

৩

প্রথম হাজিরা

রিমান্ডের বিরোধিতা, জামিনের আবেদন, চিকিৎসা পরীক্ষা, নির্যাতন হলে রেকর্ড।

৪

দেরি না করে ওপরে যান

জামিন নামঞ্জুর হলে দায়রা জজ, তারপর হাইকোর্ট বিভাগ।

প্রথম দিনে যা বাঁচানো যায়, তার প্রায় সবটাই বাঁচে প্রথম হাজিরায়।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

আদালতে তোলার আগে পুলিশ কতক্ষণ আটকে রাখতে পারে?

যাত্রার সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার বেশি নয়। এটি সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের অধিকার।

পুলিশ কি পরিবারকে জানাতে বাধ্য?

হ্যাঁ। ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর যত দ্রুত সম্ভব এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো আত্মীয় বা মনোনীত বন্ধুকে জানাতে হবে, আর গ্রেপ্তারের স্মারক তৈরি করতে হবে।

পুলিশ কি পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারে?

হ্যাঁ, ৫৪ ধারায় উল্লিখিত ক্ষেত্রে, যা ২০২৬ সালের আইন সংকুচিত করেছে। কারণ লিখে রাখতে হবে, আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করতেই হবে।

রিমান্ড কী, এর কি বিরোধিতা করা যায়?

ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজত। এর বিরোধিতা করা যায় এবং করা উচিত। একটি মামলায় মোট ১৫ দিনে সীমিত।

প্রথম দিনেই কি জামিন পাওয়া যায়?

প্রথম হাজিরাতেই আবেদন করা যায়, উপযুক্ত ক্ষেত্রে সেদিনই জামিন হয়। ফলাফলের অনেকটাই প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে।

জামিন অযোগ্য অপরাধে কি জামিন হয়?

হ্যাঁ। এর মানে জামিন আদালতের বিবেচনায়, নিষিদ্ধ নয়। নারী, শিশু, অসুস্থ ও বয়স্কদের প্রতি আইন বেশি নমনীয়।

পরিবার কি গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে পারে?

হেফাজতের ধরন ও পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে। আইনজীবী পরামর্শের জন্য দেখা করতে পারেন, এটিও সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবী রাখার একটি কারণ।

আগাম জামিন কী?

গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলে গ্রেপ্তারের আগেই, সাধারণত হাইকোর্ট বিভাগ থেকে, নেওয়া জামিন। সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেওয়া হয়, তারপর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হয়।

আইনজীবী রাখার সামর্থ্য নেই। কী করব?

জাতীয় আইনগত সহায়তা হেল্পলাইন ১৬৬৯৯-এ কল করুন বা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করুন; যোগ্য ব্যক্তিদের বিনা খরচে আইনজীবী দেওয়া হয়।

রিমান্ডে কি পুলিশ নির্যাতন করতে পারে?

না। হেফাজতে নির্যাতন নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩-এ অপরাধ। রিমান্ডের আগে ও পরে ডাক্তারি পরীক্ষার আদেশ চেয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করুন, আর আঘাতের কথা সঙ্গে সঙ্গে আদালতকে জানান।

আইন লাইব্রেরি

এই গাইডের পেছনের আইন ও ফরম

বিডি অ্যাডভোকেসিতে সংরক্ষিত প্রামাণিক পাঠ। ধারা নম্বরগুলো এই গাইডে ব্যবহৃত।

ফৌজদারি, পুলিশ ও সাইবার বিষয়ে আরও পড়ুন

গ্রেপ্তার ও জামিন, জিডি ও এজাহার, মিথ্যা মামলা ও সাইবার হয়রানি।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

হাজিরার শুনানির আগেই কল করুন। ঠিক সেখানেই পার্থক্য তৈরি হয়। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।