চেক ডিজঅনার মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন: জবাব, জামিন ও আপস
বাউন্স হওয়া চেকে ১৩৮ ধারার নোটিশ বা সমন একটি ফৌজদারি বিষয়, যেখানে আইনের অনুমান আপনার বিপক্ষে। নীরবতাকে স্বীকৃতি ধরা হয় এবং সেটিই সবচেয়ে খারাপ জবাব। আমরা ৩০ দিনের মধ্যে জবাব দিই, জামিন নিশ্চিত করি, প্রতিটি সময়সীমা ও চেকের পেছনের দেনা যাচাই করি, এবং ভয়ে নয়, জেনে-বুঝে আপস করি।
এটি কি আপনার সমস্যা?
- বাউন্স হওয়া চেক নিয়ে উকিল নোটিশ পেয়েছেন
- আপনার বা আপনার কোম্পানির বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারার মামলায় সমন বা ওয়ারেন্ট হয়েছে
- চেকটি ছিল ফাঁকা বা জামানত চেক; বসানো অঙ্ক আপনার দেনার সমান নয়
- দেনার আংশিক বা পুরোটা দিয়েছেন, তবু প্রাপক মামলা চালাচ্ছেন
- আপস করতে চান, কিন্তু রেকর্ডে সাজা চান না
আমরা আপনার জন্য যা করি
৩০ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব
নোটিশ পাওয়ার পরের ৩০ দিন আপনার সেরা সুযোগ। এর মধ্যে পরিশোধ করলে কোনো অপরাধ ছাড়াই বিষয়টি শেষ। দাবি ভুল হলে কারণ ও কাগজসহ লিখিত জবাব দিই: দেনা নেই, অঙ্ক ভুল, চেক আগেই পরিশোধিত, চেক পরিবর্তিত বা অপব্যবহৃত। যুক্তিপূর্ণ জবাব মামলা দায়েরের আগেই তার গতিপথ বদলে দেয়।
জামিন ও হাজিরা
সমন বা ওয়ারেন্ট হলে ম্যাজিস্ট্রেট বা যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে আপনার হাজিরা ও জামিনের ব্যবস্থা করি, যাতে মামলা হাজত দিয়ে শুরু না হয়। কোম্পানির ক্ষেত্রে নামধারী পরিচালক ও স্বাক্ষরকারীদের বিষয় দেখি।
বাদীর মামলা যাচাই
মিস হওয়া সময়সীমা, ভুল অঙ্ক দাবি করা নোটিশ, যথাযথভাবে না পৌঁছানো নোটিশ, মেয়াদের পরে উপস্থাপিত চেক, বা ১৪১ ধারায় দেরিতে দায়ের করা অভিযোগ মামলা ব্যর্থ করে। আমরা অভিযোগ, নোটিশ ও ডাক রেকর্ড সংগ্রহ করে প্রতিটি তারিখ ও শর্ত পরীক্ষা করি।
দেনা ও চেককে চ্যালেঞ্জ
আইন আইনসম্মত দেনার অনুমান করে, তাই চেকদাতাকে কাগজ দিয়ে তার অনুপস্থিতি প্রমাণ করতে হয়। সেই প্রমাণ আমরা তৈরি করি: পরিশোধ, নিষ্পত্তি হওয়া হিসাব, মাল না পাওয়া, অনুমতি ছাড়া পূরণ করা ফাঁকা চেক, বা পরিবর্তিত চেক। কোন যুক্তি আদালত নেয় আর কোনটি ব্যর্থ হয়, আমরা জানি এবং স্পষ্টভাবে বলি।
আপস ও আপিল
বেশিরভাগ মামলা শর্তসাপেক্ষে পরিশোধে শেষ হয়। আমরা কিস্তি বা কম অঙ্কের আলোচনা করি এবং মামলা বন্ধ হওয়ার মতো করে আপস লিপিবদ্ধ করি। দণ্ডিত হলে আপিলে চেকের অঙ্কের অন্তত ৫০% জমা লাগে (ধারা ১৩৮এ; ২০২৬ সালের সংশোধনীতে আপিল আদালত কারণ লিখে তা শিথিল করতে পারে); তা সার্থক হবে কি না পরামর্শ দিই এবং হলে চালাই।
ফি, সময় ও কাগজপত্র
আপনার কাছ থেকে যা লাগবে
- খাম বা ডাকের তারিখসহ নোটিশ, এবং সমন বা ওয়ারেন্ট পেয়ে থাকলে তা
- চেকের নম্বর, তারিখ ও অঙ্ক, এবং কখন ও কেন দিয়েছিলেন
- পরিশোধের প্রমাণ: ব্যাংক ট্রান্সফার, বিকাশ বা নগদ রেকর্ড, রসিদ, খাতার এন্ট্রি
- চেকের পেছনের চুক্তি, ইনভয়েস, ডেলিভারি বা ঋণের কাগজ
- দেনা বা চেক নিয়ে প্রাপকের সঙ্গে বার্তা বা ইমেইল
- কোম্পানির ক্ষেত্রে: চেক ইস্যুর সময় কে দায়িত্বে ছিলেন দেখানো আরজেএসসি রেকর্ড
যে ভুলগুলো প্রতি সপ্তাহে দেখি
- “আসল দেনা নেই” ভেবে নোটিশ অবহেলা। আইন দেনার অনুমান করে; কাগজ দিয়ে খণ্ডন করতে হয়।
- লিখিত রেকর্ড ছাড়া ফোনে বা সরাসরি জবাব।
- রসিদ ছাড়া নগদে পরিশোধ, পরে প্রমাণ করতে না পারা।
- ঠিকানা বদলানো বা নোটিশ এড়ানো; বাদী পত্রিকায় নোটিশ ছাপাতে পারেন এবং মামলা এগোয়।
- প্রাপকের সঙ্গে চ্যাট মুছে ফেলা। প্রায়ই সেটিই আপনার সেরা প্রমাণ।
সময়সীমা পড়া
নোটিশ পাওয়ার তারিখ ও জবাব বা পরিশোধের শেষ দিন ঠিক করি।
লিখিত জবাব
কাগজসহ তথ্যভিত্তিক জবাব, অথবা দেনা সত্য হলে লিপিবদ্ধ শর্তে পরিশোধ।
হাজিরা ও জামিন
হাজিরা ও জামিনের ব্যবস্থা করি, যাতে মামলা হাজত দিয়ে শুরু না হয়।
আত্মপক্ষ বা আপস
নোটিশ, তারিখ ও দেনা যাচাই করি এবং সম্ভব হলে সাজা এড়িয়ে সমাপ্তির আলোচনা করি।
আগে ফ্রি গাইডগুলো পড়ুন
প্রথম সাক্ষাতে ক্লায়েন্টরা যা জিজ্ঞেস করেন, তার বেশির ভাগের উত্তর আমাদের ফ্রি গাইডে ধাপে ধাপে দেওয়া আছে। আগে নিচের গাইডগুলো পড়ুন; চেম্বারকে দিয়ে কাজ করাতে চাইলে কনসালটেশন বুক করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
চেক ডিজঅনারের নোটিশ পেয়েছি। কী করব?
পাওয়ার তারিখ লিখে রাখুন। পরিশোধ বা জবাবের জন্য ৩০ দিন আছে। দেনা সত্য হলে এর মধ্যে পরিশোধে অপরাধ ছাড়াই বিষয় শেষ। দাবি ভুল হলে কারণ ও কাগজসহ লিখিত জবাব দিন। চুপ থাকবেন না।
চেক মামলায় কি গ্রেপ্তার হতে পারি?
১৩৮ ধারার মামলা অভিযোগ দিয়ে শুরু হয়, আদালত সমন বা ওয়ারেন্ট দেয়। আমরা হাজিরা ও জামিনের ব্যবস্থা করি যাতে হাজতে যেতে না হয়। নোটিশ এড়ালে ওয়ারেন্টের সম্ভাবনা বাড়ে, কমে না।
১৩৮ ধারার মামলায় কোন আত্মপক্ষ কাজ করে?
মিস হওয়া সময়সীমা বা ত্রুটিপূর্ণ বা না পৌঁছানো নোটিশ; কাগজে প্রমাণিত চেকের পেছনে আইনসম্মত দেনার অনুপস্থিতি; পরিবর্তিত চেক বা অনুমতি ছাড়া পূরণ করা ফাঁকা চেক। জামানত দেনা পরিশোধযোগ্য হলে “শুধু জামানত চেক” যুক্তি সাধারণত ব্যর্থ।
অঙ্কের কিছু অংশ আগেই দিয়ে থাকলে?
নথিভুক্ত করুন। আংশিক পরিশোধ নিজে মামলা শেষ করে না, তবে আপসে সাহায্য করে ও বিরোধের অঙ্ক কমায়। পরিশোধের প্রমাণসহ জবাব প্রায়ই বাদীর অবস্থান বদলায়।
দায়েরের পর কি আপস করা যায়?
হ্যাঁ, যেকোনো পর্যায়ে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্ট বিভাগ বলেছে, চেকের পুরো অঙ্ক পরিশোধ ও আপস হলে কারাদণ্ড দেওয়া বা বহাল রাখা উচিত নয়।
দণ্ডিত হলে কী হয়?
এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, চেকের অঙ্কের তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয়। আপিলে বিচারিক আদালতে চেকের অঙ্কের অন্তত ৫০% জমা দিতে হয়।
চেক আমার কোম্পানির। আমি কি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী?
তখন কোম্পানির দায়িত্বে থাকা পরিচালক ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোম্পানির সঙ্গে মামলা হতে পারে। কে দায়িত্বে ছিলেন এবং অপরাধ তার জ্ঞাতসারে ছিল কি না, তা আরজেএসসি রেকর্ড থেকে আমরা যাচাই করি।
আমার বিরুদ্ধে কি দেওয়ানি মামলাও হতে পারে?
হ্যাঁ। প্রাপক দেনা, সুদ ও খরচের জন্য ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি অর্থ মামলা করতে পারেন। আমরা দুটিই একসঙ্গে দেখি।
কাজ শুরুর আগে ফি লিখিতভাবে নিশ্চিত করা হয়। সরকারি ফি ও কোর্ট ফি আলাদা এবং রসিদসহ।
৩০ দিন শেষ হওয়ার আগে জবাব দিন
নোটিশ ও খামের ছবি পাঠান। আপনার শেষ নিরাপদ তারিখ ও বিকল্পগুলো আজই জানাব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।
