Skip to content
ফৌজদারি মামলা ও থানা-পুলিশ

গ্রেপ্তার, জামিন ও রিমান্ড

গ্রেপ্তারের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা করি, অপ্রয়োজনীয় রিমান্ডের বিরুদ্ধে লড়ি, এবং নিশ্চিত করি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে খেয়ালখুশিমতো নয়, আইন অনুযায়ী আচরণ করা হচ্ছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (২০২৬ সালের সংশোধনীসহ)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-৩৫
গ্রেপ্তার, জামিন ও রিমান্ড বোঝাতে ব্যবহৃত ইলাস্ট্রেশন

আমরা কী নিয়ে কাজ করি

একজন ব্যক্তি হেফাজতে থাকবেন কি না, তা যেসব ধাপে ঠিক হয় তার প্রতিটিতে আমরা উপস্থিত থাকি: ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে প্রথম হাজিরা, পুলিশ রিমান্ডের বিরোধিতা, ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়রা আদালতে জামিনের আবেদন, এবং নিম্ন আদালত জামিন না দিলে হাইকোর্ট বিভাগে জামিনের আবেদন। গ্রেপ্তারই যদি বেআইনি হয়, সেক্ষেত্রেও আমরা লড়ি।

জামিন

অপরাধের ধরন, প্রমাণের অবস্থা, পালিয়ে যাওয়া বা প্রমাণ নষ্ট করার ঝুঁকি এবং আসামির ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করেই জামিনের সিদ্ধান্ত হয়। আমরা এমন যুক্তি ও কাগজপত্র দিয়ে আবেদন সাজাই যা সত্যিই আদালতকে সন্তুষ্ট করে, শুধু আবেদন করে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিই না। নিম্ন আদালতে জামিন না মিললে বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগে নিয়ে যাই।

রিমান্ড

পুলিশ রিমান্ডে গেলে একজন ব্যক্তি বিচারিক হেফাজত থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে চলে যান। রিমান্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে মঞ্জুর হয় না। ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী রিমান্ডের মেয়াদে সীমা আছে, আর আটক ব্যক্তি আহত বা অসুস্থ হলে চিকিৎসা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। আমরা রিমান্ডের বিরোধিতা করি, মেয়াদ কমানোর চেষ্টা করি এবং আইন ও আদালতের সব সুরক্ষা মানা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করি।

বেআইনি গ্রেপ্তার

২০২৬ সালের সংশোধনীর পর গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে নিজের পরিচয় দিতে হয়, গ্রেপ্তারের স্মারক (অ্যারেস্ট মেমো) তৈরি করতে হয় এবং পরিবারের একজনকে জানাতে হয়; ধারা ৫৪-এ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও সীমিত করা হয়েছে। আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রেপ্তার হলে বা এসব ধাপ না মানা হলে, সেটিই আটক চ্যালেঞ্জ করার কারণ, এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়ার ভিত্তি।

সম্ভব হলে প্রথম হাজিরার আগেই আমাদের জানান। এই শুনানিই প্রায়ই পুরো মামলার গতিপথ ঠিক করে দেয়; এই মুহূর্তে আইনজীবী না থাকলে এমন রিমান্ডও হয়ে যেতে পারে, যা প্রস্তুত একজন আইনজীবী ঠেকিয়ে দিতে পারতেন।

যা সঙ্গে থাকলে সুবিধা হয়

  • জানা থাকলে মামলার বিবরণ: থানা, মামলা নম্বর, ধারা
  • গ্রেপ্তারের স্মারক (অ্যারেস্ট মেমো) ও জব্দ তালিকা, থাকলে
  • জামিনদারদের পরিচয়পত্র ও ঠিকানার প্রমাণ
  • স্বাস্থ্যগত কারণ থাকলে চিকিৎসার কাগজপত্র
  • চাকরি, পরিবার ও এলাকার সঙ্গে সম্পর্কের বিবরণ

কোথায় শুনানি হয়, কত সময় লাগে

অপরাধের ধরন অনুযায়ী জামিনের আবেদন প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজের কাছে শুনানি হয়, নাকচ হলে হাইকোর্ট বিভাগে নেওয়া যায়। জরুরি জামিনের আবেদন প্রায়ই কয়েক দিনের মধ্যেই করা যায়। রিমান্ডের সিদ্ধান্ত হয় হাজিরার শুনানিতেই, তাই সেখানে উপস্থিত থাকাটা জরুরি।

জামিন ও রিমান্ড শুনানি বোঝাতে ব্যবহৃত ইলাস্ট্রেশন
আমরা প্রথমে যা করি
1

ব্যক্তি ও মামলার খোঁজ নেওয়া

আমরা নিশ্চিত করি ব্যক্তিকে কোথায় রাখা হয়েছে, কোন থানায়, কোন মামলায় ও কোন ধারায়।

2

হাজিরায় উপস্থিত থাকা

রিমান্ডের বিরোধিতা ও জামিনের আবেদনের জন্য আমরা প্রথম হাজিরায় উপস্থিত থাকি।

3

সঠিকভাবে জামিনের আবেদন করা

আদালতের প্রয়োজনীয় যুক্তি, জামিনদার ও কাগজপত্র দিয়ে আমরা জামিনের আবেদন সাজাই ও উপস্থাপন করি।

4

নাকচ হলে ঊর্ধ্বতন আদালতে যাওয়া

নিম্ন আদালতে জামিন না মিললে আমরা আবেদনটি হাইকোর্ট বিভাগে নিয়ে যাই।

জরুরি জামিনের আবেদন প্রায়ই কয়েক দিনের মধ্যে করা যায়।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

গ্রেপ্তারের আগেই কি জামিনের ব্যবস্থা করা যায়?

উপযুক্ত ক্ষেত্রে অপরাধ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিনের আবেদন বিবেচনা করা যেতে পারে। গ্রেপ্তার হওয়ার পরে নয়, তার আগেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

পুলিশ রিমান্ড সর্বোচ্চ কতদিন থাকতে পারে?

রিমান্ডের মেয়াদ অসীম নয়, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এর প্রয়োজন দেখাতে হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২৬ সালের সংশোধনীতে রিমান্ডে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, আর কীভাবে রিমান্ড মঞ্জুর হবে ও আটক ব্যক্তির সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে তা নিয়ে আদালতের নির্দেশনাও আছে। আমরা হাজির থেকে নিশ্চিত করি যেন তা মানা হয়।

জামিন হয়ে গেলে কি মামলা শেষ হয়ে যায়?

না। জামিন শুধু ঠিক করে দেয় আসামি বিচার চলাকালীন হেফাজতে থাকবেন নাকি বাইরে থাকবেন। মামলা চলতে থাকে, আর মামলা লড়াইটা আমরা আলাদাভাবে দেখি।

শেয়ার করুন

জামিন ও রিমান্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

প্রথম শুনানিই পরের সবকিছুর গতিপথ ঠিক করে দেয়।