Skip to content

তামাদি মেয়াদ লুকআপ: বাংলাদেশে মামলা বা আপিল করতে কত সময় পাবেন

প্রতিটি দাবির একটি ঘড়ি আছে, আর এক দিন দেরিতে করা মামলা যত শক্তই হোক খারিজ হয়। তালিকা থেকে কাজটি বাছুন; টুল দেখাবে মেয়াদ, শুরুর দিন ও বিধান, আর নিচে সাধারণ বাদের নিয়ম ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তামাদি আইন ১৯০৮, ধারা ৩, ৫, ১২, ১৪, ১৮, ১৯; প্রথম তফসিলদেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮, ধারা ৪৮এনআই আইন, শ্রম আইন, ভোক্তা অধিকার আইন ও এসএটি আইনের বিশেষ তামাদি
শেয়ার করুন
শেষ দিন চিহ্নিত ক্যালেন্ডার, তামাদি মেয়াদ লুকআপ টুল
এক নজরে
  • বেশিরভাগ টাকা ও চুক্তির দাবি: ৩ বছর
  • স্বত্ব ঘোষণা: ৬ বছর; দখল উদ্ধার: ১২ বছর
  • দেওয়ানি আপিল: জেলা জজে ৩০ দিন, হাইকোর্ট বিভাগে ৯০ দিন
  • মামলা ফেরানো বা একতরফা ডিক্রি রদ: ৩০ দিন
  • বিশেষ আইন তফসিলের ওপরে: চেক, শ্রম, ভোক্তা, অগ্রক্রয়

এই গাইডে: ঘড়ি যেভাবে শুরু হয় · যা মেয়াদ বাড়ায় বা থামায় · তফসিলের ওপরে বিশেষ আইন · জারি: বারো বছরের দেয়াল

সংক্ষেপে উত্তর

তামাদি আইন ১৯০৮-এর প্রথম তফসিল প্রতিটি মামলা, আপিল ও আবেদনের মেয়াদ ঠিক করে, আর ৩ ধারা আদালতকে বাধ্য করে মেয়াদের পরে দাখিল করা যেকোনো কিছু খারিজ করতে, বিবাদী আপত্তি না করলেও। সাধারণ মেয়াদ: টাকা, পণ্য ও চুক্তির দাবিতে তিন বছর, ঘোষণায় ছয় বছর, জমির দখল উদ্ধারে বারো বছর, জেলা জজে আপিল বা খারিজ মামলা ফেরাতে ৩০ দিন, হাইকোর্ট বিভাগে আপিলে ৯০ দিন। চেক ডিজঅনার মামলা, শ্রম আদালতের অভিযোগ, ভোক্তা অভিযোগ ও অগ্রক্রয়সহ কিছু বিশেষ আইন নিজস্ব ছোট মেয়াদ ঠিক করে। ঘড়ি সাধারণত চুক্তিভঙ্গ, অস্বীকার বা আদেশ থেকে শুরু হয়, আর সত্যায়িত কপি তোলার সময়, আইনগত অক্ষমতা বা ঋণের লিখিত স্বীকৃতি তা বাড়াতে পারে।

তামাদি মেয়াদ লুকআপ

ঘড়ি যেভাবে শুরু হয়

তফসিলের তৃতীয় কলাম প্রতিটি অনুচ্ছেদের শুরুর দিন বলে: ঋণের তারিখ, চুক্তিভঙ্গ, বেদখল, স্বত্বের প্রথম অস্বীকার, ডিক্রি। সবার আগে সেই তারিখ ঠিক করুন। নির্দিষ্ট পরিশোধ তারিখ ছাড়া ঋণে মেয়াদ ঋণের দিন থেকে, শেষ তাগাদা থেকে নয়; ঘোষণায় প্রথম স্পষ্ট অস্বীকার থেকে, যেমন বিবাদীর দলিল বা নামজারি। শুরুর ঘটনা অস্পষ্ট হলে সর্বশেষ সমর্থনযোগ্য তারিখ ও তার ঘটনা আরজিতে লিখুন।

বাংলাদেশে মামলা ও আপিলের তামাদি মেয়াদ

যা মেয়াদ বাড়ায় বা থামায়

  • সত্যায়িত কপি (ধারা ১২): আপিল ও আবেদনে ডিক্রি বা আদেশের কপি তোলার সময় বাদ যায়, যদি আপনি কপির আবেদন করে থাকেন।
  • স্বীকৃতি (ধারা ১৯) ও আংশিক পরিশোধ (ধারা ২০): ঋণের স্বাক্ষরিত লিখিত স্বীকৃতি বা লিখিতভাবে নথিভুক্ত আংশিক পরিশোধ টাকার দাবিতে তিন বছর নতুন করে শুরু করে। এমন প্রতিটি চিঠি ও রসিদ রাখুন।
  • আইনগত অক্ষমতা (ধারা ৬–৮): নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি অক্ষমতা শেষের পর মেয়াদ পান।
  • সরল বিশ্বাসে ভুল আদালত (ধারা ১৪): এখতিয়ারহীন আদালতে মামলা চালানোর সময় বাদ যায়।
  • যথেষ্ট কারণ (ধারা ৫): আপিল ও বেশিরভাগ আবেদন, মামলা নয়, যথেষ্ট কারণ দেখালে দেরিতে গ্রহণ হতে পারে; আদালত ব্যাখ্যায় কঠোর।

তফসিলের ওপরে বিশেষ আইন

হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধারার চেক মামলায় নিজস্ব ৩০ দিনের নোটিশ ও এক মাসের দায়ের সময়; শ্রম আদালতের অভিযোগ শ্রম আইনের ৩৩ ধারার ৩০ দিনের ধাপে চলে; ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ ৩০ দিনের মধ্যে; এসএটি আইনের ৯৬ ধারায় অগ্রক্রয় নোটিশ থেকে দুই মাস; নামজারি রিভিউ আদেশ থেকে ৩০ দিন। বিশেষ আইন মেয়াদ ঠিক করলে সেটিই প্রযোজ্য, আর বিশেষ আইন না বললে ৫ ধারা নাও পাওয়া যেতে পারে।

জারি: বারো বছরের দেয়াল

ডিক্রি পরপর আবেদনে জারি করা যায়, প্রতিটি ডিক্রি বা আগের আবেদনের শেষ আদেশের তিন বছরের মধ্যে (অনুচ্ছেদ ১৮২), তবে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারা ডিক্রির বারো বছর পর নতুন জারির আবেদন বারিত করে, শুধু দায়িক প্রতারণা বা বলপ্রয়োগে জারি ঠেকালে ছাড়া। আপনার পক্ষে ডিক্রি হলে দুটি তারিখই ডায়েরিতে লিখুন।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
তারিখে ভরসা করার আগে
১

শুরু ঠিক করুন

চুক্তিভঙ্গ, অস্বীকার, বেদখল বা আদেশের তারিখ।

২

অনুচ্ছেদ খুঁজুন

লুকআপ ব্যবহার করুন; বিশেষ আইন আছে কি না দেখুন।

৩

বাদ যোগ করুন

কপির সময়, স্বীকৃতি, অক্ষমতা।

৪

আগে দাখিল করুন

শেষ দিনে নয়; আদালত বন্ধ থাকে।

দেরিতে করা শক্ত মামলাও হারা মামলা।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে ঋণ আদায়ের তামাদি কত?

তামাদি আইন ১৯০৮ অনুযায়ী ঋণের তারিখ থেকে, বা লিখিত পরিশোধ প্রতিশ্রুতির নির্ধারিত তারিখ থেকে তিন বছর। স্বাক্ষরিত স্বীকৃতি বা আংশিক পরিশোধ মেয়াদ নতুন করে শুরু করে।

জমির দখলের মামলা করতে কত সময় পাব?

তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪২ ও ১৪৪ অনুযায়ী বেদখলের দিন থেকে বারো বছর। শুধু স্বত্ব ঘোষণা অস্বীকারের ছয় বছরের মধ্যে করতে হয়।

দেওয়ানি আপিলের সময়সীমা কত?

ডিক্রি থেকে জেলা জজে ত্রিশ দিন ও হাইকোর্ট বিভাগে নব্বই দিন, সত্যায়িত কপি তোলার সময় বাদে।

আদালত কি দেরিতে করা মামলা নিতে পারে?

দেরিতে করা মামলা ৩ ধারায় খারিজ করতেই হয়। আপিল ও বেশিরভাগ আবেদন যথেষ্ট কারণ দেখালে ৫ ধারায় দেরিতে নেওয়া যায়, যা আদালত কঠোরভাবে প্রয়োগ করে।

লিখিত স্বীকৃতি কি তামাদি বাড়ায়?

হ্যাঁ। মেয়াদ শেষের আগে ঋণের স্বাক্ষরিত লিখিত স্বীকৃতি (ধারা ১৯) বা লিখিতভাবে নথিভুক্ত আংশিক পরিশোধ (ধারা ২০) সেই তারিখ থেকে নতুন মেয়াদ শুরু করে।

সত্যায়িত কপি তোলার সময় কি গণনায় ধরা হয়?

না। ১২ ধারায় আপিল ও আবেদনে ডিক্রি বা আদেশের কপি তোলার সময় বাদ যায়, যদি আপনি কপির আবেদন করে থাকেন।

ডিক্রি কত দিন জারিযোগ্য থাকে?

প্রতিটি জারির আবেদন ডিক্রি বা শেষ আদেশের তিন বছরের মধ্যে, আর দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারায় ডিক্রির বারো বছর পর কোনো আবেদন নয়, প্রতারণা বা বলপ্রয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া।

বিশেষ আইনে কি আলাদা তামাদি আছে?

হ্যাঁ। চেক মামলা, শ্রম আদালতের অভিযোগ, ভোক্তা অভিযোগ, অগ্রক্রয় ও নামজারি রিভিউ প্রতিটির নিজস্ব মেয়াদ আছে, যা তামাদি আইনের তফসিলের ওপরে প্রযোজ্য।

আদালত, মামলা ও টাকা আদায় বিষয়ে আরও পড়ুন

লিগ্যাল নোটিশ, টাকা আদায়, চেক মামলা ও দেওয়ানি মামলার নিয়ম।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

এখনও সময় আছে কি না নিশ্চিত নন?

তারিখগুলো পাঠান। আমরা মেয়াদ ও বাদের নিয়ম নিশ্চিত করে সময় শেষের আগে দাখিল করব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।