মামলা খারিজ হলে করণীয়: খারিজের অর্থ কী এবং এখনও কী করা যায়
আইনজীবী ফোন করে বললেন মামলা "খারিজ" হয়ে গেছে। খুশি বা হতাশ হওয়ার আগে জানুন কোন ধরনের খারিজ: বেশিরভাগই ফেরানো যায়, আর প্রতিটির আলাদা সময়সীমা আছে।
- অনুপস্থিতিতে খারিজ (দেওয়ানি): ৩০ দিনে পুনরুজ্জীবনের আবেদন
- আরজি প্রত্যাখ্যান (আদেশ ৭ বিধি ১১): আপিল বা নতুন মামলা
- নালিশ খারিজ (ধারা ২০৩): রিভিশন বা নতুন নালিশ
- অব্যাহতি বা খালাস (ফৌজদারি): অন্য পক্ষের আপিল বা রিভিশন
- আপনার বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি: আদেশ ৯ বিধি ১৩-এ ৩০ দিনে আবেদন
এই গাইডে: অনুপস্থিতিতে দেওয়ানি মামলা খারিজ (আদেশ ৯) · আদেশ ৭ বিধি ১১-এ আরজি প্রত্যাখ্যান · আপনার বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি · ২০৩ ধারায় ফৌজদারি নালিশ খারিজ · অব্যাহতি ও খালাস · আদেশ পড়ে প্রতিকার বাছাই
সংক্ষেপে উত্তর
দেওয়ানি মামলায় “অনুপস্থিতিতে খারিজ” মানে বাদীর পক্ষে কেউ হাজির হননি; বাদী আদেশ ৯ বিধি ৯-এ ৩০ দিনের মধ্যে যথেষ্ট কারণ দেখিয়ে খারিজ রদের আবেদন করতে পারেন। আদেশ ৭ বিধি ১১-এ “আরজি প্রত্যাখ্যান” কাগজ দেখে দেওয়া সিদ্ধান্ত (মামলার কারণ নেই, কম মূল্যায়ন, কোর্ট ফি অপরিশোধিত, আইনে বারিত) যা আপিলযোগ্য, আর ত্রুটি সারানো গেলে নতুন মামলাও করা যায়। ফৌজদারি মামলায় ২০৩ ধারায় নালিশ খারিজ হলে রিভিশন বা নতুন তথ্যে নতুন নালিশ করা যায়; অব্যাহতি বা খালাস মামলা শেষ করে, যদি না বাদী বা রাষ্ট্র সময়মতো আপিল বা রিভিশন করে। আপনার বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি হলে আদেশ ৯ বিধি ১৩-এ ডিক্রির ৩০ দিনের মধ্যে, বা সমন জারি না হলে জানার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করুন।
অনুপস্থিতিতে দেওয়ানি মামলা খারিজ (আদেশ ৯)
মামলা ডাকার সময় বাদী হাজির না হলে আদালত আদেশ ৯ বিধি ৮-এ খারিজ করে। প্রতিকার বিধি ৯-এ খারিজ রদের আবেদন, খারিজের ৩০ দিনের মধ্যে (তামাদি আইন অনুচ্ছেদ ১৬৩), অনুপস্থিতির “যথেষ্ট কারণ” দেখিয়ে: অসুস্থতা, ডায়েরিতে ভুল তারিখ, আইনজীবীর ভুল। ডাক্তারি সনদ বা হলফনামা যুক্ত করুন। একই কারণে নতুন মামলা বারিত, তাই পুনরুজ্জীবনই একমাত্র পথ। উভয় পক্ষ অনুপস্থিত থাকলে বিধি ৩-এ খারিজ হয় এবং নতুন মামলা করা যায়, তবে পুনরুজ্জীবন তখনও সস্তা।
আদেশ ৭ বিধি ১১-এ আরজি প্রত্যাখ্যান
আরজি প্রত্যাখ্যান আলাদা: আদালত আরজি দেখে পেয়েছে মামলার কারণ নেই, কম মূল্যায়ন সংশোধন হয়নি, সময় দেওয়ার পরও কোর্ট ফি দেওয়া হয়নি, বা মামলা আইনে বারিত। আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ একটি ডিক্রি, তাই আপিল করা যায়। আদালত মূল বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি বলে ত্রুটি সারানো গেলে একই কারণে নতুন মামলা বারিত নয় (বিধি ১৩), যেমন সঠিক কোর্ট ফি দিয়ে বা ঘটনা ঠিকভাবে লিখে। কোনটি দ্রুত, আইনজীবীর সাথে ঠিক করুন।
আপনার বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি
আপনি বিবাদী ছিলেন এবং আপনাকে ছাড়াই মামলার নিষ্পত্তি হলে আদেশ ৯ বিধি ১৩-এ একতরফা ডিক্রি রদের আবেদন করুন। সময়সীমা ডিক্রির ৩০ দিন, বা সমন ঠিকভাবে জারি না হলে জানার দিন থেকে ৩০ দিন। দেখাতে হবে সমন জারি হয়নি বা যথেষ্ট কারণে হাজির হতে পারেননি। ৯৬ ধারায় ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলও করা যায়; দুটি পথ একসাথে চলতে পারে। ইতিমধ্যে ডিক্রি জারি যাতে না হয়, জারি আদালতকে সঙ্গে সঙ্গে জানান।
২০৩ ধারায় ফৌজদারি নালিশ খারিজ
এগোনোর যথেষ্ট ভিত্তি না পেলে ম্যাজিস্ট্রেট কারণ লিখে ২০৩ ধারায় নালিশ খারিজ করেন। বাদীর পথ: নির্ধারিত সময়ে দায়রা জজ (বা হাইকোর্ট বিভাগে) ফৌজদারি রিভিশন, অথবা আদালতের সামনে ছিল না এমন নতুন তথ্য থাকলে নতুন নালিশ। ২০২ ধারায় বিচারিক তদন্তের পর খারিজ হলে তা তদন্ত ছাড়া খারিজের চেয়ে ফেরানো কঠিন, তাই আদেশের সত্যায়িত কপি নিয়ে কারণ পড়ে তবে পথ বাছুন।
অব্যাহতি ও খালাস
অব্যাহতি (ধারা ২৪১ক, ২৬৫গ) বিচারের আগে হয় যখন অভিযোগ ভিত্তিহীন; ফাইনাল রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজি বা রিভিশনে তা ফেরানো যায়। খালাস (ধারা ২৪৫, ২৪৭, ২৬৫জ) বিচারের পরে হয়, বা সমন মামলায় শুনানির দিনে বাদী অনুপস্থিত থাকলে। ২৪৭ ধারায় বাদীর অনুপস্থিতিতে খালাস পূর্ণ খালাস; প্রতিকার অনুমতিসহ আপিল বা রিভিশন, একই ঘটনায় নতুন নালিশ নয়। রাষ্ট্র বা বাদীকে ৪১৭ ধারায় তামাদির মধ্যে খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয়, তাই তারিখ গুরুত্বপূর্ণ।
আদেশ পড়ে প্রতিকার বাছাই
একই সপ্তাহে আদেশের সত্যায়িত কপি নিন; তামাদি আদেশ থেকে গণনা হয়, আর কপি তোলার সময় তখনই বাদ যায় যখন আপনি আবেদন করেছেন। সঠিক শব্দগুলো দেখুন: “অনুপস্থিতিতে খারিজ”, “আরজি প্রত্যাখ্যান”, “২০৩ ধারায় খারিজ”, “অব্যাহতি”, “খালাস”। তারপর উপরের তালিকায় মেলান। আপনার আইনজীবীর ভুলে খারিজ হলেও মামলা ফেরানো যায়; আদালত শুধু আইনজীবীর নয়, পক্ষের দোষ দেখে। আমাদের মামলার নথি পর্যালোচনা সেবা ঠিক এই মুহূর্তের জন্যই।
সত্যায়িত কপি
সঙ্গে সঙ্গে আবেদন করুন; তামাদি আদেশ থেকে গণনা।
ধরন চিনুন
অনুপস্থিতি, প্রত্যাখ্যান, ২০৩ ধারা, অব্যাহতি না খালাস।
প্রতিকার বাছুন
পুনরুজ্জীবন, আপিল, রিভিশন বা নতুন মামলা।
সময়ে দাখিল
আদেশ ৯-এ ৩০ দিন; অন্যগুলো যাচাই করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বাংলাদেশে "অনুপস্থিতিতে মামলা খারিজ" মানে কী?
মামলা ডাকার সময় বাদী হাজির হননি, তাই আদালত মূল বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দিয়ে আদেশ ৯ বিধি ৮-এ খারিজ করেছে। বিধি ৯-এ ৩০ দিনের মধ্যে যথেষ্ট কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে পুনরুজ্জীবিত হয়।
খারিজের পর কি একই দেওয়ানি মামলা আবার করা যায়?
বাদীর অনুপস্থিতিতে খারিজ হলে নয় (বিধি ৯ বারিত করে); মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। আদেশ ৭ বিধি ১১-এ আরজি প্রত্যাখ্যান হলে ত্রুটি সারিয়ে নতুন মামলা করা যায়।
খারিজ মামলা ফেরানোর সময়সীমা কত?
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৬৩ অনুযায়ী খারিজ আদেশ থেকে ৩০ দিন; সত্যায়িত কপির জন্য আবেদন করে থাকলে সেই সময় বাদ যায়।
আমার মামলা একতরফা নিষ্পত্তি হয়েছে। কী করব?
আদেশ ৯ বিধি ১৩-এ ডিক্রির ৩০ দিনের মধ্যে, বা সমন জারি না হলে জানার ৩০ দিনের মধ্যে যথেষ্ট কারণ দেখিয়ে আবেদন করুন। ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলও করা যায়।
ম্যাজিস্ট্রেট ২০৩ ধারায় আমার নালিশ খারিজ করেছেন। সব শেষ?
না। আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যায়, বা নতুন তথ্য থাকলে নতুন নালিশ। আগে সত্যায়িত কপিতে কারণ পড়ুন।
অব্যাহতি ও খালাসের পার্থক্য কী?
অব্যাহতি বিচারের আগে হয় যখন অভিযোগ ভিত্তিহীন; খালাস বিচারের পরে বা সমন মামলায় বাদীর অনুপস্থিতিতে। দুটিই তামাদির মধ্যে আপিল বা রিভিশনে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
খালাসের পর কি আসামিকে আবার বিচার করা যায়?
একই ঘটনায় একই অপরাধে নয়, যদি না আপিল বা রিভিশনে খালাস বাতিল হয়। একই ঘটনায় নতুন নালিশ বারিত।
আমার আইনজীবী তারিখ মিস করেছেন। মামলা কি হারিয়ে গেল?
সাধারণত নয়। পক্ষ সরল বিশ্বাসে থাকলে ও ভুল আইনজীবীর হলে আদালত মামলা ফেরায়। ৩০ দিনের মধ্যে হলফনামায় কারণ জানিয়ে আবেদন করুন।
আদালত, মামলা ও টাকা আদায় বিষয়ে আরও পড়ুন
লিগ্যাল নোটিশ, টাকা আদায়, চেক মামলা ও দেওয়ানি মামলার নিয়ম।
মামলা খারিজ, সময় চলছে?
আদেশটি পাঠান। একদিনের মধ্যে জানাব কোন প্রতিকার প্রযোজ্য এবং সময়ের মধ্যে দাখিল করব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।

মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।