Skip to content

চার্জশিট, ফাইনাল রিপোর্ট ও নারাজি পিটিশন: তদন্তের পর কী হয়

তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট দেয়। দুটিই চ্যালেঞ্জ করা যায়। বাদী ও অভিযুক্তের জন্য কোনটির মানে কী, এখানে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা১৭৩খ ও ২৫০ ধারা (২০২৬)পুলিশ রেগুলেশনস, বেঙ্গল, প্রবিধান ২৭৫
শেয়ার করুন
বাংলাদেশে চার্জশিট, ফাইনাল রিপোর্ট ও নারাজি পিটিশন বোঝাতে প্রতিবেদনের ফাইল ও আতশকাচের চিত্র
এক নজরে
  • চার্জশিট মানে পুলিশ নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারে পাঠানোর মতো প্রমাণ পেয়েছে।
  • ফাইনাল রিপোর্ট মানে পায়নি, মামলা বা কিছু আসামি বাদ দেওয়ার সুপারিশ।
  • ফাইনাল রিপোর্টে আপত্তি জানাতে বাদী নারাজি পিটিশন দিতে পারেন।
  • অভিযুক্ত অভিযোগ গঠনের সময় অব্যাহতি, বা উপযুক্ত ক্ষেত্রে হাইকোর্টে মামলা বাতিল চাইতে পারেন।

এই গাইডে: ফাইনাল রিপোর্টের সাধারণ কারণ · নারাজি পিটিশন: বাদীর জন্য · চার্জশিটের পর: অভিযুক্তের জন্য · মিথ্যা মামলায় ক্ষতিপূরণ

সংক্ষেপে উত্তর

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারায় তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পুলিশ প্রতিবেদন দেন। প্রমাণ অভিযোগ সমর্থন করলে তা চার্জশিট, যাতে আসামিদের নাম ও ধারা থাকে। না করলে তা ফাইনাল রিপোর্ট, অব্যাহতির সুপারিশসহ। ২০২৬ সালের সংশোধনে ১৭৩খ ধারায় তথ্য পাওয়ার দিন থেকে ৬০ কর্মদিবসে তদন্ত শেষ করার কথা, কারণ দেখিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সময় বাড়াতে পারেন; আর ১৭৩ক ধারায় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে প্রমাণ না থাকলে আদালত আগেই অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারেন।

কোনো প্রতিবেদনই মামলার রায় নয়। ম্যাজিস্ট্রেট তা গ্রহণ, প্রত্যাখ্যান বা অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন।

ফাইনাল রিপোর্টের সাধারণ কারণ

ফাইনাল রিপোর্টের শ্রেণিগুলো এসেছে পুলিশ রেগুলেশনস, বেঙ্গল (প্রবিধান ২৭৫) থেকে, ফৌজদারি কার্যবিধি থেকে নয়। ফাইনাল রিপোর্টের সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে:

কারণ (পুলিশি শ্রেণি)মানেপরে যা হতে পারে
ফাইনাল রিপোর্ট সত্য (এফআরটি)ঘটনা সত্য বলে গণ্য, কিন্তু কাউকে বিচারে পাঠানোর মতো প্রমাণ নেইনতুন প্রমাণ পেলে মামলা আবার চলতে পারে
ফাইনাল রিপোর্ট মিথ্যাতদন্তে অভিযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা পাওয়া গেছে। শুধু প্রমাণ না হলেই অভিযোগ মিথ্যা হয় নাবাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের মামলা, বা ২৫০ ধারার শর্ত পূরণ হলে ক্ষতিপূরণের আদেশ হতে পারে
তথ্যগত ভুলঅভিযোগের ঘটনা ভুল বোঝা হয়েছেসাধারণত ফৌজদারি মামলা শেষ হয়
আইনগত ভুলঘটনাটি অপরাধ নয়, যেমন নিছক দেওয়ানি বিরোধসাধারণত ফৌজদারি মামলা শেষ হয়
আমলের অযোগ্যঅপরাধটি আমলের অযোগ্য বলে দেখা গেছেচলতে হলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশের মাধ্যমে

নারাজি পিটিশন: বাদীর জন্য

নারাজি (আপত্তি) পিটিশনে ম্যাজিস্ট্রেটকে ফাইনাল রিপোর্ট গ্রহণ না করতে, বা চার্জশিটে বাদ পড়া আসামিদের যোগ করতে বলা হয়। কারণ লিখুন: সাক্ষী জিজ্ঞাসাবাদ হয়নি, কাগজ উপেক্ষা হয়েছে, বা তদন্তে পক্ষপাত। আদালত তখন:

  • অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন, প্রায়ই সিআইডি বা পিবিআইয়ের মতো অন্য সংস্থাকে;
  • বিচার বিভাগীয় তদন্ত করাতে পারেন; অথবা
  • নথির ভিত্তিতে সরাসরি আমলে নিয়ে প্রসেস দিতে পারেন।

ফাইনাল রিপোর্টের নোটিশ পাওয়ার পর দ্রুত নারাজি দিন; দেরি হলে দুর্বল হয়।

চিত্র: পুলিশের প্রতিবেদন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়

চার্জশিটের পর: অভিযুক্তের জন্য

  • জামিন: আবার আবেদন করুন, বিশেষ করে চার্জশিটে গুরুতর ধারা বাদ পড়লে।
  • অব্যাহতি: অভিযোগ গঠনের শুনানিতে নথিতে ভিত্তি না থাকলে ২৪১ক (ম্যাজিস্ট্রেট) বা ২৬৫গ (দায়রা) ধারায় অব্যাহতি চান।
  • মামলা বাতিল: মামলা আইনের অপব্যবহার হলে হাইকোর্ট বিভাগ ৫৬১ক ধারায় বাতিল করতে পারেন।
  • আপনার বিরুদ্ধে নারাজি: বাদী ফাইনাল রিপোর্টে আপত্তি দিলে আদালত সিদ্ধান্তের আগে আপনার বক্তব্যও শুনতে পারেন।

মিথ্যা মামলায় ক্ষতিপূরণ

সংশোধিত ২৫০ ধারায়, ম্যাজিস্ট্রেটের বিচার্য মামলায় অব্যাহতি বা খালাস হলে ম্যাজিস্ট্রেট বাদী বা সংবাদদাতাকে অভিযুক্তকে ক্ষতিপূরণ দিতে আদেশ দিতে পারেন, যদি:

  • আদালত অভিযোগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক পান;
  • বাদী বা সংবাদদাতাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়; এবং
  • আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করেন।

এই শর্ত পূরণ হলে ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতেই হবে। পরিমাণ ঠিক করেন ম্যাজিস্ট্রেট, সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা (তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে ২৫,০০০ টাকা)। শুধু ফাইনাল রিপোর্ট হলেই কেউ ক্ষতিপূরণ পান না। মিথ্যা অভিযোগের জন্য আলাদা মামলাও করা যায়।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট আদালতের চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
পুলিশ প্রতিবেদন এলে
১

কপি নিন

আইনজীবীর মাধ্যমে চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্টের সার্টিফায়েড কপি নিন।

২

কে ও কী দেখুন

কোন আসামি, কোন ধারা ও কোন সাক্ষী আছে মিলিয়ে নিন।

৩

জবাব ঠিক করুন

বাদী: নারাজি। অভিযুক্ত: জামিন, অব্যাহতি বা মামলা বাতিল।

৪

তারিখের আগে দাখিল

পরের শুনানির আগে দাখিল করুন, যাতে আদালত বিবেচনা করেন।

প্রতিবেদন প্রমাণ, রায় নয়। সিদ্ধান্ত দেন আদালত।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

চার্জশিট কী?

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারার পুলিশ প্রতিবেদন, যাতে আসামিদের নাম ও ধারা থাকে এবং বলা হয় বিচারের মতো প্রমাণ আছে।

ফাইনাল রিপোর্ট কী?

পুলিশের প্রতিবেদন, যাতে বলা হয় প্রমাণ অভিযোগ সমর্থন করে না, এবং আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

নারাজি পিটিশন কী?

ফাইনাল রিপোর্ট বা আসামি বাদ দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদীর আপত্তি। আদালত অধিকতর তদন্ত, বিচার বিভাগীয় তদন্ত বা সরাসরি আমলে নিতে পারেন।

নারাজি দেওয়ার কি সময়সীমা আছে?

কার্যবিধিতে নির্দিষ্ট সময় নেই, তবে ফাইনাল রিপোর্টের নোটিশ পেলে দ্রুত দিন। দেরিতে দুর্বল হয়।

প্রমাণ ছাড়াই চার্জশিটে নাম এসেছে। কী করব?

অভিযোগ গঠনের শুনানিতে অব্যাহতি চান, অথবা মামলা আইনের অপব্যবহার হলে হাইকোর্ট বিভাগে বাতিলের আবেদন করুন।

পুলিশকে কত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হয়?

২০২৬ সালের সংশোধনে ১৭৩খ ধারায় তথ্য পাওয়ার দিন থেকে ৬০ কর্মদিবস। তদন্ত কর্মকর্তা কারণ দেখিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বাড়তি সময় চাইতে পারেন। সময় পেরোলেই মামলা খারিজ হয় না।

ফাইনাল রিপোর্টে মামলা মিথ্যা বললে কী হয়?

আদালত গ্রহণ করলে অভিযুক্ত অব্যাহতি পান। বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের মামলা হতে পারে, অথবা শুনানির পর আদালত মামলা মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক পেলে ২৫০ ধারায় ক্ষতিপূরণের আদেশ হতে পারে। ৫০,০০০ টাকা সর্বোচ্চ সীমা, নির্ধারিত অঙ্ক নয়।

সম্পূরক চার্জশিট কি দেওয়া যায়?

যায়। আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দিলে পুলিশ নতুন আসামি বা প্রমাণ যোগ করে সম্পূরক চার্জশিট দিতে পারে।

ফৌজদারি, পুলিশ ও সাইবার বিষয়ে আরও পড়ুন

গ্রেপ্তার ও জামিন, জিডি ও এজাহার, মিথ্যা মামলা ও সাইবার হয়রানি।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

আপনার মামলায় চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট এসেছে?

কপি পাঠান। নারাজি, অব্যাহতি বা মামলা বাতিল নিয়ে আমরা পরামর্শ দিই। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।