Skip to content
দলিল ও ব্যক্তিগত কাগজপত্র

ব্যক্তিগত চুক্তি ও দলিল

আত্মীয়কে টাকা ধার দিচ্ছেন, ফ্ল্যাট ভাড়া দিচ্ছেন, পারিবারিক কোনো বিষয় মীমাংসা করছেন, বা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যা লিখিতভাবে রাখা দরকার – আর চান এমন একটি দলিল যা সমস্যা হলে সত্যিই কাজে লাগবে। আমরা বাংলা বা ইংরেজিতে স্পষ্ট ভাষায় চুক্তি তৈরি করি, সঠিক স্ট্যাম্প শুল্ক নির্ধারণ করি এবং জানিয়ে দিই কখন রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।

চুক্তি আইন, ১৮৭২স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ (তফসিল ১)নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ (ধারা ১৭ ও ১৭এ)
আইনজীবীর চেম্বারে সাক্ষীদের সামনে স্ট্যাম্পযুক্ত চুক্তিতে দুই পক্ষের স্বাক্ষর

এই সেবায় যা আছে

বাংলাদেশে বেশিরভাগ ব্যক্তিগত চুক্তি চুক্তি আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়: থাকতে হবে স্বাধীন সম্মতি, বৈধ প্রতিদান ও বৈধ উদ্দেশ্য, যোগ্য পক্ষগুলোর মধ্যে। ভালোভাবে তৈরি একটি লিখিত দলিল শর্তগুলো প্রমাণ করে, সময়সীমা ও প্রতিকার নির্ধারণ করে দেয়, এবং পরে টাকা আদায় বা লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো অনেক সহজ করে তোলে। আমরা তৈরি করি ঋণচুক্তি, ভাড়া চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), পারিবারিক মীমাংসা চুক্তি, অঙ্গীকারনামা, মীমাংসা ও দায়মুক্তি দলিল, এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির জন্য ঠিকাদার বা ডেভেলপারের সাথে চুক্তি। ব্যবসায়িক চুক্তি ও কোম্পানির দলিলপত্র দেখে আমাদের সহযোগী প্ল্যাটফর্ম LegalDesk.bd।

স্ট্যাম্প শুল্ক ও নোটারাইজেশন

স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ অনুযায়ী বেশিরভাগ দলিলে স্বাক্ষরের আগে বা সময়ে তফসিল ১-এ নির্ধারিত হারে (অর্থ আইন দ্বারা সংশোধিত অনুযায়ী) স্ট্যাম্প দিতে হয়। শুল্ক ও জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত স্ট্যাম্পবিহীন বা কম স্ট্যাম্পের দলিল সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয় না (ধারা ৩৫)। চুক্তি, বন্ড, ইজারা ও মীমাংসাপত্র – প্রতিটির নিজস্ব তফসিল-এন্ট্রি আছে, এবং কোনো কোনোটির শুল্ক মূল্যের ওপর নির্ভর করে, তাই সঠিক ধারা মেলানো জরুরি। নোটারি পাবলিকের সামনে নোটারাইজেশন করলে পরিচয় ও স্বাক্ষরের প্রমাণ যুক্ত হয়, যা ব্যাংক, দূতাবাস ও পরে কোনো বিরোধে কাজে লাগে, তবে এটি স্ট্যাম্প বা রেজিস্ট্রেশনের বিকল্প নয়।

কখন রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক

নিবন্ধন আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী ১০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পত্তিতে অধিকার সৃষ্টি, হস্তান্তর বা বিলুপ্ত করে এমন দলিল, স্থাবর সম্পত্তির দান, এক বছর মেয়াদী বা তার বেশি সময়ের ইজারা, এবং বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। ধারা ১৭এ অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি করতে হয়। যে দলিল রেজিস্ট্রি হওয়া উচিত ছিল কিন্তু হয়নি, তা সম্পত্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না এবং লেনদেন প্রমাণে ব্যবহার করা যায় না, যদিও সীমিত পরোক্ষ কাজে এটি ব্যবহার হতে পারে।

প্রচলিত কিছু ব্যক্তিগত চুক্তি

ঋণচুক্তিতে উল্লেখ থাকা উচিত পরিমাণ, কীভাবে টাকা দেওয়া হয়েছে (ভালো হয় ব্যাংক ট্রান্সফারে), পরিশোধের তারিখ ও যেকোনো জামানত; শুধু পোস্ট-ডেটেড চেক আসল ঋণের দুর্বল প্রমাণ। ভাড়া চুক্তিতে হাউস রেন্ট কন্ট্রোল আইন, ১৯৯১-এর অগ্রিম ও ভাড়ার রশিদ সংক্রান্ত বিধান মানা উচিত। পারিবারিক মীমাংসা চুক্তি আগে থেকেই হওয়া কোনো সমঝোতা লিখিতভাবে রেকর্ড করতে পারে, তবে এতে যদি নিজে থেকে জমি ভাগ করা হয়, তাহলে সাধারণত বণ্টননামা দলিল হিসেবে রেজিস্ট্রেশন লাগে। এমওইউ (MoU) তার ভাষার ওপর নির্ভর করে বাধ্যতামূলক হতে পারে বা নাও হতে পারে, তাই কোন অংশ বাধ্যতামূলক তা স্পষ্ট করে বলতে হয়। অঙ্গীকারনামা একপাক্ষিক প্রতিশ্রুতি এবং এর পেছনের প্রতিদান ও স্পষ্টতার ওপরই এর কার্যকারিতা নির্ভর করে।

চুক্তির মূল কপি – স্ট্যাম্পযুক্ত ও স্বাক্ষরিত – সাক্ষীদের পূর্ণ নাম ও এনআইডিসহ সবসময় সংরক্ষণ করুন। ফটোকপি বা স্ট্যাম্পবিহীন কাগজ থাকলে জোরালো দাবিও প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

যা সঙ্গে থাকলে সুবিধা হয়

  • সব পক্ষ ও সাক্ষীদের নাম, ঠিকানা ও এনআইডি
  • মূল শর্তাবলি: পরিমাণ, তারিখ, সম্পত্তির বিবরণ, দায়বদ্ধতা এবং চুক্তি ভঙ্গ হলে কী হবে
  • ইতিমধ্যে করা পরিশোধের প্রমাণ, যেমন ব্যাংক ট্রান্সফার বা রশিদ
  • সম্পত্তির ক্ষেত্রে: দলিল, খতিয়ান ও নামজারির বিবরণ
  • পক্ষগুলোর মধ্যে আগের কোনো খসড়া, বার্তা বা চুক্তি

কোথায় হয়, কত সময় লাগে

খসড়া তৈরি হয় চেম্বারে, সাধারণত কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে। স্বাক্ষরের আগে স্ট্যাম্প পেপার বা ই-স্ট্যাম্পিং কেনা হয়; নোটারাইজেশন সাধারণত একই দিনে হয়ে যায়; বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন হয় সম্পত্তির জন্য নির্ধারিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। বিরোধ দেখা দিলে কোন ফোরামে যেতে হবে তা নির্ভর করে দাবির ধরনের ওপর, যেমন টাকা আদায় বা সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের জন্য দেওয়ানি আদালত, বা প্রযোজ্য হলে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা।

নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার, কলম ও হাতে লেখা নোটসহ একটি খসড়া চুক্তি
আমরা যেভাবে এটি পরিচালনা করি
1

চুক্তির বিষয়টি বোঝা

পক্ষগুলো কারা, কে কী করবে এবং কোথায় সমস্যা হতে পারে – তা আমরা নিশ্চিত করি।

2

সহজ ভাষায় খসড়া তৈরি

আমরা পরিশোধ, সময়সীমা, ব্যত্যয় ও বিরোধ সংক্রান্ত শর্তসহ স্পষ্ট একটি খসড়া তৈরি করি, বাংলা, ইংরেজি বা উভয় ভাষায়।

3

স্ট্যাম্প, স্বাক্ষর ও সাক্ষী

আমরা সঠিক স্ট্যাম্প শুল্ক নিশ্চিত করি এবং সাক্ষীদের সামনে, প্রয়োজনে নোটারি পাবলিকের সামনে স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করি।

4

প্রয়োজনে রেজিস্ট্রেশন

যেখানে আইন রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করে, সেখানে আমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জন্য দলিল তৈরি করি এবং শেষ পর্যন্ত সাথে থাকি।

অপর পক্ষের তৈরি চুক্তিও আমরা পর্যালোচনা করে দিই।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে স্ট্যাম্প পেপারের চুক্তি কি বৈধ?

চুক্তি আইনের শর্ত পূরণ করলে একটি লিখিত চুক্তি বৈধ। সঠিক স্ট্যাম্প থাকলে তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশনও লাগতে পারে, এবং শুধু স্ট্যাম্প পেপারের চুক্তি দিয়ে জমি হস্তান্তর হয় না।

ভাড়া চুক্তি কি রেজিস্ট্রি করতে হয়?

এক বছরের বেশি বা বছর-প্রতি নবায়নযোগ্য স্থাবর সম্পত্তির ইজারা রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। মাসিক ভাড়া চুক্তি রেজিস্ট্রি করা লাগে না, তবে লিখিত ও স্ট্যাম্পযুক্ত চুক্তি রাখার পরামর্শ থাকে।

অঙ্গীকারনামা কী এবং এটি কি প্রয়োগযোগ্য?

অঙ্গীকারনামা হলো একটি লিখিত প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার। এর পেছনে প্রতিদান থাকলে এবং শর্তগুলো স্পষ্ট হলে এটি চুক্তি হিসেবে প্রয়োগযোগ্য হতে পারে, এবং পারিবারিক ও অর্থ সংক্রান্ত বিরোধে এটি কাজের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হয়।

বন্ধুকে দেওয়া ঋণ কি লিখিত রাখা উচিত?

হ্যাঁ। পরিমাণ, পরিশোধ পদ্ধতি, পরিশোধের তারিখ ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর রেকর্ড করুন, এবং সম্ভব হলে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা দিন। পরিশোধ বন্ধ হলে এতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো বা মানি স্যুট করা অনেক সহজ হয়।

শেয়ার করুন

চুক্তি লিখিতভাবে করতে চান?

মূল শর্তগুলো আমাদের জানান, আমরা এমন একটি খসড়া তৈরি করে দেব যার ওপর আপনি নির্ভর করতে পারবেন।