টিন সার্টিফিকেট করার নিয়ম ২০২৬: কীভাবে পাবেন, ডাউনলোড ও চেক করবেন, সংশোধন ও বাতিল করবেন
টিন বিনামূল্যে, অনলাইনে দশ মিনিটের কাজ — আর নেওয়ার চেয়ে ছাড়া কঠিন। কাদের লাগে, নিবন্ধনের ধাপ, যে ভুলগুলোতে মানুষ আটকায়, টিন থাকলে কী করতে হয় আর কী হয় না, এবং বাতিলের আইনসম্মত পথ — সব এই গাইডে।
- টিন হলো এনবিআরের দেওয়া ১২ সংখ্যার করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর; নিবন্ধন অনলাইনে ও বিনামূল্যে।
- ধারা ২৬১ অনুযায়ী করদাতা, রিটার্ন দিতে বাধ্য ব্যক্তি, কিংবা চল্লিশটি তালিকাভুক্ত কাজে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দরকার এমন যে-কারও টিন লাগে।
- টিন থাকলেই কর দিতে হয় না; আগের তিন বছরে কর নির্ধারিত হলে বা PSR লাগলে রিটার্নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।
- ধারা ২৬২-এ টিন বাতিল করা যায় — তবে বকেয়া নেই, কোনো কর নির্ধারণ ঝুলে নেই এবং টানা তিন বছর করযোগ্য আয় না থাকার মতো তালিকাভুক্ত কারণ থাকলে।
এই গাইডে: কাদের টিন নিতে হবে · নিবন্ধন: ই-টিন ধাপে ধাপে · টিন ডাউনলোড, যাচাই ও সংশোধন · টিন থাকলে কী করতে হয় — আর কী হয় না · টিন বাতিলের নিয়ম (ধারা ২৬২)
সংক্ষেপে উত্তর
টিন লাগবে যদি আপনি করদাতা হন, রিটার্ন দিতে বাধ্য হন, কিংবা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) লাগে — ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণ, ট্রেড লাইসেন্স, জমি বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি, গাড়ি, পেশাজীবী সদস্যপদসহ ধারা ২৬৪-এর তালিকার জন্য। নিবন্ধন অনলাইনে, এনআইডি ও সেই এনআইডিতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে; সনদ সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়। টিন আপনাকে কর দেয় না। কর লাগে করমুক্ত সীমার ওপরের আয়ে, আর রিটার্নে বাধ্য করে ধারা ১৬৬ — বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আগের তিন বছরে কর নির্ধারিত হওয়ায় বা এ বছর PSR লাগায়। পরে দুটোর কোনোটিই না লাগলে ধারা ২৬২-এ টিন বাতিল করা যায়, ফেলে রাখতে হয় না।
কাদের টিন নিতে হবে
আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ২৬১(১)-এ চারটি শ্রেণি: (ক) করদাতা; (খ) ধারা ১৬৬-এ রিটার্ন দিতে বাধ্য ব্যক্তি; (গ) ধারা ২৬৪-এ PSR দেখাতে হয় এমন ব্যক্তি; (ঘ) যিনি স্বেচ্ছায় কর দিতে বা রিটার্ন দিতে চান। সবচেয়ে বেশি মানুষ আসেন (গ) দিয়ে। চল্লিশটি কাজের পুরো তালিকা আমাদের জিরো রিটার্ন গাইডে; যে বারোটি কাজে PSR নয়, শুধু টিন সনদ লাগে, তার মধ্যে আছে নতুন ট্রেড লাইসেন্স, ক্রেডিট কার্ড, ৫ লাখ টাকার বেশি ডাকঘর সঞ্চয় হিসাব, পেশাজীবী সংগঠনের প্রথম সদস্যপদ, ১৫০ সিসি বা তার বেশি মোটরসাইকেল, আর নিগমনের বছরের কোম্পানি।
যোগ্য ব্যক্তি নিবন্ধন না করলে কর কর্তৃপক্ষ নিজেই তাঁকে নিবন্ধন করে টিন দিতে পারে (ধারা ২৬১(৪))। উৎসে কর কর্তনকারী — নিয়োগকর্তা, কোম্পানি ও অন্যরা — ধারা ২৬৩ অনুযায়ী আলাদা উৎসে কর কর্তনকারী শনাক্তকরণ নম্বর (WIN) রাখবেন, যা কর্তনের কাজে তাঁদের টিন হিসেবে গণ্য।
দুটি কাজে টিন লাগে না: সাধারণ ব্যাংক হিসাব খোলা (২০২৬-এর প্রস্তাব সংসদে প্রত্যাহার) এবং জমির নামজারি (সেটিও প্রত্যাহার)।
নিবন্ধন: ই-টিন ধাপে ধাপে
- ঠিক সিমটি রাখুন। নিবন্ধন ও পরের প্রতিটি ওটিপি যায় নিজের এনআইডিতে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে।
*16001#ডায়াল করে এনআইডির শেষ ৪ সংখ্যা দিলে কোন নম্বরগুলো যোগ্য তা দেখা যায়। পরিবারের অন্য কারও সিম ব্যবহার — নিবন্ধন ব্যর্থ হওয়ার এক নম্বর কারণ। - এনবিআরের ই-টিন নিবন্ধন পাতা খুলুন (nbr.gov.bd থেকে লিংক) এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে ইউজার অ্যাকাউন্ট খুলুন; ওটিপি দিয়ে যাচাই করুন।
- শ্রেণি বাছুন — এনআইডিধারী বাংলাদেশি ব্যক্তি, এনআইডি নেই এমন ব্যক্তি (নাবালক বা বিদেশি — পাসপোর্ট লাগে), কোম্পানি, অংশীদারি ইত্যাদি — এবং নিবন্ধনের উদ্দেশ্য।
- এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডার থেকে নাম, বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানা আসে; “already exists for this NID” দেখালে বুঝবেন ওই এনআইডিতে আগেই টিন হয়েছে (পরের অংশ দেখুন)।
- যোগাযোগ ও আয়ের তথ্য দিন — বর্তমান ঠিকানা, নিয়োগকর্তা বা ব্যবসা, আয়ের উৎস — এতেই আপনার কর সার্কেল ও অঞ্চল ঠিক হয়।
- জমা দিন। ১২ সংখ্যার টিন ও সনদ (পিডিএফ) সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়। ডাউনলোড করে লগইন রাখুন; রিটার্নের সময় ই-রিটার্ন পোর্টালে এই টিন দিয়েই নিবন্ধন হয়।
বিদেশি নাগরিক এনআইডির বদলে পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধন করেন; কোম্পানি নিগমন সনদ ও পরিচালকদের টিন দিয়ে। কোনো ধাপে ফি নেই; “টিন প্রসেসিং”-এর নামে কেউ টাকা নিলে সে টাইপিংয়ের দাম নিচ্ছে।
টিন ডাউনলোড, যাচাই ও সংশোধন
ডাউনলোড। নির্ধারিত মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ই-টিন সিস্টেমে লগইন করে “View TIN certificate” খুলে পিডিএফ সেভ বা প্রিন্ট করুন। টিন সনদের মেয়াদ শেষ হয় না।
যাচাই। লগইন করে, বা যে অফিস টিন চেয়েছে তারা এনবিআরের সিস্টেমে যাচাই করে; নাম দিয়ে পাবলিক সার্চ নেই। ব্যাংক বা রেজিস্ট্রিতে দেওয়া সনদ এনবিআরের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, তাই জাল পিডিএফ অর্থহীন এবং অপরাধ।
পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা লগইন হারালে। নিবন্ধিত মোবাইলে ওটিপি দিয়ে পোর্টাল পাসওয়ার্ড রিসেট করে। সেই নম্বর না থাকলে সার্কেল অফিস আবেদনের ভিত্তিতে এনআইডিতে নিবন্ধিত নতুন নম্বরের সঙ্গে টিন যুক্ত করতে পারে।
নাম, ঠিকানা বা বানান সংশোধন। ব্যক্তিগত তথ্য আসে এনআইডি থেকে; আগে এনআইডি ঠিক করুন, তারপর সার্কেলে আবেদন করে টিনের নথি হালনাগাদ করুন। ঠিকানা বদলে সার্কেল বদলালে সেটিও আবেদনে হয়; রিটার্নের আগে করে নেওয়া ভালো, যাতে রিটার্ন ঠিক সার্কেলে যায়।
“TIN already exists for this NID.” এক এনআইডিতে একটিই টিন। সাধারণত বহু বছর আগে — চাকরি, ব্যাংকের ফরম বা গাড়ির জন্য — নেওয়া টিনটি ভুলে গেছেন। পোর্টালের “forgot TIN” পথে এনআইডি দিয়ে, বা সার্কেলের মাধ্যমে তা উদ্ধার করুন। সত্যিকারের দ্বৈত বা ভুল নিবন্ধন হলে বাড়তিটি বাতিলের ভিত্তি ধারা ২৬২(১)(ঘ)।
টিন থাকলে কী করতে হয় — আর কী হয় না
বেশির ভাগ দুশ্চিন্তা এখান থেকেই, তাই স্পষ্ট করে বলি। টিন একটি শনাক্তকরণ নম্বর; এতে করের দায় তৈরি হয় না। কর লাগে কেবল করমুক্ত সীমার ওপরের আয়ে (কর বছর ২০২৬-২৭-এ সাধারণ ব্যক্তির জন্য ৪,০০,০০০ টাকা — দেখুন করহার গাইড)। রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আসে ধারা ১৬৬ থেকে — করযোগ্য আয় থাকলে, আগের তিন বছরের কোনো বছরে কর নির্ধারিত বা করযোগ্য হলে, কোম্পানির পরিচালক, অংশীদার, সরকারি কর্মচারী বা ব্যবস্থাপনা পদের কর্মী হলে, কিংবা এ বছর PSR লাগলে।
তাই এককালীন কোনো কাজে টিন নিয়ে পরে যাঁর আয় নেই, ধারা ২৬৪-এর প্রয়োজনও নেই — তিনি আইনত রিটার্নে বাধ্য নন। তবু আমরা শূন্য রিটার্ন দিতে বলি, তিন কারণে: “আগের তিন বছর” নিয়মে একবার দিলে থামলেই ফাঁক তৈরি হয়; শূন্য রিটার্নে ন্যূনতম কর নেই; আর এর PSR-ই পরের বার ঋণ, রেজিস্ট্রি বা নবায়নে চাওয়া হবে। ন্যূনতম কর — এ বছর থেকে ব্যক্তির জন্য ৫,০০০ টাকা, প্রথমবারের করদাতার ১,০০০ টাকা — লাগে কেবল আয় সীমা ছাড়ালে।
টিন বাতিলের নিয়ম (ধারা ২৬২)
ধারা ২৬২(১)-এ কারণগুলো আছে। বেশির ভাগ মানুষ যেটি ব্যবহার করেন তা (ক): ধারা ২৬৪-এর কোনো কাজে আর PSR লাগে না, এবং হয় আপনি আর “করদাতা” নন, কিংবা টানা তিন বছর করযোগ্য আয় ছিল না ও থাকবে না (যেমন শারীরিক অক্ষমতায়), কিংবা ধারা ১৬৬-এ আর রিটার্ন দিতে বাধ্য নন। অন্য কারণ: মৃত্যু, অবসায়ন বা বিলুপ্তি (খ); বাংলাদেশে কোনো আয় না রেখে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া (গ); দ্বৈত বা ভুল নিবন্ধন (ঘ); আইনগত অবস্থার পরিবর্তন (ঙ); অন্য যেকোনো আইনসম্মত কারণ (চ)।
ধারা ২৬২(২) অনুযায়ী উপকর কমিশনার অনুমোদন দিতে পারেন কেবল যদি কোনো কর বকেয়া না থাকে, কোনো কর নির্ধারণ ঝুলে না থাকে, কোনো ফোরামে বিরোধ ঝুলে না থাকে এবং দেওয়া কারণ সত্য হয়। আপনার সার্কেলের উপকর কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করুন — কারণ, সমর্থক তথ্য (তিন শূন্য বছরের রিটার্ন, বিদেশে চলে যাওয়ার প্রমাণ, দ্বৈত টিন নম্বর) ও বাতিলের অনুরোধসহ; সিদ্ধান্তের আগে কর্মকর্তা পরিদর্শন ও শুনানি করতে পারেন। মৃত করদাতার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তি নিষ্পত্তি পর্যন্ত টিন চালু রাখতে বা বাতিলের আবেদন করতে পারেন।
বাতিল টিন নিষ্ক্রিয় হয়, মুছে যায় না: কোনো সরকারি কাজে আর ব্যবহার করা যায় না, কিন্তু নথি এনবিআরের কাছে থাকে (ধারা ২৬২(৪)–(৫))। ধারা ২৬২(৩)-ও মনে রাখুন: বৈধ আয়ের উৎস নেই, মানি লন্ডারিং বা অন্য আর্থিক অপরাধের জন্য নেওয়া, কিংবা মিথ্যা তথ্যে নিবন্ধিত টিন এনবিআর নিজেই বাতিল করতে পারে। ঘুমন্ত টিন যদি এখনো দরকার হয়, উত্তর শূন্য রিটার্ন — অবহেলা নয়।
দ্বৈত বা হারানো টিন
এনআইডি ধরে আগের টিন খুঁজে বের করে সার্কেলে নথি একীভূত করি।
ভুল সার্কেল বা তথ্য
রিটার্নের আগে ফাইল ঠিক সার্কেলে নিই এবং নাম, ঠিকানা ও আয়ের উৎস সংশোধন করি।
বাতিল
সমর্থক রিটার্নসহ ধারা ২৬২-এর আবেদন তৈরি করে সার্কেল অফিসে তা অনুসরণ করি।
বিদেশি ও কোম্পানি
প্রবাসী কর্মী ও পরিচালকদের পাসপোর্টভিত্তিক টিন এবং নিয়োগকর্তাদের WIN নিবন্ধন করি।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
টিন সার্টিফিকেট কি বিনামূল্যে?
হ্যাঁ। এনবিআরের ই-টিন সিস্টেমে নিবন্ধনে কোনো খরচ নেই, সনদ সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়। এর জন্য এনবিআরের ফি নেওয়ার অনুমতি কারও নেই।
টিন নিবন্ধনে কী কী লাগে?
আপনার এনআইডি, জন্মতারিখ, আর নিজের এনআইডিতে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর। বিদেশিদের পাসপোর্ট; কোম্পানির নিগমন সনদ।
টিন থাকলেই কি কর দিতে হবে?
না। কর লাগে কেবল করমুক্ত সীমার ওপরের আয়ে। আগের তিন বছরের কোনো বছরে কর নির্ধারিত হলে বা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র লাগলে টিনের কারণে রিটার্ন দিতে হতে পারে।
টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করব কীভাবে?
নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ই-টিন সিস্টেমে লগইন করে "View TIN certificate" খুলুন। পিডিএফ সেভ বা প্রিন্ট করা যায়; এর মেয়াদ শেষ হয় না।
সিস্টেম বলছে আমার এনআইডিতে আগেই টিন আছে। কী করব?
আপনার এনআইডিতে আগে টিন ইস্যু হয়েছে। পোর্টালের forgot-TIN অপশনে এনআইডি দিয়ে, বা সার্কেল অফিসের মাধ্যমে তা উদ্ধার করুন। এক এনআইডিতে একটিই টিন থাকে।
টিন বাতিল করব কীভাবে?
ধারা ২৬২-এ তালিকাভুক্ত কারণ দেখিয়ে — সাধারণত টানা তিন বছর করযোগ্য আয় নেই ও PSR আর লাগবে না — এবং বকেয়া বা ঝুলন্ত বিরোধ না থাকলে সার্কেলের উপকর কমিশনারের কাছে আবেদন করুন। টিন নিষ্ক্রিয় হয়, মুছে যায় না।
ব্যাংক হিসাব খুলতে কি টিন লাগে?
না। ২০২৬-এর প্রস্তাবটি বাদ পড়েছে। ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণ, ১০ লাখ টাকার বেশি মেয়াদি আমানত ও তালিকার অন্য কাজে PSR লাগে, সাধারণ হিসাবে নয়।
বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কি টিন পাবেন?
পাবেন, "individual without NID" শ্রেণিতে পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধন করে। প্রবাসী কর্মীদের সাধারণত টিন লাগে, কারণ তাঁদের বেতন এখানে করযোগ্য।
কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিষয়ে আরও পড়ুন
আয়কর রিটার্ন, টিন, ভ্যাট ও বিন, মূসক ফরম, কাস্টমস শুল্ক এবং এনবিআরের নোটিশ পেলে করণীয়।
টিন নিয়ে ঝামেলায়?
দ্বৈত নম্বর, ভুল সার্কেল, হারানো লগইন বা বাতিল — বিস্তারিত পাঠান, সার্কেলের সঙ্গে আমরা সমাধান করে দেব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।

মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।