Skip to content

আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ২০২৬-২৭: অনলাইনে ই-রিটার্ন, কোন সময়ে দিলে কী হয়, কী কী কাগজ লাগে

এ বছর থেকে ৩০ নভেম্বরের একক শেষ তারিখ আর নেই। অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী বছরের যেকোনো সময় রিটার্ন দেওয়া যায়; ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দিলে রেয়াত, ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে দিলে বাড়তি কর। আমরা ক্লায়েন্টদের যেভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি করাই, তা এখানে।

আয়কর আইন ২০২৩, ধারা ১৬৬, ২৬৪, ২৬৬অর্থ আইন ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন)এনবিআর ই-রিটার্ন পোর্টাল, চালু ২২ জুলাই ২০২৬
শেয়ার করুন
বাংলাদেশে ২০২৬-২৭ আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য রিটার্ন ফরম, ল্যাপটপ ও ক্যালেন্ডার
এক নজরে
  • কর বছর ২০২৬-২৭ মানে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত আয়ের হিসাব।
  • ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দিলে প্রদেয় করের ৫% রেয়াত, সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা; ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে বাড়তি কর।
  • সাধারণ ব্যক্তি করদাতার জন্য etaxnbr.gov.bd-তে অনলাইনে দাখিল এখন বাধ্যতামূলক; কয়েকটি শ্রেণি কাগজে দিতে পারবেন।
  • লাগবে ১২ সংখ্যার টিন, নিজের এনআইডিতে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল সিম, আর বছরের আয় ও সম্পদের কাগজ।

এই গাইডে: ২০২৬-২৭ কর বছরে কাদের রিটার্ন দিতে হবে · চারটি সময়সীমা — কোন সময়ে দিলে কী হয় · অনলাইনে দাখিল: ই-রিটার্নের ধাপ · শুরুর আগে কী কী কাগজ গুছিয়ে নেবেন · ভুল, দেরি ও জরিমানা

সংক্ষেপে উত্তর

৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বছরে আপনার করযোগ্য আয় থাকলে, আগের তিন বছরের কোনো বছরে কর নির্ধারিত হয়ে থাকলে, কিংবা আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ২৬৪-এ বলা চল্লিশটি কাজের কোনোটির জন্য রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) লাগলে — কর বছর ২০২৬-২৭-এর রিটার্ন আপনাকে দিতেই হবে। দিতে হবে অনলাইনে, etaxnbr.gov.bd-তে। সবচেয়ে ভালো সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আগে, তখন আগাম দাখিলের রেয়াত পাওয়া যায়; ৩১ ডিসেম্বরের পরে দিলে রিটার্নের খরচ কমে না, বাড়ে।

২০২৬-২৭ কর বছরে কাদের রিটার্ন দিতে হবে

আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৬৬-এ কারা রিটার্ন দেবেন তার তালিকা আছে। বাস্তবে চারটি শ্রেণির মানুষ এর আওতায় পড়েন:

  • যাঁর বছরের মোট আয় করমুক্ত সীমার বেশি (এ বছর সাধারণ ব্যক্তির জন্য ৪,০০,০০০ টাকা; নারী, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ও আরও কিছু শ্রেণির জন্য বেশি — দেখুন আমাদের করহার গাইড)।
  • আগের তিন বছরের যেকোনো বছরে যাঁর কর নির্ধারিত হয়েছে বা করযোগ্য আয় ছিল, এ বছর আয় সীমার নিচে থাকলেও।
  • কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার-পরিচালক ও উদ্যোক্তা, ফার্মের অংশীদার, সরকারি কর্মচারী, এবং ব্যবস্থাপনা ও নির্বাহী পদের বেতনভোগী — আয় যা-ই হোক।
  • যাঁর PSR লাগবে ধারা ২৬৪ অনুযায়ী — ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স, জমি বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি, পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ নবায়ন, ১০ লাখ টাকার বেশি এফডিআর বা সঞ্চয়পত্র, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন, টেন্ডার, আমদানি এলসি, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সন্তান ভর্তি — চল্লিশটি কাজের বাকিগুলোসহ। পুরো তালিকা আমাদের জিরো রিটার্ন গাইডে দেওয়া আছে।

যিনি শুধু টিন রাখেন কিন্তু এই কোনো শ্রেণিতে পড়েন না, তাঁর ওপর আইনত রিটার্নের বাধ্যবাধকতা নেই। আমাদের অভিজ্ঞতায় এমন মানুষ সাধারণত না জেনেই কোনো একটি শ্রেণিতে পড়ে যান, আর শূন্য রিটার্ন দিতে খরচও নেই। বাংলাদেশে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান নেই এমন অনাবাসী ব্যক্তিকে অর্থ আইন ২০২৬ রিটার্ন থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

চারটি সময়সীমা — কোন সময়ে দিলে কী হয়

অর্থ আইন ২০২৬ নির্দিষ্ট “কর দিবস”-এর বদলে সারা বছর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা এনেছে। ব্যক্তি করদাতার জন্য কার্যকর সময়সীমা এনবিআর ২ আগস্ট ২০২৬ ঘোষণা করে:

কখন দিচ্ছেনফল
১ জুলাই – ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬প্রদেয় করের ৫% রেয়াত, সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা
১ অক্টোবর – ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬রেয়াত নেই, বাড়তি করও নেই
১ জানুয়ারি – ৩১ মার্চ ২০২৭প্রদেয় করের ২% বা ৩,০০০ টাকা, যেটি বেশি, বাড়তি কর
১ এপ্রিল – ৩০ জুন ২০২৭প্রদেয় করের ৫% বা ৫,০০০ টাকা, যেটি বেশি, বাড়তি কর

বাস্তবে দুটি বিষয় মনে রাখুন। প্রথমত, রেয়াত হিসাব হয় প্রদেয় করের ওপর — উৎসে কর্তিত কর ও অগ্রিম কর বাদ দেওয়ার পর যা বাকি থাকে। যে চাকরিজীবীর পুরো বছরের কর নিয়োগকর্তা আগেই কেটে রেখেছেন, তিনি রেয়াত প্রায় কিছুই পাবেন না; ডেইলি স্টার সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বিষয়টি তুলে ধরেছে। দ্বিতীয়ত, আইনে এনবিআরের সময় বাড়ানোর ক্ষমতা বাতিল হয়েছে; তাই ২০২৫-২৬ পর্যন্ত প্রতি বছর যে সময় বাড়ত, সেই আশায় বসে থাকবেন না — বাড়ানোর কোনো পথ এখন নেই। আইনটি ধারা ২-এ “করদিবস”-কে শেষ তারিখ নয়, জাতীয় কর-সচেতনতা দিবস হিসেবে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। ৩০ জুন ২০২৭-এর পরে দাখিল করলে, স্বেচ্ছায় দিলে প্রদেয় করের ১০% বা ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশি) এবং ধারা ২১২-এর পুনঃনির্ধারণ নোটিশের পরে দিলে ১৫% বা ১০,০০০ টাকা বাড়তি কর (অর্থ আইন ২০২৬)। উপ কর কমিশনারের পুনঃনির্ধারণ নোটিশে দেওয়া রিটার্নও এখানে বিলম্বিত রিটার্ন গণ্য। আইনটি এনবিআরের এক মাস সময় বাড়ানোর ক্ষমতাও বাতিল করেছে।

আগাম রেয়াতের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিন — বিডি অ্যাডভোকেসি

অনলাইনে দাখিল: ই-রিটার্নের ধাপ

এ বছর থেকে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইন দাখিল বাধ্যতামূলক। এনবিআরের আদেশে ছাড় পেয়েছেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, সনদধারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক; এর বাইরে কেউ অনলাইনে নিবন্ধন করতে না পারলে কাগজে দেওয়ার আগে সার্কেলের পূর্বানুমতি লাগবে।

  1. একবার নিবন্ধন। etaxnbr.gov.bd-তে গিয়ে “I am not registered yet” বেছে নিন, ১২ সংখ্যার টিন আর নিজের এনআইডিতে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিন (*16001# ডায়াল করে এনআইডির শেষ ৪ সংখ্যা দিলে কোন কোন নম্বর নিবন্ধিত তা দেখা যায়)। ওটিপি দিন, তারপর অন্তত ৮ অক্ষরের পাসওয়ার্ড দিন — বড় হাতের, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্নসহ।
  2. রিটার্ন পূরণ। নাম, টিন ও সার্কেল আগে থেকে পূরণ থাকে। প্রতিটি খাতে আয় লিখুন — বেতন, গৃহসম্পত্তি, কৃষি, ব্যবসা, মূলধনী আয়, আর্থিক সম্পদ (ব্যাংক সুদ, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, লভ্যাংশ) ও অন্যান্য; তারপর খরচ, সম্পদ ও দায়।
  3. প্রাপ্য দাবি করুন। উৎসে কর্তিত কর (বেতন সনদ ও ব্যাংকের টিডিএস সনদ), অগ্রিম কর, আর বিনিয়োগ রেয়াত — ২০২৬-২৭-এর সীমা আমাদের রেয়াত গাইডে।
  4. বাকি কর পরিশোধ। পোর্টালে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল ওয়ালেট চলে। এ-চালানে দিলে চালান নম্বর হুবহু মিলতে হবে, নইলে রিটার্ন নেবে না — দেখুন আমাদের এ-চালান গাইড।
  5. জমা ও ডাউনলোড। প্রাপ্তিস্বীকার স্লিপ ও আয়কর সনদ সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়। দুটোই রাখুন; প্রাপ্তিস্বীকারই আপনার PSR।

পোর্টালের জন্য এনবিআরের কল সেন্টার: ০৯৬৪৩৭১৭১৭১।

শুরুর আগে কী কী কাগজ গুছিয়ে নেবেন

১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ সময়ের জন্য প্রতিটি ব্যক্তি ক্লায়েন্টের কাছে আমরা যা চাই:

আপনি যদি…আনবেন
চাকরিজীবীকর কর্তনসহ বেতন সনদ; পুরো বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট; প্রভিডেন্ট ফান্ড স্টেটমেন্ট
বাড়িওয়ালাভাড়ার চুক্তি, ব্যাংকে পাওয়া ভাড়া, পৌরকর ও মেরামতের বিল, গৃহঋণের সুদের সনদ
ব্যবসায়ী বা পেশাজীবীহিসাব (আয়, খরচ, সমাপনী মজুদ), ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, গ্রাহকদের দেওয়া টিডিএস সনদ
বিনিয়োগকারী বা সঞ্চয়কারীএফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও ডিপিএস স্টেটমেন্ট; লভ্যাংশ ওয়ারেন্ট; বিও হিসাবের স্টেটমেন্ট
সবাইটিন সনদ; গত বছরের রিটার্ন ও প্রাপ্তিস্বীকার; রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের প্রমাণ (জীবন বিমা, ডিপিএস, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, সঞ্চয়পত্র); ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সম্পদ ও দায়ের হিসাব; মোবাইল ও ই-মেইল

সম্পদ বিবরণী, জীবনযাত্রার বিবরণী ও এক পাতার রিটার্নের আলাদা সীমা আছে; তা আমাদের সম্পদ বিবরণী গাইডে।

ভুল, দেরি ও জরিমানা

জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে। কর নির্ধারণের আগে সংশোধিত রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ আইনে আছে (ধারা ১৮০); পোর্টালে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংশোধন করে পুনরায় জমা দেওয়া যায়। খেয়াল করামাত্র ঠিক করুন — দুই বছরের অঙ্কের মধ্যে ব্যাখ্যাহীন ফারাক অডিটে পড়ার অন্যতম সাধারণ কারণ।

একেবারেই না দিলে। ধারা ২৬৬ অনুযায়ী উপকর কমিশনার সর্বশেষ নির্ধারিত আয়ের করের ১০% (ন্যূনতম ১,০০০ টাকা) এবং প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা জরিমানা করতে পারেন; অপরিশোধিত করের ওপর ধারা ১৭৪-এ বিলম্ব সুদ চলে। দেরিতে দাখিলকারী সে বছরের অব্যাহতি ও হ্রাসকৃত হারও হারান, আর চল্লিশটি কাজের জন্য তাঁর হাতে PSR থাকে না। ওপরের ধারা ২৬৬-এর অঙ্কই প্রণীত অঙ্ক (সর্বশেষ নির্ধারিত আয়ের করের ১০%, ন্যূনতম ১,০০০ টাকা, আর ত্রুটি যত দিন চলে প্রতিদিন ৫০ টাকা)।

প্রথমবার দাখিলকারী। এনবিআরের দীর্ঘদিনের অবস্থান: যিনি কখনো রিটার্ন দেননি, তিনি আয়বর্ষের পরের ৩০ জুনের মধ্যে প্রথম রিটার্ন জরিমানা ছাড়া দিতে পারেন; নতুন করদাতার ন্যূনতম কর ১,০০০ টাকা। প্রবাস থেকে ফেরা বাংলাদেশিকে ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী ফেরার ৯০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দিতে হবে।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার নিজের মামলার পরামর্শ নয়। উপরের তারিখ পর্যন্ত আইন ও প্রচলিত চর্চা এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রতি অর্থ আইন ও এনবিআরের পরিপত্রে করহার ও পদ্ধতি বদলায়; আপনার নিজের হিসাব, কাগজপত্র ও কর সার্কেলই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
আপনার রিটার্ন আমরা যেভাবে করি
১

সংগ্রহ

এক পাতার চেকলিস্ট পাঠিয়ে আপনার সনদ, স্টেটমেন্ট ও গত বছরের রিটার্ন সংগ্রহ করি।

২

হিসাব

প্রতিটি খাতের আয়, রেয়াত, টিডিএস সমন্বয় ও প্রদেয় কর হিসাব করে আপনাকে হিসাবটি দেখাই।

৩

দাখিল ও পরিশোধ

আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে পোর্টালে দাখিল করি, পরিশোধের ব্যবস্থা করি এবং সেদিনই প্রাপ্তিস্বীকার ও সনদ পাঠাই।

৪

নথি সংরক্ষণ

আপনার রিটার্ন ফাইল আমাদের কাছে থাকে, যাতে পরের বছর বা এনবিআরের নোটিশ এলে পূর্ণাঙ্গ নথি থেকে শুরু করা যায়।

ব্যক্তি রিটার্নের জন্য নির্ধারিত ফি; কোম্পানি ও উৎসে কর রিটার্নের ফি আলাদাভাবে জানানো হয়।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

২০২৬-২৭ কর বছরে আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ কবে?

এ বছর একটি নির্দিষ্ট শেষ তারিখ নেই। অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী সারা বছর দাখিল করা যায়। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দিলে ৫% রেয়াত (সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা); অক্টোবর–ডিসেম্বর নিরপেক্ষ; ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ২% (ন্যূনতম ৩,০০০ টাকা) বাড়তি কর, ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে ৫% (ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা)।

অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?

কর বছর ২০২৬-২৭ থেকে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার জন্য হ্যাঁ। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি ও বিদেশি নাগরিক কাগজে দিতে পারবেন।

etaxnbr.gov.bd-তে নিবন্ধনে কী লাগে?

আপনার ১২ সংখ্যার টিন আর নিজের এনআইডিতে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল সিম। ওটিপি দিয়ে নিবন্ধন হয়, তারপর পাসওয়ার্ড দিতে হয়। *16001# ডায়াল করে দেখুন আপনার এনআইডিতে কোন নম্বর নিবন্ধিত।

টিন আছে কিন্তু আয় নেই — তবু কি রিটার্ন দিতে হবে?

আগের তিন বছরের কোনো বছরে কর নির্ধারিত হয়ে থাকলে, কিংবা ঋণ, ট্রেড লাইসেন্স, জমি রেজিস্ট্রি বা ধারা ২৬৪-এর অন্য কোনো কাজে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র লাগলে, হ্যাঁ। নইলে কঠোর বাধ্যবাধকতা নেই, তবে শূন্য রিটার্ন দিলে টিন সচল থাকে। আমাদের জিরো রিটার্ন গাইড দেখুন।

পুরো বছর রিটার্ন না দিলে কী হয়?

ধারা ২৬৬ অনুযায়ী সর্বশেষ নির্ধারিত আয়ের করের ১০% (ন্যূনতম ১,০০০ টাকা) ও প্রতিদিন ৫০ টাকা জরিমানা হতে পারে, অপরিশোধিত করে বিলম্ব সুদ লাগে, আর সে বছরের অব্যাহতি ও রেয়াত হারান।

জমা দেওয়ার পর রিটার্ন সংশোধন করা যায়?

যায়। কর নির্ধারণের আগে সংশোধিত রিটার্ন দেওয়া যায়, আর পোর্টালে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংশোধন করে পুনরায় জমা দেওয়া যায়। দেরি না করে করুন এবং সংশোধনের সমর্থনে কাগজ রাখুন।

নিয়োগকর্তা যে কর কেটে রেখেছেন, তার ওপর কি আগাম রেয়াত পাব?

না। রেয়াত হয় টিডিএস ও অগ্রিম কর বাদে যে কর বাকি থাকে তার ৫%। নিয়োগকর্তা পুরো বছরের কর কেটে থাকলে রেয়াত ধরার মতো প্রায় কিছুই থাকে না।

চাকরিজীবীর কী কী কাগজ লাগে?

কর কর্তনসহ বেতন সনদ, বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, প্রভিডেন্ট ফান্ড স্টেটমেন্ট, রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের প্রমাণ, এফডিআর বা সঞ্চয়পত্রের স্টেটমেন্ট, টিন ও গত বছরের প্রাপ্তিস্বীকার।

কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিষয়ে আরও পড়ুন

আয়কর রিটার্ন, টিন, ভ্যাট ও বিন, মূসক ফরম, কাস্টমস শুল্ক এবং এনবিআরের নোটিশ পেলে করণীয়।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

প্রথমবারেই ঠিকঠাক রিটার্ন চান?

কাগজপত্র পাঠান; আমরা ২০২৬-২৭-এর রিটার্ন হিসাব করে দাখিল ও পরিশোধ করে প্রাপ্তিস্বীকার আপনার হাতে দেব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।