কোম্পানি অবসায়ন: স্বেচ্ছা লিকুইডেশন, আদালতে আবেদন ও আরজেএসসি থেকে নাম কাটা
সঠিকভাবে কোম্পানি বন্ধ করাই আরজেএসসি, কর ও ভ্যাটের বার্ষিক দায় থামানো এবং পরিচালকদের পরবর্তী দাবি থেকে রক্ষার একমাত্র পথ। দুটি পথ আছে: সদস্যদের পরিচালিত স্বেচ্ছা অবসায়ন, অথবা হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে অবসায়ন।
- সচ্ছল কোম্পানি: বিশেষ সিদ্ধান্তে সদস্যদের স্বেচ্ছা অবসায়ন
- পরিচালকরা সচ্ছলতার ঘোষণা দেন: ৩ বছরে সব দেনা পরিশোধ
- দেউলিয়া বা অচলাবস্থার কোম্পানি: হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন
- দেনা পরিশোধে অক্ষম হলে পাওনাদারের আবেদন (ধারা ২৪২)
- স্বেচ্ছা অবসায়নে সাধারণত ৪–৬ মাস বা বেশি
এই গাইডে: আপনার কোম্পানির জন্য কোন পথ · সদস্যদের স্বেচ্ছা অবসায়ন, ধাপে ধাপে · হাইকোর্ট বিভাগের মাধ্যমে অবসায়ন · পরিচালকদের ঝুঁকি ও সাধারণ ভুল
সংক্ষেপে উত্তর
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর পঞ্চম খণ্ডে কোম্পানি অবসায়ন হয় স্বেচ্ছায় বা আদালতের মাধ্যমে (ধারা ২৩৪)। সচ্ছল কোম্পানি সদস্যদের স্বেচ্ছা অবসায়ন নেয়: পরিচালকরা হলফ করে সচ্ছলতার ঘোষণা দেন যে তিন বছরের মধ্যে সব দেনা পরিশোধ হবে, সদস্যরা অসাধারণ সাধারণ সভায় বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে অবসায়ক নিয়োগ করেন, আর সিদ্ধান্ত আরজেএসসিতে দাখিল ও প্রকাশ হয়। দেউলিয়া কোম্পানি পাওনাদারদের স্বেচ্ছা অবসায়ন বা আদালতের অবসায়নে যায়। অবসায়নের আবেদন হাইকোর্ট বিভাগে কোম্পানি, পাওনাদার বা অংশদায়ক (ধারা ২৪৫) ধারা ২৪১-এর কারণে করতে পারেন, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত দেনা পরিশোধে অক্ষমতা (ধারা ২৪২) ও “ন্যায়সংগত ও যুক্তিযুক্ত” কারণ, যাতে অচলাবস্থা ও গুরুতর নিপীড়ন পড়ে।
আপনার কোম্পানির জন্য কোন পথ
- নিষ্ক্রিয়, সচ্ছল, মালিকরা একমত: সদস্যদের স্বেচ্ছা অবসায়ন।
- দেনা সম্পদের বেশি, মালিকরা একমত: পাওনাদারদের সভাসহ পাওনাদারদের স্বেচ্ছা অবসায়ন।
- মালিকদের অচলাবস্থা, বা পাওনাদার অপরিশোধিত: হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন।
- কখনো ব্যবসা শুরু হয়নি: তবুও আরজেএসসিতে আনুষ্ঠানিক অবসায়ন বা নাম কাটা লাগে; নিষ্ক্রিয় রাখলে জরিমানা বাড়তেই থাকে।
সদস্যদের স্বেচ্ছা অবসায়ন, ধাপে ধাপে
- বার্ষিক রিটার্ন ও নিরীক্ষিত হিসাব হালনাগাদ করুন; কর ও ভ্যাটের অবস্থা জেনে নিন।
- পরিচালনা পর্ষদের সভা: পরিচালকরা সম্পদ-দায়ের বিবরণীসহ হলফনামায় সচ্ছলতার ঘোষণা দেন এবং সভার নোটিশের আগে আরজেএসসিতে দাখিল করেন।
- অসাধারণ সাধারণ সভা: স্বেচ্ছা অবসায়ন ও অবসায়ক নিয়োগে বিশেষ সিদ্ধান্ত; ১৫ দিনের মধ্যে আরজেএসসিতে দাখিল এবং গেজেট ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি।
- অবসায়ক কর কর্তৃপক্ষকে জানান, সম্পদ বিক্রি করেন, ক্রমানুসারে পাওনাদারদের পরিশোধ করেন (জামানতধারী, কর্মচারী, কর, অন্যান্য) এবং উদ্বৃত্ত শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন করেন।
- গেজেট বিজ্ঞপ্তির পর চূড়ান্ত সভা; চূড়ান্ত হিসাব ও রিটার্ন আরজেএসসিতে দাখিল; তারপর কোম্পানি বিলুপ্ত হয় ও নাম কাটা যায়।
হাইকোর্ট বিভাগের মাধ্যমে অবসায়ন
আবেদন হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চে যায়। ধারা ২৪১-এর কারণের মধ্যে আছে দেনা পরিশোধে অক্ষমতা, আদালতে অবসায়নের বিশেষ সিদ্ধান্ত, এক বছরে ব্যবসা শুরু না করা বা পুরো এক বছর বন্ধ রাখা, সদস্য আইনি ন্যূনতমের নিচে নামা, এবং ন্যায়সংগত ও যুক্তিযুক্ত কারণ। ধারা ২৪২ অনুযায়ী পাওনাদারের লিখিত দাবি তিন সপ্তাহ অপরিশোধিত থাকলে, ডিক্রি অপূর্ণ থাকলে, বা অন্যভাবে অক্ষমতা প্রমাণ হলে কোম্পানি দেনা পরিশোধে অক্ষম গণ্য হয়। আদালত অস্থায়ী অবসায়ক নিয়োগ, বিবরণী তলব, কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা স্থগিত এবং শেষে বিলুপ্তির আদেশ দিতে পারে। পাওনা আদায়ে পাওনাদারের আবেদন প্রায়ই সবচেয়ে কার্যকর চাপ, তবে প্রকৃত বিরোধপূর্ণ দেনা আদায়ে আদালত এটি ব্যবহার করতে দেয় না।
পরিচালকদের ঝুঁকি ও সাধারণ ভুল
- প্রকৃত ভিত্তি ছাড়া সচ্ছলতার ঘোষণায় সই: ব্যক্তিগত দায় ও ফৌজদারি ঝুঁকি।
- অবসায়নের আগে ঘনিষ্ঠ পাওনাদারকে আগে পরিশোধ: অবসায়ক প্রতারণামূলক অগ্রাধিকার হিসেবে ফেরত আনতে পারেন।
- ব্যাংক, বিআইএন, টিআইএন ও ট্রেড লাইসেন্স ভুলে যাওয়া: প্রতিটি বন্ধ বা জমা দিন; চালু বিআইএন থাকলে ভ্যাট রিটার্ন বাকি থাকে।
- নিষ্ক্রিয় কোম্পানি ফেলে রাখা: আরজেএসসি জরিমানা ও পরিচালকের অযোগ্যতার ঝুঁকি বাড়তেই থাকে।
গুছিয়ে নিন
রিটার্ন, হিসাব, কর ও ভ্যাট হালনাগাদ।
সচ্ছলতার ঘোষণা
পরিচালকদের হলফনামা, আরজেএসসিতে দাখিল।
সভা ও অবসায়ক
বিশেষ সিদ্ধান্ত, ১৫ দিনে দাখিল, বিজ্ঞপ্তি।
লিকুইডেশন ও বিলুপ্তি
পরিশোধ, বণ্টন, চূড়ান্ত রিটার্ন, নাম কাটা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বাংলাদেশে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কীভাবে বন্ধ করব?
সাধারণত সদস্যদের স্বেচ্ছা অবসায়নে: পরিচালকরা সচ্ছলতার ঘোষণা দেন, সদস্যরা বিশেষ সিদ্ধান্তে অবসায়ক নিয়োগ করেন, এবং সম্পদ বিক্রি ও দেনা পরিশোধের পর আরজেএসসি কোম্পানি বিলুপ্ত করে।
সচ্ছলতার ঘোষণা কী?
পরিচালকদের হলফকৃত বিবৃতি, সম্পদ-দায়ের বিবরণীসহ, যে কোম্পানি তিন বছরের মধ্যে সব দেনা পুরো পরিশোধ করবে। অবসায়নের সিদ্ধান্তের আগে এটি আরজেএসসিতে দাখিল হয়।
অবসায়নের আবেদন কে করতে পারেন?
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ২৪৫ ধারায় কোম্পানি, পাওনাদার বা অংশদায়ক, হাইকোর্ট বিভাগে।
কখন কোম্পানি দেনা পরিশোধে অক্ষম গণ্য হয়?
ধারা ২৪২ অনুযায়ী, যেমন পাওনাদারের লিখিত দাবি তিন সপ্তাহ অপরিশোধিত থাকলে, কোম্পানির বিরুদ্ধে ডিক্রি অপূর্ণ থাকলে, বা আদালত অন্যভাবে সন্তুষ্ট হলে।
শেয়ারহোল্ডারদের অচলাবস্থায় কি কোম্পানি অবসায়ন হতে পারে?
হ্যাঁ। অচলাবস্থা ও গুরুতর নিপীড়ন ধারা ২৪১-এর ন্যায়সংগত ও যুক্তিযুক্ত কারণে আবেদনের ভিত্তি হতে পারে।
স্বেচ্ছা অবসায়নে কত সময় লাগে?
সাধারণত চার থেকে ছয় মাস; সম্পদ বিক্রি কঠিন হলে বা কর ছাড়পত্রে দেরি হলে বেশি।
কোম্পানি বন্ধে কি কর ছাড়পত্র লাগে?
হ্যাঁ। অবসায়ককে কর কর্তৃপক্ষকে জানাতে এবং আয়কর ও ভ্যাট মিটিয়ে বিআইএন ও টিআইএন বন্ধ করতে হয়।
অবসায়নে কর্মচারীদের কী হয়?
তাদের বকেয়া বেতন ও আইনি পাওনা পরিশোধের ক্রমে সাধারণ পাওনাদারদের আগে আসে।
আদালত, মামলা ও টাকা আদায় বিষয়ে আরও পড়ুন
লিগ্যাল নোটিশ, টাকা আদায়, চেক মামলা ও দেওয়ানি মামলার নিয়ম।
কোম্পানি বন্ধ করছেন বা পাওনাদার কোম্পানির পেছনে?
আমরা স্বেচ্ছা লিকুইডেশন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করি এবং হাইকোর্ট বিভাগে অবসায়নের আবেদন দাখিল বা প্রতিরোধ করি। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।

মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।