Skip to content
রিট, কর ও নিয়ন্ত্রক মামলা

আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস আপিল

আয়কর, ভ্যাট বা কাস্টমসের কোনো দাবি এলেই যে শেষ কথা হয়ে গেল, তা নয়। প্রতিটি আইনের নিজস্ব আপিলের ধাপ আছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে, আর সাধারণত কিছু অর্থ জমা দেওয়ার শর্তও থাকে। আমরা প্রথম আদেশ থেকে শুরু করে ট্রাইব্যুনাল হয়ে হাইকোর্ট বিভাগ পর্যন্ত এই আপিলগুলো পরিচালনা করি।

আয়কর আইন, ২০২৩মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২কাস্টমস আইন, ২০২৩
শতাংশ চিহ্নসহ কর ফরম, কার্গো বাক্স ও ক্যালকুলেটর: কর, ভ্যাট ও কাস্টমস আপিল

আয়কর, ভ্যাট বা কাস্টমস দাবির বিরুদ্ধে আপিল

রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে তিনটি ক্ষেত্রের বিরোধ আমরা দেখি: আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী আয়কর নির্ধারণ ও দাবি, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী ভ্যাট নির্ধারণ, জরিমানা ও শুনানি, এবং কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কাস্টমস মূল্যায়ন, শ্রেণিবিন্যাস ও জরিমানা সংক্রান্ত বিষয়। এটি এই চেম্বারের মূল কাজের একটি।

আপিলের ধাপ

কোন আইনের আওতায় বিষয়টি পড়ছে তার ওপর নির্ভর করে পথ ঠিক হয়। আয়কর ক্ষেত্রে নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয় আপিল কমিশনারের কাছে, এরপর কর আপিল ট্রাইব্যুনালে, আর আইনগত প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স করা যায়। ভ্যাট ও কাস্টমসের ক্ষেত্রে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হয় কমিশনার (আপিল)-এর কাছে, এরপর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে, আর সেখান থেকেও হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়া যায়। ভুল ফোরামে বা দেরিতে আবেদন করলে মামলা হারানোর ঝুঁকি থাকে।

জমা ও স্থগিতাদেশ

এই ক্ষেত্রগুলোতে আপিল আমলে নেওয়ার আগে সাধারণত বিতর্কিত দাবির একটি অংশ জমা দিতে হয়, আর স্থগিতাদেশ না নিলে আদায় প্রক্রিয়া চলতেই থাকতে পারে। জমা ও স্থগিতাদেশ ঠিকভাবে সামলানো অনেক সময় মামলার মূল যুক্তির মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কখন রিট প্রযোজ্য

কর্তৃপক্ষ যদি সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে কাজ করে থাকে বা শুনানির সুযোগ না দিয়ে থাকে, তাহলে আপিলের পথ থাকা সত্ত্বেও হাইকোর্ট বিভাগে রিট করার সুযোগ থাকতে পারে। এটি নিয়ম নয়, ব্যতিক্রম, আর কোন পথে যাওয়া উচিত তা নিয়ে আমরা সতর্কভাবে পরামর্শ দিই।

আদেশ হাতে পাওয়ার দিনই তারিখটা টুকে রাখুন। এই আপিলের সময়সীমা কম, কড়াভাবে মানা হয়, আর এর মধ্যেই জমার ব্যবস্থা করতে হয়। মামলার যুক্তির চেয়ে ক্যালেন্ডারের কারণেই ভালো কর আপিল বেশি হারায়।

যা সঙ্গে থাকলে সুবিধা হয়

  • নির্ধারণ, আদেশ বা দাবির কাগজ, তারিখসহ
  • শোকজ নোটিশ ও তার জবাব
  • সংশ্লিষ্ট সময়ের রিটার্ন, হিসাবের খাতা ও সহায়ক কাগজপত্র
  • ইতিমধ্যে করা কোনো জমা বা আদায়ের রেকর্ড

কোথায় শুনানি হয়, কত সময় লাগে

আয়কর আপিল যায় আপিল কমিশনার ও কর আপিল ট্রাইব্যুনালে; ভ্যাট ও কাস্টমস আপিল যায় কমিশনার (আপিল) ও কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে। রেফারেন্স ও রিট যায় হাইকোর্ট বিভাগে। পুরো ধাপ শেষ হতে প্রতিটি স্তরেই এক বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে, তাই পুরো সময়জুড়ে জমা ও স্থগিতাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ থেকে যায়।

রাজস্ব আপিল বোঝাতে ব্যবহৃত ছবি
রাজস্ব আপিল যেভাবে এগোয়
1

আদেশ পড়ে সময়সীমা ঠিক করা

আমরা প্রথমে ঠিক করি কোন আইনের আওতায় বিষয়টি পড়ছে, সঠিক ফোরাম কোনটি আর আপিলের সময়সীমা কতদিন।

2

জমা ও আদায়ের বিষয় সামলানো

প্রয়োজনীয় জমার ব্যবস্থা করি আর স্থগিতাদেশ চাই, যাতে ইতিমধ্যে আদায় প্রক্রিয়া না চলে।

3

নথিপত্র গোছানো

আপিল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় রিটার্ন, হিসাবের খাতা ও কাগজপত্র আমরা গুছিয়ে তুলি।

4

ধাপে ধাপে মামলা পরিচালনা

আমরা আপিল পরিচালনা করি, আর আইনগত প্রশ্ন থাকলে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স বা রিট নিয়ে যাই।

মামলার যুক্তির চেয়ে ক্যালেন্ডারের কারণেই ভালো কর আপিল বেশি হারায়।পরামর্শের সময় নিন

আগে ফ্রি গাইডগুলো পড়ুন

প্রথম সাক্ষাতে ক্লায়েন্টরা যা জিজ্ঞেস করেন, তার বেশির ভাগের উত্তর আমাদের ফ্রি গাইডে ধাপে ধাপে দেওয়া আছে। আগে নিচের গাইডগুলো পড়ুন; চেম্বারকে দিয়ে কাজ করাতে চাইলে কনসালটেশন বুক করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

আপিল করার আগে কি টাকা জমা দিতে হয়?

এই ক্ষেত্রগুলোতে সাধারণত বিতর্কিত দাবির একটি অংশ জমা দিলে তবেই আপিল আমলে নেওয়া হয়। কত টাকা জমা দিতে হবে আর বাকি অংশের জন্য কীভাবে স্থগিতাদেশ চাওয়া যায়, আমরা সে বিষয়ে পরামর্শ দিই।

আমার নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য?

এটি নির্ভর করে সময়কাল ও করের ধরনের ওপর। আয়কর এখন আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী চলে, ভ্যাট চলে ২০১২ সালের আইন অনুযায়ী, আর কাস্টমস চলে কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী। পুরনো সময়কালের ক্ষেত্রে আগের আইন প্রযোজ্য হতে পারে, আমরা প্রথমেই সেটা যাচাই করি।

আমি কি সরাসরি হাইকোর্টে যেতে পারি?

সাধারণত না। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত আপিলের পথই ব্যবহার করতে হয়। এখতিয়ারের সম্পূর্ণ অভাব বা শুনানির সুযোগ না দেওয়ার মতো সীমিত কিছু ক্ষেত্রে রিট করা যায়, আপনার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য কি না আমরা তা যাচাই করে পরামর্শ দিই।

ভ্যাট আপিলের সময়সীমা কত?

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ অনুযায়ী কমিশনার (আপিল)-এর কাছে আপিল সাধারণত সিদ্ধান্তের ৯০ দিনের মধ্যে, বিরোধীয় দাবির ১০% জমা দিয়ে; কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে পরবর্তী আপিলও একই ধাঁচের। আয়কর ও কাস্টমস আপিলের সময়সীমা আলাদা, তাই আদেশ পাওয়ার দিনই ব্যবস্থা নিন।

আইন লাইব্রেরি

এই গাইডের পেছনের আইন ও ফরম

বিডি অ্যাডভোকেসিতে সংরক্ষিত প্রামাণিক পাঠ। ধারা নম্বরগুলো এই গাইডে ব্যবহৃত।

ফরম মূসক-৯.১ সরকারি ফরমজাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)
শেয়ার করুন

আয়কর, ভ্যাট বা কাস্টমসের দাবির বিরুদ্ধে আপিল করুন

সঠিক ফোরামে, সময়সীমার মধ্যে, জমার বিষয়টি সামলে। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।