Skip to content

ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬: গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও তদন্তে নতুন সুরক্ষা

ফৌজদারি কার্যবিধিতে ২০২৫ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রথম আনা পরিবর্তনগুলো এখন ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে কী করতে হবে, কতদিন একজন ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে রাখা যাবে এবং তদন্ত কত দ্রুত শেষ করতে হবে।

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শেয়ার করুন
সিলসহ সংসদীয় স্ক্রল, ঢাল, খোলা তালা ও হাতুড়ি: ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন আইন ২০২৬ আপডেট

গ্রেপ্তারের সময়

নতুন ধারা ৪৬ক থেকে ৪৬ঙ-এ গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • কর্মকর্তাকে দৃশ্যমান পরিচয়পত্র বহন করতে হবে এবং চাইলে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে
  • গ্রেপ্তারের একটি লিখিত স্মারক তৈরি করতে হবে, যাতে পরিবারের কোনো সদস্য বা স্থানীয় কোনো সম্মানিত ব্যক্তি সাক্ষী থাকবেন
  • গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে জানাতে হবে যে তার আত্মীয় বা বন্ধুকে খবর দেওয়ার এবং আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করার অধিকার আছে, এবং পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা মনোনীত বন্ধুকে যত দ্রুত সম্ভব এবং সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে
  • আহত বা অসুস্থ হলে চিকিৎসা পরীক্ষা করাতে হবে, এবং তার ফলাফল লিপিবদ্ধ করতে হবে

ধারা ৫৪: ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার

ধারা ৫৪ অনুযায়ী পুলিশ সন্দেহের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারত। ২০২৬ সালের আইন ধারা ৫৪ সংশোধন করে এই ক্ষমতা সীমিত করেছে এবং কারণ ও রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক করেছে, যা বাংলাদেশ বনাম ব্লাস্ট (২০১৬) মামলায় আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করে। শুধু অস্পষ্ট সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার এখন আরও সহজে চ্যালেঞ্জ করা যাবে, এবং ব্যক্তিকে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে গ্রেপ্তারের কারণ পরীক্ষা করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

রিমান্ড ও শোন অ্যারেস্ট

একটি মামলায় পুলিশ হেফাজত (রিমান্ড) সর্বোচ্চ মোট ১৫ দিন পর্যন্ত সীমিত; এর বেশি আটক রাখতে হলে তা জুডিশিয়াল হেফাজতে হতে হবে। পুলিশ হেফাজতের আগে ও পরে চিকিৎসা পরীক্ষা করে কোনো আঘাত থাকলে তা রেকর্ড করতে হবে। অন্য মামলায় শোন অ্যারেস্ট অনুমোদনের আগে ম্যাজিস্ট্রেটকে যাচাই করতে হবে যে অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ হাজির করা হয়েছে এবং তার বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তের সময়সীমা ও অব্যাহতি

ধারা ১৭৩খ অনুযায়ী তথ্য পাওয়ার দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসে চতুর্দশ অধ্যায়ের তদন্ত শেষ করার কথা। তদন্ত কর্মকর্তা কারণ ও প্রয়োজনীয় বাড়তি সময় উল্লেখ করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সময় চাইতে পারেন। এটি চার্জশিটের চূড়ান্ত সময়সীমা বা স্বয়ংক্রিয় খারিজের নিয়ম নয়। ধারা ১৭৩ক অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ না পাওয়া গেলে আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদনের আগেই তাকে অব্যাহতি দিতে পারে; নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে নাম আবার অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

মিথ্যা মামলার জন্য ক্ষতিপূরণ

সংশোধিত ধারা ২৫০ অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখেন যে অভিযোগটি মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক, তাহলে বাদীকে অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে, এবং এই ক্ষমতা এখন আর ঐচ্ছিক নয় বরং দায়িত্ব হিসেবে গণ্য।

এতে আপনার জন্য কী দাঁড়ায়

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য: গ্রেপ্তারের স্মারকের একটি কপি চান, আইনজীবীর সাথে যোগাযোগের ওপর জোর দিন এবং গ্রেপ্তার ও হাজিরার সময় নোট করে রাখুন। বিলম্বিত তদন্তে অভিযুক্তদের জন্য, সময়সীমা ও অন্তর্বর্তীকালীন অব্যাহতি আদালতে আবেদনের নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। বাদীদের জন্য, মিথ্যা মামলায় ক্ষতিপূরণের আদেশের ঝুঁকি বাস্তব। প্রতিটি সুরক্ষা কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ হবে তা নির্ভর করবে আদালতের বাস্তব চর্চার ওপর।

তথ্যসূত্র

সংশ্লিষ্ট সেবা ও গাইড

এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। এই পাতায় প্রদর্শিত তারিখ অনুযায়ী আইন ও চর্চা সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজের বিষয়ে আইনি পরামর্শ নিন।

ফৌজদারি, পুলিশ ও সাইবার বিষয়ে আরও পড়ুন

গ্রেপ্তার ও জামিন, জিডি ও এজাহার, মিথ্যা মামলা ও সাইবার হয়রানি।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

এই পরিবর্তন নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন

লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে, কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।