এজাহার (এফআইআর), নালিশি মামলা ও জিডি
আপনি হয়তো একটি ফৌজদারি মামলা শুরু করতে চান, অথবা সবে জেনেছেন আপনার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে—দুই ক্ষেত্রেই শুরুর কাগজটিই অনেক কিছু ঠিক করে দেয়। আমরা এজাহার ও নালিশি মামলা তৈরি ও দাখিল করি, এবং যাদের নামে মামলা হয়েছে তাদের পক্ষেও লড়ি।
জিডি, এজাহার ও নালিশি মামলা করার নিয়ম
একটি ফৌজদারি মামলা সাধারণত দুইভাবে শুরু হয়: থানায় এজাহার (এফআইআর) নথিভুক্ত করে, অথবা সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি মামলা দাখিল করে। জিডি (জেনারেল ডায়েরি) শুধু একটি বিষয় নথিভুক্ত করে, মামলা শুরু করে না। কোন পথ উপযুক্ত তা আমরা পরামর্শ দিই, কাগজ তৈরি করি, এবং যে কোনো পক্ষেই কাজ করি।
এজাহার ও জিডি
এজাহার দাখিল হলেই পুলিশের তদন্ত শুরু হয়ে যায়। এতে কী লেখা হলো আর কী বাদ থাকল, তা তদন্ত ও চার্জশিটের গতিপথ ঠিক করে দেয়। পুলিশ এজাহার নিতে না চাইলে, বা বিষয়টি এখনো অপরাধ না হলে, জিডি করা বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি মামলা দাখিল করাই ঠিক পথ হতে পারে।
নালিশি মামলা
পুলিশ ব্যবস্থা নিতে না চাইলে, বা যে অপরাধ সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আমলে নিতে পারেন, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি মামলা দাখিল করা হয়; তিনি বাদীর জবানবন্দি নিয়ে তদন্ত বা প্রক্রিয়া জারির নির্দেশ দিতে পারেন। আমরা এসব মামলা তৈরি করে পরিচালনা করি।
আপনার নামে মামলা হলে
এজাহারে নাম থাকা মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়, এবং শুরুতেই অনেক কিছু করার থাকে: তদন্তের সময় প্রতিনিধিত্ব, গ্রেপ্তার থেকে সুরক্ষা, এবং মামলাটি মিথ্যা বা হয়রানিমূলক হলে তা বাতিলের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন।
যা সঙ্গে থাকলে সুবিধা হয়
- কী ঘটেছে তার তারিখসহ স্পষ্ট বিবরণ
- জড়িত ব্যক্তি ও সাক্ষীদের নাম-ঠিকানা
- কাগজপত্র, বার্তা, ছবি বা চিকিৎসার নথি
- আগের কোনো জিডি, অভিযোগ বা চিঠিপত্র থাকলে
- আসামি হলে, এজাহারের কপি ও অভিযুক্ত ধারাগুলো
কোথায় নিষ্পত্তি হয়, কত সময় লাগে
এজাহার দাখিল হয় সংশ্লিষ্ট থানায়; নালিশি মামলা দাখিল হয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। দাখিল করাটা দ্রুতই হয়। এরপর তদন্ত ও চার্জশিট, বা অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়া জারি—এসবে মাসের পর মাস লাগে। মামলা বাতিলের আবেদন যায় হাইকোর্ট বিভাগে।
সঠিক পথ ঠিক করা
এজাহার, নালিশি মামলা, জিডি নাকি দেওয়ানি প্রতিকার—কোনটি উপযুক্ত তা আমরা ঠিক করি।
সঠিকভাবে কাগজ তৈরি করা
আমরা এজাহার বা অভিযোগ এমনভাবে তৈরি করি যাতে ঘটনা ও অপরাধ সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ থাকে।
দাখিল করে সঙ্গে থাকা
আমরা দাখিল করেই সরে যাই না, তদন্তের পুরো সময় সঙ্গে থাকি।
লড়াই বা চ্যালেঞ্জ করা
আসামির পক্ষে আমরা তদন্তের সময় কাজ করি, এবং মামলা হয়রানিমূলক হলে তা বাতিলের আবেদন করি।
আগে ফ্রি গাইডগুলো পড়ুন
প্রথম সাক্ষাতে ক্লায়েন্টরা যা জিজ্ঞেস করেন, তার বেশির ভাগের উত্তর আমাদের ফ্রি গাইডে ধাপে ধাপে দেওয়া আছে। আগে নিচের গাইডগুলো পড়ুন; চেম্বারকে দিয়ে কাজ করাতে চাইলে কনসালটেশন বুক করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
পুলিশ আমার এজাহার নিচ্ছে না। এখন কী করব?
আটকে থাকার দরকার নেই। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি মামলা দাখিল করা যায়, আর অনিচ্ছুক থানাকে বাধ্য করা বা এড়িয়ে যাওয়ারও উপায় আছে। ঘটনাটি আমাদের জানান, আমরা পথ ঠিক করে দেব।
আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এটা কি বন্ধ করা যায়?
মামলাটি মিথ্যা বা হয়রানিমূলক হলে তা বাতিলের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করা যায়। এর মধ্যে আমরা গ্রেপ্তার থেকে সুরক্ষা ও তদন্তে প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি দেখি।
জিডি ও এজাহারের মধ্যে পার্থক্য কী?
জিডি শুধু একটি তথ্য নথিভুক্ত করে। এজাহার একটি আমলযোগ্য অপরাধের ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে। কোনটি উপযুক্ত তা নির্ভর করে ঘটনার ওপর, আর ভুল পথ বেছে নিলে সময় নষ্ট হয়।
অনলাইনে জিডি করার নিয়ম কী?
বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন জিডি সেবা (ওয়েবসাইট বা অ্যাপ) ব্যবহার করুন: জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে থানা বেছে নিন এবং ঘটনা লিখুন। জিডি নম্বর দিয়ে অবস্থা দেখা যায়। কিছু বিষয়ে এখনো থানায় যেতে হয়; কোনগুলোতে, তা আমাদের জিডি গাইডে আছে।
জিডি বা থানায় মামলা করতে কত টাকা লাগে?
কোনো টাকা লাগে না। জিডি বা এজাহার দায়েরে কোনো ফি নেই। কেউ টাকা চাইলে তার নাম লিখে রাখুন এবং থানার ওসি বা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করুন।
জিডি করলে কি তদন্ত হয়?
আমলঅযোগ্য অপরাধের জিডি ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া তদন্ত হয় না (ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৫ ধারা)। ঘটনায় আমলযোগ্য অপরাধ থাকলে জিডি নয়, এজাহার হিসেবে নিতে বলুন। হারানো জিনিস বা হুমকির জিডি মূলত একটি রেকর্ড, তবে পুলিশ খোঁজ নিতে পারে।
এই গাইডের পেছনের আইন ও ফরম
বিডি অ্যাডভোকেসিতে সংরক্ষিত প্রামাণিক পাঠ। ধারা নম্বরগুলো এই গাইডে ব্যবহৃত।
সঠিকভাবে মামলা শুরু করুন, বা এর জবাব দিন
শুরুর কাগজটি মানুষ যতটা ভাবে তার চেয়ে বেশি কিছু ঠিক করে দেয়। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।
