সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬: জুনের সংশোধনী ও নতুন খসড়া পরিবর্তন
৩০ জুন ২০২৬ সংসদে সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য এআই দিয়ে তৈরি ক্ষতিকর কনটেন্ট ও দ্রুত কনটেন্ট অপসারণ। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ মতামতের জন্য প্রকাশিত আলাদা ও আরও বিস্তৃত একটি খসড়া সংশোধনীতে গুজবের নতুন অপরাধ ও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব আছে, তবে তা এখনও আইন হয়নি।
প্রেক্ষাপট
সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ, ২০২৫ সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে বাক্ সংক্রান্ত বেশ কিছু অপরাধের শাস্তি কমিয়েছিল। এটি সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬ হিসেবে পাস হয়ে ১০ এপ্রিল ২০২৬ গেজেটে প্রকাশিত হয়। কয়েক মাসের মধ্যেই সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও, অডিও ও ছবি এবং অস্থিরতা সৃষ্টিকারী বিভ্রান্তিকর পোস্টের কথা উল্লেখ করে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।
জুন ২০২৬-এর সংশোধনীতে যা আছে
৩০ জুন ২০২৬ বিল পাসের সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী:
- এআই দিয়ে তৈরি উপাদানসহ ক্ষতিকর, মানহানিকর বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা
- অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের হালনাগাদ সংজ্ঞা
- এ ধরনের কনটেন্ট সংক্রান্ত অপরাধে কঠোর শাস্তি
- কনটেন্ট ব্লক করা এবং প্ল্যাটফর্মকে কনটেন্ট সরাতে ও ব্যবহারকারীর তথ্য দিতে বাধ্য করার জন্য বিটিআরসি ও অনুমোদিত সংস্থার ক্ষমতা জোরদার
নির্দিষ্ট কোনো মামলায় নির্ভর করার আগে সংশোধনী আইনের গেজেট কপি থেকে সঠিক ধারা ও শাস্তি মিলিয়ে নিন।
প্রস্তাবিত আরও পরিবর্তন: খসড়া, এখনও আইন নয়
জুলাই ২০২৬-এ আরেকটি খসড়া সংশোধনীর খবর প্রকাশিত হয়, এবং সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ আইসিটি বিভাগ মতামতের জন্য তা প্রকাশ করে। খসড়া অনুযায়ী:
- নতুন ধারা ২৬ক: বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, অস্থিরতা বা সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ বা প্রচার অপরাধ হবে, শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয়ই
- ধারা ২৫ সম্প্রসারণ: এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টসহ মানহানিকর বা অবমাননাকর উপাদান ধারণ, সম্পাদনা বা প্রকাশে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয়ই
- এমন কনটেন্ট নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুকে লক্ষ্য করলে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর ও ৪০ লাখ টাকা
সরকার জানিয়েছে খসড়াটি চূড়ান্ত নয়। সংসদে পাস হয়ে গেজেটে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রস্তাবিত অপরাধ ও শাস্তি প্রযোজ্য নয়। তেমন কিছু হলে আমরা এই পাতা হালনাগাদ করব।
এতে ভুক্তভোগীদের জন্য কী দাঁড়ায়
ভুয়া প্রোফাইল, ডিপফেক ছবি বা ভিডিও, অথবা ক্ষতিকর পোস্টের শিকার ব্যক্তিরা এখনই সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬ ও সংশ্লিষ্ট আইনে অভিযোগ করতে পারেন, আর জুনের সংশোধনী এআই দিয়ে তৈরি ক্ষতিকর কনটেন্ট সরানোর পথ আরও শক্তিশালী করেছে। লিংক, স্ক্রিনশট ও তারিখ সংরক্ষণ করুন, প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করুন এবং পুলিশ বা সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করুন। ফৌজদারি অভিযোগের পাশাপাশি কনটেন্ট অপসারণের আবেদনও করা যায়।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের জন্য কী দাঁড়ায়
প্রস্তাবিত গুজব সংক্রান্ত অপরাধটির ভাষা ব্যাপক, এবং সাংবাদিক, অধিকারকর্মীসহ অনেকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। বর্তমানে কার্যকর আইনে অভিযুক্ত হলে পোস্টটি অভিযুক্ত ধারার আওতায় পড়ে কি না, তা সত্য নাকি সৎ মতামত ছিল, জামিন এবং সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিয়ে দ্রুত পরামর্শ নিন। পরামর্শ ছাড়া কোনো উপাদান মুছে ফেলবেন না, কারণ তাতে প্রমাণ সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তথ্যসূত্র
- লজ অব বাংলাদেশ: সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬
- ঢাকা ট্রিবিউন: সংসদে সাইবার নিরাপত্তা সংশোধন বিল ২০২৬ পাস
- বিএসএস: জাতীয় সংসদে সাইবার নিরাপত্তা সংশোধন বিল ২০২৬ পাস
- প্রথম আলো (৩০ জুলাই ২০২৬): গুজব ছড়ালে ১০ বছর সাজার প্রস্তাব রেখে খসড়া সংশোধনী
- দ্য ডেইলি স্টার: সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়া সংশোধনী নিয়ে বিশ্লেষণ
সংশ্লিষ্ট সেবা ও গাইড
এই পরিবর্তন নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন
প্রথম পরামর্শ মানেই একটি খোলামেলা আলোচনা, কোনো চুক্তি নয়।
মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।