Skip to content

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬): জুনের সংশোধনী ও নতুন খসড়া পরিবর্তন

৩০ জুন ২০২৬ সংসদে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এটি এখন সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৯ নং আইন) হিসেবে প্রণীত, যা সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮১ নং আইন) সংশোধন করেছে — বিডিল’জে তালিকাভুক্ত। এতে একটিই পরিবর্তন হয়েছে: অনলাইন জুয়ার অপরাধ (ধারা ২০) বাদ দেওয়া হয়েছে, যা এখন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর আওতায়। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ মতামতের জন্য প্রকাশিত আলাদা ও আরও বিস্তৃত একটি খসড়া সংশোধনীতে গুজবের নতুন অপরাধ ও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব আছে, তবে তা এখনও আইন হয়নি।

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬
শেয়ার করুন
পর্দায় ঢাল ও তালাসহ ল্যাপটপ ও সিলযুক্ত দলিল: সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ আপডেট

প্রেক্ষাপট

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (প্রচলিত নাম: সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ, ২০২৫) সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে বাক্‌ সংক্রান্ত বেশ কিছু অপরাধের শাস্তি কমিয়েছিল। এটি সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ হিসেবে পাস হয়ে ১০ এপ্রিল ২০২৬ গেজেটে প্রকাশিত হয়। কয়েক মাসের মধ্যেই সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও, অডিও ও ছবি এবং অস্থিরতা সৃষ্টিকারী বিভ্রান্তিকর পোস্টের কথা উল্লেখ করে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।

জুন ২০২৬-এর সংশোধনীতে যা আছে

৩০ জুন ২০২৬-এ পাস হওয়া সংশোধনী আইনে ধারা ২০ (অনলাইন জুয়া) বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ একই দিনে সংসদ জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ পাস করে। এতে নতুন কোনো অপরাধ যোগ হয়নি, কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা বদলায়নি এবং শাস্তিও বাড়েনি। এসব বিষয় তখন আলোচনায় এসেছিল, তবে সেগুলো নিচে বর্ণিত পরবর্তী খসড়ার অংশ এবং এখনো আইন হয়নি।

প্রস্তাবিত আরও পরিবর্তন: খসড়া, এখনও আইন নয়

জুলাই ২০২৬-এ আরেকটি খসড়া সংশোধনীর খবর প্রকাশিত হয়, এবং সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ আইসিটি বিভাগ মতামতের জন্য তা প্রকাশ করে। খসড়া অনুযায়ী:

  • নতুন ধারা ২৬ক: বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, অস্থিরতা বা সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ বা প্রচার অপরাধ হবে, শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয়ই
  • ধারা ২৫ সম্প্রসারণ: এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টসহ মানহানিকর বা অবমাননাকর উপাদান ধারণ, সম্পাদনা বা প্রকাশে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয়ই
  • এমন কনটেন্ট নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুকে লক্ষ্য করলে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর ও ৪০ লাখ টাকা

সরকার জানিয়েছে খসড়াটি চূড়ান্ত নয়। সংসদে পাস হয়ে গেজেটে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রস্তাবিত অপরাধ ও শাস্তি প্রযোজ্য নয়। তেমন কিছু হলে আমরা এই পাতা হালনাগাদ করব।

এতে ভুক্তভোগীদের জন্য কী দাঁড়ায়

ভুয়া প্রোফাইল, ডিপফেক ছবি বা ভিডিও, অথবা ক্ষতিকর পোস্টের শিকার ব্যক্তিরা এখনই সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ ও সংশ্লিষ্ট আইনে অভিযোগ করতে পারেন। লিংক, স্ক্রিনশট ও তারিখ সংরক্ষণ করুন, প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করুন এবং পুলিশ বা সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করুন। ফৌজদারি অভিযোগের পাশাপাশি কনটেন্ট অপসারণের আবেদনও করা যায়।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের জন্য কী দাঁড়ায়

প্রস্তাবিত গুজব সংক্রান্ত অপরাধটির ভাষা ব্যাপক, এবং সাংবাদিক, অধিকারকর্মীসহ অনেকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। বর্তমানে কার্যকর আইনে অভিযুক্ত হলে পোস্টটি অভিযুক্ত ধারার আওতায় পড়ে কি না, তা সত্য নাকি সৎ মতামত ছিল, জামিন এবং সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিয়ে দ্রুত পরামর্শ নিন। পরামর্শ ছাড়া কোনো উপাদান মুছে ফেলবেন না, কারণ তাতে প্রমাণ সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তথ্যসূত্র

সংশ্লিষ্ট সেবা ও গাইড

এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। এই পাতায় প্রদর্শিত তারিখ অনুযায়ী আইন ও চর্চা সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজের বিষয়ে আইনি পরামর্শ নিন।
আইন লাইব্রেরি

এই গাইডের পেছনের আইন ও ফরম

বিডি অ্যাডভোকেসিতে সংরক্ষিত প্রামাণিক পাঠ। ধারা নম্বরগুলো এই গাইডে ব্যবহৃত।

ফৌজদারি, পুলিশ ও সাইবার বিষয়ে আরও পড়ুন

গ্রেপ্তার ও জামিন, জিডি ও এজাহার, মিথ্যা মামলা ও সাইবার হয়রানি।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

এই পরিবর্তন নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন

লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে, কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।