Skip to content
ফৌজদারি মামলা ও জামিন

সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল প্রমাণ

অনলাইন মামলাগুলো এমন প্রমাণের ওপর নির্ভর করে যা বেশিরভাগ মানুষ দেখতেই পায় না: ডিভাইসের রেকর্ড, অ্যাকাউন্ট লগ ও মেটাডেটা। সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (প্রচলিত নাম: সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬)-এর অধীনে আমরা মামলা লড়ি ও দায়ের করি, এবং ডিজিটাল প্রমাণকে শুধু স্ক্রিনশট নয়, প্রকৃত প্রমাণ হিসেবেই দেখি।

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (জুন ২০২৬ সংশোধনীসহ)সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (ডিজিটাল প্রমাণ)দণ্ডবিধি, ১৮৬০
ল্যাপটপ, তালা ও ঢাল: ফেক আইডি ও সাইবার হয়রানির অভিযোগ

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এ সাইবার মামলা

অনলাইন অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় আমরা কাজ করি: অনলাইনে হয়রানি ও মানহানি, অ্যাকাউন্ট দখল ও ছদ্মবেশ ধারণ, হ্যাকিং ও অননুমোদিত প্রবেশ, অনলাইন প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ। অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে আমরা লড়ি, আবার ভুক্তভোগীর পক্ষেও কাজ করি।

বর্তমানে প্রযোজ্য আইন

এখন এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬। এটি সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (প্রচলিত নাম: সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ, ২০২৫)-এর জায়গা নিয়েছে, যা আগে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এবং তারও আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর জায়গা নিয়েছিল। ২০২৫ সালের সংস্কারে সর্বোচ্চ শাস্তি কমানো হয় এবং বাক্‌-সংক্রান্ত বেশিরভাগ অপরাধ জামিনযোগ্য করা হয়। ৩০ জুন ২০২৬-এ পাস হওয়া সংশোধনীতে শুধু অনলাইন জুয়ার অপরাধ (ধারা ২০) বাদ দেওয়া হয়েছে, যা এখন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর আওতায়। গুজব, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট এবং নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধে বেশি শাস্তির বিধানসহ আরেকটি সংশোধনীর খসড়া প্রকাশিত হয়েছে, তবে তা এখনো আইন হয়নি। আমরা বর্তমান আইন অনুযায়ীই পরামর্শ দিই।

ডিজিটাল প্রমাণ

স্ক্রিনশট প্রমাণ নয়। আসল বিষয় হলো তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, ডিভাইস বা অ্যাকাউন্টের রেকর্ড আসল কি না, এবং হেফাজতের ধারাবাহিকতা (চেইন অব কাস্টডি) ঠিক আছে কি না। আমরা প্রসিকিউশনের ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই করি, আর নিজেরা মামলা করলে শুরু থেকেই আমাদের প্রমাণ ঠিকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করি।

কনটেন্ট সরানো ও ব্লক করা

কোনো কনটেন্ট সরানোর দরকার হলে, ফৌজদারি বা দেওয়ানি ব্যবস্থার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগসহ যত পথ আছে, আমরা সেগুলো ব্যবহার করি।

সবকিছু সংরক্ষণ করুন, কিছুই বদলাবেন না। পরামর্শ নেওয়ার আগে অ্যাকাউন্ট মুছবেন না, ডিভাইস রিসেট করবেন না বা চ্যাট এডিট করবেন না। ডিভাইসে থাকা রেকর্ডই প্রায়ই মামলার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ, উভয় পক্ষের জন্যই, আর এটি খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যায়।

যা সঙ্গে থাকলে সুবিধা হয়

  • যে কনটেন্ট নিয়ে অভিযোগ, তা তারিখ ও লিংকসহ সংরক্ষিত
  • অপরিবর্তিত অবস্থায় ডিভাইস ও অ্যাকাউন্টের বিবরণ
  • ইতিমধ্যে দাখিল করা কোনো এজাহার বা নোটিশ
  • প্ল্যাটফর্মে কী রিপোর্ট করা হয়েছিল ও কখন, তার রেকর্ড

কোথায় শুনানি হয়, কত সময় লাগে

সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও প্রযোজ্য আইনে নির্ধারিত অন্যান্য আদালতে এসব মামলা চলে, আর ব্লক করা বা কনটেন্ট সরানোর কাজে নিয়ন্ত্রক সংস্থা জড়িত থাকে। শুরুতে জামিনই মূল বিষয়; মামলা নিজে মাসের পর মাস চলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইনটি কয়েকবার বদলেছে, তাই কোন আইন প্রযোজ্য হবে তা নির্ভর করে ঘটনাটি কখন ঘটেছিল তার ওপর, আর এটিই আমরা সবার আগে যাচাই করি।

সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল প্রমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত ইলাস্ট্রেশন
আমরা যেভাবে সাইবার মামলা সামলাই
1

প্রমাণ সংরক্ষণ করা

কিছু হারিয়ে যাওয়ার আগেই আমরা জানিয়ে দিই কী রাখতে হবে আর কী ছোঁয়া যাবে না।

2

প্রযোজ্য আইন ঠিক করা

অভিযুক্ত ঘটনাটি কখন ঘটেছিল তা দেখে আমরা ঠিক করি কোন আইন প্রযোজ্য।

3

জামিন বা অভিযোগ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া

আসামির জন্য জামিনের ব্যবস্থা করি, অথবা ভুক্তভোগীর পক্ষে অভিযোগ দাখিল করে তা এগিয়ে নিই।

4

ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই বা প্রস্তুত করা

তথ্যের সত্যতা ও হেফাজতের ধারাবাহিকতা আমরা চ্যালেঞ্জ করি অথবা প্রতিষ্ঠিত করি।

ডিজিটাল প্রমাণ সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। আগে সংরক্ষণ করুন।পরামর্শের সময় নিন

আগে ফ্রি গাইডগুলো পড়ুন

প্রথম সাক্ষাতে ক্লায়েন্টরা যা জিজ্ঞেস করেন, তার বেশির ভাগের উত্তর আমাদের ফ্রি গাইডে ধাপে ধাপে দেওয়া আছে। আগে নিচের গাইডগুলো পড়ুন; চেম্বারকে দিয়ে কাজ করাতে চাইলে কনসালটেশন বুক করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

এখন অনলাইন অপরাধে কোন আইন প্রযোজ্য?

বর্তমানে কার্যকর আইন হলো জুন ২০২৬-এ সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬। এটি সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর জায়গা নিয়েছে, যা এসেছিল সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর পরে। কোনো নির্দিষ্ট মামলায় কোন আইন প্রযোজ্য হবে তা নির্ভর করে ঘটনাটি কখন ঘটেছিল তার ওপর।

অনলাইনে বাক্‌ সংক্রান্ত অপরাধ কি জামিনযোগ্য?

২০২৫ সালের সংস্কারে বাক্‌-সংক্রান্ত বেশিরভাগ অপরাধ জামিনযোগ্য করা হয় এবং সর্বোচ্চ শাস্তি কমানো হয়, জুন ২০২৬-এর সংশোধনী এতে কোনো পরিবর্তন আনেনি। নতুন অপরাধ ও বেশি শাস্তির প্রস্তাবসহ একটি খসড়া সংশোধনী এখনো আইন হয়নি। জামিন পাওয়া যাবে কি না তা নির্ভর করে ঠিক কোন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে তার ওপর, তাই নিজের মামলা নিয়ে সরাসরি পরামর্শ নিন।

কেউ অনলাইনে আমার পরিচয়ে ছদ্মবেশ ধরেছে। আমি কী করতে পারি?

একসঙ্গে কয়েকটি পথ খোলা আছে: সাইবার আইনে অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করা, এবং ব্লক বা কনটেন্ট সরানোর পদক্ষেপ। আমরা সাধারণত একাধিক পথ একসঙ্গে নিই, শুরু করি প্রমাণ সংরক্ষণ দিয়ে।

সাইবার মামলা কিভাবে ও কোথায় করব?

লিংক, তারিখ ও সময়সহ স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন, তারপর পুলিশের কাছে অভিযোগ দিন: যেকোনো থানা, অথবা সিআইডি ও মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিট। নারীরা পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন (পিসিএসডব্লিউ)-এ যোগাযোগ করতে পারেন। কখন সরাসরি সাইবার ট্রাইব্যুনালে যাওয়া যায়, তা আমাদের সাইবার গাইডে আছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ কি এখনো চালু আছে?

না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর জায়গায় এসেছিল সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩, আর ২০২৫ সালের মে মাসে সেটিও বাতিল হয়ে এসেছে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫। পুরোনো আইনে মামলা চলমান থাকলে নতুন অধ্যাদেশের অন্তর্বর্তী বিধান অনুযায়ী তার অবস্থা আইনজীবীকে দিয়ে যাচাই করুন।

আইন লাইব্রেরি

এই গাইডের পেছনের আইন ও ফরম

বিডি অ্যাডভোকেসিতে সংরক্ষিত প্রামাণিক পাঠ। ধারা নম্বরগুলো এই গাইডে ব্যবহৃত।

শেয়ার করুন

অনলাইন মামলায় সহায়তা নিন

আগে প্রমাণ সংরক্ষণ করুন, তারপর ব্যবস্থা নিন। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।