প্রবাসীদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত আইনি বিষয়
যে বিয়ে ভেঙে গেছে, দুই দেশের মাঝে আটকে থাকা সন্তান, অপরিশোধিত দেনমোহর বা ভরণপোষণ, কিংবা এনআইডি আর পাসপোর্টে তথ্যের অমিল। আপনি বিদেশে থাকলেও এসব বিষয় বাংলাদেশের আইনেই নিষ্পত্তি হয়, আর বেশিরভাগ ধাপ দেশে না এসেই সারা যায়।
প্রবাসীদের জন্য আমরা যা করি
স্বামী বা স্ত্রী বিদেশে থাকলে তালাক
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৭ ধারা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা মেয়রকে লিখিত নোটিশ এবং স্ত্রীকে তার কপি দেওয়ার পর ৯০ দিন পার হলে তবেই তালাক কার্যকর হয়। বিদেশে থাকা স্বামী সেখান থেকেই এই নোটিশ পাঠাতে পারেন। কাবিননামায় তালাকের ক্ষমতা (তালাক-এ-তৌফিজ) পাওয়া স্ত্রীও একইভাবে পারেন। আমরা নোটিশের খসড়া করি, সঠিক জায়গায় জারি করি, সালিশি পরিষদে হাজির থাকি এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তালাক নিবন্ধন করাই। স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ চাইলে সেই মামলাও আমরা দেশে পরিচালনা করি।
বিদেশি আদালতের ডিভোর্স ডিক্রি
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য দেশের আদালতের ডিভোর্স সবসময় বাংলাদেশে চূড়ান্ত বলে ধরা হয় না, বিশেষ করে আবার বিয়ে, উত্তরাধিকার ও সরকারি রেকর্ডের ক্ষেত্রে। আমরা ডিক্রিটি দেখে জানাই, এটি দিয়েই চলবে কি না, নাকি বাংলাদেশে নোটিশ বা ঘোষণামূলক মামলার মতো আরেকটি ধাপ লাগবে।
দেনমোহর ও ভরণপোষণ
অপরিশোধিত দেনমোহর এবং স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের দাবি পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতে যায়। আমরা মামলা করি, হাজিরা দিই এবং ডিক্রি কার্যকর করাই। বিদেশে থাকা ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে করা দাবির পক্ষেও লড়ি। মামলার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা এখন আরও বেশি জেলায় চালু হয়েছে, সেখানেও আপনার প্রতিনিধিত্ব করি।
দুই দেশের মাঝে সন্তানের হেফাজত ও অভিভাবকত্ব
অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০ অনুযায়ী পারিবারিক আদালত সন্তানের হেফাজত ও অভিভাবকত্ব ঠিক করে, আর সেখানে সন্তানের কল্যাণই মূল বিবেচনা। সন্তানকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা বা আটকে রাখা হলে আমরা দ্রুত হেফাজত, দেখা-সাক্ষাৎ এবং সন্তানকে দেশের বাইরে নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞার আবেদন করি। বাংলাদেশ হেগ শিশু অপহরণ কনভেনশনের সদস্য নয়, তাই এখানে প্রতিকার আদালতের মাধ্যমেই নিতে হয়।
বিয়ে ও নিবন্ধন
নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে বিয়ে নিবন্ধন, ভিসা বা স্পাউস আবেদনের জন্য কাবিননামার সার্টিফায়েড কপি, রেজিস্টারের ভুল সংশোধন, কিংবা নিবন্ধন না হওয়া বিয়ে প্রমাণের কাজ।
এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন ও নাম সংশোধন
নাম ও জন্মতারিখের অমিলই প্রবাসীদের কাগজপত্র আটকে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। আমরা হলফনামা তৈরি করি, এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন করি এবং প্রমাণপত্র এমনভাবে সাজাই যাতে এনআইডি, পাসপোর্ট, সনদ ও জমির রেকর্ডের তথ্য মিলে যায়। বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে প্রবাসীদের এনআইডি নিবন্ধনও এখন করা যায়; কী কী নিয়ে যেতে হবে আমরা জানিয়ে দিই।
সেবার মধ্যে যা থাকছে
- আপনার টাইম জোন অনুযায়ী গোপনীয় ভিডিও পরামর্শ
- আপনার অধিকার, করণীয় এবং প্রতিটি পথে কত সময় লাগতে পারে, তা নিয়ে লিখিত পরামর্শ
- নোটিশ, আবেদন ও আপস চুক্তির খসড়া এবং জারি
- চেয়ারম্যানের সালিশি পরিষদ, পারিবারিক আদালত ও মধ্যস্থতাকারীর সামনে হাজিরা
- নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তালাক বা বিয়ে নিবন্ধন এবং সার্টিফায়েড কপি
- এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন ও সনদ সংশোধনের হলফনামা ও আবেদন
- প্রতিটি কাগজের স্ক্যান, আর প্রতিটি শুনানির পর লিখিত আপডেট
আপনার কাছ থেকে যা লাগবে
- কাবিননামা (নিকাহনামা) বা বিয়ের সনদ, আর আপনার পাসপোর্ট বা এনআইডি
- বাংলাদেশে স্বামী ও স্ত্রী দুজনের ঠিকানা, এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা সিটি ওয়ার্ড
- বিদেশি আদালতের কোনো আদেশ, আগের নোটিশ বা আপস চুক্তি থাকলে তা
- সংশোধনের জন্য: সঠিক নাম বা তারিখ প্রমাণ করে এমন কাগজ, যেমন এসএসসি সনদ, পাসপোর্ট ও জন্ম সনদ
সময় ও খরচ
নোটিশ চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছানোর ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়, যদি এর আগে প্রত্যাহার না করা হয়। জেলা ও প্রতিপক্ষের অবস্থান অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের মামলায় সাধারণত কয়েক মাস, কখনো তার বেশি সময় লাগে। এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগে। আমরা প্রতিটি ধাপের ফি আগে জানাই; আদালত ও সরকারি ফি আলাদা এবং রসিদসহ।
সংশ্লিষ্ট সেবা ও গাইড
গোপনীয় পরামর্শ
আপনার টাইম জোনে সুবিধাজনক সময়ে একটি গোপনীয় ভিডিও কল।
লিখিত পরামর্শ
আপনার অধিকার, উপযুক্ত পথ, সম্ভাব্য খরচ ও সময়, আর কী কাগজ লাগবে।
কাজের ক্ষমতা
ওকালতনামা বা বিশেষ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, আপনি যেখানে আছেন সেখানেই সই।
নোটিশ ও মামলা দায়ের
সঠিক অফিসে নোটিশ জারি, অথবা এখতিয়ারসম্পন্ন পারিবারিক আদালতে মামলা।
শুনানি ও মধ্যস্থতা
আমরা আপনার পক্ষে হাজির থাকি এবং সেদিনই লিখিতভাবে জানাই।
নিবন্ধন ও রেকর্ড
তালাক বা বিয়ে নিবন্ধন, আদেশের সার্টিফায়েড কপি, আর প্রয়োজনে রেকর্ড সংশোধন।
সাধারণ প্রশ্ন
বিদেশ থেকে কি তালাক দেওয়া যায়?
হ্যাঁ। স্ত্রী যে এলাকায় থাকেন সেখানকার চেয়ারম্যান বা মেয়রকে লিখিত নোটিশ দিতে হয়, আর স্ত্রীকে তার কপি দিতে হয়। চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়, যদি এর আগে প্রত্যাহার না করা হয়। আমরা নোটিশ তৈরি, জারি ও তদারকি করি এবং পরে তালাক নিবন্ধন করাই।
যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের ডিভোর্স কি বাংলাদেশে বৈধ?
সবসময় নয়। কোন কারণে ডিভোর্স হয়েছে, দুজনেই অংশ নিয়েছিলেন কি না এবং এটি কী কাজে লাগবে, তার ওপর নির্ভর করে। আমরা ডিক্রি দেখে জানাই, বাংলাদেশে আরেকটি ধাপ নেওয়া উচিত কি না।
আমি বিদেশে থাকা অবস্থায় কি দেনমোহর বা ভরণপোষণের মামলা হতে পারে?
হ্যাঁ। আপনার অনুপস্থিতিতেও পারিবারিক আদালত মামলা শুনতে পারে, তাই এটি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। আমরা আপনার পক্ষে হাজির হই, যুক্তিসংগত হলে আপসের চেষ্টা করি এবং তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দাবির জবাব দিই।
আমার সন্তানকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কী করতে পারি?
হেফাজত বা দেখা-সাক্ষাতের জন্য পারিবারিক আদালতে আবেদন করুন, আর সন্তানকে আবার সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি থাকলে নিষেধাজ্ঞার আদেশ চান। দ্রুত পদক্ষেপ নিন; দেরি হলে আপনার অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
ডিভোর্স মামলার জন্য কি দেশে আসতেই হবে?
প্রতিটি শুনানিতে সাধারণত না। আমরা আপনার প্রতিনিধিত্ব করি, আর আইন যেখানে অনুমতি দেয় সেখানে আদালত ভিডিওতে সাক্ষ্য বা হাজিরা নিতে পারে। সশরীরে আসতে হলে আমরা একটিমাত্র ছোট সফরে কাজ সারার পরিকল্পনা করি।
বিদেশ থেকে এনআইডিতে নাম সংশোধন কীভাবে করব?
প্রমাণপত্রসহ অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যায়। কাগজপত্রে অমিল থাকলে আমরা হলফনামা ও নির্বাচন কমিশনের চাওয়া প্রমাণপত্র তৈরি করে আবেদনটি শেষ পর্যন্ত দেখি।
প্রবাসীদের কোম্পানি নিবন্ধন, বিনিয়োগ, কর ও ব্যবসায়িক কমপ্লায়েন্সের কাজ করে আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান LegalDesk.bd।
দেশে পারিবারিক কোনো বিষয় আছে?
ভিডিও কলে গোপনে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন। বিদেশ থেকে কী করা যায় আর কী যায় না, আমরা স্পষ্ট করে জানাব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।
