তালাক দেওয়ার নিয়ম: নোটিশ, ৯০ দিন, খুলা ও খরচ
রাগের মাথায় মুখে বলা তালাক, কিংবা কাগজে লিখে রাখা কিন্তু চেয়ারম্যানের কাছে না পৌঁছানো তালাক, বিয়ে শেষ করে না। আমার দেখা বেশিরভাগ তালাকের বিরোধ আইনের কারণে নয়, প্রক্রিয়া বাদ দেওয়ার কারণে তৈরি হয়। এই গাইডে দেখানো হয়েছে স্বামী ও স্ত্রীকে আসলে কী করতে হয়, খরচ কত, আর মানুষ কোথায় ভুল করে।
- চেয়ারম্যান লিখিত নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিন পার না হলে তালাক কার্যকর হয় না
- স্ত্রী তালাক দিতে পারেন তালাক-এ-তৌফিজ, খুলা বা পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে
- কাজীর কাছে তালাক নিবন্ধন করুন; নিবন্ধন ফি ১,০০০ টাকা
- তালাক হলে অপরিশোধিত পুরো দেনমোহর পরিশোধযোগ্য
এই গাইডে: ধাপ ১: লিখিত নোটিশ পাঠান · ধাপ ২: সালিশি পরিষদ ও ৯০ দিন · স্ত্রী তালাক চাইলে · ধাপ ৩: তালাক নিবন্ধন করুন · টাকাপয়সা: দেনমোহর, ইদ্দত ও সন্তান · স্বামী বা স্ত্রী বিদেশে থাকলে · হিন্দু ও খ্রিস্টান বিয়ে · মামলার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা · যে ভুলগুলো বছরের পর বছর ভোগায়
সংক্ষেপে উত্তর
মুসলিম স্বামী তালাক দিয়ে বিয়ে ভাঙতে পারেন। স্ত্রীও পারেন, যদি কাবিননামায় তাঁকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া থাকে, স্বামীর সঙ্গে সমঝোতায় (খুলা), অথবা পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে। যে পথেই হোক, মূল নিয়ম একটাই: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৭ ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যান লিখিত নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে ৯০ দিন পার হলে তবেই তালাক কার্যকর হয়। এরপর নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজী) কাছে তা নিবন্ধন করাতে হয়।
ধাপ ১: লিখিত নোটিশ পাঠান
তিনবার তালাক উচ্চারণ করলেও তা কেবল শুরু। স্ত্রী যে এলাকায় থাকেন, সেখানকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, অথবা সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসককে স্বামীকে লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে, আর একটি কপি স্ত্রীকে দিতে হবে।
প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্টার্ড ডাকে পাঠান, অথবা হাতে জমা দিয়ে অফিসের সিল ও তারিখসহ রিসিভ কপি নিন। ৯০ দিনের হিসাব শুরু হয় নোটিশ পৌঁছানোর তারিখ থেকে, তাই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই তারিখটাই। ডাকের রসিদ, প্রাপ্তিস্বীকারপত্র আর নোটিশের কপি যত্ন করে রাখুন।
ধাপ ২: সালিশি পরিষদ ও ৯০ দিন
নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানকে দুই পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে সালিশি পরিষদ গঠন করে মিটমাটের চেষ্টা করতে হয়। ডাকা হলে উপস্থিত থাকুন। সালিশি পরিষদ তালাক আটকাতে পারে না, আর উপস্থিত না থাকলেও ৯০ দিনের হিসাব থামে না।
কিছু না বদলালে চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়। স্ত্রী গর্ভবতী হলে ৯০ দিন অথবা সন্তান প্রসব, যেটি পরে হয়, তখন তালাক কার্যকর হয়। কার্যকর হওয়ার আগে যেকোনো সময় স্বামী তালাক প্রত্যাহার করতে পারেন, তখন বিয়ে বহাল থাকে।
স্ত্রী তালাক চাইলে
তালাক-এ-তৌফিজ (অর্পিত ক্ষমতা)
কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘর দেখুন। সেখানে স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দিয়ে থাকলে স্ত্রী নিজেই তালাক দিতে পারেন, একই নোটিশ প্রক্রিয়ায়: সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান বা মেয়রকে লিখিত নোটিশ, স্বামীকে কপি, তারপর ৯০ দিন। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী পুরো দেনমোহর পান। অনেক নারী জানেনই না যে এই অধিকার তাঁর আছে।
খুলা (সমঝোতায় তালাক)
খুলায় স্ত্রী তালাক চান এবং স্বামী রাজি হন, সাধারণত স্ত্রী অপরিশোধিত দেনমোহরের কিছু বা পুরোটা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে। শর্তগুলো লিখে দুজনে সই করুন। যা স্পষ্টভাবে ছাড়া হয়নি, তা পরিশোধযোগ্যই থাকে। নোটিশের নিয়ম এখানেও প্রযোজ্য।
পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ
অর্পিত ক্ষমতা বা সমঝোতা না থাকলে স্ত্রী মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারেন। কারণগুলোর মধ্যে আছে: চার বছর স্বামীর খোঁজ না থাকা; দুই বছর ভরণপোষণ না দেওয়া; সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে; সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড; যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালন না করা; পুরুষত্বহীনতা; মানসিক ভারসাম্যহীনতা বা গুরুতর রোগ; নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে দেওয়া হলে আইনে নির্ধারিত বয়সে পৌঁছে তা প্রত্যাখ্যান, যদি দাম্পত্য সম্পর্ক না হয়ে থাকে; এবং নিষ্ঠুরতা। আদালত নিষ্ঠুরতাকে বড় পরিসরে দেখে, নিয়মিত মারধর ও মানসিক নির্যাতনও এর মধ্যে পড়ে। ডিক্রি হলে আদালত তার কপি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠায়, এরপর ৯০ দিনের নিয়ম চলে।
ধাপ ৩: তালাক নিবন্ধন করুন
তালাক কার্যকর হলে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নিবন্ধন করুন। সরকারি নিবন্ধন ফি ১,০০০ টাকা। রসিদ ও সত্যায়িত কপি নিন। পাসপোর্ট অফিস, দূতাবাস, এনআইডি অফিস আর পরের বিয়ের কাজী সবাই এই নিবন্ধনই চাইবে, নোটিশ নয়।
নিবন্ধন ব্যবস্থাও অনলাইনে যাচ্ছে: ২০২৫ সালের বিধি সংশোধনে অনলাইনে আবেদন, ফি জমা ও ডিজিটাল তালাক সনদের পথ খুলেছে, আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট বিভাগ পুরো ব্যবস্থা ডিজিটাল করার নির্দেশ দিয়েছেন। চালু হচ্ছে ধাপে ধাপে; আপনার এলাকার অফিস যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্টারের এন্ট্রি ও সত্যায়িত কপিই আপনার প্রমাণ।
টাকাপয়সা: দেনমোহর, ইদ্দত ও সন্তান
- দেনমোহর। তালাক হলে তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত মিলিয়ে সব অপরিশোধিত দেনমোহর পরিশোধ করতে হয়। অর্পিত ক্ষমতা বা আদালতের মাধ্যমে তালাক দিলেও স্ত্রী দেনমোহর পান। শুধু খুলায় তা কমতে পারে, আর সেটাও যতটুকু স্ত্রী স্পষ্টভাবে ছেড়ে দেন ততটুকুই। বিস্তারিত: দেনমোহর ও ভরণপোষণ গাইড।
- ভরণপোষণ। ইদ্দতকাল পর্যন্ত স্বামীকে স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে হয়। আপিল বিভাগ বলেছে, ইদ্দতের পরে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন না।
- সন্তান। সন্তান যার কাছেই থাকুক, বাবাকে ভরণপোষণ দিতে হবে। সন্তানের হেফাজত ঠিক হয় সন্তানের কল্যাণ দেখে। বিস্তারিত: সন্তানের হেফাজত গাইড।
স্বামী বা স্ত্রী বিদেশে থাকলে
বিদেশে থাকা স্বামী সেখানে বসেই তালাকের নোটিশে সই করে কুরিয়ার বা রেজিস্টার্ড ডাকে চেয়ারম্যান ও স্ত্রীর কাছে পাঠাতে পারেন। বাংলাদেশ দূতাবাসে সই সত্যায়ন অধ্যাদেশে বাধ্যতামূলক নয়, তবে এতে পরে নোটিশ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনেক কঠিন হয়। কেউ কেউ দেশে কোনো আত্মীয়কে বিশেষ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়ে নোটিশ জারি ও নিবন্ধনের কাজ করান। এটাও চলে, তবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ঠিকভাবে তৈরি ও সত্যায়ন করতে কয়েক সপ্তাহ বেশি লাগে। যে পথেই যান, চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর প্রমাণটাই আসল।
বিদেশি আদালতের ডিভোর্স ডিক্রি বাংলাদেশে সবসময় চূড়ান্ত বলে ধরা হয় না, বিশেষ করে আবার বিয়ে ও সরকারি রেকর্ডের ক্ষেত্রে। বিদেশি ডিক্রি থাকলে দেশেও নোটিশ জারি করা উচিত কি না, পরামর্শ নিন।
হিন্দু ও খ্রিস্টান বিয়ে
বাংলাদেশে হিন্দু বিয়ের ক্ষেত্রে আইনে বিবাহবিচ্ছেদের কোনো ব্যবস্থা নেই। হিন্দু স্ত্রী ১৯৪৬ সালের আইন অনুযায়ী আলাদা বসবাস ও ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন। খ্রিস্টান বিয়ে কেবল তালাক আইন ১৮৬৯ অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে ভাঙা যায়, আর জেলা জজের ডিক্রি হাইকোর্ট বিভাগকে অনুমোদন করতে হয়।
মামলার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা
সংশোধিত আইনগত সহায়তা প্রদান আইন অনুযায়ী যেসব জেলায় মামলার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা চালু হয়েছে, সেখানে বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজতের বিরোধ আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যেতে হয়। পারিবারিক আদালত মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ার সনদ চাইবে। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ৩০টি জেলায় এটি চালু হয়েছে। শুধু নোটিশের মাধ্যমে তালাকের জন্য মধ্যস্থতা লাগে না।
যে ভুলগুলো বছরের পর বছর ভোগায়
- মুখে তালাক দিয়ে নোটিশ না পাঠানো, তারপর আবার বিয়ে করা।
- ভুল চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পাঠানো, যেমন স্ত্রীর এলাকার বদলে স্বামীর এলাকায়।
- না পড়েই পুরো দেনমোহর ছেড়ে দেওয়ার খুলা কাগজে সই করা।
- তালাক নিবন্ধন না করা, তারপর কয়েক বছর পর তা প্রমাণ করতে না পারা।
কাবিননামা পড়ুন
দেনমোহর কত, কতটা পরিশোধ হয়েছে, আর ১৮ নম্বর ঘরে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া আছে কি না দেখুন।
লিখিত নোটিশ দিন
স্ত্রীর এলাকার চেয়ারম্যান বা মেয়রকে নোটিশ, অপর পক্ষকে কপি, আর পৌঁছানোর প্রমাণ রাখুন।
৯০ দিন অপেক্ষা
ডাকা হলে সালিশি পরিষদে যান। চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়।
নিবন্ধন ও নিষ্পত্তি
কাজীর কাছে নিবন্ধন করুন, তারপর দেনমোহর, ইদ্দতের খরচ ও সন্তানের বিষয় মেটান।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
মুখে তালাক দিলে কি তালাক হয়?
মুখে তালাক বললে প্রক্রিয়া শুরু হয়, বিয়ে শেষ হয় না। চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত নোটিশ পৌঁছে ৯০ দিন পার না হওয়া পর্যন্ত আপনারা আইনত স্বামী-স্ত্রী, আর নোটিশ না দেওয়া স্বামী অপরাধ করেন।
স্ত্রী কি স্বামীকে তালাক দিতে পারেন?
হ্যাঁ। কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে ক্ষমতা দেওয়া থাকলে সেটি ব্যবহার করে, স্বামীর সঙ্গে খুলা করে, অথবা নিষ্ঠুরতা বা ভরণপোষণ না দেওয়ার মতো কারণে পারিবারিক আদালতে মামলা করে।
তালাকের নোটিশ কাকে পাঠাতে হয়?
স্ত্রী যে এলাকায় থাকেন, সেখানকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, অথবা সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসককে, আর একটি কপি স্ত্রীকে।
তালাক দিতে কত টাকা লাগে?
সরকারি নিবন্ধন ফি ১,০০০ টাকা, ডাকখরচ সামান্য। বিরোধহীন নোটিশভিত্তিক তালাকে আইনজীবীর ফি কম; প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারিবারিক মামলায় খরচ অনেক বেশি এবং কয়েক মাস লাগে।
স্ত্রী নোটিশ গ্রহণ না করলে কী হবে?
স্ত্রী গ্রহণ না করলেও তালাক আটকায় না। আসল বিষয় হলো চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানো। স্ত্রীর কপি রেজিস্টার্ড ডাকে পাঠান এবং ফেরত আসা খাম বা প্রাপ্তিস্বীকারপত্র প্রমাণ হিসেবে রাখুন।
স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে কি তালাক দেওয়া যায়?
দেওয়া যায়, তবে ৯০ দিন অথবা সন্তান প্রসব, যেটি পরে হবে, তখনই তালাক কার্যকর হবে।
তালাকের পর স্ত্রী কবে আবার বিয়ে করতে পারবেন?
তালাক কার্যকর হওয়ার পর এবং ইদ্দতকাল শেষ হলে। আগে তালাক নিবন্ধন করে নিলে পরের কাজীর কাছে ঝামেলা হয় না।
বিদেশ থেকে কি তালাক দেওয়া যায়?
হ্যাঁ। যেখানে থাকেন সেখানে নোটিশে সই করে কুরিয়ার বা রেজিস্টার্ড ডাকে চেয়ারম্যান ও স্ত্রীর কাছে পাঠান এবং পৌঁছানোর প্রমাণ রাখুন। বাংলাদেশ দূতাবাসে সত্যায়ন করিয়ে নেওয়া ভালো।
তালাক কি প্রত্যাহার করা যায়?
হ্যাঁ, ৯০ দিন শেষ হওয়ার আগে যেকোনো সময়। তালাক কার্যকর হওয়ার পর একই দম্পতি নতুন করে বিয়ে করতে পারেন, তবে তৃতীয় তালাকের পর মাঝখানে অন্য একটি বিয়ে ছাড়া তা পারেন না।
খুলা তালাকে কি স্ত্রী দেনমোহর হারান?
যতটুকু তিনি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে ছেড়ে দেন, ততটুকুই। যা ছাড়া হয়নি, তা পরিশোধযোগ্য থাকে।
তালাক কত প্রকার ও কি কি?
ইসলামি আইনে স্বামীর দেওয়া তালাক (আহসান, হাসান ও একসঙ্গে তিন তালাক), স্ত্রীকে দেওয়া ক্ষমতাবলে তালাক (তালাক-ই-তাফউইজ), সমঝোতায় খুলা ও মুবারাত এবং পারিবারিক আদালতের ডিক্রিতে বিবাহবিচ্ছেদ স্বীকৃত। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ধারা ৭ অনুযায়ী যে ধরনের তালাকই হোক, চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দেওয়ার ৯০ দিন পর তা কার্যকর হয়।
একসঙ্গে তিন তালাক দিলে কি হয়?
আইনে এটি এক তালাক হিসেবে গণ্য হয়। চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হয়, ৯০ দিন পর কার্যকর হয় এবং এই সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার করা যায়। ধর্মীয় মত ভিন্ন হতে পারে, তবে আদালত ধারা ৭ অনুসরণ করেন।
রাগের মাথায় বা এসএমএসে তালাক দিলে কি হয়?
রাগের মাথায় মুখে বলা বা এসএমএস, ফোন বা ফেসবুকে পাঠানো তালাকে নিজে থেকে বিয়ে ভাঙে না। আইনে দেখা হয় চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ ও ৯০ দিন পার হওয়া। মেসেজটি প্রমাণ হিসেবে রেখে দিন; দেনমোহর বা ভরণপোষণের দাবিতে কাজে লাগতে পারে।
ডিভোর্স দিতে কি কি লাগে?
কাবিননামার কপি, স্বামী-স্ত্রী দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্র, চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত তালাক নোটিশ (অপর পক্ষকে কপি) এবং রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠানোর রসিদ। ৯০ দিন পর নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) তালাক নিবন্ধন করে সত্যায়িত কপি দেন।
তালাক নোটিশের কোনো নির্ধারিত ফরম আছে কি?
সরকারি কোনো ফরম নেই। নোটিশ হলো স্বাক্ষরিত একটি চিঠি, যাতে তালাকের ঘোষণা, তারিখ, দুজনের নাম-ঠিকানা ও বিয়ের নিবন্ধনের তথ্য থাকে। এটি চেয়ারম্যান বা মেয়র এবং স্ত্রীর ঠিকানায় প্রাপ্তিস্বীকারসহ রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠাতে হয়। আমরা ক্লায়েন্টের হয়ে নোটিশ লিখে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।
তালাকের পর সন্তানের ভরণপোষণ কত টাকা?
ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ও মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত বাবা ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক নেই; বাবার আয় ও সন্তানের প্রয়োজন দেখে পারিবারিক আদালত পরিমাণ ঠিক করেন এবং বকেয়াও দিতে আদেশ দিতে পারেন।
এই গাইডের পেছনের আইন ও ফরম
বিডি অ্যাডভোকেসিতে সংরক্ষিত প্রামাণিক পাঠ। ধারা নম্বরগুলো এই গাইডে ব্যবহৃত।
পরিবার ও বিয়ে বিষয়ে আরও পড়ুন
তালাক, বিয়ে, সন্তানের হেফাজত, দেনমোহর ও ভরণপোষণ।
কোর্ট ম্যারেজের আইনি নিয়ম: বৈধতা, বয়স, কাজী নিবন্ধন (২০২৬)
ডিভোর্সের পর সন্তানের হেফাজত: মা ও বাবার অধিকার
দেনমোহর ও ভরণপোষণ দাবি: নিয়ম, প্রক্রিয়া ও আইনজীবীর পরামর্শ
কাবিননামা: প্রতিটি ঘরের মানে, কপি তোলা ও ভুল সংশোধন
ডিভোর্স পেপার ও তালাকনামা: কোথায় পাবেন, কী থাকে
নারী নির্যাতন মামলা: করার নিয়ম, ধারা, শাস্তি ও খরচ (২০২৬)
মেয়েরা কিভাবে ডিভোর্স দেয়: খুলা ও তালাক-ই-তাফউইজের নিয়ম
দ্বিতীয় বিয়ের আইন: স্ত্রীর অনুমতি, সালিশি পরিষদ ও শাস্তি
পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১০: সুরক্ষা আদেশ
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১: ধারা ৪, ৬, ৭ সহজ ভাষায়
হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন: নিয়ম, ফি, ফরম ও কাগজপত্র
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭: বিয়ের বয়স ও শাস্তি
পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩: মামলা, কোর্ট ফি ও আপিল
সঠিকভাবে বিয়ে বিচ্ছেদ করুন
একটি ছোট পরামর্শ পরবর্তীতে তালাক নিয়ে চ্যালেঞ্জ এড়াতে সাহায্য করতে পারে। আমরা নোটিশ, নিবন্ধন, খোলার শর্ত এবং পারিবারিক আদালতের মামলা — সবকিছুই দেখভাল করি। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।

মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।