বিদেশে থেকেও দেশের আদালতে আপনার মামলা চলবে
বহু বছর আগে করা জমির মামলা, চেকের মামলা, মিথ্যা ফৌজদারি মামলা কিংবা হাইকোর্ট বিভাগে রিট। এখানে মামলা ধীরে চলে, বারবার তারিখ পড়ে, আর অন্য টাইম জোন থেকে তা বোঝা কঠিন। আমরা মামলার নথি হাতে নিই, প্রতিটি তারিখে হাজির থাকি এবং কী হলো ও এরপর কী হবে, তা লিখিতভাবে জানাই।
প্রবাসীদের জন্য আমরা যা করি
চলমান মামলার দায়িত্ব নেওয়া
আমরা মামলা নম্বর ও আদালতের তথ্য নিই, নথি পরিদর্শন করি, আরজি, জবাব, আদেশ ও সাক্ষ্যের সার্টিফায়েড কপি তুলি, তারপর খোলাখুলি একটি লিখিত মূল্যায়ন দিই: মামলা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, কোথায় ভুল হয়েছে আর এখনো কী করা যায়। এরপর নতুন ওকালতনামা দিয়ে দায়িত্ব নিই, অথবা চাইলে আপনার বর্তমান আইনজীবীর সঙ্গে মিলে কাজ করি।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হোল্ডারের মাধ্যমে মামলা চালানো
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩ অনুযায়ী, আপনার পাওয়ার অব অ্যাটর্নিধারী ব্যক্তি দেওয়ানি মামলায় আপনার পক্ষে হাজির হয়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন। আমরা এমনভাবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির খসড়া করি যাতে মামলা ও সংশ্লিষ্ট কাজ, যেমন দরখাস্তে সই, টাকা জমা ও কাগজ গ্রহণ, সবই এর আওতায় থাকে এবং কোথাও আটকে না যায়।
দেশে না এসে সাক্ষ্য
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ অনুযায়ী কখনো কখনো বিদেশেই কমিশনের মাধ্যমে আপনার সাক্ষ্য নেওয়া যায়, আর আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন ২০২০ অনুযায়ী আদালত ভিডিওতে শুনানি ও সাক্ষ্য নেওয়ার অনুমতি দিতে পারে। সশরীরে উপস্থিতি লাগলে আমরা এমন তারিখ ধরে সফরের পরিকল্পনা করি যেদিন সত্যিই কাজ হবে, যাতে একটি ছোট সফরেই চলে।
বিদেশে থাকা অবস্থায় করা ফৌজদারি মামলা
দেশ ছাড়ার পর আত্মীয় বা ব্যবসায়িক অংশীদারের করা মামলায় অনেক প্রবাসী আসামি হন। কোনো মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আছে কি না আমরা যাচাই করি, কাগজ তুলি, আর কীভাবে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন তার পরিকল্পনা করি, যাতে দেশে নেমেই অপ্রস্তুত অবস্থায় গ্রেপ্তার না হন। উপযুক্ত ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট আপনার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরার অনুমতি দিতে পারেন। মামলা আইনের অপব্যবহার হলে তা বাতিলের (কোয়াশমেন্ট) আবেদনও করি।
হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের মামলা
সুপ্রিম কোর্টে রিট, দেওয়ানি রিভিশন, ফৌজদারি আপিল ও জামিনের বিষয়গুলো সেখানে প্র্যাকটিস করা আমাদের আইনজীবীরা পরিচালনা করেন, আর মামলা যেদিন কজলিস্টে আসতে পারে সেদিন প্রতিদিন তা দেখা হয়।
আপস ও মধ্যস্থতা
পরিবার বা শরিকদের সঙ্গে অনেক বিরোধ আপসেই ভালোভাবে মেটে। আমরা আলোচনা করি, মধ্যস্থতায় অংশ নিই, এখন আরও বেশি জেলায় চালু হওয়া মামলা-পূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতাসহ, আর আপসের শর্ত এমন দলিলে লিখি যা আদালত রেকর্ড করতে পারে।
সেবার মধ্যে যা থাকছে
- নথি পরিদর্শন এবং মূল কাগজগুলোর সার্টিফায়েড কপি
- সহজ ভাষায় লিখিত মূল্যায়ন: শক্তি, ঝুঁকি, করণীয় ও সম্ভাব্য সময়
- প্রতিটি শুনানিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে তালিকাভুক্ত আইনজীবীর হাজিরা
- প্রতিটি তারিখের পর লিখিত আপডেট, পরের তারিখ ও তা কী কাজের জন্য
- দরখাস্ত, হলফনামা এবং আপনার প্রতিনিধির জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির খসড়া
- আদালত অনুমতি দিলে কমিশন বা ভিডিওতে সাক্ষ্যের ব্যবস্থা
- ফৌজদারি মামলায় পরোয়ানা যাচাইসহ আত্মসমর্পণ ও জামিনের পরিকল্পনা
আপনার কাছ থেকে যা লাগবে
- মামলা নম্বর, আদালত ও জেলা, অথবা এগুলো লেখা আছে এমন যেকোনো কাগজ
- বর্তমান আইনজীবী বা প্রতিনিধি থাকলে তাঁর নাম ও যোগাযোগ
- পাসপোর্ট বা এনআইডির কপি এবং আপনার পক্ষের কাগজপত্র
- বাংলা বা ইংরেজিতে বিরোধের একটি সংক্ষিপ্ত সময়ক্রম
সময় ও খরচ
আদালতভেদে নথি পরিদর্শন ও লিখিত মূল্যায়নে সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহ লাগে। মামলা নিজে যতদিন আদালতের কার্যতালিকা অনুমতি দেয় ততদিন চলে; যে তারিখ আমাদের হাতে নেই, তার প্রতিশ্রুতি আমরা দিই না। প্রতিটি ধাপ বা শুনানির ফি আগেই ঠিক হয়; কোর্ট ফি ও সার্টিফায়েড কপির খরচ আলাদা এবং রসিদসহ।
সংশ্লিষ্ট সেবা ও গাইড
মামলার তথ্য
মামলা নম্বর বা হাতে থাকা যেকোনো কাগজ পাঠান। আমরা আদালত ও পরের তারিখ নিশ্চিত করি।
নথি পরিদর্শন
নথি পড়ে মূল কাগজগুলোর সার্টিফায়েড কপি তুলি।
লিখিত মূল্যায়ন
মামলা কোথায় আছে, ঝুঁকি, করণীয় এবং প্রতিটি ধাপের ফি।
কাজের ক্ষমতা
ওকালতনামা, আর প্রয়োজনে আপনার প্রতিনিধির জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি।
শুনানি
প্রতিটি তারিখে হাজির থাকি এবং সেদিনই লিখিত নোট পাঠাই।
সাক্ষ্য ও নিষ্পত্তি
অনুমতি পেলে কমিশন বা ভিডিওতে সাক্ষ্য, তারপর রায়, আপিল বা আপস।
সাধারণ প্রশ্ন
বিদেশে থাকলে কি দেশে আমার মামলা চলবে?
হ্যাঁ। আপনার আইনজীবী প্রতিটি তারিখে হাজির থাকেন, আর দেওয়ানি মামলায় পাওয়ার অব অ্যাটর্নিধারী আপনার পক্ষে পদক্ষেপ নিতে পারেন। মূলত সাক্ষ্য দিতে আপনাকে লাগে, সেটিও কখনো কখনো কমিশন বা ভিডিওতে নেওয়া যায়।
বিদেশ থেকে মামলার অবস্থা কীভাবে জানব?
জেলা আদালতের মামলার তথ্য ও সুপ্রিম কোর্টের কজলিস্ট অনলাইনে পাওয়া যায়, তবে সেখানে তথ্য খুব সংক্ষিপ্ত। আমরা আদেশনামা পড়ে জানাই, প্রতিটি আদেশের মানে আপনার জন্য কী।
বিদেশে থাকা অবস্থায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। কী করব?
উপেক্ষা করবেন না, আর পরিকল্পনা ছাড়া দেশে আসবেন না। আমরা মামলার কাগজ তুলি, পরোয়ানা আছে কি না দেখি, এবং আত্মসমর্পণ ও জামিনের পরিকল্পনা করি। মামলাটি আইনের অপব্যবহার হলে বাতিলের আবেদনও করি।
বিদেশ থেকে কি ভিডিওতে সাক্ষ্য দেওয়া যায়?
আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন ২০২০ আদালতকে কার্যক্রমের কিছু অংশ ভার্চুয়ালি পরিচালনার সুযোগ দেয়, আর কমিশনের মাধ্যমেও সাক্ষ্য নেওয়া যায়। আপনার মামলায় তা অনুমোদিত হবে কি না আদালত ঠিক করেন; আবেদন ও ব্যবস্থাপনা আমরা করি।
মামলার মাঝপথে কি আইনজীবী বদলানো যায়?
হ্যাঁ। আপনি নতুন ওকালতনামায় সই করেন, প্রয়োজনে আগের আইনজীবীর অনাপত্তি নেওয়া হয়, আর আমরা নথি সংগ্রহ করি। নতুন করে মামলা করতে হয় না।
প্রতিটি শুনানিতে কী হলো তা কীভাবে জানব?
প্রতিটি তারিখের পর আমরা বাংলা বা ইংরেজিতে লিখিত নোট পাঠাই: কী হলো, পরের তারিখ কবে, আর আপনার কাছ থেকে কিছু লাগবে কি না।
প্রবাসীদের কোম্পানি নিবন্ধন, বিনিয়োগ, কর ও ব্যবসায়িক কমপ্লায়েন্সের কাজ করে আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান LegalDesk.bd।
দেশে মামলা আছে, কিন্তু হাজির হতে পারছেন না?
মামলা নম্বর বা হাতে থাকা যেকোনো কাগজ পাঠান। আমরা নথি দেখে জানাব, মামলা আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।
