কোম্পানি আদালত ও অবসায়ন
হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এ সংরক্ষিত বিষয়গুলো দেখে, যার মধ্যে অবসায়নও রয়েছে। এগুলো গুরুতর আবেদন, যার পরিণতিও গুরুতর, আর প্রায়ই এগুলো প্রতিকারের পাশাপাশি চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
কোম্পানি বেঞ্চে অবসায়নের আবেদন
আমরা কোম্পানি বেঞ্চে অবসায়নের আবেদন, সদস্য রেজিস্টার সংক্রান্ত আবেদন, সংশোধন, স্কিম ও পুনর্গঠন বিষয়ক মামলা, এবং কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী আদালতে দায়েরযোগ্য আইনি আবেদনগুলোতে উপস্থিত হই। আমরা আবেদনকারী ও প্রতিরক্ষাকারী কোম্পানি—উভয় পক্ষেই কাজ করি।
অবসায়ন
কোনো কোম্পানি ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে বা অন্য কোনো আইনগত কারণে তার অবসায়ন হতে পারে। পাওনাদারের জন্য এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার; কোম্পানির জন্য এটি অস্তিত্বের সংকট, যা স্বাভাবিক ব্যবসাও থামিয়ে দেয়। এ কারণেই অবসায়নের অনেক আবেদন প্রকৃতপক্ষে টাকা আদায়ের চাপ সৃষ্টির জন্য করা হয়, আর সেগুলো কোনো আদেশ হওয়ার আগেই নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
আবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা
সত্যিকারভাবে বিতর্কিত ঋণের ভিত্তিতে করা আবেদন প্রক্রিয়ার অপব্যবহার, আর এটাই সাধারণত প্রথম প্রতিরক্ষা। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, কারণ আবেদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়াই ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে।
যা সঙ্গে থাকলে সুবিধা হয়
- যে দাবিপত্র বা আইনগত নোটিশের ভিত্তিতে আবেদন করা হয়েছে
- হিসাব ও সচ্ছলতার প্রমাণ
- ঋণটি সত্যিকারভাবে বিতর্কিত কিনা তা প্রমাণকারী দলিল
- কোম্পানির রেকর্ড ও দাখিলকৃত নথি
কোথায় শুনানি হয়, কত সময় লাগে
এই মামলাগুলো হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চে দায়ের হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও লেনদেন স্থগিতের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দ্রুত আসতে পারে। বিতর্কিত আবেদন অনেক মাস পর্যন্ত চলতে পারে, আর আইনি পরিণতির অনেক আগেই ব্যবসায়িক ক্ষতি শুরু হয়ে যায়।
সচ্ছলতা ও ঋণ যাচাই
ঋণটি সত্যিকারভাবে বিতর্কিত কিনা এবং হিসাবপত্র কী বলছে, তা আমরা প্রতিষ্ঠা করি।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই পদক্ষেপ
আবেদনটি অনুচিত হলে আমরা দ্রুত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ স্থগিত বা প্রতিরোধের চেষ্টা করি।
আবেদন প্রতিরোধ বা চাপ প্রয়োগ
আমরা আইনগত ভিত্তিতে শুনানি পরিচালনা করি।
ব্যবসায়িক সমাধানে আলোচনা
এ ধরনের অধিকাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয় পরিশোধ বা পুনর্গঠনের মাধ্যমে, আর আমরা সেদিকেই এগিয়ে নিই।
আগে ফ্রি গাইডগুলো পড়ুন
প্রথম সাক্ষাতে ক্লায়েন্টরা যা জিজ্ঞেস করেন, তার বেশির ভাগের উত্তর আমাদের ফ্রি গাইডে ধাপে ধাপে দেওয়া আছে। আগে নিচের গাইডগুলো পড়ুন; চেম্বারকে দিয়ে কাজ করাতে চাইলে কনসালটেশন বুক করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
একজন পাওনাদার একটি বিতর্কিত বিল নিয়ে আমার কোম্পানি অবসায়নের হুমকি দিচ্ছে। তারা কি এটা করতে পারবে?
সত্যিকারভাবে বিতর্কিত ঋণের ভিত্তিতে করা আবেদন প্রক্রিয়ার অপব্যবহার এবং তা প্রতিরোধ করা যায়, তবে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, সম্ভব হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই, কারণ ব্যবসায়িক ক্ষতি শুরু হয় খুব দ্রুতই।
ঋণ আদায়ের জন্য অবসায়ন কি একটি ভালো উপায়?
যে কোম্পানি সচ্ছল কিন্তু পরিশোধ করতে চায় না, তার বিরুদ্ধে এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার এবং প্রায়ই পরিশোধ আদায় করে। কিন্তু যে কোম্পানির কোনো সম্পদ নেই, তার বিরুদ্ধে এটি দুর্বল একটি পথ। আপনার পরিস্থিতি কোনটির মধ্যে পড়ে, তা আমরা যাচাই করে পরামর্শ দেব।
আবেদন চলাকালীন কোম্পানির কী হয়?
লেনদেন স্থগিত হতে পারে, আর আবেদনের কথা জানাজানি হলে ব্যাংকিং সম্পর্কও সাধারণত প্রভাবিত হয়। এ কারণেই দ্রুত পদক্ষেপ এত গুরুত্বপূর্ণ।
কখন কোম্পানিকে দেনা পরিশোধে অক্ষম ধরা হয়?
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর একটি ভিত্তি হলো: নির্ধারিত ন্যূনতম অঙ্কের বেশি অবিসংবাদিত পাওনার জন্য পাওনাদার লিখিত দাবি দিলে তিন সপ্তাহের মধ্যে কোম্পানি পরিশোধ বা জামানতের ব্যবস্থা না করলে। প্রকৃত অর্থে বিরোধপূর্ণ পাওনা অবসায়নের ভিত্তি নয়।
এই গাইডের পেছনের আইন ও ফরম
বিডি অ্যাডভোকেসিতে সংরক্ষিত প্রামাণিক পাঠ। ধারা নম্বরগুলো এই গাইডে ব্যবহৃত।
কোম্পানি আদালতের মামলায় পদক্ষেপ নিন
বিজ্ঞপ্তি ক্ষতি করার আগেই। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।
