Skip to content

হাইকোর্টে রিট পিটিশন: কখন করা যায়, কীভাবে চলে, খরচ কত

রাষ্ট্র বা সরকারি কর্তৃপক্ষের বেআইনি কাজ থামাতে বা বাতিল করতে হাইকোর্ট বিভাগে রিট করা হয়। এটি দ্রুত ও কার্যকর, তবে কেবল তখনই, যখন অন্য উপযুক্ত প্রতিকার নেই। কীভাবে কাজ করে, এখানে।

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ১০৩ অনুচ্ছেদ (আপিল)সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস ১৯৭৩
শেয়ার করুন
বাংলাদেশে হাইকোর্টে রিট পিটিশন বোঝাতে স্তম্ভ, আবেদনপত্র ও হাতুড়ির চিত্র
এক নজরে
  • সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগে রিট করা হয়।
  • রিট চলে রাষ্ট্র, সরকারি সংস্থা ও সরকারি দায়িত্ব পালনকারীর বিরুদ্ধে, সাধারণ ব্যক্তিগত পক্ষের বিরুদ্ধে নয়।
  • সমান কার্যকর অন্য প্রতিকার থাকলে আদালত সাধারণত রিট গ্রহণ করেন না।
  • নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, তবে ব্যাখ্যাহীন দেরিতে রিট খারিজ হতে পারে।

এই গাইডে: পাঁচ ধরনের রিট · যখন রিট চলে না · কাগজপত্র ও খরচ যেভাবে ঠিক হয়

সংক্ষেপে উত্তর

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ হাইকোর্ট বিভাগকে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের বেআইনি কাজ সংশোধনের ক্ষমতা দেয়। হলফনামা ও কাগজপত্রসহ দরখাস্ত দাখিল করতে হয়। বেঞ্চ মামলা গ্রহণযোগ্য মনে করলে রুল নিশি জারি করে কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলেন, অনেক সময় সঙ্গে স্থগিতাদেশের মতো অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। কর্তৃপক্ষের জবাবের পর রুলের শুনানি হয়, আর রুল চূড়ান্ত (আপনার পক্ষে) বা খারিজ হয়।

হেরে যাওয়া পক্ষ ১০৩ অনুচ্ছেদে আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি চাইতে পারেন।

পাঁচ ধরনের রিট

রিটকী করেসাধারণ ব্যবহার
সার্টিওরারিআইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া করা আদেশ বা কাজকে অবৈধ ঘোষণা করেবেআইনি আদেশ, নোটিশ বা সিদ্ধান্ত বাতিল
ম্যান্ডামাসআইন যা করতে বলে, তা করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়বিনা কারণে আটকে রাখা লাইসেন্স, পাওনা বা সিদ্ধান্ত
প্রোহিবিশনএখতিয়ারের বাইরে কাজ করা থামায়কোনো কার্যক্রম আর এগোতে না দেওয়া
হেবিয়াস কর্পাসআটক ব্যক্তিকে হাজির করাতে এবং বেআইনি আটক হলে মুক্তি দিতে বলেবেআইনি আটক; যে কেউ আবেদন করতে পারেন
কো-ওয়ারেন্টোকোন কর্তৃত্বে কেউ সরকারি পদে আছেন, তা জানতে চায়বেআইনি নিয়োগ

মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে ১০২(১) অনুচ্ছেদে যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন।

যখন রিট চলে না

  • অন্য উপযুক্ত প্রতিকার: আইনে আপিল বা ট্রাইব্যুনাল থাকলে, যেমন কর, ভ্যাট বা কাস্টমস আপিল, সাধারণত আগে সেখানে যেতে হয়।
  • সরকারি কর্মচারীর চাকরির শর্ত: সাধারণত প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যায় (১১৭ অনুচ্ছেদ), রিটে নয়।
  • ব্যক্তিগত বিরোধ: দুই বেসরকারি পক্ষের চুক্তি বা টাকার বিরোধ দেওয়ানি আদালতের বিষয়।
  • বিতর্কিত তথ্য: রিট হলফনামার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়, তাই সাক্ষী ও প্রমাণ লাগলে মামলাই ভালো পথ।
চিত্র: রিট পিটিশনে হাইকোর্ট বিভাগ সরকারি কাজের বৈধতা যাচাই করেন

কাগজপত্র ও খরচ যেভাবে ঠিক হয়

যে আদেশ বা নোটিশ চ্যালেঞ্জ করছেন, কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার আবেদন ও জবাব, আপনার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ (নিয়োগপত্র, লাইসেন্স, মালিকানার কাগজ বা পরিচয়পত্র), আর জরুরি অবস্থা বোঝায় এমন কাগজ আনুন। দরখাস্ত সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে সমর্থিত হয়।

কোর্ট ফি সামান্য। খরচের বড় অংশ আইনজীবীর ফি, হলফনামা ও সার্টিফায়েড কপি, যা বিষয় ও শুনানির সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। কাগজ দেখে আমরা নির্দিষ্ট খরচ জানাই।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট আদালতের চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
রিট করার ধাপ
১

প্রতিকার যাচাই

আগে আপিল বা ট্রাইব্যুনালই সঠিক পথ কি না নিশ্চিত হোন।

২

ন্যায়বিচার চেয়ে আবেদন

কর্তৃপক্ষকে লিখিত আবেদন দিন ও প্রমাণ রাখুন।

৩

দাখিল ও শুনানি

হলফনামাসহ দরখাস্ত এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চে উপস্থাপন।

৪

রুল ও স্থগিতাদেশ

রুল জারি হলে প্রতিপক্ষকে নোটিশ দিন ও শুনানি অনুসরণ করুন।

দ্রুত পদক্ষেপ নিন: ভালো রিট ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ দেরি।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

রিট পিটিশন কি?

মৌলিক অধিকার বলবৎ বা রাষ্ট্র বা সরকারি সংস্থার বেআইনি কাজ সংশোধনের জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগে করা আবেদন।

হাইকোর্টে রিট করতে কত টাকা লাগে?

কোর্ট ফি সামান্য। মূল খরচ আইনজীবীর ফি, হলফনামা ও সার্টিফায়েড কপি। বিষয়ভেদে খরচ আলাদা, তাই কাগজ দেখিয়ে নির্দিষ্ট খরচ জেনে নিন।

রিট নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগে?

জরুরি ক্ষেত্রে দাখিলের কয়েক দিনের মধ্যে রুল ও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ আসতে পারে। রুলের চূড়ান্ত শুনানিতে কয়েক মাস বা তার বেশি লাগতে পারে।

রুল নিশি কি?

হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ, যাতে প্রতিপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলা হয় কেন চাওয়া প্রতিকার দেওয়া হবে না। এটি বোঝায় আদালত মামলাটিকে বিবেচনাযোগ্য মনে করছেন।

রিট করার কি কোনো সময়সীমা আছে?

নির্দিষ্ট সময় নেই, তবে ব্যাখ্যাহীন দেরিতে আদালত প্রতিকার না-ও দিতে পারেন। চ্যালেঞ্জ করা কাজের পর যত দ্রুত সম্ভব দাখিল করুন।

বেসরকারি কোম্পানির বিরুদ্ধে কি রিট করা যায়?

সাধারণত না। রিট চলে রাষ্ট্র, সংবিধিবদ্ধ ও সরকারি সংস্থা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনকারীর বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত বিরোধ দেওয়ানি আদালতে যায়।

সরকারি কর্মচারী কি চাকরির বিষয়ে রিট করতে পারেন?

চাকরির শর্তসংক্রান্ত বিরোধ সাধারণত ১১৭ অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যায়, রিটে নয়।

রিট খারিজ হলে কী হবে?

১০৩ অনুচ্ছেদে আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি চাইতে পারেন। আপনি জিতলে প্রতিপক্ষও তা করতে পারে।

আদালত, মামলা ও টাকা আদায় বিষয়ে আরও পড়ুন

চেক ডিজঅনার, লিগ্যাল নোটিশ ও মামলার আগে মধ্যস্থতা।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

বেআইনি আদেশ বা সিদ্ধান্তের মুখোমুখি?

আদেশ ও কাগজপত্র পাঠান। রিট চলবে কি না আর কী লাগবে, আমরা জানাই। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।