Skip to content
প্রবাসীদের জন্য

বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বাংলাদেশের নিয়মে তৈরি

বিদেশে সই করা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা) দিয়েই দেশে কেউ আপনার জমি বিক্রি বা দেখাশোনা করেন, মামলা চালান বা ব্যাংকের কাজ করেন। লেখায় বা আনুষ্ঠানিকতায় ছোট ভুল থাকলে রেজিস্ট্রি অফিস বা আদালতে তা আটকে যায়। আমরা বাংলাদেশের ফরম্যাটে খসড়া করি, আপনি যে দেশে আছেন সেখানে ঠিক কীভাবে সই করবেন তা বলে দিই, আর দলিল দেশে পৌঁছানোর পরের সব ধাপ সামলাই।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ২০১২পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা ২০১৫ (২০২৫ সংশোধনী)দূতাবাস বা অ্যাপোস্টিলস্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯ ও রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল, পাসপোর্ট ও কুরিয়ার খাম

প্রবাসীদের জন্য আমরা যা করি

সঠিক ধরনের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বেছে নেওয়া

বিশেষ (স্পেশাল) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য, যেমন একটি দাগের জমি বিক্রি বা একটি মামলা চালানো। সাধারণ (জেনারেল) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি একাধিক কাজের জন্য, যেমন সম্পত্তি দেখাশোনা ও বিভিন্ন অফিসে কাজ। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ২০১২ অনুযায়ী বিনিময়মূল্যের বিপরীতে বিক্রি, বন্ধক বা জমি উন্নয়নের জন্য অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যবহৃত হয়, এবং তা রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। আপনার কাজের জন্য কোনটি ঠিক, আমরা পরামর্শ দিই, আর ক্ষমতা যতটুকু দরকার তার বেশি দিই না।

বাংলাদেশের ফরম্যাটে খসড়া

আমরা নির্ধারিত ফরম অনুসরণ করে বাংলা বা দ্বিভাষিক খসড়া তৈরি করি, যাতে সম্পত্তির পূর্ণ তফসিল (মৌজা, জেএল নম্বর, খতিয়ান, দাগ ও পরিমাণ), অনুমোদিত কাজ, মেয়াদ এবং দুই পক্ষের তথ্য থাকে। বেশিরভাগ দূতাবাস সই করার জন্য প্রস্তুত দলিল চায়, আর বাংলাদেশে তৈরি খসড়া পরে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

যে দেশে থাকেন সেখানে সই: দূতাবাস নাকি অ্যাপোস্টিল

সাধারণত দুটি পথ আছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটে কনস্যুলার কর্মকর্তার সামনে দুই পক্ষের ছবি ও পরিচয়পত্রসহ সই করা যায়। অথবা, বাংলাদেশ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যুক্ত হওয়ায় ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে অনেক দেশে স্থানীয় নোটারির সামনে সই করে সেই দেশের কর্তৃপক্ষ থেকে অ্যাপোস্টিল করানো যায়। কোন পথ নিরাপদ তা দেশ এবং দলিলটি কী কাজে লাগবে তার ওপর নির্ভর করে; অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার আগেই আমরা তা জানিয়ে দিই।

২০২৫ সালে যা বদলেছে

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা ২০১৫-এর সংশোধনী অনুযায়ী, বিদেশে থাকা ব্যক্তি এখন শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট নয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা “নো ভিসা রিকোয়ার্ড” সিলযুক্ত বিদেশি পাসপোর্ট দিয়েও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন করতে পারেন। আর প্রত্যয়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রত্যয়নের ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠাতে হবে।

দলিল দেশে পৌঁছানোর পর

বিদেশে সই করা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যয়ন ও স্ট্যাম্প করাতে হয়, আর জমি সংক্রান্ত হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিও করতে হয়। সাধারণত দলিল প্রথম দেশে পৌঁছানোর তিন মাসের মধ্যে স্ট্যাম্প এবং চার মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রি করাতে হয়। আমরা মূল দলিল গ্রহণ করি, প্রতিটি অফিসের কাজ শেষ করি এবং রেজিস্ট্রি কপি আপনাকে পাঠাই।

যাচাই, ব্যবহার ও বাতিল

আপনি আগে যে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন বা যেটিতে সই করতে বলা হচ্ছে, আমরা তা পর্যালোচনা করি, অ্যাটর্নিকে তাঁর ক্ষমতার সীমা বুঝিয়ে দিই, আর বাতিল করতে চাইলে বাতিলের দলিল তৈরি ও রেজিস্ট্রি করে সাব-রেজিস্ট্রার, ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নোটিশ দিই।

দালাল বা ক্রেতার বানানো পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে স্বাধীন পরামর্শ ছাড়া সই করবেন না। দেখে নিন, এতে নির্দিষ্ট দাগ ও কাজের উল্লেখ আছে কি না, মেয়াদ নির্দিষ্ট কি না, আর অ্যাটর্নি বিক্রির টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে নিতে পারেন কি না।

সেবার মধ্যে যা থাকছে

  • কাজের ধরন, আপনার দেশ ও উপযুক্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে ভিডিও পরামর্শ
  • সম্পত্তির পূর্ণ তফসিলসহ বাংলা বা দ্বিভাষিক খসড়া
  • দূতাবাস বা নোটারির জন্য সই-চেকলিস্ট: ছবি, পরিচয়পত্র, কপি ও সম্ভাব্য ফি
  • কুরিয়ারের আগে সই করা দলিলের স্ক্যান যাচাই
  • দেশে প্রত্যয়ন, স্ট্যাম্প এবং প্রয়োজনে রেজিস্ট্রি
  • অ্যাটর্নি কী করতে পারবেন আর কী পারবেন না, তা নিয়ে লিখিত নির্দেশনা
  • প্রয়োজনে বাতিলের দলিল ও নোটিশ

আপনার কাছ থেকে যা লাগবে

  • আপনার পাসপোর্ট, এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি, আর অ্যাটর্নির এনআইডি
  • দুজনেরই সাম্প্রতিক ছবি, দূতাবাস যে মাপে চায়
  • কাজের জন্য দলিল নম্বর, খতিয়ান ও দাগের তথ্য, অথবা মামলা নম্বর
  • আপনি কোন শহরে থাকেন, যাতে সংশ্লিষ্ট মিশনের অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম দেখে নিতে পারি

সময় ও খরচ

তথ্য পাওয়ার পর খসড়া তৈরিতে সাধারণত দুই থেকে চার কর্মদিবস লাগে। দেশভেদে দূতাবাসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও কুরিয়ারে সাধারণত এক থেকে চার সপ্তাহ লাগে। দেশের ধাপগুলোতে আরও কয়েক সপ্তাহ। খসড়া ও দেশের প্রতিটি ধাপের জন্য আমাদের ফি নির্দিষ্ট; দূতাবাসের ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক ও রেজিস্ট্রেশন ফি আলাদা এবং রসিদসহ।

বিদেশ থেকে যেভাবে কাজ হয়
১

কাজ ও পথ ঠিক করা

অ্যাটর্নি কী করবেন আর আপনার দেশে দূতাবাস নাকি অ্যাপোস্টিল, কোন পথ ভালো, তা নিশ্চিত করি।

২

খসড়া

পূর্ণ তফসিলসহ বাংলা বা দ্বিভাষিক, সই করার জন্য প্রস্তুত খসড়া পাঠাই।

৩

বিদেশে সই

আমাদের চেকলিস্ট মেনে কনস্যুলার কর্মকর্তার সামনে, অথবা নোটারির সামনে সই করে অ্যাপোস্টিল।

৪

স্ক্যান যাচাই

আগে স্ক্যান পাঠান। মূল দলিল কুরিয়ারের আগে আমরা দেখে নিই।

৫

দেশের ধাপ

প্রত্যয়ন, স্ট্যাম্প এবং জমির ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি।

৬

ব্যবহার ও রেকর্ড

রেজিস্ট্রি কপি আপনার কাছে, অ্যাটর্নিকে নির্দেশনা, আর প্রয়োজনে বাতিল।

ভিডিও পরামর্শ নিন আপনার টাইম জোন অনুযায়ী।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ প্রশ্ন

বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করার নিয়ম কী?

বাংলাদেশের ফরম্যাটে খসড়া করিয়ে বাংলাদেশ মিশনে, অথবা যেখানে গ্রহণযোগ্য সেখানে স্থানীয় নোটারির সামনে সই করে অ্যাপোস্টিল করাতে হয়, তারপর মূল দলিল দেশে পাঠাতে হয়। দেশে এটি প্রত্যয়ন ও স্ট্যাম্প করাতে হয়, আর জমি সংক্রান্ত হলে রেজিস্ট্রিও করতে হয়।

দূতাবাসে না গিয়ে কি অ্যাপোস্টিল দিয়ে করা যায়?

অনেক ক্ষেত্রে হ্যাঁ। ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে বাংলাদেশ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের সদস্য। তবে কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের যোগদানে আপত্তি জানিয়েছে, আর কিছু অফিস এখনো দূতাবাসে প্রত্যয়িত দলিলেই বেশি অভ্যস্ত; তাই আগে আপনার দেশ ও কাজের ধরন যাচাই করি।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে কি বাংলাদেশি পাসপোর্ট লাগবে?

এখন আর বাধ্যতামূলক নয়। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর সংশোধনীর পর জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ, অথবা “নো ভিসা রিকোয়ার্ড” সিলযুক্ত বিদেশি পাসপোর্ট দিয়েও করা যায়।

বিদেশে সই করা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কত দিন বৈধ থাকে?

দলিলে যে মেয়াদ লেখা থাকে, বাতিল না হলে ততদিন বৈধ। সময়সীমা মূলত আনুষ্ঠানিকতার জন্য: প্রত্যয়নের ছয় মাসের মধ্যে দেশে পাঠাতে হয়, আর দেশে স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রির আলাদা সময়সীমা আছে। তাই দলিল ফেলে রাখবেন না।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রি কি বাধ্যতামূলক?

অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির জন্য বাধ্যতামূলক, যার মধ্যে জমি বিক্রি, বন্ধক বা উন্নয়নের ক্ষমতা পড়ে। তা ছাড়া ভূমি অফিস ও ব্যাংক সাধারণত রেজিস্ট্রি করা দলিলই চায়।

বিদেশ থেকে কি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল করা যায়?

হ্যাঁ। সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অ্যাটর্নিকে নোটিশ দিয়ে বাতিল করা যায়। রেজিস্ট্রি করা থাকলে আমরা বাতিলের দলিল তৈরি ও রেজিস্ট্রি করি এবং সাব-রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিই।

প্রবাসীদের কোম্পানি নিবন্ধন, বিনিয়োগ, কর ও ব্যবসায়িক কমপ্লায়েন্সের কাজ করে আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান LegalDesk.bd।

শেয়ার করুন

দেশের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দরকার?

কী কাজ আর আপনি কোন দেশে আছেন জানান। আমরা সই করার জন্য প্রস্তুত খসড়া আর সই-চেকলিস্ট পাঠাব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।