Skip to content
ফৌজদারি মামলা ও থানা-পুলিশ

ফৌজদারি মামলার বিচার ও লড়াই

একটি ফৌজদারি মামলা জেতে প্রস্তুতির জোরে: কাগজপত্র, সাক্ষী, জেরা এবং ঠিক সময়ে তোলা আইনি যুক্তি। ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়রা আদালতে আমরা নিজেরাই মামলা পরিচালনা করি, অন্য কারো হাতে ছেড়ে দিই না।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮দণ্ডবিধি, ১৮৬০সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২
আদালত কক্ষের বেঞ্চের পাশে আইনের বইপত্র

আমরা কী নিয়ে কাজ করি

চার্জ গঠন থেকে রায় পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা ফৌজদারি মামলা লড়ি: চার্জ পর্যায়ের আবেদন, বিচার চলাকালীন জামিন, প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জেরা, আসামিপক্ষের সাক্ষ্য ও চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক। প্রাইভেট প্রসিকিউশন পরিচালনাকারী বাদীর পক্ষেও আমরা হাজির হই।

চার্জ ও অব্যাহতি

চার্জ পর্যায়টি এমন একটি সুযোগ যা প্রায়ই কাজে লাগানো হয় না। নথিপত্রে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হলে, দুর্বল মামলাকে পুরো বিচার পর্যন্ত টেনে না নিয়ে আমরা অব্যাহতির জন্য জোর দিই।

বিচার ও জেরা

বেশিরভাগ ফৌজদারি মামলার ফলাফল নির্ভর করে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের ওপর। আমরা কাগজপত্র ও লিখিত জবানবন্দির অসংগতি ধরে জেরা প্রস্তুত করি, কারণ খালাস মূলত এখান থেকেই আসে।

আইনি যুক্তি

ত্রুটিপূর্ণ অনুমোদন (স্যাংশন), এখতিয়ার, মেয়াদোত্তীর্ণতা, ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত এবং অগ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য—প্রতিটিই একটি মামলার ফল ঠিক করে দিতে পারে। এসব যুক্তি উঠলেই আমরা লিখিতভাবে ও নথিতে তুলে ধরি, যাতে আপিলেও তা টিকে থাকে।

বিচারের তারিখের অনেক আগেই লড়াই শুরু হয়ে যায়। আগেভাগে নেওয়া জবানবন্দি, কাগজপত্র থাকতে থাকতে সংগ্রহ করা, এবং এমন জামিনের অবস্থান যাতে আসামি ঠিকমতো নির্দেশনা দিতে পারেন—এসবই বিচারের ফল ঠিক করে দেয়।

যা সঙ্গে থাকলে সুবিধা হয়

  • প্রাপ্ত এজাহার, চার্জশিট ও কেস ডায়েরির নথি
  • সাক্ষীদের জবানবন্দি ও কোনো লিখিত স্বীকারোক্তি থাকলে
  • আসামিপক্ষকে সমর্থন করে এমন কাগজপত্র, বার্তা ও নথি
  • আসামিপক্ষের সাক্ষীদের নাম ও তারা কী বলতে পারবেন
  • সমান্তরালে চলা কোনো দেওয়ানি বা পারিবারিক মামলার বিবরণ

কোথায় শুনানি হয়, কত সময় লাগে

অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিচার হয় ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা আদালতে, আর কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। ফৌজদারি মামলার বিচার সাধারণত এক বছরের বেশি সময় নেয়, সাক্ষীরা দেরিতে হাজির হলে আরও বেশি। জামিন ও শুনানির গতি—দুটোর জন্যই আমরা চাপ দিয়ে যাই।

ফৌজদারি মামলার বিচার বোঝাতে ব্যবহৃত ইলাস্ট্রেশন
আমরা যেভাবে মামলা পরিচালনা করি
1

সবকিছু খুঁটিয়ে পড়া

লড়াইয়ের কৌশল ঠিক করার আগে আমরা এজাহার, চার্জশিট ও কেস ডায়েরির নথি খুঁটিয়ে দেখি।

2

চার্জ পর্যায়ে লড়া

নথিপত্র চার্জ সমর্থন না করলে আমরা অব্যাহতির জন্য জোর দিই।

3

মামলা পরিচালনা করা

আমরা প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জেরা করি এবং আসামিপক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপন করি।

4

যুক্তি দেওয়া ও নথি সংরক্ষণ করা

আমরা আইনি যুক্তি তুলে ধরি এবং আপিলের জন্য নথি পরিষ্কার রাখি।

আমরা নিজেরাই বিচার পরিচালনা করি, অন্য কারো হাতে ছেড়ে দিই না।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রতিটি শুনানিতেই কি আমাকে উপস্থিত থাকতে হবে?

কোন আদালতে ও কোন পর্যায়ে মামলা আছে তার ওপর নির্ভর করে উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা, আর কখনো কখনো অব্যাহতি চাওয়া যায়। কোন তারিখে আপনার উপস্থিত থাকতেই হবে তা আমরা জানিয়ে দিই এবং সম্ভব হলে অব্যাহতি চেয়ে নিই।

বিচার শুরুর আগেই কি মামলা খারিজ করা যায়?

হ্যাঁ। চার্জ পর্যায়ে নথিপত্রে অপরাধ প্রমাণিত না হলে আদালত আসামিকে অব্যাহতি দিতে পারেন, আর হাইকোর্ট বিভাগ হয়রানিমূলক মামলা বাতিল করতে পারে। ঠিক সময়ে দুটোর জন্যই চেষ্টা করা উচিত।

বেশিরভাগ ফৌজদারি মামলার ফল কীসের ওপর নির্ভর করে?

সাধারণত প্রসিকিউশনের সাক্ষী ও কাগজপত্রের ওপর, বাগ্মিতার ওপর নয়। লিখিত জবানবন্দির বিপরীতে সতর্ক জেরা করার মধ্যেই মামলা আসলে জেতা হয়।

শেয়ার করুন

সঠিকভাবে মামলা লড়ুন

আপনার নিযুক্ত আইনজীবীই মামলা প্রস্তুত করবেন, যুক্তি দেবেন ও পরিচালনা করবেন।