Skip to content
ফৌজদারি মামলা ও জামিন

নারী, শিশু ও বিশেষ আইন সংক্রান্ত মামলা

নারী ও শিশু সুরক্ষায় প্রণীত বিশেষ আইনের মামলাগুলোর পরিণতি ভারী, আর এগুলো নিষ্পত্তি হয় নিজস্ব ট্রাইব্যুনালে। বাদীর পক্ষে হোক বা অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই—আমরা এসব মামলায় প্রয়োজনীয় যত্নসহ কাজ করি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮শিশু আইন, ২০১৩
অভিযোগপত্রের সামনে সুরক্ষার ঢাল ও দাঁড়িপাল্লা — বাংলাদেশে নারী নির্যাতন মামলা করার নিয়ম

নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা: দায়ের, জামিন ও প্রতিরক্ষা

নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত বিশেষ আইনের অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনালে আমরা হাজির হই—যৌতুক সংক্রান্ত অপরাধ, নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতা, অপহরণ, এবং আইনের সংস্পর্শে আসা বা সুরক্ষার প্রয়োজন এমন শিশুদের বিষয়সহ।

বাদীর জন্য

ট্রাইব্যুনালের প্রত্যাশিত চিকিৎসা ও কাগজপত্রের নথিসহ সঠিকভাবে মামলা দাখিলে আমরা সাহায্য করি, আর দাখিল করেই সরে যাই না, পুরো বিচার পর্যন্ত সঙ্গে থাকি। সুরক্ষার প্রয়োজন হলে তা সমান্তরালেই দেখি।

অভিযুক্তের জন্য

এগুলো গুরুতর অভিযোগ, আর কখনো কখনো এসব পারিবারিক বা সম্পত্তি বিরোধের মাঝখানে করা হয়। আমরা ঘটনা ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে লড়ি, জামিনের ব্যবস্থা করি, আর মামলা স্পষ্টতই মিথ্যা বা হয়রানিমূলক হলে সেই যুক্তি যথাযথভাবে তুলে ধরি।

শিশু সংক্রান্ত বিষয়

শিশু আইন, ২০১৩-এর অধীনে শিশু-সম্পর্কিত মামলার নিজস্ব কাঠামো ও সুরক্ষা আছে। প্রয়োজনীয় পদ্ধতি ও সতর্কতা মেনেই আমরা এসব মামলা সামলাই।

এসব মামলা প্রায়ই পারিবারিক ও সম্পত্তি বিরোধের কাছাকাছি থাকে, আর দুটো একসঙ্গেই চলে। এদের আলাদাভাবে সামলানো ভুল হবে: তালাক, দেনমোহরের দাবি ও ফৌজদারি মামলা—সাধারণত সবগুলোর জন্য একটিই সমন্বিত কৌশল দরকার।

যা সঙ্গে থাকলে সুবিধা হয়

  • চিকিৎসার নথি ও আঘাতের কোনো প্রতিবেদন
  • এজাহার বা দরখাস্ত এবং অভিযুক্ত ধারাগুলো
  • বার্তা, কল রেকর্ড ও সাক্ষীদের বিবরণ
  • পারিবারিক ও সম্পত্তির পটভূমি, যা প্রায়ই প্রাসঙ্গিক হয়
  • অভিযুক্ত হলে, সমান্তরালে চলা কোনো বিরোধের প্রমাণ

কোথায় শুনানি হয়, কত সময় লাগে

এসব মামলা যায় বিশেষ আইনের অধীনে নির্ধারিত ট্রাইব্যুনালে, যাদের নিজস্ব পদ্ধতি আছে এবং কিছু ক্ষেত্রে জামিনের ওপর বিধিনিষেধও আছে। বিচার সাধারণত এক বছরের বেশি সময় নেয়। জামিন ও অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষাই সাধারণত প্রথম লড়াইয়ের জায়গা।

বিশেষ আইন ট্রাইব্যুনাল মামলা বোঝাতে ব্যবহৃত ইলাস্ট্রেশন
আমরা যেভাবে এসব মামলা সামলাই
1

পুরো পরিস্থিতি বোঝা

শুধু ফৌজদারি কাগজপত্র নয়, পারিবারিক ও সম্পত্তির পটভূমিও আমরা দেখি।

2

তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া

বাদীর জন্য সুরক্ষা, বা অভিযুক্তের জন্য জামিন—দুটোতেই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিই।

3

প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা সাজানো

ট্রাইব্যুনালের প্রত্যাশিত চিকিৎসা, কাগজপত্র ও সাক্ষীর নথি আমরা সংগ্রহ করি।

4

রায় পর্যন্ত পরিচালনা করা

আমরা বিচার পরিচালনা করি এবং তা পারিবারিক বা সম্পত্তির মামলার সঙ্গে সমন্বয় করে চালাই।

এসব মামলায় সাধারণত পারিবারিক ও ফৌজদারি আদালত জুড়ে একটিই কৌশল দরকার হয়।পরামর্শের সময় নিন

আগে ফ্রি গাইডগুলো পড়ুন

প্রথম সাক্ষাতে ক্লায়েন্টরা যা জিজ্ঞেস করেন, তার বেশির ভাগের উত্তর আমাদের ফ্রি গাইডে ধাপে ধাপে দেওয়া আছে। আগে নিচের গাইডগুলো পড়ুন; চেম্বারকে দিয়ে কাজ করাতে চাইলে কনসালটেশন বুক করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

এসব মামলায় কি জামিন সম্ভব?

এটি নির্ভর করে নির্দিষ্ট অপরাধের ওপর, কারণ কিছু শ্রেণির অপরাধ আরও কঠোরভাবে দেখা হয়। এটি কোনোভাবেই স্বয়ংক্রিয় নয়, আর সঠিকভাবে প্রস্তুত করা আবেদনই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের তালাকের মধ্যে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মানে কী?

তালাকের সময় ফৌজদারি অভিযোগ ও পারিবারিক মামলা একসঙ্গে চলা অস্বাভাবিক নয়। এদের একটিই সমন্বিত কৌশলে সামলানো উচিত, কারণ একটির ফলাফল অন্যটিকে প্রভাবিত করে।

মামলার কার্যক্রম কি গোপন থাকবে?

নারী ও শিশু সংশ্লিষ্ট মামলায় পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষার সুরক্ষা থাকে। আপনার মামলায় কী প্রযোজ্য তা আমরা পরামর্শ দিই এবং তা রক্ষায় সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিই।

নারী নির্যাতন মামলা করার নিয়ম কী?

থানায় এজাহার দিন। পুলিশ মামলা না নিলে সরাসরি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা করুন; ট্রাইব্যুনাল তদন্তের আদেশ দিতে পারেন। দ্রুত সরকারি হাসপাতাল বা ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ডাক্তারি পরীক্ষা করান।

মিথ্যা যৌতুক বা নারী নির্যাতন মামলার শাস্তি কী?

২০০০ সালের আইনে মিথ্যা মামলা করা নিজেই অপরাধ (১৭ ধারা), শাস্তি সর্বোচ্চ সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা। যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮-এ মিথ্যা মামলার শাস্তি (৬ ধারা) সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়।

যৌতুকের মামলা কি আগে মধ্যস্থতায় যেতে হয়?

যেসব জেলায় মামলার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা চালু হয়েছে, সেখানে যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮-এর ৩ বা ৪ ধারার অভিযোগ আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যেতে হয়। ২০০০ সালের আইনের নির্যাতনের মামলা মধ্যস্থতায় পাঠানো হয় না।

আইন লাইব্রেরি

এই গাইডের পেছনের আইন ও ফরম

বিডি অ্যাডভোকেসিতে সংরক্ষিত প্রামাণিক পাঠ। ধারা নম্বরগুলো এই গাইডে ব্যবহৃত।

শেয়ার করুন

আস্থার সঙ্গে আমাদের সঙ্গে কথা বলুন

বিশেষ আইনের মামলায় যে কোনো পক্ষে যত্নসহ প্রতিনিধিত্ব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।