Skip to content
জমি কেনার আগে যাচাই

টাইটেল ভেরিফিকেশন ও মালিকানার ধারাবাহিকতা

বাংলাদেশে বেশিরভাগ জমি-জমার মামলার পেছনে একটাই কারণ থাকে – টাকা হাতবদল হওয়ার আগে কেউ ঠিকমতো টাইটেল যাচাই করেনি। জমি বা ফ্ল্যাট কেনার আগে আমরা প্রতিটি হস্তান্তরের ধারা ধরে মালিকানা যাচাই করি, তা রেকর্ড অব রাইটসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি, এবং স্পষ্ট করে বলে দিই বিক্রেতা আসলেই জমিটি বিক্রি করতে পারবেন কি না।

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০নিবন্ধন আইন, ১৯০৮সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২
বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকার জমির দলিল পাশাপাশি রাখা

এই সেবায় যা থাকছে

টাইটেল ভেরিফিকেশন মানে হলো, যিনি জমি বিক্রি করছেন তিনি আসলেই এর মালিক কি না, এবং অন্য কোনো দাবি-দাওয়া ছাড়াই আপনাকে তা হস্তান্তর করতে পারবেন কি না, তা যাচাই করা। বর্তমান বিক্রেতা থেকে শুরু করে আগের প্রতিটি মালিকের মালিকানা পর্যন্ত আমরা দলিল ও একের পর এক রেকর্ড অব রাইটস মিলিয়ে চেইন তৈরি করি, এবং প্রতিটি ধাপ রেজিস্ট্রিকৃত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা যাচাই করি।

মালিকানার ধারাবাহিকতা

একটি নির্ভুল টাইটেল মানে এমন একটি চেইন, যার কোনো ধাপ ভাঙা নেই। আমরা সিএস, এসএ, আরএস ও শহরের বিএস খতিয়ান পর্যন্ত পেছনে গিয়ে যাচাই করি, প্রতিটি হস্তান্তর দলিলকে পরবর্তী রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি, এবং ফাঁকফোকর খুঁজি – যেমন কখনো রেজিস্ট্রি না হওয়া বিক্রি, বাদ পড়া কোনো ওয়ারিশ, অথবা একই জমি দুইবার বিক্রি হওয়া।

আমরা কোন রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি

আমরা বিক্রেতার কাগজপত্র সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি – ভূমি অফিসের খতিয়ান ও পর্চা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল এন্ট্রি, নামজারির অবস্থা এবং হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ। যে কাগজ দেখতে একদম নিখুঁত মনে হয়, রেকর্ডের পাশে রাখলে অনেক সময় সেটাই মিলছে না দেখা যায়।

শুধু ব্যাংক চেক কেটে দেওয়াটা যথেষ্ট সতর্কতা নয়। টাকা দেওয়ার পর একবার ভুল কেনাকাটা হলে তা ঠিক করতে বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হয়। টাইটেল সার্চের খরচ জমির দামের তুলনায় সামান্য, অথচ এটাই সবচেয়ে সস্তা বিমা যা আপনি কোনো সম্পত্তির জন্য কিনতে পারেন।

যেসব কাগজপত্র নিয়ে আমরা কাজ করি

  • বিক্রেতার বায়া দলিলের ধারাবাহিকতা, যতদূর পাওয়া যায়
  • হালনাগাদ খতিয়ান ও পর্চা, এবং নামজারি খতিয়ান
  • সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রশিদ
  • মৌজা ম্যাপ এবং বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র
  • আগের কোনো চুক্তিপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ওয়ারিশ সংক্রান্ত কাগজপত্র থাকলে তা

কত সময় লাগে

একটি একক প্লট বা ফ্ল্যাটের সাধারণ টাইটেল চেক সাধারণত কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়, তবে এটা নির্ভর করে চেইনটি কতদূর পেছনে যায় এবং ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি কত দ্রুত রেকর্ড দিচ্ছে তার ওপর। ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া বা বহুবার হাতবদল হওয়া জমিতে সময় বেশি লাগে, আর ঠিক সেই বাড়তি সময়টাতেই ঝুঁকি লুকিয়ে থাকে।

টাইটেল ভেরিফিকেশন ও মালিকানার ধারাবাহিকতা বোঝাতে ইলাস্ট্রেশন
যাচাইয়ের প্রক্রিয়া যেভাবে চলে
1

কাগজপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা

আমরা বিক্রেতার কাগজপত্র নিয়ে যাচাই করার মতো প্রতিটি হস্তান্তর চিহ্নিত করি।

2

সরকারি রেকর্ড অনুসন্ধান

আমরা খতিয়ান, পর্চা, দলিল এন্ট্রি ও কর সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ করে বিক্রেতার চেইনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি।

3

প্রতিটি ধাপ ধরে যাচাই

আমরা মালিকানা ধাপে ধাপে পেছনে গিয়ে যাচাই করি এবং কোনো ভাঙা ধাপ, বাদ পড়া ওয়ারিশ বা দুইবার বিক্রির চিহ্ন থাকলে তা চিহ্নিত করি।

4

প্রতিবেদন ও পরামর্শ

আপনি একটি স্পষ্ট লিখিত মতামত পাবেন – এগোনো ঠিক হবে কি না, এবং হলে কতটা নিরাপদে।

বেশিরভাগ একক প্লটের যাচাই দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।পরামর্শের সময় নিন

আগে ফ্রি গাইডগুলো পড়ুন

প্রথম সাক্ষাতে ক্লায়েন্টরা যা জিজ্ঞেস করেন, তার বেশির ভাগের উত্তর আমাদের ফ্রি গাইডে ধাপে ধাপে দেওয়া আছে। আগে নিচের গাইডগুলো পড়ুন; চেম্বারকে দিয়ে কাজ করাতে চাইলে কনসালটেশন বুক করুন।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বিক্রেতার কাছে তো মূল দলিল আছে। এটাই কি যথেষ্ট নয়?

না। মূল দলিল একটি হস্তান্তর প্রমাণ করে, পুরো চেইনের নির্ভুলতা নয়। জমি দুইবার বিক্রি হয়, ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমি সব ওয়ারিশকে বাদ দিয়ে বিক্রি করা হয়, আর দলিল জালও হয়। রেকর্ডের সঙ্গে দলিল মিলতে হবে, আর চেইনটা একেবারে শুরু পর্যন্ত অক্ষত থাকতে হবে।

জমির পাশাপাশি ফ্ল্যাটও কি আপনারা যাচাই করেন?

হ্যাঁ। ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে আমরা জমির ওপর ডেভেলপারের টাইটেল, অনুমোদিত নকশা ও দলিলের কাঠামোও যাচাই করি, যা আমরা ফ্ল্যাট ও ডেভেলপার যাচাইয়ের (ডিউ ডিলিজেন্স) অংশ হিসেবে করে থাকি।

কোনো সমস্যা পেলে কী হবে?

তাহলে বুঝবেন আপনি একটা বড় ভুল থেকে বেঁচে গেছেন। কেনার আগেই সমস্যাটা সমাধান করা যাবে কি না, গেলে কীভাবে, নাকি সরে আসাই ভালো – আমরা তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিই।

মালিকানার ধারাবাহিকতা কত বছর পেছন পর্যন্ত যাচাই করতে হয়?

সর্বশেষ চূড়ান্ত জরিপ রেকর্ড (এসএ বা আরএস খতিয়ান) পর্যন্ত, আর অন্তত গত ২৫ বছরের দলিল, যদি থাকে। প্রতিটি ধাপ হতে হবে রেজিস্টার্ড দলিল, ওয়ারিশ সূত্র বা আদালতের ডিক্রি, যা রেকর্ডের সঙ্গে মেলে।

দলিল তল্লাশি কীভাবে করা হয়?

দলিল নম্বর ও সাল দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা জেলা রেকর্ড রুমে আবেদন করে বালাম বই দেখা হয় এবং সার্টিফাইড কপি (নকল) তোলা হয়। এতে বোঝা যায় দলিলটি সত্যিই রেজিস্ট্রি হয়েছিল কি না, আর বিক্রেতার দেখানো কপির সঙ্গে মেলে কি না।

সব ওয়ারিশ সই না করলে কি ওয়ারিশি জমি কেনা যায়?

যাঁরা সই করবেন শুধু তাঁদের অংশই আপনার হবে। ওয়ারিশ সনদ ও বণ্টননামায় অংশ নির্ধারিত হওয়ার পর, অথবা সব ওয়ারিশের সইসহ কিনুন; না হলে পরে বাটোয়ারা ও অগ্রক্রয় মামলার ঝুঁকি থাকে।

আইন লাইব্রেরি

এই গাইডের পেছনের আইন ও ফরম

বিডি অ্যাডভোকেসিতে সংরক্ষিত প্রামাণিক পাঠ। ধারা নম্বরগুলো এই গাইডে ব্যবহৃত।

শেয়ার করুন

কেনার আগে টাইটেল যাচাই করে নিন

এখন একটু সময় দিলে পরে বছরের পর বছর আদালতে ঘোরা বাঁচবে। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।