শেয়ারহোল্ডার বিরোধের প্রতিকার: ধারা ২৩৩-এ নিপীড়ন, ১০% নিয়ম ও অন্যান্য পথ
বাংলাদেশে বেশিরভাগ শেয়ারহোল্ডার বিরোধ পারিবারিক বা দুই অংশীদারের প্রাইভেট কোম্পানিতে: ব্যাংক হিসাব থেকে পরিচালককে বাদ, না জানিয়ে শেয়ার বরাদ্দ, কারও অগোচরে বোর্ড সভা। কোম্পানি আইনে প্রতিকার আছে, তবে প্রবেশদ্বার সরু।
- ধারা ২৩৩: নিপীড়নমূলক বা ক্ষতিকর আচরণের প্রতিকার
- সীমা (ধারা ১৯৫): সদস্য বা ইস্যুকৃত মূলধনের এক-দশমাংশ, তলব পরিশোধিত
- শেয়ার আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত হতে হবে
- হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চে শুনানি
- এছাড়া: ন্যায়সংগত কারণে অবসায়ন, রেজিস্টার সংশোধন, চুক্তির দাবি
এই গাইডে: আপনি কি ২৩৩ ধারায় যোগ্য? · আদালত কী আদেশ দিতে পারে · অন্যান্য পথ · বিরোধ শুরু হলে করণীয়
সংক্ষেপে উত্তর
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ২৩৩ ধারায় কোম্পানির কাজ বা পরিচালকদের ক্ষমতা এক বা একাধিক সদস্যের প্রতি নিপীড়নমূলক বা ক্ষতিকরভাবে চালানো হলে সদস্যরা হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। আবেদন তখনই চলে যখন আবেদনকারীরা ১৯৫ ধারার সীমা পূরণ করেন: সদস্যের অন্তত এক-দশমাংশ, বা ইস্যুকৃত শেয়ার মূলধনের এক-দশমাংশ, তলব পরিশোধিত। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে হাইকোর্ট বিভাগ বলেছে শেয়ার আবেদনকারীদের নিজের নামে নিবন্ধিত হতে হবে; অন্য কোম্পানির মাধ্যমে ধরা শেয়ার গণনায় আসে না। সীমার নিচে থাকলে প্রতিকার হলো সংঘবিধি ও শেয়ারহোল্ডার চুক্তি, সেই চুক্তিতে মামলা, রেজিস্টার সংশোধন, আর গুরুতর ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত কারণে অবসায়নের আবেদন।
আপনি কি ২৩৩ ধারায় যোগ্য?
- সদস্য রেজিস্টারে আপনার নিজের নামের শেয়ার গুনুন, আপনার কোম্পানি বা নমিনির নামের শেয়ার নয়।
- সহ-আবেদনকারী যোগ করুন: যৌথভাবে সীমা পূরণ করা যায়।
- আপনার শেয়ারের সব তলব পরিশোধিত কি না দেখুন।
- ১০%-এর নিচে হলে যে কর্পোরেট শেয়ারহোল্ডারের মাধ্যমে ধরেছেন সেটি নিজ নামে আবেদন করতে পারে কি না বিবেচনা করুন।
আদালত সীমাকে এখতিয়ারের শর্ত হিসেবে দেখে: পূরণ না হলে মূল বিষয় না শুনেই আবেদন খারিজ হয় (কোম্পানি ম্যাটার নং ৪৬৫/২০২৬)।
আদালত কী আদেশ দিতে পারে
২৩৩ ধারা আদালতকে নিপীড়ন বা ক্ষতি বন্ধে যথাযথ আদেশ দেওয়ার ব্যাপক ক্ষমতা দেয়। বাস্তবে আবেদনকারীরা চান বোর্ড সিদ্ধান্ত বা শেয়ার বরাদ্দ বাতিল ঘোষণা, আরজেএসসিতে দাখিলকৃত কাগজ (যেমন পরিচালক বদলের ফরম XII) বাতিল, নতুন বরাদ্দ বা হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা, সভা পরিচালনার নির্দেশ, কোম্পানির কাজের নিয়ন্ত্রণ এবং এক পক্ষের শেয়ার কিনে নেওয়ার আদেশ। প্রথম শুনানিতে অন্তর্বর্তী স্থিতাবস্থার আদেশ প্রায়ই হয়, যা মামলা চলাকালে বিতর্কিত পরিবর্তন আটকে রাখে।
অন্যান্য পথ
- সভা তলব: পরিশোধিত মূলধনের এক-দশমাংশধারী সদস্যরা পরিচালকদের অসাধারণ সাধারণ সভা ডাকতে বাধ্য করতে পারেন।
- রেজিস্টার সংশোধন: নাম ভুলভাবে লেখা বা বাদ পড়লে আদালত রেজিস্টার সংশোধনের আদেশ দিতে পারে।
- ন্যায়সংগত কারণে অবসায়ন: অচলাবস্থা বা অংশীদারি ধরনের কোম্পানিতে আস্থা ভেঙে গেলে (ধারা ২৪১)।
- চুক্তির দাবি: দেওয়ানি মামলা বা সালিশে সংঘবিধি বা শেয়ারহোল্ডার চুক্তি কার্যকর করা।
- কার্যবিবরণী বা শেয়ার হস্তান্তর ফরম জাল হলে ফৌজদারি অভিযোগ।
বিরোধ শুরু হলে করণীয়
- আরজেএসসির দাখিলকৃত কাগজের সত্যায়িত কপি তুলুন: ফরম XII, বরাদ্দ রিটার্ন, বার্ষিক রিটার্ন।
- যে বোর্ড ও সাধারণ সভার নোটিশ ও কার্যবিবরণী পেয়েছেন বা পাননি তা সংগ্রহ করুন।
- কোম্পানিকে আনুষ্ঠানিক চিঠিতে পরিদর্শন ও ব্যাখ্যা চান; এতে রেকর্ড তৈরি হয়।
- দ্রুত পদক্ষেপ নিন: দেরিতে অন্তর্বর্তী প্রতিকার দুর্বল হয় এবং যুক্তি ওঠে যে আপনি পরিবর্তন মেনে নিয়েছেন।
রেজিস্টার দেখুন
নিজের নামে শেয়ার, তলব পরিশোধিত।
আরজেএসসির কাগজ
ফরম XII, বরাদ্দ, বার্ষিক রিটার্ন।
আনুষ্ঠানিক চিঠি
পরিদর্শন ও ব্যাখ্যা চান।
দ্রুত দাখিল
অন্তর্বর্তী স্থিতাবস্থার আবেদনসহ ধারা ২৩৩।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ২৩৩ ধারা কী?
কোম্পানির কাজ বা পরিচালকদের ক্ষমতা নিপীড়নমূলক বা ক্ষতিকরভাবে চালানো হলে সদস্যরা এই ধারায় হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিকার চাইতে পারেন।
২৩৩ ধারায় আবেদনে কত শেয়ার লাগে?
১৯৫ ধারা অনুযায়ী ইস্যুকৃত শেয়ার মূলধনের বা সদস্যের অন্তত এক-দশমাংশ, তলব পরিশোধিত। আবেদনকারীরা শেয়ার একত্র করতে পারেন।
আমার কোম্পানির মাধ্যমে ধরা শেয়ার কি ১০%-এ গণনা হবে?
না। কোম্পানি ম্যাটার নং ৪৬৫/২০২৬-এ হাইকোর্ট বিভাগ বলেছে শুধু আবেদনকারীদের নিজের নামে নিবন্ধিত শেয়ার গণনায় আসে।
২৩৩ ধারায় আদালত কী আদেশ দিতে পারে?
নিপীড়ন বন্ধে যথাযথ আদেশ, যেমন বোর্ড সিদ্ধান্ত বা বরাদ্দ বাতিল, আরজেএসসির দাখিল বাতিল, হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা, সভা নিয়ন্ত্রণ ও শেয়ার কিনে নেওয়ার নির্দেশ।
আমার ১০%-এর কম থাকলে?
সংঘবিধি ও শেয়ারহোল্ডার চুক্তির ওপর নির্ভর করুন, রেজিস্টার সংশোধন চান, অন্যদের সাথে সভা তলব করুন, বা গুরুতর ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত কারণে অবসায়নের আবেদন করুন।
শেয়ারহোল্ডার বিরোধ কোন আদালত শোনে?
কোম্পানি আইনের আবেদন হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চ; চুক্তির দাবি দেওয়ানি আদালত বা সালিশে যেতে পারে।
মামলা চলাকালে কি বোর্ডের সিদ্ধান্ত আটকানো যায়?
হ্যাঁ। প্রাথমিকভাবে মামলা থাকলে প্রথম শুনানিতেই আদালত অন্তর্বর্তী স্থিতাবস্থার আদেশ দিতে পারে।
সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার আগে থেকে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন?
শেয়ারহোল্ডার চুক্তি বা সংঘবিধিতে বরাদ্দ, পরিচালক বদল ও বড় লেনদেনে তাদের সম্মতি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ধারা রেখে।
আদালত, মামলা ও টাকা আদায় বিষয়ে আরও পড়ুন
লিগ্যাল নোটিশ, টাকা আদায়, চেক মামলা ও দেওয়ানি মামলার নিয়ম।
নিজের কোম্পানি থেকেই বাদ পড়েছেন?
আমরা রেজিস্টার যাচাই করি, আরজেএসসির কাগজ তুলি এবং পরিবর্তন স্থায়ী হওয়ার আগেই হাইকোর্ট বিভাগে অন্তর্বর্তী প্রতিকার চাই। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।

মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।