Skip to content

স্বত্ব ঘোষণার মামলা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মোকদ্দমা

ঘোষণামূলক মামলায় দেওয়ানি আদালতকে বলা হয় ঘোষণা দিতে যে জমি আপনার, কোনো দলিল বাতিল, বা রেকর্ড ভুল। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচলিত জমির মামলা, আর একটি প্রার্থনা বাদ পড়ায় সবচেয়ে বেশি খারিজ হওয়া মামলাও।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭, ধারা ৪২, ৪৩, ৮কোর্ট ফি আইন ১৮৭০, তফসিল ২তামাদি আইন ১৯০৮, অনুচ্ছেদ ১২০কালা মিয়া বনাম গোপাল চন্দ্র পাল, ৫১ ডিএলআর ৭৭
শেয়ার করুন
জমির রেকর্ডের ওপর ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা, স্বত্ব ঘোষণার মামলা গাইড
এক নজরে
  • ধারা ৪২: আইনগত মর্যাদা বা সম্পত্তির অধিকারের ঘোষণা
  • কোর্ট ফি: শুধু ঘোষণায় নির্ধারিত ৩০০ টাকা; আনুষঙ্গিক প্রতিকারে মূল্যানুপাতিক
  • তামাদি: অস্বীকার থেকে ছয় বছর (অনুচ্ছেদ ১২০)
  • দখলে না থাকলে দখল উদ্ধারও চান, নইলে মামলা টেকে না
  • শুধু পক্ষদের ওপর বাধ্যকর (ধারা ৪৩)

এই গাইডে: কখন ঘোষণামূলক মামলা সঠিক পথ · কী প্রমাণ করতে হবে · শর্তাংশ: আরও প্রতিকার চান · কোর্ট ফি ও মূল্যায়ন · তামাদি · মামলা যেভাবে চলে

সংক্ষেপে উত্তর

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ৪২ ধারায় আইনগত মর্যাদা বা সম্পত্তিতে অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি যে কেউ তা অস্বীকার করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন, এবং আদালত সেই অধিকার ঘোষণা করতে পারে। শুধু ঘোষণার কোর্ট ফি নির্ধারিত ৩০০ টাকা; দখল উদ্ধারের মতো আনুষঙ্গিক প্রতিকার চাইলে সেই প্রতিকারের ওপর মূল্যানুপাতিক ফি লাগে। তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১২০ অনুযায়ী অস্বীকারের ছয় বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়। ৪২ ধারার শর্তাংশ বলে, আরও প্রতিকার পাওয়া সম্ভব হলে শুধু ঘোষণা দেওয়া যায় না: দখলে না থাকা বাদী শুধু স্বত্ব ঘোষণা চাইলে হেরে যান, তাই দখলও চান (কালা মিয়া বনাম গোপাল চন্দ্র পাল, ৫১ ডিএলআর ৭৭)।

কখন ঘোষণামূলক মামলা সঠিক পথ

  • আত্মীয় বা প্রতিবেশী আপনার জমি দাবি করছে, বা বিএস/বিডিএস খতিয়ানে নিজের নামে রেকর্ড করিয়েছে।
  • দলিল, হেবা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি জাল বা প্রতারণায় নেওয়া, এবং আপনি তা বাতিল ও আপনার ওপর অকার্যকর ঘোষণা চান।
  • কোনো শরিক নিজের অংশের বেশি বিক্রি করেছে, আর আপনি ঘোষণা চান যে তা আপনার অংশে প্রযোজ্য নয়।
  • সরকারি রেকর্ড (খাস খতিয়ান, অর্পিত সম্পত্তি তালিকা) ভুলভাবে জমি আপনার নয় দেখাচ্ছে।

শুধু খতিয়ানের ভুলের জন্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ফোরাম হতে পারে; কারও সাথে স্বত্বের বিরোধে দেওয়ানি আদালত।

কী প্রমাণ করতে হবে

চারটি বিষয়: আপনার বিদ্যমান আইনগত অধিকার আছে (দলিল, উত্তরাধিকার বা দীর্ঘ দখলে স্বত্ব); বিবাদী তা অস্বীকার করেছে বা অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ; অস্বীকার আপনাকে জানানো হয়েছে যাতে মামলার কারণ জন্মেছে; এবং ভোগদখলে প্রকৃত হুমকি আছে। ঘোষণা আদালতের বিবেচনাধীন, তাই দেরি ও আচরণও দেখা হয়। স্বত্বের ধারাবাহিকতা, হালনাগাদ খতিয়ান ও খাজনার রসিদ, যে দলিল চ্যালেঞ্জ করছেন তার সত্যায়িত কপি (সাব-রেজিস্ট্রি থেকে) এবং দখলের সাক্ষী আনুন।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় স্বত্ব ঘোষণার মামলা

শর্তাংশ: আরও প্রতিকার চান

৪২ ধারা বলে, বাদী “শুধু ঘোষণার চেয়ে আরও প্রতিকার চাইতে সক্ষম হয়ে” তা না চাইলে আদালত ঘোষণা দেবে না। বাস্তবে: দখলে না থাকলে ৮ ধারায় দখল উদ্ধারও চাইতে হবে; আপনার বিরুদ্ধে দলিল থাকলে তা বাতিল বা অকার্যকর ঘোষণা চান; বিবাদী হস্তক্ষেপ করলে নিষেধাজ্ঞা যোগ করুন। প্রতিটি প্রতিকারে কোর্ট ফি বদলায়, তবে শর্তাংশে খারিজ হওয়া শুধু ঘোষণার মামলার খরচ অনেক বেশি।

কোর্ট ফি ও মূল্যায়ন

শুধু ঘোষণার মামলায় কোর্ট ফি আইনের তফসিল ২ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০০ টাকা। আনুষঙ্গিক প্রতিকার যুক্ত হলে তফসিল ১ অনুযায়ী সেই প্রতিকারের মূল্যের ওপর মূল্যানুপাতিক ফি (দখলের ক্ষেত্রে জমির বাজারমূল্য; দেখুন আমাদের কোর্ট ফি ক্যালকুলেটর)। মামলার মূল্য ঠিক করে সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ না যুগ্ম জেলা জজ শুনবেন। কম মূল্যায়নে সংশোধনের সময় দেওয়ার পর আদেশ ৭ বিধি ১১-এ আরজি প্রত্যাখ্যান হয়।

তামাদি

অনুচ্ছেদ ১২০ দেয় মামলার অধিকার জন্মানো থেকে ছয় বছর, অর্থাৎ আপনার স্বত্বের প্রথম স্পষ্ট অস্বীকার, যেমন বিবাদীর দলিল, তার নামে নামজারি বা নোটিশ। দলিল বাতিলের মামলা জানার তিন বছরে (অনুচ্ছেদ ৯১), তাই দুই প্রতিকার একসাথে চাইলে ছোট ঘড়িটি ধরতে পারে। পরের জরিপের অপেক্ষা নয়; অস্বীকার জানার সাথে সাথে মামলা করুন।

মামলা যেভাবে চলে

জমির তফসিল, মামলার কারণ ও মূল্যায়নসহ আরজি; কোর্ট ফি; সমন; লিখিত জবাব; বিচার্য বিষয়; হলফনামায় সাক্ষ্য ও জেরা; যুক্তিতর্ক; রায়। ঢাকায় বিবাদিত স্বত্বের মামলায় সাধারণত কয়েক বছর লাগে, তাই শুরুতেই হস্তান্তর বা নির্মাণ ঠেকাতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করুন। ৪৩ ধারায় ঘোষণা শুধু পক্ষ ও তাদের মাধ্যমে দাবিদারদের ওপর বাধ্যকর, তাই দাবিদার সবাইকে পক্ষ করুন।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
মামলার আগে
১

স্বত্বের ধারাবাহিকতা

দলিল, খতিয়ান, খাজনার রসিদ, ওয়ারিশ সনদ।

২

অস্বীকার চিহ্নিত করুন

যে দলিল, নামজারি বা নোটিশ থেকে ছয় বছর শুরু।

৩

প্রতিকার যোগ করুন

প্রয়োজনমতো দখল, বাতিল, নিষেধাজ্ঞা।

৪

মূল্যায়ন ও ফি

নির্ধারিত ৩০০ টাকা, যুক্ত প্রতিকারে মূল্যানুপাতিক।

সাক্ষ্যের চেয়ে প্রার্থনার অংশই এই মামলা ঠিক করে।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে ঘোষণামূলক মামলা কী?

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ৪২ ধারায় দেওয়ানি মামলা, যেখানে আদালতকে বলা হয় ঘোষণা দিতে যে কেউ অস্বীকার করা আপনার আইনগত মর্যাদা বা সম্পত্তির অধিকার আছে, সাধারণত জমির মালিকানা।

ঘোষণামূলক মামলার কোর্ট ফি কত?

শুধু ঘোষণায় নির্ধারিত ৩০০ টাকা। দখল উদ্ধারের মতো আনুষঙ্গিক প্রতিকার যুক্ত হলে সেই প্রতিকারের মূল্যের ওপর মূল্যানুপাতিক ফি।

স্বত্ব ঘোষণার তামাদি কত?

তামাদি আইন ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১২০ অনুযায়ী অধিকারের প্রথম অস্বীকার থেকে ছয় বছর। দলিল বাতিল অনুচ্ছেদ ৯১-এ জানার তিন বছর।

দখলে না থেকে কি শুধু ঘোষণার মামলা করা যায়?

না। ৪২ ধারার শর্তাংশে আরও প্রতিকার সম্ভব হলে শুধু ঘোষণা বারিত, তাই দখলে না থাকা বাদীকে দখল উদ্ধারও চাইতে হবে।

কোন আদালতে ঘোষণামূলক মামলা হয়?

জমির এলাকার এখতিয়ারভুক্ত দেওয়ানি আদালত; মামলার মূল্যায়ন অনুযায়ী সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ বা যুগ্ম জেলা জজ।

ঘোষণামূলক মামলায় কত সময় লাগে?

বিবাদিত মামলায় সাধারণত কয়েক বছর। শুরুতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা চলাকালে জমি রক্ষা করে।

স্বত্বের ঘোষণা কি সবার ওপর বাধ্যকর?

না। ৪৩ ধারায় শুধু পক্ষ ও তাদের মাধ্যমে দাবিদারদের ওপর বাধ্যকর, তাই জমিতে দাবিদার প্রত্যেককে পক্ষ করা উচিত।

জাল দলিল বাতিলের সাথে কি ঘোষণা একসাথে চাওয়া যায়?

যায়, এবং সাধারণত উচিত। দলিল জাল, বাতিল ও অকার্যকর ঘোষণাসহ বাতিল এবং প্রয়োজনে দখল ও নিষেধাজ্ঞা চান।

জমি ও সম্পত্তি বিষয়ে আরও পড়ুন

নিরাপদে জমি কেনা, নামজারি ও বেদখল জমি উদ্ধার।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

কেউ আপনার স্বত্ব অস্বীকার করছে?

কাগজ আনুন। আমরা ধারাবাহিকতা যাচাই করি, মামলার মূল্যায়ন করি, পূর্ণ প্রার্থনা লিখি ও নিষেধাজ্ঞাসহ দাখিল করি। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।