ই-নামজারি আবেদন করার নিয়ম ২০২৬: প্রতিটি ধাপ, প্রতিটি স্ক্রিন
নামজারি এখন প্রতিটি উপজেলা ও মহানগর ভূমি অফিসে অনলাইনে হয়। ক্রমটা জানা থাকলে পোর্টাল সহজ: নিবন্ধন, ফরম পূরণ, কাগজ আপলোড, ৭০ টাকা পরিশোধ, শুনানির নোটিশের অপেক্ষা, হাজিরা, ১,১০০ টাকা পরিশোধ, খতিয়ান ও ডিসিআর ডাউনলোড। এই গাইডে প্রতিটি স্ক্রিন এবং যে ভুলে আবেদন ফেরত আসে, দুটোই আছে।
- এনআইডি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে mutation.land.gov.bd-তে আবেদন
- আবেদনের সময় অনলাইনে ৭০ টাকা; মঞ্জুরের পরেই কেবল ১,১০০ টাকা
- প্রতি খতিয়ানে একটি আবেদন; দলিল, খতিয়ান, খাজনার রসিদ, এনআইডি ও ছবি সংযুক্ত
- লক্ষ্য: ২৮ কর্মদিবস; শুনানির নোটিশ আসে এসএমএসে
এই গাইডে: পোর্টাল খোলার আগে · ধাপ ১: নিবন্ধন ও লগইন · ধাপ ২: আবেদন ফরম পূরণ · ধাপ ৩: কাগজ আপলোড ও ৭০ টাকা পরিশোধ · ধাপ ৪: প্রতিবেদন, শুনানি ও সিদ্ধান্ত · ধাপ ৫: ১,১০০ টাকা দিয়ে খতিয়ান ও ডিসিআর ডাউনলোড
সংক্ষেপে উত্তর
mutation.land.gov.bd-তে গিয়ে এনআইডি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করুন, নতুন আবেদন খুলুন, ধরন বাছুন (ক্রয়, উত্তরাধিকার, হেবা বা ডিক্রি), দলিল ও সর্বশেষ খতিয়ানে যেভাবে আছে ঠিক সেভাবে মৌজা, খতিয়ান ও দাগের তথ্য দিন, কাগজগুলো পিডিএফ বা জেপিজিতে আপলোড করুন এবং ২০ টাকা আবেদন ফি ও ৫০ টাকা নোটিশ ফি অনলাইনে দিন। এসএমএসে আবেদন নম্বর পাবেন। ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রতিবেদন দেয়, এসি (ল্যান্ড) শুনানির তারিখ দেন, এবং মঞ্জুর হলে ১,০০০ টাকা রেকর্ড সংশোধন ও ১০০ টাকা ডিসিআর ফি অনলাইনে দিয়ে কিউআর কোডসহ নতুন খতিয়ান ও ডিসিআর ডাউনলোড করবেন।
পোর্টাল খোলার আগে
- eporcha.gov.bd-তে সর্বশেষ খতিয়ানে বিক্রেতা বা দাতার নাম আছে কি না দেখুন। বিক্রেতার নামজারি না হয়ে থাকলে চেইন ভাঙার কারণে আপনার আবেদন নামঞ্জুর হবে; আগে বিক্রেতার নামজারি করান বা মাঝের দলিল সংগ্রহ করুন।
- দলিলের দাগ নম্বর ও পরিমাণ খতিয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। অমিলই নামঞ্জুরের সবচেয়ে বড় কারণ।
- বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) অনলাইনে দিয়ে রসিদ রাখুন।
- প্রতিটি কাগজ পরিষ্কার করে স্ক্যান করুন: দলিল (সব পাতা), খতিয়ান, খাজনার রসিদ, এনআইডি, পাসপোর্ট সাইজ ছবি; উত্তরাধিকারে মৃত্যু ও ওয়ারিশ সনদ; ডিক্রিতে সত্যায়িত কপি।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম: সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী নামজারি এবং জমি-ফ্ল্যাট বণ্টনের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR) লাগে, যেমনটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আগে থেকেই লাগত। সর্বশেষ করবর্ষের প্রাপ্তি স্লিপ বা সিস্টেম সনদ কাগজের সঙ্গে রাখুন; এটি ছাড়া আবেদন আটকে যাবে।
ধাপ ১: নিবন্ধন ও লগইন
- mutation.land.gov.bd খুলে “নামজারি আবেদন” বাছুন।
- এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও এমন একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করুন যা আপনি রাখবেন। সব এসএমএস নোটিশ এই নম্বরে যাবে।
- ওটিপি যাচাই করে পাসওয়ার্ড দিন। অন্য কারও পক্ষে আবেদন করলে নিজের নামে নিবন্ধন করে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি সংযুক্ত করুন।
ধাপ ২: আবেদন ফরম পূরণ
- আবেদনের ধরন: ক্রয় (সাফ কবলা), উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ), হেবা, বিনিময় বা আদালতের ডিক্রি। ধরন অনুযায়ী ফরম কোন কাগজ চাইবে তা ঠিক হয়।
- জমির তথ্য: বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা সার্কেল, মৌজা, খতিয়ান নম্বর ও দাগ নম্বর, এবং প্রতিটি দাগে আপনার দাবিকৃত পরিমাণ। দলিল ও খতিয়ান থেকে হুবহু নিন; গোল করে লিখবেন না।
- আগের মালিক: খতিয়ানে যেভাবে আছে ঠিক সেই নাম, এবং যে দলিলে জমি আপনার কাছে এসেছে।
- আবেদনকারী: প্রতিটি ক্রেতা বা ওয়ারিশের এনআইডি, ঠিকানা ও অংশ। উত্তরাধিকারে একজন কেবল নিজের অংশের জন্য আবেদন করলেও সব ওয়ারিশের নাম দিতে হবে।
- মাঝে মাঝে সেভ করুন। পোর্টালে খসড়ায় ফিরে আসা যায়।
ধাপ ৩: কাগজ আপলোড ও ৭০ টাকা পরিশোধ
ফরমে দেওয়া নির্দিষ্ট ঘরে প্রতিটি কাগজ আপলোড করুন (পিডিএফ বা জেপিজি; ফাইল ছোট ও পড়ার মতো রাখুন)। তারপর পোর্টালের অনলাইন পেমেন্টে (মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ড) ২০ টাকা আবেদন কোর্ট ফি ও ৫০ টাকা নোটিশ ফি দিন। এই ৭০ টাকা না দেওয়া পর্যন্ত আবেদন দাখিল হয় না। এসএমএসে আবেদন নম্বর পাবেন। রেখে দিন; অবস্থা যাচাই ও শুনানিতে লাগবে।
ধাপ ৪: প্রতিবেদন, শুনানি ও সিদ্ধান্ত
ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিস রেকর্ড ও দখল যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠায়। এসি (ল্যান্ড) শুনানির তারিখ দেন এবং পোর্টাল এসএমএস পাঠায়। মূল কাগজ নিয়ে হাজির হন। সহ-অংশীদারের মতো কেউ আপত্তি করলে সেদিন বা মুলতবি তারিখে শোনা হয়। এরপর এসি (ল্যান্ড) মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করেন এবং পোর্টালে অবস্থা বদলায়। সম্পূর্ণ আবেদনে লক্ষ্য ২৮ কর্মদিবস; প্রবাসী, মুক্তিযোদ্ধা ও অগ্রাধিকার শিল্পে আরও কম। ঢাকায় ও আপত্তি থাকলে ৪৫ থেকে ৬০ দিন ধরে রাখুন।
ধাপ ৫: ১,১০০ টাকা দিয়ে খতিয়ান ও ডিসিআর ডাউনলোড
অবস্থায় মঞ্জুর দেখালে ১,০০০ টাকা রেকর্ড সংশোধন ফি ও ১০০ টাকা ডিসিআর ফি অনলাইনে দিন। দেরি করবেন না: ডিসিআর ফি না দেওয়া মঞ্জুর আবেদন প্রায় ৩০ দিন পর আর্কাইভ হয়ে যায় এবং নতুন করে শুরু করতে হয়। পেমেন্ট নিশ্চিত হলে নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর ডাউনলোডের জন্য আসে। কিউআর কোডসহ অনলাইন খতিয়ান অফিসের সই ছাড়াই বৈধ; যে কেউ কোড স্ক্যান করে যাচাই করতে পারে। একই সপ্তাহে নিজের নামে ভূমি উন্নয়ন কর হোল্ডিং খুলুন।
প্রস্তুতি
সর্বশেষ খতিয়ান যাচাই, দাগ ও পরিমাণ মিলানো, খাজনা পরিশোধ, স্ক্যান প্রস্তুত।
দাখিল
নিবন্ধন, ফরম পূরণ, আপলোড, ৭০ টাকা, আবেদন নম্বর টুকে রাখা।
শুনানি
এসএমএস এলে মূল কাগজ নিয়ে হাজির; প্রতিবেদন ও আপত্তির জবাব।
সংগ্রহ
১,১০০ টাকা দিয়ে খতিয়ান ও ডিসিআর ডাউনলোড, খাজনা হোল্ডিং খোলা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
অনলাইনে নামজারি আবেদন কীভাবে করব?
mutation.land.gov.bd-তে এনআইডি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করুন, দলিল থেকে মৌজা, খতিয়ান ও দাগের তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করুন, দলিল, খতিয়ান, খাজনার রসিদ, এনআইডি ও ছবি আপলোড করুন এবং অনলাইনে ৭০ টাকা দিন। এসএমএসে আবেদন নম্বর পাবেন।
ই-নামজারির ফি কত?
মোট ১,১৭০ টাকা: দাখিলের সময় ২০ টাকা আবেদন ফি ও ৫০ টাকা নোটিশ ফি, মঞ্জুরের পর ১,০০০ টাকা রেকর্ড সংশোধন ও ১০০ টাকা ডিসিআর ফি, সবই অনলাইনে।
ই-নামজারিতে কত দিন লাগে?
সম্পূর্ণ আবেদনে লক্ষ্য ২৮ কর্মদিবস। প্রবাসী, গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও অগ্রাধিকার শিল্পে কম সময়ের লক্ষ্য। ঢাকায় বা আপত্তি থাকলে ৪৫ থেকে ৬০ দিন ধরে রাখুন।
মোবাইল থেকে কি আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ। ফোনের ব্রাউজারে পোর্টাল চলে, আর অবস্থা দেখার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের "নামজারি" অ্যাপ আছে। আপলোড কম্পিউটার থেকে সহজ।
ভূমি অফিসে কি যেতেই হবে?
একবার, শুনানিতে, মূল কাগজ নিয়ে। রেজিস্ট্রি করা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি থাকলে অন্য কেউ আপনার পক্ষে যেতে পারেন।
শুনানি মিস করলে কী হবে?
এসি (ল্যান্ড) কাগজ দেখে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন বা অনুপস্থিতির কারণে নামঞ্জুর করতে পারেন। যেতে না পারলে তারিখের আগে অফিসের মাধ্যমে সময় চান।
খতিয়ান কি অনলাইনে ডাউনলোড করা যায়?
হ্যাঁ। ১,১০০ টাকা ফি পরিশোধ ও নিশ্চিত হওয়ার পর নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর কিউআর কোডসহ ডাউনলোড করা যায় এবং সিল ছাড়াই বৈধ।
আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। আবার করা যাবে?
হ্যাঁ। আদেশে কারণ পড়ে তা ঠিক করে নতুন আবেদন করুন। কর্মকর্তা ভুল করলে আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ বা আপিল করতে হবে।
জমি ও সম্পত্তি বিষয়ে আরও পড়ুন
নিরাপদে জমি কেনা, নামজারি ও বেদখল জমি উদ্ধার।
আমাদের দিয়ে আবেদন ও ফলো-আপ করাতে চান?
আমরা আবেদন তৈরি করি, মূল কাগজসহ শুনানিতে যাই এবং খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহ করি। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।

মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।