নামজারি নামঞ্জুর হলে করণীয়: আপিল, মিস কেস ও খারিজ বাতিলের নিয়ম
নামজারি নামঞ্জুর হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা, আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা ঠিক করা যায়। আবার অন্যের নামে ভুল নামজারি হয়ে গেলে সেটিও বাতিল করানো যায়। এই গাইডে নামঞ্জুরের কারণ, কোন প্রতিকার বেছে নেবেন, জরুরি সময়সীমা এবং কখন দেওয়ানি আদালতে যেতে হবে তা ব্যাখ্যা করা হলো।
- আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশটি পড়ুন। বেশিরভাগ নামঞ্জুর হয় কাগজের ঘাটতি বা অমিলের কারণে।
- কাগজের ঘাটতি হলে নতুন আবেদন। ভুল সিদ্ধান্ত হলে ৩০ দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনা বা এডিসি (রাজস্ব)-এর কাছে আপিল।
- অন্যের নামে ভুল খারিজ হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে মিস কেস করে বাতিল চাওয়া যায়।
- নামজারি মালিকানা ঠিক করে না। প্রকৃত মালিকানা বিরোধ যাবে দেওয়ানি আদালতে।
এই গাইডে: নামজারি নামঞ্জুর হয় কেন? · নতুন আবেদন, পুনর্বিবেচনা না আপিল: কোন পথে যাবেন · নামজারি আপিল করার নিয়ম · মিস কেস: ভুল নামজারি বা খারিজ বাতিলের নিয়ম · কখন দেওয়ানি আদালতে যেতে হবে · সরকারি ফি ও দালাল এড়ানোর উপায়
সংক্ষেপে উত্তর
নামজারি নামঞ্জুর হলে প্রথমে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশটি ডাউনলোড করে কারণটি পড়ুন। কোনো কাগজ না থাকলে বা না মিললে সঠিক কাগজ দিয়ে নতুন আবেদন করাই সাধারণত দ্রুত সমাধান। কর্মকর্তা আইন বা তথ্যে ভুল করলে ৩০ দিনের মধ্যে একই কর্মকর্তার কাছে পুনর্বিবেচনা চাইতে পারেন, অথবা ৩০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে আপিল করতে পারেন। পরের ধাপে বিভাগীয় কমিশনার (৬০ দিন) ও ভূমি আপিল বোর্ড (৯০ দিন)। অন্য কেউ আপনার জমিতে নিজের নামে নামজারি করে ফেললে তা বাতিলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে মিস কেস করুন।
নামজারি নামঞ্জুর হয় কেন?
সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশে নামঞ্জুরের কারণ লেখা থাকে, আর আদেশটি আপনার ই-নামজারি অ্যাকাউন্টে দেখা যায়। সাধারণ কারণগুলো:
- রেকর্ডের সঙ্গে অমিল। দলিলের দাগ, খতিয়ান বা জমির পরিমাণ সর্বশেষ রেকর্ডের সঙ্গে মেলে না, অথবা বিক্রেতার যতটুকু জমি ছিল তার চেয়ে বেশি দাবি করা হয়েছে।
- বিক্রেতার নামে সর্বশেষ রেকর্ড নেই। বিক্রেতা নিজেই নামজারি করেননি, ফলে রেকর্ড থেকে আপনার পর্যন্ত মালিকানার ধারা ভাঙা। রেজিস্ট্রেশন আইনের ৫২ক ধারাও বিক্রেতাকে রেকর্ডীয় মালিক হিসেবে চায়।
- কাগজের ঘাটতি। দলিলের কপি নেই, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ নেই, আগের নামজারি খতিয়ান (ডিসিআর) বা দাখিলা নেই।
- ওয়ারিশ বাদ পড়েছে। উত্তরাধিকারের আবেদনে এক বা একাধিক ওয়ারিশের নাম নেই বা অংশ ভুল।
- আপত্তি বা মামলা। কোনো শরিক আপত্তি দিয়েছেন, অথবা একই জমিতে দেওয়ানি বা বাটোয়ারা মামলা চলছে, বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা থাকলে।
- মাঠ প্রতিবেদন। ইউনিয়ন ভূমি অফিস জানিয়েছে আবেদনকারী দখলে নেই, অথবা জমিটি খাস বা অর্পিত।
আদেশের তারিখটি লিখে রাখুন। নিচের সব সময়সীমা গোনা হয় আদেশের তারিখ থেকে, আপনি যেদিন জেনেছেন সেদিন থেকে নয়।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম: সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী নামজারি এবং জমি-ফ্ল্যাট বণ্টনের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR) লাগে, যেমনটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আগে থেকেই লাগত। সর্বশেষ করবর্ষের প্রাপ্তি স্লিপ বা সিস্টেম সনদ কাগজের সঙ্গে রাখুন; এটি ছাড়া আবেদন আটকে যাবে।
নতুন আবেদন, পুনর্বিবেচনা না আপিল: কোন পথে যাবেন
| আপনার অবস্থা | উপযুক্ত পথ | সময়সীমা |
|---|---|---|
| কোনো কাগজ ছিল না বা ভুল ছিল, এখন দিতে পারবেন | সব কাগজসহ নতুন আবেদন | নেই |
| কর্মকর্তা কোনো কাগজ দেখেননি বা স্পষ্ট ভুল করেছেন | একই সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে পুনর্বিবেচনা, ১৫০ ধারা | ৩০ দিন (পরে হলে যুক্তিসংগত কারণ লাগবে) |
| আদেশটি আইন বা তথ্যের দিক থেকে ভুল | অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে আপিল, ১৪৭-১৪৮ ধারা | ৩০ দিন |
| আপিলেও হেরেছেন | বিভাগীয় কমিশনার, তারপর ভূমি আপিল বোর্ড | ৬০ দিন, তারপর ৯০ দিন |
একটি পথ বেছে নিন। ১৫০ ধারা অনুযায়ী আপিল করে ফেললে আর পুনর্বিবেচনা চাওয়া যায় না। আবার পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ হলে সেই নাকচের বিরুদ্ধে আপিল চলে না, ফলে পরে বিলম্বের প্রশ্নে আটকে যেতে পারেন। ভুল গুরুতর হলে প্রথমেই আপিল করা প্রায়ই নিরাপদ।
সময় পার হয়ে গেছে? আইনে রিভিশনের সুযোগও আছে: জেলা প্রশাসক (১ মাস), বিভাগীয় কমিশনার (৩ মাস) বা ভূমি আপিল বোর্ড (৬ মাস)। দেরিতে আপিল করলে বিলম্বের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হয়।
নামজারি আপিল করার নিয়ম
- কাগজ সংগ্রহ। সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশ, আবেদন ও মাঠ প্রতিবেদনের কপি বা সার্টিফায়েড কপি তুলুন।
- আপিল মেমো তৈরি। আদেশ, তারিখ এবং নির্দিষ্ট কারণগুলো লিখুন: কোন কাগজ দেখা হয়নি, কোন সিদ্ধান্ত ভুল, কোন নিয়ম ভুলভাবে প্রয়োগ হয়েছে। আদেশ বাতিল করে নামজারি মঞ্জুর, অথবা নতুন করে শুনানির জন্য ফেরত পাঠানোর প্রার্থনা করুন।
- প্রমাণ যুক্ত করুন। দলিল, পূর্ববর্তী দলিল, সিএস/এসএ/আরএস/বিএস খতিয়ান, আগের নামজারি খতিয়ান, দাখিলা, ওয়ারিশ সনদ, আর দেরি হলে বিলম্ব মওকুফের দরখাস্ত।
- দাখিল ও হাজিরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর আদালতে আপিল দাখিল করুন। প্রতিপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হবে। প্রতিটি তারিখে হাজির থাকুন। তদবির না করলে আপিল প্রায়ই খারিজ হয়ে যায়।
সফল আপিলের বেশিরভাগই শেষ হয় নির্দেশনাসহ মামলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে, সরাসরি নামজারি মঞ্জুর করে নয়। তাই উপজেলা ভূমি অফিসে আরেকটি শুনানির প্রস্তুতি রাখুন।
মিস কেস: ভুল নামজারি বা খারিজ বাতিলের নিয়ম
মিস কেস বলতে সাধারণত বোঝায়, ইতিমধ্যে মঞ্জুর হওয়া কোনো নামজারি পুনরায় খোলা, সংশোধন বা বাতিলের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে আবেদন। যেমন:
- এক শরিক অন্য ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে পুরো দাগ নিজের নামে খারিজ করেছেন;
- জাল বা বাতিল দলিলের ভিত্তিতে নামজারি হয়েছে;
- আপনাকে নোটিশ না দিয়ে, বাটোয়ারা মামলা চলাকালে, অথবা দলিলের চেয়ে বেশি জমির নামজারি হয়েছে।
কে করতে পারেন: যাঁর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত, যেমন ওয়ারিশ, শরিক বা আগের ক্রেতা। কাগজপত্র: বিতর্কিত নামজারি খতিয়ান ও আদেশ, নিজের দলিল বা উত্তরাধিকারের কাগজ, রেকর্ডীয় খতিয়ান, দাখিলা ও আদালতের কোনো আদেশ থাকলে তা। প্রক্রিয়া: সহকারী কমিশনার (ভূমি) যাঁর নামে নামজারি হয়েছে তাঁকে নোটিশ দেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে প্রতিবেদন নেন, দুই পক্ষের শুনানি করে আদেশ দেন। তিনি নামজারি বাতিল, সংশোধন বা বহাল রাখতে পারেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে আপিল করা যায়।
দেরি করবেন না। আইন এটিকে পুনর্বিবেচনা হিসেবে দেখে, যার সময়সীমা ৩০ দিন, তাই দেরিতে মিস কেস করলে বিলম্বের কারণ দেখাতে হয়। প্রতারণা বা নোটিশ না পাওয়ার মতো ক্ষেত্রে ভূমি অফিস পুরোনো মামলাও শোনে, তবে দেরি আপনার অবস্থান দুর্বল করে। আসল বিরোধ যদি মালিকানা নিয়ে হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাধারণত বিষয়টি দেওয়ানি আদালতের ওপর ছেড়ে দেন।
কখন দেওয়ানি আদালতে যেতে হবে
নামজারি শুধু সরকারের খাতায় কে খাজনা দেবেন সেই রেকর্ড হালনাগাদ করে। এটি মালিকানা তৈরি করে না, মালিকানার বিরোধও নিষ্পত্তি করে না। আপনার নামে নামজারি হলেই ত্রুটিপূর্ণ দলিল টিকে যায় না, আবার অন্যের নামে নামজারি হলেই আপনার মালিকানা চলে যায় না।
দেওয়ানি আদালতে যান যখন:
- প্রতিপক্ষ এমন দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করছে, যা আপনার মতে জাল বা বাতিলযোগ্য (স্বত্ব ঘোষণা ও দলিল বাতিলের মামলা);
- ওয়ারিশদের মধ্যে অংশ নিয়ে বিরোধ (বাটোয়ারা মামলা);
- আপনাকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে বা হয়েছে (দখল পুনরুদ্ধার বা নিষেধাজ্ঞার মামলা)।
দেওয়ানি আদালত রায় দিলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেই ডিক্রি অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধন করেন। ভূমি অফিস ও আদালতের পদক্ষেপ যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। চলমান মামলার কথা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে জানান এবং আদালতের আদেশ মিস কেসে দাখিল করুন। দেখুন বেদখল জমি উদ্ধারের উপায় ও নামজারি কীভাবে করবেন।
সরকারি ফি ও দালাল এড়ানোর উপায়
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হিসাবে ই-নামজারির মোট সরকারি ফি ১,১৭০ টাকা: কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন ফি ১,০০০ টাকা এবং নামজারি খতিয়ানের কপি ১০০ টাকা। প্রতিটি ভূমি অফিসে এই ফি সাইনবোর্ডে টাঙানোর নির্দেশ আছে, আর পরিশোধ হয় ক্যাশলেস।
- mutation.land.gov.bd-তে নিজে আবেদন করুন বা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সাহায্য নিন। ট্র্যাকিং নম্বর রেখে অনলাইনে অবস্থা দেখুন।
- “মঞ্জুর করিয়ে দেওয়ার” জন্য কাউকে টাকা দেবেন না। সরকারি ফির বেশি চাইলে ভূমিসেবা হেল্পলাইন ১৬১২২-এ অভিযোগ করুন।
- মূল কাগজ নিয়ে শুনানিতে হাজির হন। শুধু হাজির না হওয়ার কারণেই অনেক আবেদন নামঞ্জুর হয়।
- আদেশ অন্যায়ভাবে প্রভাবিত মনে হলে আপিলে তথ্যসহ তা উল্লেখ করুন এবং সব পরিশোধের রসিদ রাখুন।
আদেশ পড়ুন
সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশ নামিয়ে কারণ ও তারিখ লিখে রাখুন।
ঠিক করুন বা চ্যালেঞ্জ
কাগজের ঘাটতি হলে নতুন আবেদন, নইলে পুনর্বিবেচনা বা আপিল।
সময়সীমা মানুন
আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনা বা এডিসি (রাজস্ব)-এর কাছে আপিল।
প্রয়োজনে উচ্চতর ধাপ
বিভাগীয় কমিশনার (৬০ দিন), ভূমি আপিল বোর্ড (৯০ দিন) বা দেওয়ানি আদালত।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
নামজারি আবেদন নামঞ্জুর হলে করণীয় কী?
সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশে কারণটি দেখুন। কাগজের ঘাটতি হলে সব কাগজসহ নতুন আবেদন করুন। সিদ্ধান্ত ভুল হলে আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে একই কর্মকর্তার কাছে পুনর্বিবেচনা বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে আপিল করুন।
খারিজ বাতিলের নিয়ম কী?
আপনার দলিল বা উত্তরাধিকারের কাগজ, রেকর্ডীয় খতিয়ান ও বিতর্কিত নামজারি খতিয়ান নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে মিস কেস করুন। তিনি নোটিশ দিয়ে, মাঠ প্রতিবেদন নিয়ে, দুই পক্ষের শুনানি করে খারিজ বাতিল বা সংশোধন করতে পারেন। মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে দেওয়ানি মামলাও লাগবে।
নামজারি মামলা বা মিস কেস কী?
মঞ্জুর হওয়া নামজারি পুনরায় খোলা, সংশোধন বা বাতিলের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে করা আবেদনকে সাধারণত মিস কেস বলে। প্রতারণা, ওয়ারিশ বাদ পড়া, নোটিশ না পাওয়া বা ভুল পরিমাণের কারণে এটি করা হয়। যত দ্রুত সম্ভব দাখিল করুন।
তিন বছর পর কি খারিজ বাতিলের মিস কেস করা যায়?
আবেদন করা যায়, তবে আইন এটিকে ৩০ দিনের সময়সীমার পুনর্বিবেচনা হিসেবে দেখে, তাই দেরির যুক্তিসংগত কারণ, যেমন প্রতারণা বা নোটিশ না পাওয়া, দেখাতে হবে। ভূমি অফিস এমন মামলা শোনে, তবে মালিকানা বিরোধ থাকলে দেওয়ানি আদালতে পাঠিয়ে দিতে পারে।
নামজারি আপিল কোথায় ও কত দিনের মধ্যে করতে হয়?
প্রথম আপিল সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে। এরপর ৬০ দিনের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার এবং ৯০ দিনের মধ্যে ভূমি আপিল বোর্ড। রিভিশনের সময়সীমা যথাক্রমে ১, ৩ ও ৬ মাস।
নামজারি কি জমির মালিকানার প্রমাণ?
না। নামজারি খাজনা প্রদানকারীর রেকর্ড হালনাগাদ করে এবং ভালো প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগে, কিন্তু মালিকানা তৈরি বা নির্ধারণ করে না। দেওয়ানি আদালত নামজারির বিপরীতেও মালিকানা ঘোষণা করতে পারে, তখন ভূমি অফিস রেকর্ড সংশোধন করে।
জমি খারিজ করতে কত টাকা লাগে?
সরকারি মোট ফি ১,১৭০ টাকা: কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন ফি ১,০০০ টাকা ও খতিয়ানের কপি ১০০ টাকা। টাকা দিতে হয় অনলাইনে। কেউ বেশি চাইলে ১৬১২২ হেল্পলাইনে জানান।
শুনানিতে সব ঠিক থাকার পরও নামজারি নামঞ্জুর হলো কেন?
চূড়ান্ত আদেশ প্রায়ই শুনানির পরের ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রতিবেদন ও রেকর্ড যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করে। বিক্রেতার নামে সর্বশেষ রেকর্ড না থাকা, পরিমাণে অমিল বা আপত্তির কারণে পরেও নামঞ্জুর হতে পারে। আদেশ ও প্রতিবেদন তুলে ঠিক করুন নতুন আবেদন না আপিল।
জমি ও সম্পত্তি বিষয়ে আরও পড়ুন
নিরাপদে জমি কেনা, নামজারি ও বেদখল জমি উদ্ধার।
নামজারি নামঞ্জুর বা ভুল ব্যক্তির নামে খারিজ?
আদেশ ও কাগজপত্র পাঠান। নতুন আবেদন, আপিল না আদালত, কোনটি আপনার জন্য ঠিক তা আমরা জানাব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।

মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।