Skip to content

ওয়ারেন্ট হলে করণীয়: গ্রেফতারি পরোয়ানা মানে কী, এখন কী করবেন

ওয়ারেন্ট হলো আপনাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার জন্য পুলিশের প্রতি আদালতের আদেশ। ধরা পড়ার অপেক্ষা না করে আইনজীবীর মাধ্যমে আগে ব্যবস্থা নিলে প্রায় সবসময় ফল ভালো হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৫–৮৮ ধারাসংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদআত্মসমর্পণ ও জামিন
শেয়ার করুন
বাংলাদেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা বোঝাতে সিলসহ সরকারি নথি ও ঘড়ির চিত্র
এক নজরে
  • ওয়ারেন্ট কার্যকর হওয়া বা আদালত বাতিল করা পর্যন্ত বহাল থাকে।
  • সাধারণ প্রতিকার হলো আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদনসহ আদালতে আত্মসমর্পণ।
  • এড়িয়ে চলতে থাকলে আদালত হুলিয়া জারি ও সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন।
  • গ্রেপ্তার হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়।

এই গাইডে: কেন ওয়ারেন্ট হয় · জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট · আত্মসমর্পণ, জামিন ও ওয়ারেন্ট রিকল · এড়িয়ে চললে: হুলিয়া ও ক্রোক

সংক্ষেপে উত্তর

গ্রেফতারি পরোয়ানা হলো আদালতের লিখিত, স্বাক্ষরিত ও সিলমোহরযুক্ত আদেশ, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বলা হয় (ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৫ ধারা)। সমনের পরও হাজির না হলে, জামিন বাতিল হলে, বা গুরুতর মামলায় শুরুতেই আদালত ওয়ারেন্ট দেন। পুলিশ কার্যকর না করা বা আদালত বাতিল না করা পর্যন্ত এটি বহাল থাকে, আর বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় কার্যকর করা যায়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাস্তব উত্তর একই: অপেক্ষা করবেন না। আইনজীবীকে দিয়ে মামলার নথি যাচাই করান, তারপর একই আদালতে জামিনের আবেদনসহ আত্মসমর্পণ করুন, অথবা যুক্তিসংগত কারণে তারিখে না যেতে পারলে ওয়ারেন্ট রিকলের আবেদন করুন।

কেন ওয়ারেন্ট হয়

  • সমনের পর অনুপস্থিতি: সমন মামলায় নির্ধারিত তারিখে হাজির হননি।
  • জামিনে থেকে তারিখ মিস: জামিনে ছিলেন কিন্তু হাজিরা দেননি; আদালত জামিনও বাতিল করতে পারেন।
  • গুরুতর অপরাধ: জামিন অযোগ্য মামলায় আমলে নেওয়ার সময়ই আদালত ওয়ারেন্ট দিতে পারেন।
  • দেওয়ানি ও টাকার মামলা: জারি মামলায়, যেমন কিছু অর্থঋণ বা ডিক্রি জারি মামলায়, আদালত দেওয়ানি ওয়ারেন্টও দিতে পারেন।

জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট

ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৬ ধারায় আদালত ওয়ারেন্টে এমন নির্দেশ লিখে দিতে পারেন যাতে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ মুচলেকায় ছেড়ে দেয়। একে জামিনযোগ্য ওয়ারেন্ট বলে। এই নির্দেশ না থাকলে পুলিশ আপনাকে আদালতে হাজির করবে, আর আদালত জামিনের সিদ্ধান্ত নেবেন। কোন ধরনের ওয়ারেন্ট হয়েছে, আইনজীবী আদেশনামা দেখে জানতে পারেন।

চিত্র: গ্রেপ্তারের আগে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ

আত্মসমর্পণ, জামিন ও ওয়ারেন্ট রিকল

  1. নথি যাচাই: আইনজীবী আদালত থেকে মামলা নম্বর, ওয়ারেন্টের তারিখ ও পরবর্তী তারিখ জেনে নেন।
  2. জামিনের আবেদনসহ আত্মসমর্পণ: যে আদালত ওয়ারেন্ট দিয়েছে সেখানে হাজির হোন। অপরাধ জামিনযোগ্য হলে জামিন হওয়ার কথা; না হলে যুক্তি দিয়ে চাইতে হবে।
  3. রিকল: অসুস্থতা বা অন্য যুক্তিসংগত কারণে তারিখে না যেতে পারলে আইনজীবী ওয়ারেন্ট প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারেন, সাধারণত আপনার উপস্থিতি ও সমর্থক কাগজসহ।
  4. হাইকোর্ট: উপযুক্ত ক্ষেত্রে আত্মসমর্পণের আগে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন চাওয়া যায়।

এড়িয়ে চললে: হুলিয়া ও ক্রোক

আদালত যদি মনে করেন আপনি পলাতক, তাহলে অন্তত ৩০ দিনের মধ্যে হাজির হওয়ার জন্য হুলিয়া জারি করতে পারেন (৮৭ ধারা) এবং সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিতে পারেন (৮৮ ধারা)। কিছু ক্ষেত্রে অনুপস্থিতিতেই বিচার চলতে পারে। প্রতিটি ধাপ পরে জামিন পাওয়া কঠিন করে।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট আদালতের চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
আপনার নামে ওয়ারেন্ট থাকলে
১

পালাবেন না

ওয়ারেন্ট এড়ালে হুলিয়া, ক্রোক আর পরে জামিন কঠিন হয়।

২

বিস্তারিত জানুন

আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা নম্বর, আদালত, ধারা ও ওয়ারেন্টের তারিখ জানুন।

৩

জামিনের কাগজ প্রস্তুত করুন

জাতীয় পরিচয়পত্রসহ জামিনদার, ঠিকানার প্রমাণ, ডাক্তারি কাগজ ও তারিখে না আসার কারণ।

৪

আবেদনসহ আত্মসমর্পণ

যে আদালত ওয়ারেন্ট দিয়েছে সেখানে জামিন বা রিকলের আবেদনসহ হাজির হোন।

গ্রেপ্তার হলে পরিবার ও আইনজীবীকে ফোন করতে চান, আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার দাবি জানান।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ওয়ারেন্ট হলে করণীয় কী?

গ্রেপ্তারের অপেক্ষা করবেন না। আইনজীবীকে দিয়ে মামলা যাচাই করান, তারপর একই আদালতে জামিনের আবেদনসহ আত্মসমর্পণ করুন, অথবা যুক্তিসংগত কারণে তারিখ মিস হলে ওয়ারেন্ট রিকলের আবেদন করুন।

ওয়ারেন্ট থানায় আসতে কতদিন লাগে?

নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। আদালতের দপ্তর থেকে থানায় পাঠাতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। দেরির ওপর ভরসা করবেন না; স্বাক্ষরের দিন থেকেই ওয়ারেন্ট বৈধ।

ওয়ারেন্ট কি রিকল বা বাতিল করা যায়?

যায়। যে আদালত ওয়ারেন্ট দিয়েছে সেই আদালত তা প্রত্যাহার করতে পারেন, সাধারণত আপনি আইনজীবীসহ হাজির হয়ে তারিখ মিসের কারণ দেখালে। জামিনের আবেদনসহ আত্মসমর্পণেও একই ফল হয়।

জামিনযোগ্য ওয়ারেন্ট কী?

৭৬ ধারায় আদালতের নির্দেশসহ এমন ওয়ারেন্ট, যাতে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ মুচলেকায় ছেড়ে দেয়। এই নির্দেশ না থাকলে আপনাকে আদালতে নেওয়া হয়, জামিনের সিদ্ধান্ত দেন আদালত।

ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তারের পর কী হয়?

যাতায়াতের সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়। প্রথম হাজিরাতেই আইনজীবী জামিনের আবেদন করতে পারেন।

হুলিয়া কী?

আদালত মনে করলে আপনি পলাতক, অন্তত ৩০ দিনের মধ্যে হাজির হওয়ার জন্য হুলিয়া বা ঘোষণা জারি করতে পারেন, সঙ্গে সম্পত্তি ক্রোকও করতে পারেন।

চেকের মামলায় ওয়ারেন্ট হয়েছে। এখন কী করব?

আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে একই সঙ্গে জামিনের আবেদন করুন। চেকের মামলায় আদালত সাধারণত জামিন দেন। অনুপস্থিতিতে সাজা হলে আপিলে ৫০% জমা লাগে।

অন্য জেলার ওয়ারেন্টে কি পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে?

পারে। ওয়ারেন্ট বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় কার্যকর করা যায়; গ্রেপ্তারের পর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে ওয়ারেন্ট দেওয়া আদালতে পাঠানো হয়।

ফৌজদারি, পুলিশ ও সাইবার বিষয়ে আরও পড়ুন

গ্রেপ্তার ও জামিন, জিডি ও এজাহার, মিথ্যা মামলা ও সাইবার হয়রানি।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

আপনার নামে কি ওয়ারেন্ট আছে?

মামলার বিস্তারিত পাঠান। আমরা নথি যাচাই করে আত্মসমর্পণ ও জামিনের পরিকল্পনা করি। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।