Skip to content

নামজারির জন্য কী কী কাগজ লাগে ২০২৬: ক্রয়, উত্তরাধিকার, হেবা ও ডিক্রির চেকলিস্ট

বেশিরভাগ নামজারি নামঞ্জুর হয় আইনের কারণে নয়। হয় ওয়ারিশ সনদ নেই, বিক্রেতার নামজারি কখনো হয়নি, বা খাজনার রসিদ দুই বছরের পুরনো। এখানে প্রতিটি ধরনের ক্ষেত্রের পূর্ণ তালিকা, প্রতিটি কাগজ কী প্রমাণ করে, আর কীভাবে প্রস্তুত করলে প্রথমবারেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়।

ই-নামজারি পোর্টালের কাগজের তালিকারাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮, ধারা ৫২এ
শেয়ার করুন
সোনালি সিলসহ তিনটি সাজানো দলিল: বাংলাদেশে নামজারির কাগজপত্রের চেকলিস্ট
এক নজরে
  • সব ক্ষেত্রে: দলিল বা ডিক্রি, সর্বশেষ খতিয়ান, খাজনার রসিদ, এনআইডি, ছবি
  • ক্রয়ে: বিক্রেতার নিজের নামজারি খতিয়ান ও চেইনের দলিল
  • উত্তরাধিকারে: মৃত্যু সনদ, সব ওয়ারিশের নামসহ ওয়ারিশ সনদ, ভাগ হয়ে থাকলে বাটোয়ারা দলিল
  • পিডিএফ বা জেপিজিতে স্ক্যান, পড়ার মতো, প্রতিটি পাতা

এই গাইডে: প্রতিটি আবেদনের কাগজ · ক্রয় (সাফ কবলা) · উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ) · হেবা, বিনিময় ও আদালতের ডিক্রি · স্ক্যান ও আপলোড · যে কাগজে আবেদন নামঞ্জুর হয়

সংক্ষেপে উত্তর

প্রতিটি নামজারিতে লাগে যে কাগজে জমি আপনার কাছে এসেছে (রেজিস্ট্রি দলিল, হেবা দলিল, বিনিময় দলিল বা আদালতের ডিক্রি), সর্বশেষ খতিয়ান, সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, আপনার এনআইডি ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি। ক্রয়ে আরও লাগে বিক্রেতার নিজের নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর এবং রেকর্ড থেকে বিক্রেতা পর্যন্ত মাঝের দলিল। উত্তরাধিকারে মৃত্যু সনদ ও প্রতিটি ওয়ারিশের নামসহ ওয়ারিশ সনদ, এবং জমি ভাগ হয়ে থাকলে বাটোয়ারা দলিল। ডিক্রিতে ডিক্রি ও রায়ের সত্যায়িত কপি।

প্রতিটি আবেদনের কাগজ

কাগজযা প্রমাণ করে
সই করা অনলাইন আবেদনকে আবেদন করছেন, কোন দাগ ও পরিমাণে
সর্বশেষ খতিয়ান (সিএস/এসএ/আরএস/বিএস বা নামজারি খতিয়ান)রেকর্ডে বর্তমানে কে মালিক
সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রসিদকর হালনাগাদ; হোল্ডিংও দেখায়
এনআইডি (বা পাসপোর্ট, জন্মসনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স)প্রতিটি আবেদনকারীর পরিচয়
প্রতিটি আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজ ছবিখতিয়ান রেকর্ডের জন্য
মোবাইল নম্বরওটিপি ও এসএমএস নোটিশ

১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম: সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী নামজারি এবং জমি-ফ্ল্যাট বণ্টনের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR) লাগে, যেমনটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আগে থেকেই লাগত। সর্বশেষ করবর্ষের প্রাপ্তি স্লিপ বা সিস্টেম সনদ কাগজের সঙ্গে রাখুন; এটি ছাড়া আবেদন আটকে যাবে।

ক্রয় (সাফ কবলা)

  • আপনার অনুকূলে রেজিস্ট্রি সাফ কবলা দলিল, সব পাতা, রেজিস্ট্রির রসিদসহ।
  • বিক্রেতার নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর। বিক্রেতার নামজারি না হয়ে থাকলে চেইন ভাঙা এবং আবেদন ব্যর্থ; আগে বিক্রেতার নামজারি হতে হবে, অথবা রেকর্ডীয় মালিক থেকে বিক্রেতা পর্যন্ত দলিল দিতে হবে।
  • সর্বশেষ জরিপ রেকর্ডের পর প্রতিটি হস্তান্তরের বায়া দলিল।
  • দলিলের দাগ, পরিমাণ ও বিক্রেতার নাম খতিয়ানের সঙ্গে হুবহু মিলছে কি না দেখুন। রেজিস্ট্রেশন আইনের ৫২এ ধারা বিক্রেতাকে রেকর্ডীয় মালিক হিসেবে প্রত্যাশা করে।
বাংলাদেশে নামজারির কাগজের চেকলিস্ট

উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ)

  • রেকর্ডীয় মালিকের মৃত্যু সনদ (অনলাইন নিবন্ধন)।
  • ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা সিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ওয়ারিশ সনদ, প্রতিটি ওয়ারিশের নাম ও সম্পর্কসহ। অফিস সাম্প্রতিক সনদ চায়, সাধারণত প্রায় তিন মাসের মধ্যে ইস্যু করা।
  • মৃত ব্যক্তির খতিয়ান এবং তিনি নিজে ওয়ারিশ হয়ে থাকলে আগের চেইন।
  • ওয়ারিশরা জমি ভাগ করে থাকলে বাটোয়ারা দলিল (বণ্টননামা); নইলে সব ওয়ারিশ ও অংশ উল্লেখ করে যৌথ আবেদন। ওয়ারিশ বাদ দেওয়াই পরের মিস কেসের প্রথম কারণ।
  • আবেদনকারী প্রতিটি ওয়ারিশের এনআইডি ও ছবি।

হেবা, বিনিময় ও আদালতের ডিক্রি

  • হেবা: রেজিস্ট্রি হেবা দলিল (প্রস্তাব, গ্রহণ ও দখল হস্তান্তর লিপিবদ্ধ) এবং দাতার নামজারি খতিয়ান।
  • বিনিময়: রেজিস্ট্রি বিনিময় দলিল ও দুই পক্ষের খতিয়ান।
  • ডিক্রি: ডিক্রি ও রায়ের সত্যায়িত কপি, ডিক্রি চূড়ান্ত (আপিল বিচারাধীন নয়) তার প্রমাণ, এবং ডিক্রিদারের বিপক্ষের খতিয়ান।
  • অ্যাটর্নির মাধ্যমে: অন্য কেউ আপনার পক্ষে আবেদন করলে রেজিস্ট্রি পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি ও অ্যাটর্নির এনআইডি।

স্ক্যান ও আপলোড

  • পিডিএফ বা জেপিজি; প্রতিটি কাগজ নিজের ঘরে; দলিলের সব পাতা এক ফাইলে।
  • পড়ার মতো: দাগ নম্বর ও সিল স্ক্রিনে পড়া যেতে হবে। ঝাপসা আপলোড “পেন্ডিং” অবস্থার সাধারণ কারণ।
  • ফাইল যুক্তিসংগতভাবে ছোট রাখুন; স্ক্যানার না থাকলে দিনের আলোয় ছবি তুলুন।
  • শুনানিতে মূল কপি আনুন। আপলোড ফাইলের জন্য; কর্মকর্তা মূলের সঙ্গে মেলাবেন।

যে কাগজে আবেদন নামঞ্জুর হয়

  • পরের জরিপ রেকর্ড থাকতেও পুরনো খতিয়ান।
  • হালনাগাদ নয় বা ভুল হোল্ডিংয়ের খাজনার রসিদ।
  • ওয়ারিশ বাদ পড়া বা অফিসের গ্রহণযোগ্য সময়ের চেয়ে পুরনো ওয়ারিশ সনদ।
  • বিক্রেতা রেকর্ডীয় মালিক নন অথচ চেইন সংযুক্ত নেই এমন দলিল।
  • সত্যায়িত নয় বা আপিল বিচারাধীন এমন ডিক্রির কপি।
  • হস্তান্তরকারীর খতিয়ানে যতটুকু ছিল তার বেশি পরিমাণ দাবি।
এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
ফাইল তৈরি
১

রেকর্ড

ই-পর্চা থেকে সর্বশেষ খতিয়ান ও বর্তমান খাজনার রসিদ।

২

মালিকানার দলিল

দলিল, হেবা, বিনিময় বা সত্যায়িত ডিক্রি, সব পাতা।

৩

চেইন

বিক্রেতার নামজারি খতিয়ান ও আগের দলিল, অথবা মৃত্যু ও ওয়ারিশ সনদ।

৪

পরিচয়

প্রতিটি আবেদনকারীর এনআইডি ও ছবি; অন্য কেউ দাখিল করলে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি।

কিছু না থাকলে দাখিলের আগে জোগাড় করুন। নতুন আবেদনে ফি আবার লাগে।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে নামজারির জন্য কী কী কাগজ লাগে?

যে দলিল বা ডিক্রিতে জমি আপনার কাছে এসেছে, সর্বশেষ খতিয়ান, বর্তমান খাজনার রসিদ, এনআইডি ও ছবি। ক্রয়ে বিক্রেতার নামজারি খতিয়ান ও চেইনের দলিল; উত্তরাধিকারে মৃত্যু ও ওয়ারিশ সনদ যোগ হয়।

নামজারিতে কি ওয়ারিশ সনদ লাগে?

হ্যাঁ, উত্তরাধিকারের জমিতে। প্রতিটি ওয়ারিশের নাম থাকতে হবে, এবং অফিস সাধারণত সাম্প্রতিক, প্রায় তিন মাসের মধ্যে ইস্যু করা সনদ চায়।

বিক্রেতা নামজারি না করে থাকলে?

রেকর্ড থেকে আপনার পর্যন্ত চেইন ভাঙা। হয় বিক্রেতা আগে নামজারি করবেন, অথবা রেকর্ডীয় মালিক থেকে বিক্রেতা পর্যন্ত দলিল সংযুক্ত করবেন। নইলে আবেদন নামঞ্জুর।

মূল দলিল কি লাগে?

আবেদনে স্ক্যান আপলোড করেন, আর শুনানিতে কর্মকর্তার মিলিয়ে দেখার জন্য মূল কপি আনেন।

খাজনার রসিদ কি বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ। ভূমি উন্নয়ন কর হালনাগাদ থাকতে হয়; পুরনো রসিদ বা বকেয়ায় নামঞ্জুর বা পেন্ডিং হয়।

খতিয়ানের ফটোকপি দিয়ে কি নামজারি করা যায়?

পরিষ্কার কপি আপলোড করা যায়, তবে দাগ ও পরিমাণ যাচাইয়ের জন্য সত্যায়িত কপি বা ই-পর্চার সংস্করণ নিন।

একজন ওয়ারিশ শুধু নিজের অংশ নামজারি করতে কী কাগজ দেবেন?

সব ওয়ারিশের নামসহ একই উত্তরাধিকারের কাগজ, সঙ্গে নিজের এনআইডি ও ছবি। আবেদনে উল্লেখ থাকে যে কেবল নিজের অংশ নামজারি হচ্ছে।

জমিতে মামলা চলমান থাকলে?

জানান। নিষেধাজ্ঞা বা মালিকানার বিরোধ থাকলে আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এসি (ল্যান্ড) সাধারণত নামজারি করেন না।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

আপনার ফাইল সম্পূর্ণ কি না নিশ্চিত নন?

যা আছে তার স্ক্যান পাঠান। কী নেই তা জানিয়ে আবেদন তৈরি করে দেব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।