Skip to content

খতিয়ান, পর্চা ও মৌজা ম্যাপ পড়ার নিয়ম: ক্রেতা ও উত্তরাধিকারীদের জন্য কলাম ধরে ধরে গাইড

বাংলাদেশে জমির প্রতিটি যাচাই তিনটি কাগজে গিয়ে ঠেকে: খতিয়ান (স্বত্বের রেকর্ড), পর্চা (এর খসড়া বা কপি) আর মৌজা ম্যাপ। ঠিকভাবে পড়তে দশ মিনিট লাগে, আর টাকা দেওয়ার আগেই বেশিরভাগ সমস্যা ধরা পড়ে।

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০, ধারা ১৪৪, ১৪৪কজরিপ ও সেটেলমেন্ট ম্যানুয়ালeporcha.gov.bd / dlrms.land.gov.bd
শেয়ার করুন
কলামযুক্ত জমির রেকর্ড ও মৌজা ম্যাপ: খতিয়ান, পর্চা ও মৌজা ম্যাপ পড়ার নিয়ম
এক নজরে
  • খতিয়ান: কার কোন দাগে কতটুকু, কত অংশে
  • পর্চা: জরিপের সময় দেওয়া খসড়া খতিয়ান, বা অসত্যায়িত কপি
  • মৌজা ম্যাপ: পুরো মৌজার দাগের সীমানা
  • তিন নম্বর মেলান: মৌজা/জেএল নম্বর, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর
  • ই-পর্চায় সত্যায়িত কপি; হেল্পলাইন ১৬১২২

এই গাইডে: খতিয়ান, কলাম ধরে ধরে · পর্চা, খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ান · মৌজা ম্যাপ পড়া · অনলাইনে সত্যায়িত কপি · কেনার আগে যাচাই

সংক্ষেপে উত্তর

খতিয়ান হলো একটি মৌজার স্বত্বের রেকর্ড: এতে মালিকদের নাম, তাদের দাগ নম্বর, প্রতিটি দাগের পরিমাণ ও প্রত্যেকের অংশ থাকে। পর্চা হলো জরিপের সময় আপত্তির জন্য মালিকদের দেওয়া খসড়া খতিয়ান, বা সাধারণভাবে যেকোনো অসত্যায়িত কপি; খতিয়ান প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটি চূড়ান্ত নয়। মৌজা ম্যাপে মৌজার প্রতিটি দাগ নম্বরসহ আলাদা প্লট হিসেবে দেখানো থাকে। জমি যাচাইয়ে কাগজগুলোর মধ্যে তিনটি নম্বর মেলান: মৌজার নাম ও জেএল নম্বর, খতিয়ান নম্বর এবং দাগ নম্বর। তারপর নিশ্চিত হন বিক্রেতার নাম, অংশ ও পরিমাণ দলিল ও সর্বশেষ নামজারি খতিয়ানের সাথে মেলে, আর ম্যাপের দাগটিই মাঠের জমি।

খতিয়ান, কলাম ধরে ধরে

  • শিরোনাম: জেলা, উপজেলা, মৌজার নাম, জেএল নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জরিপ (সিএস, এসএ, আরএস, বিএস বা সিটি/ঢাকা)।
  • মালিকের কলাম: নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, ঠিকানা এবং প্রত্যেকের অংশ (যেমন ০.৫০০ বা ৮ আনা)।
  • দাগের কলাম: প্রতিটি দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি (নাল, ভিটি, ডোবা ইত্যাদি) এবং এই খতিয়ানে থাকা পরিমাণ শতাংশ বা একরে।
  • খতিয়ানের মোট পরিমাণ এবং মন্তব্য, যেমন খাস, অধিগ্রহণ, বা নামজারি বা ট্রাইব্যুনালের আদেশে পরবর্তী সংশোধন।

একজন মালিকের জমি = অংশ × প্রতিটি দাগের পরিমাণ। আমাদের খতিয়ানের অংশ হিসাব এটি করে দেয়।

পর্চা, খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ান

জরিপের সময় তসদিক কর্মকর্তা প্রত্যেক মালিককে যাচাই ও আপত্তির জন্য খসড়া রেকর্ড, অর্থাৎ পর্চা, দেন। আপত্তি ও আপিলের পর চূড়ান্ত খতিয়ান ছাপা ও গেজেট হয়। পরের বিক্রি ও উত্তরাধিকার নামজারিতে লেখা হয়, যা ক্রেতার নামে নতুন খতিয়ান নম্বর খোলে। তাই বর্তমান মালিকানার জন্য সর্বশেষ নামজারি খতিয়ান পড়ুন, আর ইতিহাসের জন্য জরিপ খতিয়ান (সিএস, এসএ, আরএস, বিএস) ক্রমানুসারে। পার্থক্যগুলো খতিয়ান, পর্চা ও নামজারি গাইডে আছে।

বাংলাদেশে খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ পড়ার নিয়ম

মৌজা ম্যাপ পড়া

মৌজা ম্যাপ শিট আকারে আঁকা হয়, প্রতিটি শিটের নম্বর থাকে, আর প্রতিটি দাগ নম্বরসহ আলাদা প্লট হিসেবে দেখানো থাকে। গ্রামীণ জরিপ ম্যাপ সাধারণত ১৬ ইঞ্চিতে ১ মাইল স্কেলে আঁকা; শহর ও সিটি জরিপের শিট বড় স্কেলে, তাই মাপার আগে আপনার শিটে ছাপা স্কেল দেখুন। রাস্তা, খাল, পুকুর ও বসতবাড়ি নির্দিষ্ট চিহ্নে দেখানো থাকে। আপনার দাগ নম্বর খুঁজুন, চারপাশের দাগগুলো লিখুন, তারপর জমিতে হাঁটুন: আকার, রাস্তার দিক ও পাশের প্লট মিলতে হবে। না মিললে হয়তো ভুল দাগ দেখছেন, বা রেকর্ড ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে সংশোধন লাগতে পারে।

অনলাইনে সত্যায়িত কপি

ভূমি মন্ত্রণালয়ের eporcha.gov.bd-তে সত্যায়িত খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ অর্ডার করা যায়: জেলা, উপজেলা ও মৌজা বাছুন, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নামে খুঁজুন, অনলাইনে ফি দিন এবং ডাউনলোড করুন বা ডাকে নিন। ম্যাপের অর্ডার একই পোর্টালের ম্যাপ অংশে; কিছু ম্যাপ অনলাইনে দেখা যায়। ডিসি অফিসের রেকর্ড রুম ও উপজেলা ভূমি অফিসও সরাসরি কপি দেয়। হেল্পলাইন: ১৬১২২। কেনা বা মামলায় ফটোকপি নয়, সত্যায়িত কপি ব্যবহার করুন।

কেনার আগে যাচাই

  • সর্বশেষ নামজারি খতিয়ানে বিক্রেতার নাম ও অংশ দলিলের সাথে মেলে।
  • সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস রেকর্ডে দাগের ধারাবাহিকতা অটুট।
  • ম্যাপের দাগই মাঠে দেখানো প্লট।
  • খাস, অর্পিত, অধিগ্রহণ বা চলমান ট্রাইব্যুনাল মামলার মন্তব্য নেই।
  • বিক্রেতার নামে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) হালনাগাদ।
এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
দশ মিনিটের জমি যাচাই
১

সংগ্রহ

সর্বশেষ নামজারি খতিয়ান, জরিপ খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ শিট।

২

নম্বর মেলান

মৌজা ও জেএল, খতিয়ান, দাগ।

৩

মালিক যাচাই

নাম, অংশ ও পরিমাণ দলিলের সাথে।

৪

জমিতে হাঁটুন

আকার, রাস্তা ও পাশের প্লট ম্যাপের সাথে।

বেশিরভাগ জমি প্রতারণা এই চার যাচাইয়ের কোনো একটিতে ধরা পড়ে।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

খতিয়ান কী?

মৌজার জমির স্বত্বের রেকর্ড। এতে মালিকদের নাম, তাদের দাগ নম্বর, প্রতিটি দাগের পরিমাণ ও প্রত্যেকের অংশ থাকে।

পর্চা ও খতিয়ানের পার্থক্য কী?

পর্চা হলো জরিপের সময় মালিকদের দেওয়া খসড়া রেকর্ড বা অসত্যায়িত কপি। খতিয়ান হলো চূড়ান্ত প্রকাশিত রেকর্ড।

দাগ নম্বর কী?

মৌজা ম্যাপ ও খতিয়ানে একটি প্লটের নম্বর। একাধিক ব্যক্তির অংশ থাকলে একই দাগ কয়েকটি খতিয়ানে থাকতে পারে।

জেএল নম্বর কী?

উপজেলার মধ্যে একটি মৌজা চিহ্নিত করার জুরিসডিকশন লিস্ট নম্বর। একই রকম নামের মৌজা গুলিয়ে না ফেলতে মৌজার নামের সাথে ব্যবহার করুন।

মৌজা ম্যাপ অনলাইনে কীভাবে পাব?

eporcha.gov.bd-এর ম্যাপ অংশে জেলা, উপজেলা ও মৌজা বেছে অর্ডার করুন ও অনলাইনে ফি দিন; ডাকে আসে, কিছু মৌজার ম্যাপ অনলাইনে দেখা যায়।

খতিয়ান থেকে আমার জমির পরিমাণ কীভাবে হিসাব করব?

প্রতিটি দাগের পরিমাণকে আপনার অংশ দিয়ে গুণ করে যোগ করুন। এই সাইটের খতিয়ানের অংশ হিসাব এটি করে দেয়।

কোন খতিয়ানে বর্তমান মালিক দেখা যায়?

সর্বশেষ নামজারি খতিয়ানে। জরিপ খতিয়ান প্রতিটি জরিপের সময়ের অবস্থা দেখায়।

ম্যাপ মাঠের জমির সাথে না মিললে কী করব?

ঠিক দাগ ও শিট দেখছেন কি না যাচাই করুন। রেকর্ডই ভুল হলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে সংশোধনের মামলা হতে পারে।

জমি ও সম্পত্তি বিষয়ে আরও পড়ুন

নিরাপদে জমি কেনা, নামজারি ও বেদখল জমি উদ্ধার।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

জমি কিনছেন বা উত্তরাধিকার ভাগ করছেন?

খতিয়ান ও ম্যাপ শিট পাঠান। আমরা ধারাবাহিকতা পড়ি, দাগ মেলাই এবং টাকা দেওয়ার আগে লিখিতভাবে সমস্যা জানাই। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।