Skip to content

খতিয়ান থেকে জমির অংশ (হিস্যা) বের করার নিয়ম

খতিয়ানে সাধারণত লেখা থাকে না যে "আপনার ১২ শতাংশ জমি"। লেখা থাকে জোতে আপনার অংশ, দশমিকে যেমন .৫০০, অথবা পুরোনো রেকর্ডে আনা-গণ্ডায়। এই গাইডে দেখানো হয়েছে সেই অংশ থেকে কীভাবে জমির পরিমাণ বের করবেন, উদাহরণ ও ক্যালকুলেটরসহ, আর দলিলের সঙ্গে না মিললে কী করবেন।

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০, ধারা ১৪৪কআনা-গণ্ডার প্রচলিত হিস্যা পদ্ধতি
শেয়ার করুন
বাংলাদেশে খতিয়ান থেকে মালিকের জমির অংশ হিসাব
এক নজরে
  • মালিকের জমি = প্রতিটি দাগে অত্র খতিয়ানের জমি × মালিকের অংশ, সব দাগের যোগফল
  • আধুনিক খতিয়ানে অংশ লেখা হয় দশমিকে; পুরো জোত = ১.০০০
  • পুরোনো সিএস ও এসএ রেকর্ডে আনা: ১৬ আনা = ১, ১ আনা = ২০ গণ্ডা, ১ গণ্ডা = ৪ কড়া, ১ কড়া = ৩ ক্রান্তি
  • খতিয়ানের অংশ জরিপের সময়ের চিত্র; পরের দলিল ও উত্তরাধিকারে তা বদলাতে পারে

এই গাইডে: খতিয়ানে অংশ কীভাবে লেখা থাকে · আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি: আনার অংশকে দশমিকে রূপান্তর · অংশ বের করার সূত্র ও উদাহরণ · খতিয়ানের অংশ দলিলের সঙ্গে না মিললে · খতিয়ানের অংশ হিসাবে সাধারণ ভুল

সংক্ষেপে উত্তর

খতিয়ান থেকে জমি বের করতে প্রতিটি দাগে ওই খতিয়ানের জমি (সবসময় পুরো দাগ নয়) নিন, আপনার অংশ দিয়ে গুণ করুন, তারপর সব দাগের ফল যোগ করুন। আরএস ও বিএস খতিয়ানে অংশ দশমিকে, তাই .৫০০ মানে অর্ধেক, .২৫০ মানে এক-চতুর্থাংশ। পুরোনো সিএস ও এসএ রেকর্ডে অংশ আনায়: ১৬ আনা মানে পুরো, তাই ৪ আনা মানে এক-চতুর্থাংশ (০.২৫)। আগে আনা-গণ্ডাকে দশমিকে নিন। উদাহরণ: কোনো দাগে খতিয়ানের জমি ৬০ শতাংশ আর আপনার অংশ .৫০০ হলে সেখানে আপনার জমি ৩০ শতাংশ।

খতিয়ানের অংশ ক্যালকুলেটর

প্রতিটি দাগে অত্র খতিয়ানের জমি (শতাংশে) ও মালিকের অংশ লিখুন। অপ্রয়োজনীয় দাগের ঘর ফাঁকা রাখুন।

অংশ কীভাবে লেখা আছে:

খতিয়ানে অংশ কীভাবে লেখা থাকে

প্রতিটি খতিয়ানে মালিকদের নাম আর প্রত্যেকের অংশ লেখা থাকে। এক খতিয়ানের সব অংশ মিলে পুরো জোত।

  • দশমিক অংশ (আরএস, বিএস ও নামজারি খতিয়ান): পুরো জোত ১.০০০। অংশ .৫০০ মানে অর্ধেক, .২৫০ এক-চতুর্থাংশ, .৩৩৩ এক-তৃতীয়াংশ (রাউন্ড করা)। সমান অংশের তিন ভাইয়ের প্রত্যেকের নামে .৩৩৩ বা .৩৩৩৩ দেখা যায়।
  • আনা অংশ (সিএস ও অনেক এসএ খতিয়ান): পুরো জোত ১৬ আনা, আনা, গণ্ডা, কড়া ও ক্রান্তির পুরোনো চিহ্নে লেখা। “৮ আনা” মানে অর্ধেক, “৪ আনা” এক-চতুর্থাংশ।

অংশটি পুরো জোতের, একটি প্লটের নয়। একটি খতিয়ানে প্রায়ই কয়েকটি দাগ থাকে, আর কোনো দাগে খতিয়ানের জমি হতে পারে দাগের একটি অংশমাত্র। আধুনিক খতিয়ানে প্রতিটি দাগে দুটি অঙ্ক থাকে: দাগে মোট জমি, আর দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের জমি। হিসাবে দ্বিতীয় অঙ্কটি নিন।

সব মালিকের অংশ যোগ করে ১.০০০ (বা ১৬ আনা) হচ্ছে কি না মিলিয়ে নিন। না হলে কপিটি অসম্পূর্ণ হতে পারে, অথবা রেকর্ডে এমন ভুল থাকতে পারে যা সংশোধন দরকার।

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি: আনার অংশকে দশমিকে রূপান্তর

এককসম্পর্কপুরো জোতের কত অংশ
১৬ আনাপুরো জোত১
১ আনা২০ গণ্ডা১/১৬ = ০.০৬২৫
১ গণ্ডা৪ কড়া১/৩২০ = ০.০০৩১২৫
১ কড়া৩ ক্রান্তি১/১২৮০ = ০.০০০৭৮১২৫
১ ক্রান্তি২০ তিল১/৩৮৪০

রূপান্তরের সূত্র: দশমিক অংশ = আনা ÷ ১৬ + গণ্ডা ÷ ৩২০ + কড়া ÷ ১২৮০ + ক্রান্তি ÷ ৩৮৪০।

উদাহরণ: ৪ আনা ৪ গণ্ডা = ৪ ÷ ১৬ + ৪ ÷ ৩২০ = ০.২৫ + ০.০১২৫ = ০.২৬২৫। সহজ উপায় হলো সবকিছু গণ্ডায় নেওয়া: ৪ আনা ৪ গণ্ডা = ৮৪ গণ্ডা, আর ৮৪ ÷ ৩২০ = ০.২৬২৫।

এগুলোকে জমির মাপের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। খতিয়ানে আনা ও গণ্ডা হলো অংশ, জোতের ভগ্নাংশ। কিছু জেলায় গণ্ডা আবার জমি মাপার স্থানীয় একক। সেটি আলাদা জিনিস, আর দুটি মিশিয়ে ফেলাই ভুল হিসাবের বড় কারণ।

বাংলাদেশে খতিয়ান থেকে মালিকের জমির অংশ হিসাব

অংশ বের করার সূত্র ও উদাহরণ

মালিকের জমি = দাগে অত্র খতিয়ানের জমি × মালিকের অংশ। প্রতিটি দাগে এভাবে হিসাব করে যোগ করুন।

অবস্থাহিসাবমালিকের জমি
বিএস খতিয়ান, এক দাগে ৬০ শতাংশ, অংশ .৫০০৬০ × ০.৫৩০ শতাংশ (প্রায় ১৮.১৫ কাঠা)
আরএস খতিয়ান, ৪৫ শতাংশ, অংশ .৩৩৩ (এক-তৃতীয়াংশ)৪৫ ÷ ৩১৫ শতাংশ
সিএস খতিয়ান, ৪০ শতাংশ, অংশ ৪ আনা ৪ গণ্ডা৪০ × ০.২৬২৫১০.৫ শতাংশ
তিন দাগে ২৫, ১৫ ও ৮ শতাংশ, অংশ .২৫০(২৫ + ১৫ + ৮) × ০.২৫১২ শতাংশ

একক: ১ শতাংশ (শতক) = ৪৩৫.৬ বর্গফুট, আর ১০০ শতাংশ = ১ একর। ঢাকায় ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট, অর্থাৎ প্রায় ১.৬৫ শতাংশ। কিছু অঞ্চলে কাঠা ও বিঘার মাপ আলাদা, তাই দলিল বা চুক্তিতে একক স্পষ্ট লিখুন।

অংশ যদি .৩৩৩-এর মতো রাউন্ড করা হয়, আসল ভগ্নাংশ (এক-তৃতীয়াংশ) দিয়ে হিসাব করুন, নইলে কয়েকটি দাগে ছোট ছোট ভুল জমে বড় হয়।

খতিয়ানের অংশ দলিলের সঙ্গে না মিললে

খতিয়ান দেখায় রেকর্ড তৈরির সময় জমি কার দখলে ছিল। এরপর মালিকেরা বিক্রি, হেবা করেছেন বা মারা গেছেন। তাই অমিল খুব সাধারণ, আর অমিল মানেই কেউ প্রতারণা করছে এমন নয়।

  • রেকর্ডীয় মালিক মারা গেছেন: অংশটি ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী ওয়ারিশদের কাছে যায়। আমাদের ফারায়েজ ক্যালকুলেটর দিয়ে প্রত্যেক ওয়ারিশের ভগ্নাংশ বের করে মৃত মালিকের জমি দিয়ে গুণ করুন।
  • পরে বিক্রি হয়েছে: ক্রেতার দলিলে দাগ ও পরিমাণ লেখা থাকা উচিত। বিক্রেতার যতটুকু ছিল, ক্রেতা তার বেশি পান না। কেনার আগে খতিয়ানে বিক্রেতার অংশ মিলিয়ে নিন।
  • দলিল ও রেকর্ডে সত্যিকারের বিরোধ: মালিকানা আসে বৈধ দলিল বা উত্তরাধিকার থেকে, খতিয়ান থেকে নয়; তবে ভুল প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত খতিয়ান সঠিক ধরা হয়। নামজারি করে রেকর্ড হালনাগাদ করুন, অথবা জরিপের ভুল এন্ট্রি যথাযথ ফোরামে সংশোধন করান।

শরিকেরা মাঠে ভাগ না করে একই দাগে অংশ ধারণ করলে আপনার অংশ প্রতিটি প্লটের ভগ্নাংশ, নির্দিষ্ট কোনো টুকরা নয়। নির্দিষ্ট টুকরা পেতে শরিকদের বাটোয়ারা করতে হয়।

খতিয়ানের অংশ হিসাবে সাধারণ ভুল

  1. পুরো দাগের জমি ধরা, অথচ খতিয়ানের জমি দাগের একটি অংশমাত্র।
  2. আনার অংশের ভেতরে গণ্ডাকে জমির মাপ ধরা।
  3. আগেভাগে রাউন্ড করা, যেমন অনেক দাগে এক-তৃতীয়াংশের বদলে .৩৩ ধরা।
  4. রেকর্ডের পরের বিক্রি ও মৃত্যু হিসাবে না নেওয়া।
  5. ভিন্ন ভিন্ন খতিয়ানের অংশ একসঙ্গে যোগ করা। প্রতিটি খতিয়ান আলাদা হিসাব করুন।
  6. কাঠার মাপ সব জায়গায় এক ধরে নেওয়া। সন্দেহ হলে বর্গফুটে নিয়ে হিসাব করুন।
  7. সার্টিফায়েড নয় এমন কপির ওপর ভরসা। কেনাবেচা বা মামলার আগে সার্টিফায়েড কপি তুলে মৌজা নকশার সঙ্গে মেলান।

এরপরও হিসাব না মিললে আইনজীবী বা লাইসেন্সধারী সার্ভেয়ার রেকর্ড, নকশা ও দলিল একসঙ্গে যাচাই করে দিতে পারেন।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
নিজের অংশ হিসাবের ধাপ
১

সার্টিফায়েড কপি তুলুন

সর্বশেষ খতিয়ান ও মৌজা নকশা।

২

প্রতিটি দাগ লিখুন

দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের জমি নিন।

৩

অংশ রূপান্তর করুন

প্রয়োজনে আনা-গণ্ডা থেকে দশমিকে।

৪

গুণ করে যোগ করুন

তারপর দলিলের সঙ্গে মেলান।

দলিলে ভুল অংশ লেখা হলে পরে ঠিক করা ব্যয়বহুল। সইয়ের আগে হিসাব মিলিয়ে নিন।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

খতিয়ানের অংশ বের করার নিয়ম কী?

প্রতিটি দাগে ওই খতিয়ানের জমিকে আপনার অংশ দিয়ে গুণ করে সব দাগের ফল যোগ করুন। অংশ আনায় লেখা থাকলে আগে দশমিকে নিন: আনাকে ১৬ দিয়ে আর গণ্ডাকে ৩২০ দিয়ে ভাগ করে যোগ করুন।

এস এ খতিয়ান থেকে অংশ বের করার নিয়ম কী?

এসএ খতিয়ানে অংশ প্রায়ই আনা-গণ্ডায় থাকে। ১৬ আনাকে পুরো ধরে দশমিকে রূপান্তর করুন, তারপর প্রতিটি দাগে খতিয়ানের জমি দিয়ে গুণ করুন। পরে আরএস, বিএস বা নামজারিতে অবস্থা বদলেছে কি না দেখুন।

আর এস বা বি এস খতিয়ান থেকে অংশ বের করার নিয়ম কী?

আরএস ও বিএস খতিয়ানে অংশ দশমিকে লেখা, তাই .৫০০ মানে অর্ধেক আর .২৫০ মানে এক-চতুর্থাংশ। দাগের কলামে দেখানো অত্র খতিয়ানের জমিকে অংশ দিয়ে গুণ করে সব দাগ যোগ করুন।

১ আনা কত শতাংশ?

খতিয়ানে আনা হলো অংশ, জমির মাপ নয়। ১ আনা মানে খতিয়ানের জমির ষোলো ভাগের এক ভাগ (০.০৬২৫)। খতিয়ানে ১৬০ শতাংশ জমি থাকলে ১ আনা হবে ১০ শতাংশ।

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি কী?

এগুলো অংশের প্রচলিত একক: ১৬ আনায় পুরো, ১ আনায় ২০ গণ্ডা, ১ গণ্ডায় ৪ কড়া, ১ কড়ায় ৩ ক্রান্তি এবং ১ ক্রান্তিতে ২০ তিল।

১ কাঠা কত শতাংশ?

ঢাকায় ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট, অর্থাৎ প্রায় ১.৬৫ শতাংশ, কারণ ১ শতাংশ = ৪৩৫.৬ বর্গফুট। ঢাকার বাইরে স্থানীয় কাঠার মাপ আলাদা হতে পারে।

খতিয়ানের অংশ দলিলের সঙ্গে মিলছে না, কী করব?

আগে দেখুন রেকর্ডের পর কোনো বিক্রি, হেবা বা মৃত্যু হয়েছে কি না। মালিকানা আসে বৈধ দলিল বা উত্তরাধিকার থেকে, তবে রেকর্ড সঠিক বলে ধরা হয়। নামজারি করে হালনাগাদ করুন, বা যথাযথ ফোরামে ভুল সংশোধন করান।

খতিয়ানের হিস্যা থেকে ওয়ারিশের অংশ কীভাবে বের করব?

ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ারিশের ভগ্নাংশ বের করুন, যেমন মুসলিম ওয়ারিশদের জন্য ফারায়েজ ক্যালকুলেটর দিয়ে। তারপর সেই ভগ্নাংশকে খতিয়ান থেকে হিসাব করা মৃত মালিকের জমি দিয়ে গুণ করুন।

জমি ও সম্পত্তি বিষয়ে আরও পড়ুন

নিরাপদে জমি কেনা, নামজারি ও বেদখল জমি উদ্ধার।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

আপনার অংশ কত, নিশ্চিত নন?

আমরা আপনার খতিয়ান, নকশা ও দলিল একসঙ্গে পড়ে নিশ্চিত করি কতটুকু জমি নিরাপদে বিক্রি, কেনা বা বাটোয়ারা করা যায়। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।