Skip to content

অর্পিত সম্পত্তি: ক-খ তফসিল ও ফেরত পাওয়ার উপায়

অর্পিত সম্পত্তি, যাকে অনেকে ভিপি সম্পত্তি বলেন, হলো ১৯৬৫ সালের "শত্রু সম্পত্তি" আইনে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং স্বাধীনতার পরও রেখে দেওয়া সম্পত্তি। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১ মালিক ও ওয়ারিশদের তা ফেরত পাওয়ার পথ তৈরি করেছে। এই গাইডে ক ও খ তফসিল, ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা, জমি তালিকাভুক্ত কি না যাচাইয়ের উপায় এবং তালিকাভুক্ত জমি কেনার ঝুঁকি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১ (২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত), ধারা ৭-১১, ১৬-১৯, ২৮কঅরতি রানী পাল বনাম সুদর্শন কুমার পাল, ৫৬ ডিএলআর (এডি) ৭৩
শেয়ার করুন
বাংলাদেশে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণের প্রতীক হিসেবে তালাবদ্ধ সরকারি ভবনের চিত্র
এক নজরে
  • এখন কেবল গেজেটে প্রকাশিত ক তফসিলের সম্পত্তিকেই অর্পিত ধরা যায়; গেজেটে না থাকলে অর্পিত দাবি করা যায় না।
  • ২০১৩ সালে খ তফসিল বাতিল হয়েছে; ওই সম্পত্তি কখনো অর্পিত তালিকাভুক্ত হয়নি বলে গণ্য।
  • ক তফসিলের দাবি অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে; বর্ধিত শেষ তারিখ ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩।
  • ক তফসিলভুক্ত সম্পত্তির বিক্রি, দান বা বন্ধক বাতিল ও ফলবিহীন। কেনার আগে গেজেট দেখুন।

এই গাইডে: অর্পিত সম্পত্তি কী বা কাকে বলে? · ক তফসিল ও খ তফসিল কী? ২০১৩ সালে যা বদলেছে · ক তফসিলভুক্ত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার উপায়: ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া · জমি অর্পিত সম্পত্তি কি না কীভাবে যাচাই করবেন (গেজেট তালিকা) · অর্পিত সম্পত্তি কেনা বা লিজ নেওয়ার ঝুঁকি

সংক্ষেপে উত্তর

অর্পিত সম্পত্তি হলো ১৯৬৫ সালের শত্রু সম্পত্তি আইন এবং পরে ১৯৭৪ সালের আইনের মাধ্যমে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসা সম্পত্তি। ২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১ একে সীমিত করেছে গেজেটে প্রকাশিত ক তফসিলে, যা সরকারের দখলে আছে। বাংলাদেশের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা মূল মালিক, ওয়ারিশ বা স্বার্থাধিকারী জেলার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারতেন; শেষ তারিখ ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩। খ তফসিল ২০১৩ সালে বাতিল হয়েছে, ওই সম্পত্তি কখনো অর্পিত ছিল না বলে গণ্য। আদালত আরও বলেছেন, ১৯৭৪ সালের ২৩ মার্চের পর কোনো সম্পত্তি বৈধভাবে অর্পিত করা যায়নি।

অর্পিত সম্পত্তি কী বা কাকে বলে?

১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকার শত্রু সম্পত্তি (তত্ত্বাবধান ও নিবন্ধন) আদেশ, ১৯৬৫ জারি করে। এর মাধ্যমে “শত্রু” হিসেবে গণ্য ব্যক্তিদের, মূলত যাঁরা ভারতে ছিলেন বা চলে গিয়েছিলেন, তাঁদের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। বাস্তবে এর সবচেয়ে বড় আঘাত পড়ে হিন্দু পরিবারগুলোর ওপর, যাঁদের অনেক আত্মীয় ও শরিক দেশেই থেকে গিয়েছিলেন।

স্বাধীনতার পর এই “শত্রু সম্পত্তি” ফেরত দেওয়া হয়নি। ১৯৭২ সালের একটি আদেশ ও ১৯৭৪ সালের দুটি আইনে তা অর্পিত সম্পত্তি নামে বাংলাদেশ সরকারের হাতে থেকে যায়। প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসক এর ব্যবস্থাপনা করেন, প্রায়ই একসনা লিজের মাধ্যমে।

আজকের দিনে আইনের দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:

  • ১৯৭৪ সালের সীমারেখা: অরতি রানী পাল বনাম সুদর্শন কুমার পাল মামলায় আপিল বিভাগ বলেছেন, ১৯৭৪ সালের মার্চে জরুরি আইনের অবসানের পর নতুন কোনো সম্পত্তি অর্পিত গণ্য করা যায় না। ২০২২ সালে আপিল বিভাগ আবারও ২৩ মার্চ ১৯৭৪-এর পর যেকোনো সম্পত্তি অর্পিত করাকে অবৈধ ঘোষণা করেন।
  • প্রত্যর্পণ আইন: অর্পিত সম্পত্তি মালিকদের ফেরত দিতে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১ পাস হয়। ২০০২, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালে এটি সংশোধিত হয়; ২০১১-২০১৩ সালের সংশোধনীতে গেজেট তালিকা ও দাবি নিষ্পত্তির ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়।

অর্পিত সম্পত্তি আর খাস জমি এক নয়। খাস জমি সাধারণ সরকারি জমি; অর্পিত সম্পত্তি ছিল ব্যক্তিমালিকানার সম্পত্তি, যা শত্রু সম্পত্তি আইনে নেওয়া হয়েছিল এবং আইন এখন তা ফেরত দিতে চায়।

ক তফসিল ও খ তফসিল কী? ২০১৩ সালে যা বদলেছে

২০১১ সালের সংশোধনীতে সরকারকে জেলা ও মৌজাভিত্তিক অর্পিত সম্পত্তির তালিকা দুটি তফসিলে গেজেটে প্রকাশ করতে বলা হয়।

তফসিলকী ছিলবর্তমান অবস্থা
ক তফসিলসরকারের দখল বা নিয়ন্ত্রণে থাকা অর্পিত সম্পত্তিবহাল। ফেরত কেবল ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে (আবেদনের শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩)।
খ তফসিলঅর্পিত হিসেবে তালিকাভুক্ত কিন্তু সরকারের দখলে নেই, সাধারণত ব্যক্তি দখলদার বা শরিকদের হাতে২০১৩ সালের দ্বিতীয় সংশোধনীতে (২৮ক ধারা) বাতিল।

২৮ক ধারায় বলা হয়েছে, খ তফসিল এমনভাবে বাতিল হবে যেন ওই সম্পত্তি কখনোই অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়নি। খ তফসিলের সম্পত্তি নিয়ে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে এবং চলমান মামলা ও আবেদন আপনা-আপনি নিষ্পত্তি হয়েছে। সাধারণ আইনে সরকার বা ব্যক্তির যে অধিকার আছে তা থাকছে, তাই সাবেক খ তফসিলের জমির স্বত্ব বিরোধ সাধারণ দেওয়ানি আদালতে যায়।

৯(৬) ধারাও সমান গুরুত্বপূর্ণ: গেজেটে প্রকাশিত তালিকায় না থাকলে কোনো সম্পত্তিকে অর্পিত গণ্য করা যাবে না। ভূমি অফিস বা কেউ আপনার জমিকে “ভিপি” বললে কিন্তু আপনার মৌজার ক তফসিলের গেজেটে তা না থাকলে, গেজেটের এন্ট্রি দেখাতে বলুন।

সাবেক খ তফসিলের জমির মালিকরা সাধারণত এসি ল্যান্ড অফিসে নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের আবেদন করেন। কিছু অফিস এখনো ডিসি অফিসের প্রত্যয়ন চায়। শুধু পুরোনো ভিপি নোটের কারণে নামজারি নামঞ্জুর হলে আইনি পরামর্শ নিন।

আগে গেজেট দেখুন: বাংলাদেশে অর্পিত সম্পত্তি বিষয়ে বার্তাসহ নেভি ব্যান্ড

ক তফসিলভুক্ত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার উপায়: ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া

কে দাবি করতে পারেন: মূল মালিক, তাঁর ওয়ারিশ বা স্বার্থাধিকারী (যিনি বৈধভাবে মালিকের স্বার্থ অর্জন করেছেন), যাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা।

  1. আবেদন: গেজেট প্রকাশের ৩০০ দিনের মধ্যে জেলার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে (যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ) আবেদন করতে হতো। পরে আইন সংশোধন করে শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
  2. শুনানি: ট্রাইব্যুনাল দাবিদার ও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য শোনেন; সংক্ষিপ্ত বর্ধিত সময়সহ ৩০০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা।
  3. আপিল: যেকোনো পক্ষ ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল ট্রাইব্যুনালে (জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ) আপিল করতে পারেন। তামাদি আইনে সময় বাড়ানোর সাধারণ সুযোগ এখানে নেই।
  4. বাস্তবায়ন: ডিক্রি ৪৫ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে যায়। সম্পত্তি সরকারের দখলে থাকলে জেলা প্রশাসক বুঝিয়ে দেন; অন্য কেউ দখলে থাকলে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের নোটিশ দিয়ে উচ্ছেদ করেন। এরপর রেকর্ড মালিকের নামে সংশোধন হয়।

সময়সীমা পার হয়ে গেছে? ট্রাইব্যুনালে নতুন আবেদন বন্ধ। বাকি পথগুলো সংকীর্ণ এবং ঘটনানির্ভর। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট একটি রিট মামলায় ক তালিকা থেকে জমি অবমুক্ত করেছেন; সেখানে ১৯৭৪ সালের ২৩ মার্চের পরে শুরু হওয়া ভিপি মামলার ভিত্তিতে তালিকাভুক্তি অবৈধ ধরা হয়, কারণ মালিকরা ধারাবাহিক দলিল, নামজারি, খাজনা ও দখল দেখিয়েছিলেন এবং সরকার কখনো জমির দখলে ছিল না। কোনো পদক্ষেপের আগে আইনজীবীকে ভিপি মামলার তারিখ, গেজেট এন্ট্রি ও আপনার কাগজপত্র দেখাতে হবে।

জমি অর্পিত সম্পত্তি কি না কীভাবে যাচাই করবেন (গেজেট তালিকা)

যে এলাকায় ভিপি মামলার ইতিহাস আছে, সেখানে জমি কেনা, ওয়ারিশি বা বণ্টনের আগে নিচের বিষয়গুলো দেখুন:

  • গেজেট তালিকা: ক তফসিল (এবং বাতিল খ তফসিল) জেলা ও মৌজাভিত্তিকভাবে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল। এর কপি ডিসি অফিসের অর্পিত সম্পত্তি বা রাজস্ব শাখা এবং এসি ল্যান্ড অফিসে থাকে। মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর দিয়ে খুঁজুন।
  • খতিয়ান: অর্পিত জমি প্রায়ই জেলা প্রশাসককে অর্পিত সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দেখিয়ে রেকর্ড হয়, অথবা ভিপি মামলা নম্বরসহ “ভিপি” লেখা থাকে। এসএ, আরএস ও সর্বশেষ বিএস খতিয়ান দেখুন।
  • লিজের রেকর্ড: ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জিজ্ঞেস করুন, ওই দাগে কারও ভিপি লিজ আছে কি না।
  • মামলা: ট্রাইব্যুনাল মামলা, আপিল বা রিট চলমান আছে কি না জেনে নিন এবং কোনো ডিক্রি থাকলে জাবেদা নকল তুলুন।

জমি ক তফসিলে থাকলে, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত ডিক্রি বা আদালতের আদেশে অবমুক্ত হয়ে রেকর্ড সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত কেনা নিরাপদ নয়। কেবল পুরোনো খ তফসিলে থাকলে আইনে ভিপি সমস্যা শেষ হয়েছে, তবে সাধারণ স্বত্ব যাচাই তবুও করতে হবে। বাকি যাচাইয়ের জন্য দেখুন জমি কেনার আগে করণীয়।

অর্পিত সম্পত্তি কেনা বা লিজ নেওয়ার ঝুঁকি

কেনা: আইনের ৮ ধারায় ক তফসিলভুক্ত সম্পত্তি আইন অনুযায়ী ফেরত না হওয়া পর্যন্ত এর বিক্রি, দান, বন্ধক বা অন্য যেকোনো হস্তান্তর বাতিল ও ফলবিহীন। রেজিস্ট্রি দলিল থাকলেও লাভ নেই; ৭ ধারায় তালিকাভুক্ত সম্পত্তিকে অর্পিত নয় দাবি করে সাধারণ আদালতে মামলা বা নামজারির আবেদনও নিষিদ্ধ। ক তফসিলের জমি কিনে অনেক ক্রেতা স্বত্বও পান না, সহজ প্রতিকারও পান না।

লিজ (একসনা লিজ): ফেরত না হওয়া পর্যন্ত ক তফসিলের সম্পত্তি জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং তিনি সাধারণত বছরভিত্তিক লিজ দিতে পারেন। ২০২৩ সালে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ জেলা প্রশাসকের লিজ দেওয়ার ক্ষমতা বহাল রাখেন এবং বলেন, অর্পিত সম্পত্তির বিরোধ ট্রাইব্যুনালেই চলবে। লিজগ্রহীতা:

  • কেবল লিজের মেয়াদে জমি ব্যবহারের অধিকার পান, মালিকানা নয়;
  • ট্রাইব্যুনাল মালিকের পক্ষে ডিক্রি দিলে জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য;
  • জমি বা লিজ বিক্রি করতে পারেন না; বছরের পর বছর লিজের টাকা দিলেও স্বত্ব তৈরি হয় না।

সরকার কখনো তালিকাভুক্ত সম্পত্তি বিক্রি করলে আইন প্রথম অগ্রাধিকার দিয়েছে উত্তরাধিকারসূত্রে সহ-অংশীদারকে, তারপর লিজসূত্রে দখলে থাকা ব্যক্তিকে।

ওয়ারিশদের জন্য বাস্তব শিক্ষা হলো সব কাগজ রেখে দেওয়া: পুরোনো দলিল, সিএস ও এসএ খতিয়ান, উত্তরাধিকারের কাগজ, খাজনার রসিদ এবং ভিপি লিজ বা মামলার কাগজ। দাবি, আপিল ও রেকর্ড সংশোধনে এগুলোই নির্ণায়ক। পরিবারের কারও ডিক্রি থাকলে জেলা প্রশাসক তা বাস্তবায়ন করেছেন এবং খতিয়ান সংশোধন হয়েছে কি না নিশ্চিত হোন।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
অর্পিত সম্পত্তির বিষয়ে আমরা যেভাবে সাহায্য করি
১

তালিকা যাচাই

আপনার দাগের জন্য ক ও খ তফসিলের গেজেট, খতিয়ান ও ভিপি মামলার রেকর্ড খুঁজি।

২

প্রতিকার নির্ণয়

ট্রাইব্যুনাল ডিক্রি, আপিল, রিট বা নামজারি, কোন পথ খোলা আছে তা জানাই।

৩

পদক্ষেপ

আবেদন, আপিল, রিট এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ডিক্রি বাস্তবায়ন।

৪

রেকর্ড ঠিক করা

রেকর্ড সংশোধন, নামজারি ও দখল পর্যন্ত কাজ শেষ করি।

গেজেট এন্ট্রি, ভিপি মামলা নম্বর, দলিল ও খতিয়ান থাকলে সঙ্গে আনুন।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

অর্পিত সম্পত্তি কি?

অর্পিত সম্পত্তি বা ভিপি সম্পত্তি হলো ১৯৬৫ সালের শত্রু সম্পত্তি আইনে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং স্বাধীনতার পর ১৯৭২ ও ১৯৭৪ সালের আইনে রেখে দেওয়া ব্যক্তিমালিকানার সম্পত্তি। জেলা প্রশাসক এর ব্যবস্থাপনা করেন। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১ মালিক ও ওয়ারিশদের ফেরত দেওয়ার বিধান করেছে।

অর্পিত সম্পত্তি খ তফসিল কি?

খ তফসিলে ছিল অর্পিত হিসেবে তালিকাভুক্ত কিন্তু সরকারের দখলে নেই এমন সম্পত্তি। ২০১৩ সালের দ্বিতীয় সংশোধনীর ২৮ক ধারায় তা বাতিল হয়েছে, যেন ওই সম্পত্তি কখনো অর্পিত তালিকাভুক্ত হয়নি। চলমান খ তফসিলের মামলা শেষ হয়েছে; স্বত্বের প্রশ্ন এখন সাধারণ দেওয়ানি আদালতে।

অর্পিত সম্পত্তি ক তফসিলভুক্ত তালিকা কোথায় পাব?

ক তফসিলের তালিকা জেলা ও মৌজাভিত্তিকভাবে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। ডিসি অফিস ও এসি ল্যান্ড অফিসে তা দেখা যায়; মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর দিয়ে খুঁজুন। আপনার জমি থাকলে এন্ট্রির সইমোহরী নকল নিন।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ কী?

এটি বাংলাদেশের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা মূল মালিক, ওয়ারিশ ও স্বার্থাধিকারীদের কাছে অর্পিত সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার আইন। ২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত আইনটি কেবল গেজেটভুক্ত ক তফসিলের সম্পত্তিতে প্রযোজ্য, জেলায় ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে এবং তালিকাভুক্ত সম্পত্তির হস্তান্তর বাতিল করেছে।

অর্পিত সম্পত্তি নামজারি করার নিয়ম কী?

ক তফসিলভুক্ত সম্পত্তি ট্রাইব্যুনালের ডিক্রিতে ফেরত না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তির নামে নামজারি হয় না; ডিক্রির পর জেলা প্রশাসক রেকর্ড সংশোধন করেন। সাবেক খ তফসিলের সম্পত্তি কখনো অর্পিত নয় বলে গণ্য, তাই সাধারণ স্বত্ব যাচাই সাপেক্ষে স্বাভাবিক নিয়মে নামজারির আবেদন করা যায়।

অর্পিত সম্পত্তি লিজ নেওয়ার নিয়ম কী?

ক তফসিলের সম্পত্তি জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডিসি অফিসের মাধ্যমে সাধারণত বছরভিত্তিক লিজ দেওয়া হয়। লিজে কেবল ব্যবহারের অধিকার মেলে, মালিকানা নয়; ট্রাইব্যুনাল মালিককে ফেরত দিলে লিজ শেষ। নতুন লিজ দেওয়া হচ্ছে কি না ডিসি অফিসে জেনে নিন।

অর্পিত সম্পত্তি কেনা কি নিরাপদ?

ক তফসিলে থাকলে নয়। ৮ ধারায় আইন অনুযায়ী ফেরত না হওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্ত সম্পত্তির বিক্রি, দান বা বন্ধক বাতিল ও ফলবিহীন, আর ক্রেতার পক্ষে সহজে মামলা করে তা ঠিক করাও যায় না। টাকা দেওয়ার আগে গেজেট, খতিয়ান ও ভিপি মামলার রেকর্ড দেখুন।

অর্পিত সম্পত্তির আবেদনের সময় পার হলে কি আর ফেরত পাওয়া যায়?

ট্রাইব্যুনালে নতুন আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩। বাকি পথ সংকীর্ণ। তালিকাভুক্তিই অবৈধ হলে, যেমন ১৯৭৪ সালের ২৩ মার্চের পর শুরু হওয়া ভিপি মামলা, হাইকোর্ট রিটে জমি অবমুক্ত করেছেন। আগে আইনজীবীকে কাগজপত্র দেখান।

জমি ও সম্পত্তি বিষয়ে আরও পড়ুন

নিরাপদে জমি কেনা, নামজারি ও বেদখল জমি উদ্ধার।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

আপনার জমি কি অর্পিত সম্পত্তির তালিকায়?

মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর পাঠান; তালিকা ও আপনার করণীয় আমরা যাচাই করে জানাব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।