ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩: কোন অপরাধে কী শাস্তি, কোথায় মামলা
জমি দখল, জাল দলিল, টাকা নিয়ে জমি বুঝিয়ে না দেওয়া, এগুলো এখন আলাদা ফৌজদারি অপরাধ। এই গাইডে আইনের প্রতিটি অপরাধ, শাস্তি, কোন আদালতে বিচার হয় এবং দেওয়ানি মামলার সঙ্গে এর সম্পর্ক সহজ ভাষায় দেওয়া হলো।
- ভূমি প্রতারণা (ধারা ৪) ও জালিয়াতি (ধারা ৫): সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড, অজামিনযোগ্য।
- অবৈধ দখল, বিক্রিত জমি বুঝিয়ে না দেওয়া, মাটির উপরিস্তর কাটা ইত্যাদি: সর্বোচ্চ ২ বছর ও অর্থদণ্ড।
- সব অপরাধ আমলযোগ্য; বিচার করেন প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ১৮০ দিনে শেষ করার বিধান।
- আদালতের আদেশ ছাড়া দখলচ্যুত হলে ধারা ৮ অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দখল ফেরতের আবেদন করা যায়।
এই গাইডে: ভূমি অপরাধ আইনে কোন কাজগুলো অপরাধ? · ভূমি অপরাধের শাস্তি: অপরাধ, ধারা ও দণ্ড · অপরাধ কি আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য? বিচার কোন আদালতে? · ভূমি অপরাধ আইনে মামলা করার নিয়ম · মিথ্যা মামলা ও দেওয়ানি মামলার সঙ্গে সম্পর্ক
সংক্ষেপে উত্তর
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৩৬ নং আইন) ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে কার্যকর। এই আইনে ভূমি প্রতারণা ও জাল দলিল তৈরির শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। অবৈধ দখল, টাকা নিয়ে জমি বুঝিয়ে না দেওয়া, সীমানা নষ্ট করা ও কৃষিজমির উপরিস্তরের মাটি কাটার শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছর ও অর্থদণ্ড। সব অপরাধ আমলযোগ্য, তাই থানায় সরাসরি মামলা নেওয়া যায়। বিচার করেন প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। আদালতের আদেশ ছাড়া কাউকে জমি থেকে উচ্ছেদ করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দখল ফিরিয়ে দিতে পারেন। তবে জমির মালিক কে, তা এই আইন ঠিক করে না; সেটি দেওয়ানি আদালতের বিষয়।
ভূমি অপরাধ আইনে কোন কাজগুলো অপরাধ?
২০২৩ সালের আগে জমি দখল বা জাল দলিলের মামলা হতো দণ্ডবিধির সাধারণ ধারায় (প্রতারণা, জালিয়াতি, অনধিকার প্রবেশ)। নতুন আইনে জমি-সংক্রান্ত আলাদা অপরাধ ও দ্রুত দখল ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধারা ৩ অনুযায়ী এই আইন অন্য আইনের অতিরিক্ত, তাই দণ্ডবিধির মামলা ও দেওয়ানি মামলার পথ খোলা থাকে।
প্রধান অপরাধগুলো:
- ভূমি প্রতারণা (ধারা ৪): অন্যের জমি নিজের বলে দেখানো, হস্তান্তরের সময় তথ্য গোপন, নিজের অংশের বেশি জমি বিক্রি, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, দলিলে মিথ্যা বিবরণ, কিংবা ভূমি বা জরিপ কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়া।
- ভূমি জালিয়াতি (ধারা ৫): জাল দলিল বা দলিলের অংশ তৈরি, অন্যের নামে স্বাক্ষর বা সিল দেওয়া, সম্পাদিত দলিলে পরে কাটাকাটি বা পরিবর্তন, অথবা জোর করে দলিলে সই নেওয়া।
- অবৈধ দখল (ধারা ৭): সর্বশেষ খতিয়ান, উত্তরাধিকার, বৈধ দলিল বা আদালতের আদেশ ছাড়া জমি দখলে রাখা, কিংবা আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া বৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করা।
- বিক্রিত জমির দখল না দেওয়া (ধারা ৯): পুরো দাম নিয়েও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া ক্রেতাকে দখল বুঝিয়ে না দেওয়া।
- সীমানা, জমি, গাছ বা ফসলের ক্ষতি (ধারা ১০) এবং সরকারি বা জনসাধারণের ব্যবহার্য জমিতে অপরাধ (ধারা ১১ ও ১২)।
- উপরিস্তরের মাটি (ধারা ১৩): জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির উপরিস্তর কাটা, অথবা রেকর্ডীয় মালিকের সম্মতি ছাড়া কৃষিজমি বালু বা মাটি দিয়ে ভরাট করা।
এসব অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা দিলেও (ধারা ১৬) একই শাস্তি। নদী থেকে বালু উত্তোলন মূলত আলাদা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে নিয়ন্ত্রিত।
ভূমি অপরাধের শাস্তি: অপরাধ, ধারা ও দণ্ড
নিচের ছকে প্রকাশিত আইনের দণ্ড সংক্ষেপে দেওয়া হলো। প্রতিটি ক্ষেত্রে শাস্তি “সর্বোচ্চ” নির্দিষ্ট মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড; অর্থদণ্ডের নির্দিষ্ট অঙ্ক আইনে বলা নেই।
| অপরাধ | ধারা | শাস্তি |
|---|---|---|
| ভূমি প্রতারণা (মিথ্যা দাবি, তথ্য গোপন, অংশের বেশি বিক্রি, ভুয়া পরিচয়) | ধারা ৪ | সর্বোচ্চ ৭ বছর ও অর্থদণ্ড |
| জাল দলিল বা ভূমি-দলিল জালিয়াতি | ধারা ৫ | সর্বোচ্চ ৭ বছর ও অর্থদণ্ড |
| অবৈধ দখল বা আদেশ ছাড়া উচ্ছেদ | ধারা ৭ | সর্বোচ্চ ২ বছর ও অর্থদণ্ড |
| পুরো দাম নিয়ে জমির দখল না দেওয়া | ধারা ৯ | সর্বোচ্চ ২ বছর ও অর্থদণ্ড |
| সীমানা চিহ্ন, জমি, গাছ বা ফসলের ক্ষতি | ধারা ১০ | সর্বোচ্চ ২ বছর ও অর্থদণ্ড |
| সরকারি বা জনসাধারণের জমি দখল বা স্থাপনা নির্মাণ | ধারা ১১ | সর্বোচ্চ ২ বছর ও অর্থদণ্ড |
| এমন জমি অবৈধ ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন | ধারা ১২ | সর্বোচ্চ ২ বছর ও অর্থদণ্ড |
| কৃষিজমির উপরিস্তর কাটা বা সম্মতি ছাড়া ভরাট | ধারা ১৩ | সর্বোচ্চ ২ বছর ও অর্থদণ্ড |
| নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দখল-ফেরত আদেশ অমান্য | ধারা ১৫ | সর্বোচ্চ ২ বছর ও অর্থদণ্ড |
| অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা | ধারা ১৬ | মূল অপরাধের সমান |
| দণ্ডিত হওয়ার পর একই অপরাধ আবার করা | ধারা ১৭ | দ্বিগুণ দণ্ড |
বিচারিক আদালত আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের আদেশ দিতে পারেন এবং দখল ফেরতের বিষয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে পারেন (ধারা ২০)।
ধারা ১৩-এর পাশে এখন আরেকটি আইন আছে। ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৬ (২০২৬ সনের ১২ নং অধ্যাদেশ, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬) দেশের সব জমিকে ১৮টি জোনে ভাগ করেছে; অনুমতি ছাড়া জোন বদল বা কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাট এখন অপরাধ, শাস্তি ছয় মাস বা ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে বিশেষ কৃষি অঞ্চল নষ্ট করলে তিন বছর বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। মোবাইল কোর্ট ঘটনাস্থলেই বিচার করতে পারে। ভরাট, শ্রেণি বদল বা মাটি কাটার অভিযোগে দুটি আইনই সামনে আসবে ধরে নিন।
অপরাধ কি আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য? বিচার কোন আদালতে?
ধারা ১৯-এ সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর আছে:
- আমলযোগ্য: এই আইনের সব অপরাধ আমলযোগ্য। পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্বানুমতি ছাড়াই এজাহার নিয়ে তদন্ত করতে পারে।
- জামিন: ধারা ৪ (প্রতারণা) ও ধারা ৫ (জালিয়াতি) অজামিনযোগ্য, অর্থাৎ জামিন আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করে। বাকি সব অপরাধ জামিনযোগ্য।
- বিচারিক আদালত: প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
- সময়: আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা বলা আছে। বাস্তবে দেরি হয়, আর সময় পেরোলেও মামলা শেষ হয়ে যায় না।
- মোবাইল কোর্ট: বেশির ভাগ অপরাধ মোবাইল কোর্টে বিচার করা যায়, তবে ধারা ৪, ৫, ১৫ ও ১৭-এর অপরাধ নয়।
তদন্ত, বিচার ও আপিলে সাধারণ ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য। ধারা ২১-এ সাক্ষীর সুরক্ষার বিধানও আছে।
ভূমি অপরাধ আইনে মামলা করার নিয়ম
এখানে দুটি ফৌজদারি পথ আর একটি দখল-ফেরতের পথ আছে:
- থানায় এজাহার। অপরাধ আমলযোগ্য হওয়ায় জমি যে থানার এলাকায়, সেখানকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত এজাহার দিতে পারেন। সঙ্গে দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও সর্বশেষ খাজনার রসিদের কপি দিন।
- আদালতে নালিশি মামলা। থানা মামলা না নিলে বা আপনি চাইলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে নালিশি দরখাস্ত দিন। ম্যাজিস্ট্রেট আপনার জবানবন্দি নিয়ে তদন্তের আদেশ দিতে পারেন। পার্থক্য জানতে পড়ুন জিডি, এজাহার না নালিশি মামলা।
- দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৮)। আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া উচ্ছেদ হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করুন। উভয় পক্ষকে শুনে ও সরেজমিনে তদন্ত করে ৩ মাসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির বিধান আছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে এই আবেদন নিষ্পত্তি করবেন, তা এখন ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪-এ নির্ধারিত আছে।
একটি সীমা মনে রাখুন: ধারা ৮(৭) অনুযায়ী একই ঘটনায় দখল উদ্ধারের দেওয়ানি মামলা চলমান থাকলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নেবেন না, যদিও দেওয়ানি আদালত বিষয়টি তাঁর কাছে পাঠাতে পারেন। বেদখল জমি ফেরতের ধাপে ধাপে নিয়ম পাবেন বেদখল জমি উদ্ধারের উপায় গাইডে।
মিথ্যা মামলা ও দেওয়ানি মামলার সঙ্গে সম্পর্ক
মিথ্যা অভিযোগ। প্রকাশিত আইনে মিথ্যা ভূমি-অপরাধ মামলার জন্য আলাদা কোনো ধারা নেই। জেনেশুনে মিথ্যা মামলা করলে সাধারণ আইন প্রযোজ্য: দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মিথ্যা অভিযোগের শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছর, গুরুতর অপরাধের মিথ্যা অভিযোগে সর্বোচ্চ ৭ বছর। ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০ ধারায় মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। বিস্তারিত: মিথ্যা মামলা হলে করণীয়।
মালিকানা ঠিক করে দেওয়ানি আদালত। ফৌজদারি আদালত দেখে অপরাধ হয়েছে কি না। জমির মালিক কে, দলিল বাতিল হবে কি না বা খতিয়ান সংশোধন, এসব ঘোষণা দেন না। এর জন্য স্বত্ব ঘোষণা, দলিল বাতিল, বাটোয়ারা বা দখল উদ্ধারের দেওয়ানি মামলা লাগবে। অনেকে দুটোই করেন: অন্যায় থামাতে ফৌজদারি মামলা, আর মালিকানা নিষ্পত্তিতে দেওয়ানি মামলা।
ধারা ৭ নিয়ে সাবধান। এখানে বৈধ দখলকে সর্বশেষ খতিয়ান, উত্তরাধিকার, বৈধ দলিল বা আদালতের আদেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কাগজ ছাড়া বহু বছর ভোগদখলে থাকা পরিবার বা অবণ্টিত জমির শরিকরা ধারা ৭-এ মামলা করার বা জবাব দেওয়ার আগে পরামর্শ নিন। নতুন এই ধারার প্রয়োগ আদালতে এখনো গড়ে উঠছে।
কাগজ গুছিয়ে নিন
দলিল, খতিয়ান, নামজারি, খাজনার রসিদ, ছবি ও সাক্ষীর নাম।
সঠিক পথ বাছুন
অপরাধের জন্য এজাহার বা নালিশি মামলা; দখলের জন্য ধারা ৮-এর আবেদন।
দেওয়ানি মামলা আছে কি না দেখুন
একই ঘটনায় দখলের দেওয়ানি মামলা চললে ধারা ৮-এর পথ বন্ধ।
মালিকানা আলাদাভাবে নিষ্পত্তি করুন
মালিকানা নিয়ে বিরোধে স্বত্ব ঘোষণা বা দলিল বাতিলের দেওয়ানি মামলা করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ কী?
এটি ২০২৩ সনের ৩৬ নং আইন, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে কার্যকর। এতে ভূমি প্রতারণা, জাল দলিল, অবৈধ দখল, টাকা নিয়ে জমি না বুঝিয়ে দেওয়া ও কৃষিজমির মাটি কাটাকে অপরাধ করা হয়েছে এবং আদেশ ছাড়া উচ্ছেদ হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দখল ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
জাল দলিলের শাস্তি কত বছর?
ভূমি অপরাধ আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী জাল দলিল তৈরি, দলিলে পরিবর্তন বা জোর করে দলিলে সই নেওয়ার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। অপরাধটি আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য। দণ্ডবিধির জালিয়াতির ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে।
জমি দখলের শাস্তি কী?
ধারা ৭ অনুযায়ী বৈধ ভিত্তি ছাড়া জমি দখলে রাখা, বা আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া বৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করার শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। এটি জামিনযোগ্য অপরাধ।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে মামলা কোথায় করব?
জমি যে থানার এলাকায়, সেখানে এজাহার দিতে পারেন, অথবা জুডিসিয়াল বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা করতে পারেন। দখল ফেরত চাইলে ধারা ৮ অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে হয়।
ভূমি অপরাধ আইনে কি জামিন পাওয়া যায়?
ধারা ৪ (প্রতারণা) ও ধারা ৫ (জালিয়াতি) অজামিনযোগ্য, তাই জামিন আদালতের বিবেচনায়। অন্য সব অপরাধ জামিনযোগ্য। সব অপরাধই আমলযোগ্য, অর্থাৎ পুলিশ সরাসরি মামলা নিতে পারে।
পুরো টাকা নিয়ে জমি বুঝিয়ে না দিলে কী করব?
ধারা ৯ অনুযায়ী পুরো দাম নিয়ে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া ক্রেতাকে দখল না দেওয়া অপরাধ, শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছর ও অর্থদণ্ড। এর পাশাপাশি দখলের জন্য দেওয়ানি মামলার পথও খোলা আছে।
নতুন আইনে বেদখল জমি ফেরত পেতে কত দিন লাগে?
ধারা ৮ অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবেদন পাওয়ার ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি ও প্রয়োজনে দখল ফিরিয়ে দেবেন। বাস্তবে দেরি হতে পারে, আর একই ঘটনায় দখলের দেওয়ানি মামলা চললে এই পথ ব্যবহার করা যায় না।
ভূমি অপরাধ আইনের বিধিমালা কি হয়েছে?
আইনের ধারা ৮ ও ১৪-তে বিধিমালার কথা আছে। বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত দখল ফেরতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার পদ্ধতি এবং সরকারি জমিতে ১৯৭০ সালের অধ্যাদেশ প্রযোজ্য। বিধিমালা জারি হয়েছে কি না, সর্বশেষ গেজেট দেখে নিশ্চিত হোন।
জমি ও সম্পত্তি বিষয়ে আরও পড়ুন
নিরাপদে জমি কেনা, নামজারি ও বেদখল জমি উদ্ধার।
জমি দখল বা জাল দলিলের শিকার?
কাগজপত্র পাঠান, ২০২৩ সালের আইনের কোন পথ আপনার ক্ষেত্রে উপযুক্ত তা আমরা জানাব। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।

মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।