Skip to content

শ্রম আইনে মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও ছুটি: ১২০ দিন, কে যোগ্য, কীভাবে পরিশোধ, আর ২০২৫–২৬-এর সংশোধনের পরে নিয়োগকর্তার দায়

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর চতুর্থ অধ্যায় (ধারা ৪৫ থেকে ৫০) ছয় মাসের চাকরির প্রতিটি নারী শ্রমিককে সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয়, প্রসবের পরের আট সপ্তাহে নিয়োগকর্তাকে তাকে কাজে লাগাতে নিষেধ করে, আর জন্মের আশপাশে বরখাস্ত থেকে রক্ষা করে। ২০২৫-এর অধ্যাদেশ ও ২০২৬-এর আইন ছুটি ১১২ দিন (আগে আট সপ্তাহ ও পরে আট) থেকে ১২০ দিনে তুলেছে, যেমন জানা যায় সম্ভাব্য তারিখের ষাট দিন আগে ও ষাট দিন পরে, আর নোটিশ ও পরিশোধের সময় সেই অনুযায়ী সরিয়েছে; ছয় মাসের যোগ্যতাকাল আর তৃতীয় জীবিত সন্তানে সুবিধা না দেওয়ার নিয়ম বহাল। সুবিধা নিয়োগকর্তা নগদে, ব্যাংকে বা ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারে দেন, গর্ভধারণ ও প্রসবের প্রমাণের বিপরীতে দুই কিস্তিতে, বিধি ১৬-এ মাসিক মজুরি ভাগ ২৬ হিসাবে নারীর গড় দৈনিক মজুরিতে। দায় আইনের আওতার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের, আকার যা-ই হোক, রাষ্ট্রীয় ফেরত নেই, আর না দেওয়া শ্রম আদালতের দাবি ও অপরাধ দুটোই। এই গাইড কে যোগ্য, ছুটি ও তার ভাগ, হিসাব, নোটিশ ও প্রমাণ, সুরক্ষা আর নিয়োগকর্তা যে কাগজ রাখেন তা দেখায়; হিসাবযন্ত্র অঙ্ক করে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬, চতুর্থ অধ্যায়: ধারা ৪৫ (নির্দিষ্ট সময়ে নারীর কাজ নিষিদ্ধ), ধারা ৪৬ (মাতৃত্ব সুবিধার অধিকার ও দায়), ধারা ৪৭ (পরিশোধের পদ্ধতি), ধারা ৪৮ (পরিমাণ), ধারা ৪৯ (মৃত্যুতে পরিশোধ), ধারা ৫০ (অবসানে বিধিনিষেধ); আওতায় ধারা ২(৬৫) ও ১(৪); ২০২৫-এর অধ্যাদেশ ও শ্রম (সংশোধন) আইন ২০২৬-এ সংশোধিতবাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫, বিধি ১৬ (গড় মজুরির হিসাব, ২০২২-এ সংশোধিত: মাসিক মজুরি ÷ ২৬) ও নোটিশ ও মনোনয়নের ফরম; বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯ (জোনে ১৬ সপ্তাহ)১২০ দিনের অঙ্ক ও ৬০/৬০ ভাগ, ৬০ দিনের নোটিশ ও পরিশোধের সময় আর ব্যাংকে পরিশোধের বিধান ২০২৫-এর অধ্যাদেশ ও ২০২৬-এর আইন থেকে যেমন জানা যায়; উপরের তারিখে গেজেট পাঠ্য পড়া যায়নি আর সংশোধনের আগের অঙ্ক পাশে দেওয়া
শেয়ার করুন
বাংলাদেশে নিয়োগকর্তার মাতৃত্ব সুবিধার দায়ের জন্য চিহ্নিত ক্যালেন্ডার, বেতনের খাম, শিশুর জুতা ও ভাঁজ করা কম্বল
এক নজরে
  • প্রাপ্যতা (ধারা ৪৬): প্রসবের অব্যবহিত আগে অন্তত ছয় মাস নিয়োগকর্তার কাছে কাজ করা নারী শ্রমিকের সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি; এখন ১২০ দিন (যেমন জানা যায় সম্ভাব্য তারিখের ষাট দিন আগে ও ষাট পরে; আগে আট ও আট সপ্তাহে ১১২ দিন); সেই সময়ে দুই বা তার বেশি জীবিত সন্তান থাকলে সুবিধা নেই, তবে প্রাপ্য অন্য ছুটি নেওয়া যায়।
  • পরিমাণ (ধারা ৪৮; বিধি ১৬): দৈনিক গড় মজুরি, মাসিক মোট মজুরি ÷ ২৬ হিসাবে (আইনের নিজের সূত্র নোটিশের আগের তিন মাসের মোট মজুরি ÷ প্রকৃত কর্মদিবস), পুরো সময়ের জন্য; মজুরি মানে মোট, শুধু মূল নয়; গর্ভধারণের প্রমাণের (প্রথম অর্ধেক) ও প্রসবের প্রমাণের (দ্বিতীয় অর্ধেক) তিন কর্মদিবসে কিস্তিতে, নগদ, ব্যাংক বা ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারে।
  • নিষেধ ও সুরক্ষা: প্রসবের পরের আট সপ্তাহে কাজ নয় (ধারা ৪৫(১)); আগের বা পরের দশ সপ্তাহে কষ্টকর কাজ, দীর্ঘ দাঁড়ানো বা স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর কাজ নয় (ধারা ৪৫(৩)); প্রসবের ছয় মাস আগে বা আট সপ্তাহ পরের মধ্যে যথেষ্ট কারণ ছাড়া অব্যাহতি বা বরখাস্তের নোটিশ তাকে সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে না (ধারা ৫০), আর শ্রম আদালত সেই সময়ের বরখাস্তকে অনুমানত ছদ্মবেশী ধরে।
  • পদ্ধতি (ধারা ৪৭): মনোনীতসহ সম্ভাব্য তারিখের মৌখিক বা লিখিত নোটিশ, এখন ষাট দিন আগের মধ্যে (ছিল আট সপ্তাহ); নোটিশ না দিলে প্রসবের সাত দিনে; তিন মাসে প্রমাণ; মৃত্যুতে শিশুর যত্ন নেওয়া ব্যক্তি বা মনোনীতকে পরিশোধ (ধারা ৪৯)। না দিলে: ধারা ৩৩ বা ১৩২-এ শ্রম আদালতের দাবি, ২০২৬-এর আইনে বাড়ানো ধারা ৩০৭-এর শাস্তি, আর ক্রেতার অডিটে ক্রিটিক্যাল ফাইন্ডিং।

এই গাইডে: কে যোগ্য, কত দিনের · পরিমাণ: ধারা ৪৮ ও বিধি ১৬-এ গড় মজুরি · ধারা ৪৭-এ নোটিশ, প্রমাণ ও পরিশোধ · বরখাস্ত থেকে সুরক্ষা ও ধারা ৫০-এর অনুমান · পরিদর্শক ও অডিটর কী দেখেন · নিয়োগকর্তার কাজের নীতি

সংক্ষেপে উত্তর

তিনটি প্রশ্ন দাবি ঠিক করে। প্রসবের অব্যবহিত আগে কি তিনি আপনার কাছে ছয় মাস কাজ করেছেন? ধারা ১৪-এ অবিচ্ছিন্ন চাকরি, তাই কয়েক দিনের বিরতি তা নষ্ট করে না; হ্যাঁ হলে তিনি যোগ্য। তার কি ইতিমধ্যে দুই বা তার বেশি জীবিত সন্তান আছে? হ্যাঁ হলে সুবিধা নেই, তবে প্রাপ্য ছুটি নেওয়া যায়; এক বা শূন্য হলে সুবিধা প্রদেয়। তার গড় দৈনিক মজুরি কত? বিধি ১৬-এ মাসিক মোট মজুরি ভাগ ২৬; ১২০ দিয়ে গুণ করুন আর অর্ধেক তিনি গর্ভধারণের প্রমাণ দেওয়ার তিন কর্মদিবসে ও বাকিটা প্রসবের প্রমাণের তিন কর্মদিবসে দিন, হিসাব থাকলে ব্যাংকে। এর চারপাশে এমন দায় যা তার চাওয়ার ওপর নির্ভর করে না: প্রসবের পরের আট সপ্তাহে তাকে কাজ করতে দেবেন না; দুই দিকের দশ সপ্তাহে ভারী বা দাঁড়ানো কাজ থেকে সরান; জন্মের ছয় মাস আগে বা আট সপ্তাহ পরে অব্যাহতি বা বরখাস্তের নোটিশ দেবেন না যদি না এর সঙ্গে সম্পর্কহীন কারণ প্রমাণ করতে পারেন, কারণ ধারা ৫০ তার সুবিধা রক্ষা করে আর শ্রম আদালত সময়টাকেই কারণ ধরবে। তারিখ ও টাকায় হিসাবযন্ত্র ব্যবহার করুন, নোটিশ, মনোনয়ন ফরম, প্রমাণ ও পরিশোধের ভাউচার ফাইলে রাখুন, আর ২০২৬-এর সংশোধনগুলো কীভাবে মেলে তাতে নিয়োগকর্তার জন্য শ্রম আইন গাইড পড়ুন।

মাতৃত্ব সুবিধার হিসাবযন্ত্র

কে যোগ্য, কত দিনের

বিষয়নিয়মধারা
কেআইনের আওতার প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি নারী শ্রমিক; ধারা ২(৬৫)-এর ব্যবস্থাপনা ব্যতিক্রম প্রযোজ্য, তাই নারী ম্যানেজারের মাতৃত্বকালীন ছুটি চুক্তি ও চাকরির বিধিমালার বিষয়, যদিও বেশিরভাগ নিয়োগকর্তা একই শর্ত প্রয়োগ করেনধারা ৪৬(১), ২(৬৫)
চাকরিপ্রসবের দিনের অব্যবহিত আগে অন্তত ছয় মাস, ধারা ১৪-এ অবিচ্ছিন্ন চাকরি হিসাবেধারা ৪৬(২)
সন্তানপ্রসবের সময় দুই বা তার বেশি জীবিত সন্তান থাকলে সুবিধা নেই; প্রাপ্য অন্য ছুটি নেওয়া যায়ধারা ৪৬(৩)
দৈর্ঘ্য১২০ দিন (যেমন জানা যায়: সম্ভাব্য তারিখের ষাট দিন আগে ও ষাট পরে; আগে আট ও আট সপ্তাহ, ১১২ দিন); প্রসবের পরে নোটিশ দিলে পুরো সময় প্রসবোত্তর চলে বলে জানা যায়ধারা ৪৬(১)
প্রসবের পরে কাজ নয়প্রসবের পরের আট সপ্তাহে নিয়োগকর্তা জেনেশুনে তাকে কাজে লাগাতে পারেন না, আর তিনি সেই সময়ে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন নাধারা ৪৫(১)–(২)
হালকা কাজনোটিশ দিলে বা নিয়োগকর্তা জানলে সম্ভাব্য প্রসবের আগের বা পরের দশ সপ্তাহে কষ্টকর কাজ, দীর্ঘ দাঁড়ানো বা স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর কাজ নয়ধারা ৪৫(৩)
জোনইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯: জোনের প্রতিষ্ঠানে ষোলো সপ্তাহ, সমান্তরালে সংশোধিত নয়ইপিজেড আইন

ছয় মাসের যোগ্যতা প্রসবের দিন পর্যন্ত মাপা, ছুটি শুরুর নয়, তাই সম্ভাব্য তারিখের সাত মাস আগে যোগ দিয়ে আগে প্রসব করা নারী কম পড়তে পারেন; নিয়োগকর্তার উচিত চাকরি প্রকৃত তারিখ পর্যন্ত মাপার অবস্থান নেওয়া ও তাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া। গর্ভপাত ও মৃত সন্তান প্রসব চর্চায় ধারা ৪৬-এর বদলে অসুস্থতার ছুটি ও ধারা ৪৫-এর স্বাস্থ্য বিধানে দেখা হয়; আইন “প্রসব” সংজ্ঞায়িত করে না, আর নিয়োগকর্তারা সাধারণত সপ্তম মাসের পরে মৃত সন্তান প্রসবে ছুটি দেন। দত্তকে বিধিবদ্ধ ছুটি নেই। সরকারি কর্মচারীদের সরকারি বিধিতে ১৮০ দিন, যা দাবি সত্ত্বেও সংশোধন বেসরকারি খাতে বাড়ায়নি।

পরিমাণ: ধারা ৪৮ ও বিধি ১৬-এ গড় মজুরি

ধারা ৪৮ সুবিধা দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক গড় মজুরিতে ঠিক করে, যেমন প্রযোজ্য, নগদে প্রদেয়, নোটিশের অব্যবহিত আগের তিন মাসে অর্জিত মোট মজুরিকে সেই সময়ে তার প্রকৃত কর্মদিবস দিয়ে ভাগ করে গড় হিসাব। ২০২২-এ সংশোধিত ২০১৫-এর বিধিমালার বিধি ১৬ একে মাসিক মজুরি ভাগ ২৬-এ সরল করে, আর ২০২৫-এর অধ্যাদেশ আইনে একই সূত্র নিয়েছে বলে জানা যায়; দুটো ভিন্ন হলে নিয়োগকর্তার উচিত বেশিটি দেওয়া ও কারণ লিপিবদ্ধ করা। ভিত্তিতে তিনটি কথা। এই উদ্দেশ্যে মজুরি ধারা ২(৪৫)-এর সংজ্ঞা: অর্থে সব পারিশ্রমিক, যাতে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও খাদ্য ভাতা ও মহার্ঘ ভাতা পড়ে, আর নিয়োগকর্তার প্রভিডেন্ট ফান্ড চাঁদা, ভ্রমণ ভাতা ও গ্র্যাচুইটি বাদ; শুধু মূলে হিসাব করা সুবিধা কম। তিন মাসে অর্জিত ওভারটাইম ধারা ৪৮-এর হিসাবে পড়ে কারণ তা সেই সময়ে অর্জিত মজুরি; বিধি ১৬-এর সূত্রে চর্চা ভিন্ন আর রক্ষণশীল পথ গড় অন্তর্ভুক্ত করা। ছুটির সময়ে পড়া উৎসব বোনাস সাধারণভাবে প্রদেয় কারণ তিনি চাকরিতে থাকেন। ছুটির সময়ে প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট তার তারিখে কার্যকর। সুবিধা কর্তনের উদ্দেশ্যে মজুরি, তাই তার আয় করযোগ্য হলে উৎসে আয়কর প্রযোজ্য আর নিয়োগকর্তার সমান অংশসহ তার নিজের প্রভিডেন্ট ফান্ড চাঁদা চলে। কোনো সীমা নেই, রাষ্ট্রীয় তহবিল নেই, ফেরত নেই; খরচ নিয়োগকর্তার, যে কারণে শ্রম আদালত এত ধারা ৫০-এর মামলা দেখে।

ধারা ৪৭-এ নোটিশ, প্রমাণ ও পরিশোধ

ধাপআইন কী চায়সময় (সংশোধিত, আগের নিয়মসহ)
গর্ভধারণের নোটিশনিয়োগকর্তাকে মৌখিক বা লিখিত নোটিশ যে তিনি প্রসবের প্রত্যাশা করেন, মারা গেলে কাকে পরিশোধ হবে তার নাম (মনোনীত); নিয়োগকর্তা নিবন্ধিত চিকিৎসকের সনদ চাইতে পারেনসম্ভাব্য তারিখের ষাট দিন আগের মধ্যে (আগে আট সপ্তাহের মধ্যে); আগে নোটিশ না দিলে প্রসবের সাত দিনে
প্রথম কিস্তিনিবন্ধিত চিকিৎসকের গর্ভধারণ সনদ দেখালে প্রসবপূর্ব সময়ের (ষাট দিন) সুবিধাসনদের তিন কর্মদিবসে
দ্বিতীয় কিস্তিপ্রসবের প্রমাণ (জন্মসনদ, হাসপাতালের ছাড়পত্র বা সনদ) দেখালে প্রসবোত্তর সময়ের (ষাট দিন) সুবিধাপ্রমাণের তিন কর্মদিবসে
প্রসবের পরে নোটিশপ্রসবের প্রমাণে পুরো সুবিধাপ্রমাণের তিন কর্মদিবসে; পুরো ১২০ দিন তখন জন্মের পরে চলে
প্রমাণের সময়সীমাপ্রসবের প্রমাণ দাখিলপ্রসবের তিন মাসে
মাধ্যমমূল পাঠ্যে নগদ; ২০২৫-এর অধ্যাদেশ ব্যাংক ট্রান্সফার ও ইলেকট্রনিক পরিশোধ অনুমোদন করে বলে জানা যায়—
মৃত্যুছুটিকালে মারা গেলে পুরো সময়ের সুবিধা শিশুর যত্ন নেওয়া ব্যক্তিকে, নয়তো মনোনীত বা আইনি প্রতিনিধিকে; প্রসবের আগে মারা গেলে মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত সুবিধাধারা ৪৯

নিয়োগকর্তার উচিত ছুটি ও দুই কিস্তির সম্ভাব্য তারিখসহ লিখিতভাবে নোটিশের প্রাপ্তিস্বীকার করা, কারণ তিন কর্মদিবসের ঘড়ি প্রমাণ থেকে চলে আর সনদ কবে দেওয়া হয়েছে তার বিতর্কই ধারা ৩৩-এর অভিযোগের সাধারণ ভিত্তি। চিকিৎসা সনদ যেকোনো নিবন্ধিত চিকিৎসকের হতে পারে; নিয়োগকর্তা চাইতে পারেন কিন্তু নিজের ডাক্তারে জোর করতে পারেন না, আর কাজে ফেরার অঙ্গীকারের শর্তে পরিশোধ করতে পারেন না।

শ্রম আইনে বাংলাদেশে মাতৃত্ব সুবিধা: ২০২৬-এর সংশোধনের পরে ১২০ দিন, ছয় মাসের চাকরি, দুই সন্তানের নিয়ম, গড় মজুরি ÷ ২৬, দুই কিস্তি, ধারা ৫০-এর সুরক্ষা — বিডি অ্যাডভোকেসি

বরখাস্ত থেকে সুরক্ষা ও ধারা ৫০-এর অনুমান

ধারা ৫০ বলে প্রসবের ছয় মাস আগে বা আট সপ্তাহ পরের মধ্যে যথেষ্ট কারণ ছাড়া নারীকে অব্যাহতি, বরখাস্ত বা অপসারণের নোটিশ বা আদেশ দিলে তিনি অন্যথায় প্রাপ্য মাতৃত্ব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন না। ধারাটি বরখাস্ত নিষিদ্ধ করে না; আর্থিক প্রণোদনা সরায় আর শ্রম আদালতের চর্চায় প্রমাণের দায় উল্টায়: গর্ভবতী বা সদ্য প্রসব করা নারীর চাকরি শেষ করা নিয়োগকর্তাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানো কারণ দেখাতে হয় (ধারা ২৪-এর তদন্তের পরে প্রমাণিত অসদাচরণ, শেষে-এলে-আগে-যাবে প্রয়োগ করা ধারা ২০-এর সত্যিকারের রিডান্ডেন্সি, বন্ধ), আর সেই সময়ে “কারণ ছাড়া” ধারা ২৬-এর টার্মিনেশন ছদ্মবেশী ধরা হয় ও ধারা ৩৩-এ পুনর্বহাল ও সুবিধাসহ বাতিল হয়। ২০২৫-এর অধ্যাদেশের নতুন বৈষম্যবিরোধী বিধান (ধারা ৩৪৫ক–গ) ও ধারা ৩৩২-এর অভিযোগ কমিটি ছুটি অস্বীকৃত, পদাবনত বা ফিরে নিম্ন পদে সরানো নারীর আরেকটি পথ দেয়। মেয়াদি ও শিক্ষানবিশ শ্রমিকেরা চাকরিতে থাকাকালে একই মাত্রায় সুরক্ষিত; সেই সময়ে শেষ হওয়া প্রবেশন লিখিত রেকর্ডসহ যোগ্যতায় নিশ্চিত বা বাড়ানো উচিত, ফুরোতে দেওয়া নয়। ফেরার পরে তিনি একই পদ ও শর্তে প্রাপ্য; পুরোনোটি না থাকলে কারণসহ একই বেতনে ভিন্ন পদ গ্রহণযোগ্য। মাতৃত্বের পরে চুক্তি শ্রমিককে আবার নিতে অস্বীকার করা নিয়োগকর্তা সংস্থার মাধ্যমে একই ধারা ৫০-এর যুক্তির মুখে পড়েন।

পরিদর্শক ও অডিটর কী দেখেন

ডিআইএফই পরিদর্শক ও ক্রেতার সামাজিক-কমপ্লায়েন্স অডিটর একই ফাইল দেখেন: সন্তানের জন্মতারিখসহ নারী শ্রমিকের রেজিস্টার (দুই সন্তানের নিয়ম রেজিস্টার থেকে প্রয়োগ হয়, জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নয়), মাতৃত্বের নোটিশ ও মনোনয়ন ফরম, চিকিৎসা সনদ, ১২০ দিন দেখানো ছুটির রেজিস্টার, প্রমাণের বিপরীতে তারিখসহ দুই কিস্তির পরিশোধ ভাউচার বা ব্যাংক অ্যাডভাইস, প্রসবের পরের আট সপ্তাহে তিনি দায়িত্বে ছিলেন না দেখানো রোস্টার, আর দশ সপ্তাহের সময়ে হালকা কাজে বদলি। ক্রেশ দায়ের কারখানা (ধারা ৯৪: চল্লিশ বা তার বেশি নারী শ্রমিক, ছয়ের নিচের শিশুদের ঘর) একই পরিদর্শনে তা দেখা হয়। সবচেয়ে সাধারণ ফাইন্ডিং মোটের বদলে মূলে সুবিধা হিসাব, দুই কিস্তির বদলে ছুটির শেষে পরিশোধ, ৮৪ বা ১১২ দিনে ছুটি লেখা, প্রসবোত্তর আট সপ্তাহে রোস্টারে নারী, আর প্রসবের পরের মাসে তারিখ দেওয়া “পদত্যাগ”। প্রতিটি শ্রম আদালতের দাবিও: বারো মাসে ধারা ১৩২-এ অপরিশোধিত বা কম সুবিধা, আদালত ক্ষতিপূরণ যোগ করতে পারে, আর ২০২৬-এর আইনে যেমন জানা যায় ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা ও তিন মাস পর্যন্ত সাধারণ শাস্তি।

নিয়োগকর্তার কাজের নীতি

চাকরির বিধিমালার মাতৃত্ব অংশ আইনে বা তার ওপরে লিখুন আর সব নারী কর্মীতে প্রয়োগ করুন, শ্রমিক ও ম্যানেজার সমানভাবে; ম্যানেজারদের ভিন্নভাবে দেখার সাশ্রয় সামান্য আর বৈষম্যের দাবি নয়। মাতৃত্ব রেজিস্টার রাখুন। নোটিশে: লিখিত প্রাপ্তিস্বীকার, হিসাবযন্ত্রে তারিখ ও টাকা, দুই পরিশোধের ডায়েরি। আগের দশ সপ্তাহে: হালকা দায়িত্ব ও রাতের কাজ নয় (ধারা ১০৯ ইতিমধ্যে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টার কাজে তার সম্মতি চায়)। ছুটিকালে: সময়ে পরিশোধ, উৎসব বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু, উপস্থিতি নয়। পরের আট সপ্তাহে: কাজ নয়, তিনি যতই ইচ্ছুক হোন। ফেরার পরে: একই পদ, দুধ খাওয়ানোর বিরতির চর্চা (আইন নীরব; দিনে এক-দুটি বিরতি প্রথাগত ও খরচ সামান্য), আর ধারা ৯৪ প্রযোজ্য হলে ক্রেশ। ধারা ৫০ টিকবে এমন ফাইল ছাড়া জন্মের ছয় মাস আগে বা আট সপ্তাহ পরে কখনও অব্যাহতি, বরখাস্ত বা ধারা ২৬-এর নোটিশ দেবেন না। আইনের বাইরের নারী কর্মীতে চুক্তিতে একই শর্ত রাখুন। আমাদের চাকরির বিধিমালা গাইডে অধ্যায়টি আছে; মজুরি ও ছুটি গাইডে তিনি যে অন্য ছুটি যোগ করতে পারেন।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার নিজের বিষয়ের পরামর্শ নয়। উপরের তারিখ পর্যন্ত আইন এবং লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ, শ্রম অধিদপ্তর ও আদালতের প্রচলিত চর্চা এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০২৬ (যা ২০২৫-এর নভেম্বরের অধ্যাদেশের জায়গা নিয়েছে) অনেক সীমা বদলেছে এবং বিধিমালা সেই অনুযায়ী সংশোধনাধীন; যেখানে গেজেট পাঠ্য পড়তে পারিনি সেখানে তা বলেছি, আর গেজেটে ফি, ফরম ও সময়সীমা বদলায়। আপনার নিজের প্রতিষ্ঠান, কাগজপত্র ও ডেস্কের কর্মকর্তাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
মাতৃত্ব কমপ্লায়েন্স
১

নীতি

শ্রমিক ও কর্মীতে আইনে বা তার ওপরে চাকরির বিধিমালার মাতৃত্ব অধ্যায়।

২

কেস হ্যান্ডলিং

প্রতিটি নোটিশে তারিখ, হিসাব ও পরিশোধ সূচি; হালকা দায়িত্ব ও রোস্টার কমপ্লায়েন্স।

৩

বিরোধ

নিয়োগকর্তার জন্য ধারা ৩৩-এর অভিযোগ, ধারা ৫০-এর মামলা ও অভিযোগ কমিটির বিষয়।

৪

অডিট

ডিআইএফই ও ক্রেতার অডিটের জন্য রেজিস্টার ও ফাইল প্রস্তুত।

নীতিতে নির্ধারিত ফি; কেস হ্যান্ডলিংয়ে রিটেইনার।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে মাতৃত্বকালীন ছুটি এখন কত দিন?

২০২৫-এর অধ্যাদেশ ও ২০২৬-এর আইনে সংশোধিত শ্রম আইনের ধারা ৪৬-এ সবেতন ১২০ দিন, যেমন জানা যায় সম্ভাব্য প্রসবের তারিখের ষাট দিন আগে ও ষাট পরে; আগে ১১২ দিন (আট ও আট সপ্তাহ)। ইপিজেডের প্রতিষ্ঠান ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯-এ ষোলো সপ্তাহ দেয়।

মাতৃত্ব সুবিধা কে পান?

প্রসবের দিনের অব্যবহিত আগে অন্তত ছয় মাস নিয়োগকর্তার কাছে কাজ করা নারী শ্রমিক (ধারা ৪৬(২)) যার সেই সময়ে দুই বা তার বেশি জীবিত সন্তান নেই (ধারা ৪৬(৩))। সুবিধা প্রদেয় না হলেও প্রাপ্য অন্য ছুটি নেওয়া যায়।

মাতৃত্ব সুবিধা কীভাবে হিসাব হয়?

পুরো সময়ে দৈনিক গড় মজুরিতে: বিধি ১৬-এ মাসিক মোট মজুরি ÷ ২৬ (আইনের ধারা ৪৮-এর সূত্র নোটিশের আগের তিন মাসের মজুরি ÷ প্রকৃত কর্মদিবস)। মজুরি মানে ভাতাসহ মোট, শুধু মূল নয়।

নিয়োগকর্তাকে কবে দিতে হয়?

দুই কিস্তিতে: গর্ভধারণের চিকিৎসা সনদের তিন কর্মদিবসে প্রসবপূর্ব অর্ধেক, আর প্রসবের প্রমাণের তিন কর্মদিবসে প্রসবোত্তর অর্ধেক (ধারা ৪৭); প্রসবের পরে নোটিশ দিলে প্রমাণের তিন কর্মদিবসে পুরো সুবিধা। নগদ, ব্যাংক বা ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারে।

গর্ভবতী শ্রমিককে কি বরখাস্ত করা যায়?

শুধু নিজের পায়ে দাঁড়ানো কারণে। ধারা ৫০-এ প্রসবের ছয় মাস আগে বা আট সপ্তাহ পরে যথেষ্ট কারণ ছাড়া অব্যাহতি বা বরখাস্ত তাকে সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে না, আর শ্রম আদালত সেই সময়ের টার্মিনেশনকে অনুমানত ছদ্মবেশী ধরে পুনর্বহালের আদেশ দেয়।

তৃতীয় সন্তানে কি মাতৃত্ব সুবিধা দেওয়া হয়?

না। ধারা ৪৬(৩) প্রসবের সময় নারীর দুই বা তার বেশি জীবিত সন্তান থাকলে সুবিধা বাদ দেয়; ছুটি নিজে তার অন্য প্রাপ্যতা থেকে নেওয়া যায়।

প্রসবের পরের সপ্তাহগুলোতে কি নারী কাজ করতে পারেন?

না। ধারা ৪৫ প্রসবের পরের আট সপ্তাহে নিয়োগকর্তাকে তাকে কাজে লাগাতে ও তাকে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে নিষেধ করে, আর আগে ও পরের দশ সপ্তাহে হালকা কাজ চায়।

মাতৃত্ব সুবিধা কি সরকার থেকে আসে?

না। নিয়োগকর্তা পুরোটা দেন; বেসরকারি খাতে রাষ্ট্রীয় তহবিল বা ফেরত নেই। সরকারি কর্মচারীদের নিজস্ব বিধিতে ১৮০ দিন।

লাইসেন্স, শ্রম আইন ও ব্যবসা বন্ধ বিষয়ে আরও পড়ুন

ব্যবসার লাইসেন্স, নিয়োগকর্তার জন্য শ্রম আইন, চাকরির বিধি, ছাঁটাই, মজুরি ও ছুটি, পিএফ ও গ্র্যাচুইটি এবং ব্যবসা বন্ধ।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

মাতৃত্বের কেস সামলাচ্ছেন বা নীতি লিখছেন?

তারিখ ও বেতন স্লিপ পাঠান; আমরা প্রাপ্যতা হিসাব করি, প্রাপ্তিস্বীকার ও নীতি খসড়া করি, আর সুরক্ষিত সময়ে কোনো বিচ্ছেদে পরামর্শ দিই। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।