Skip to content

শ্রম আইন ২০০৬: চাকরি গেলে কত পাবেন, গ্র্যাচুইটি ও বকেয়া বেতন আদায়

বাংলাদেশে বেশিরভাগ চাকরির বিরোধ চাকরি শেষের টাকা নিয়ে: নোটিশ দেওয়া হয়নি, ক্ষতিপূরণ মেলেনি, গ্র্যাচুইটি অস্বীকার, চূড়ান্ত পাওনা মাসের পর মাস আটকে। শ্রম আইন ২০০৬ এর বেশিরভাগের উত্তর নির্দিষ্ট অঙ্কে দিয়েছে। এখানে সেগুলো আছে, ২০২৫ সালের পরিবর্তনসহ, আর মালিক টাকা না দিলে কী করবেন।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬শ্রম বিধিমালা ২০১৫
শেয়ার করুন
হেলমেট, টাইমশিট ও বেতনের খাম: শ্রম আইনে শ্রমিকের অধিকার
এক নজরে
  • বিনা কারণে চাকরির অবসান: ১২০ দিনের নোটিশ বা মজুরি, সঙ্গে প্রতি বছরে ৩০ দিনের মজুরি বা গ্র্যাচুইটি
  • গ্র্যাচুইটি: প্রতি বছরে কমপক্ষে ৩০ দিনের মজুরি, ১০ বছর পর ৪৫ দিন
  • চাকরি শেষের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত পাওনা
  • আগে অভিযোগ, পরে শ্রম আদালত, প্রতিটি ৩০ দিনের মধ্যে

এই গাইডে: চাকরি শেষে কী পাবেন · গ্র্যাচুইটি কি ও কিভাবে হিসাব করা হয় · চূড়ান্ত পাওনা ও বকেয়া বেতন · অভিযোগ ও শ্রম আদালত · ২০২৫ সালে কী বদলেছে · শ্রম আইন কাদের জন্য নয়

সংক্ষেপে উত্তর

শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী আপনি “শ্রমিক” হলে চাকরি শেষে কী পাবেন তা আইনেই ঠিক করা। অসদাচরণ ছাড়া মালিক মাসিক মজুরির স্থায়ী শ্রমিকের চাকরির অবসান করলে ১২০ দিনের নোটিশ বা তার বদলে মজুরি দিতে হয়, সঙ্গে প্রতি পূর্ণ বছরের জন্য ৩০ দিনের মজুরি অথবা গ্র্যাচুইটি, যেটি বেশি। সব পাওনা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে দিতে হয়। না দিলে লিখিত অভিযোগ করুন, তারপর শ্রম আদালতে যান। ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক ও সরকারি কর্মচারীরা সাধারণত এই আইনের বাইরে, তাঁরা চুক্তির ওপর নির্ভর করেন।

চাকরি শেষে কী পাবেন

চাকরি যেভাবে শেষনোটিশক্ষতিপূরণ
মালিকের বিনা কারণে অবসান (ধারা ২৬)মাসিক মজুরির স্থায়ী শ্রমিকের ১২০ দিন, অন্যদের ৬০ দিন, অথবা বদলে মজুরিপ্রতি পূর্ণ বছরে ৩০ দিনের মজুরি, অথবা বেশি হলে গ্র্যাচুইটি
ছাঁটাই, উদ্বৃত্ত শ্রমিক হিসেবে (ধারা ২০)এক মাস, অথবা বদলে মজুরিপ্রতি পূর্ণ বছরে ৩০ দিনের মজুরি, অথবা বেশি হলে গ্র্যাচুইটি
অসুস্থতার কারণে ডিসচার্জ (ধারা ২২)চিকিৎসাগত কারণেপ্রতি পূর্ণ বছরে ৩০ দিনের মজুরি, অথবা বেশি হলে গ্র্যাচুইটি
প্রমাণিত অসদাচরণে বরখাস্ত (ধারা ২৩)নেই, তবে যথাযথ তদন্তের পরেইসাধারণত নেই
স্থায়ী শ্রমিকের পদত্যাগ (ধারা ২৭, ২০২৫ সালে সংশোধিত)স্থায়ী শ্রমিকের ৬০ দিন (অস্থায়ী শ্রমিক: মাসিক মজুরিতে ৩০ দিন, অন্যদের ১৪ দিন)কম মেয়াদে প্রতি বছরে ৭ দিনের মজুরি, ৩ থেকে ১০ বছরে ১৫ দিন, ১০ বছরের বেশিতে ৩০ দিন বা গ্র্যাচুইটি

ক্ষতিপূরণের জন্য কমপক্ষে এক বছরের একটানা চাকরি লাগে। অব্যবহৃত অর্জিত ছুটির টাকা আলাদাভাবে প্রাপ্য। অভিযোগনামা, শুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া বরখাস্ত চ্যালেঞ্জ করা যায়।

শ্রম আইন অনুযায়ী অবসান, ছাঁটাই ও পদত্যাগে নোটিশ ও ক্ষতিপূরণ

গ্র্যাচুইটি কি ও কিভাবে হিসাব করা হয়

ধারা ২(১০) অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি হলো প্রতি পূর্ণ বছর চাকরির জন্য কমপক্ষে ৩০ দিনের মজুরি, আর চাকরি ১০ বছর পেরোলে প্রতি বছরে ৪৫ দিনের মজুরি। আইন বা মালিকের গ্র্যাচুইটি স্কিমে যেখানে বিধান আছে, সেখানে এটি প্রাপ্য, এবং ক্ষতিপূরণের চেয়ে বেশি হলে তার বদলে দেওয়া হয়।

উদাহরণ: মূল মজুরি ৩০,০০০ টাকা, ৮ বছর পর চাকরি ছাড়লেন। বছরে ৩০ দিন হারে গ্র্যাচুইটি ৩০,০০০ × ৮ = ২,৪০,০০০ টাকা। নিয়োগপত্র ও প্রতিষ্ঠানের নীতি দেখুন; অনেক স্কিম বেশি দেয়, কোনোটি মোট বেতনের ওপর হিসাব করে।

চূড়ান্ত পাওনা ও বকেয়া বেতন

  • মজুরির মেয়াদ শেষের সাত কর্মদিবসের মধ্যে মাসিক মজুরি দিতে হয়।
  • যেকোনো কারণে চাকরি শেষ হলে ক্ষতিপূরণ, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির টাকাসহ সব পাওনা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে দিতে হয়।
  • নিয়োগপত্র, বেতন স্লিপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অবসান বা পদত্যাগপত্র এবং পাওনা নিয়ে ইমেইল সংরক্ষণ করুন।

বকেয়া বেতন পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র: মালিক বরাবর লিখুন; আপনার নাম, আইডি, পদবি ও যোগদানের তারিখ, কোন মাসের বা কত টাকা বাকি, আইনি সময়সীমা, স্পষ্ট দাবি এবং পরিশোধের যুক্তিসংগত তারিখ উল্লেখ করুন। রেজিস্ট্রি ডাক বা ইমেইলে পাঠিয়ে প্রমাণ রাখুন। এই চিঠিই প্রায়ই আপনার প্রথম প্রমাণ হয়।

অভিযোগ ও শ্রম আদালত

  1. লিখিত অভিযোগ (ধারা ৩৩): কারণ উদ্ভবের ৩০ দিনের মধ্যে, রেজিস্ট্রি ডাকে মালিক বরাবর।
  2. মালিকের সিদ্ধান্ত: মালিক তদন্ত করে, শুনানি দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেবেন।
  3. শ্রম আদালত: সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে অভিযোগ করুন। মজুরির দাবি ধারা ১৩২-এও করা যায়, যেখানে আদালত অন্যায় কর্তন বা দেরির জন্য ক্ষতিপূরণও দিতে পারেন।
  4. পরিদর্শন: কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরও (ডাইফ) বকেয়া মজুরি ও বেআইনি অবসানের অভিযোগ নেয়।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন বিভাগে শ্রম আদালত আছে। সময়সীমা মেনে চলুন; দেরির অভিযোগ প্রায়ই খারিজ হয়।

২০২৫ সালে কী বদলেছে

  • “শ্রমিক”-এর সংজ্ঞা বড় করা হয়েছে; ট্রেড প্রমোশন ও বিজনেস ডেভেলপমেন্টের মতো পদ, যেগুলোকে মালিকেরা প্রায়ই ব্যবস্থাপনা ধরতেন, এখন এর আওতায়।
  • কম মেয়াদের চাকরিতেও পদত্যাগের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তিন ধাপে (বছরে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের মজুরি)।
  • বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগের জন্য প্রত্যেক মালিককে পাঁচ সদস্যের কমিটি করতে হবে, যার প্রধান একজন নারী, সদস্যদের বেশিরভাগ নারী এবং দুজন বাইরের সদস্য।

আপনার পদ ও চাকরি ছাড়ার তারিখে সংশোধন কীভাবে প্রযোজ্য, দেখে নিন; কিছু পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার পরের ঘটনায় প্রযোজ্য।

শ্রম আইন কাদের জন্য নয়

আইনটি “শ্রমিক”দের সুরক্ষা দেয়। মূলত ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক দায়িত্বে নিযুক্ত ব্যক্তি, সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারী এবং আরও কিছু শ্রেণি এর বাইরে। তাঁদের অধিকার আসে চুক্তি, চাকরিবিধি ও সাধারণ আইন থেকে, আর বিরোধ সাধারণত দেওয়ানি আদালতে যায়। পদবির নাম নয়, আপনি বাস্তবে কী কাজ করেন সেটাই নির্ধারক।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
পাওনা আদায়ের ধাপ
১

কাগজ জোগাড়

নিয়োগপত্র, বেতন স্লিপ, চাকরি শেষের চিঠি।

২

হিসাব করুন

নোটিশ, ক্ষতিপূরণ বা গ্র্যাচুইটি, ছুটির টাকা।

৩

লিখিত দাবি

৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি ডাকে অভিযোগ।

৪

শ্রম আদালত

মালিকের সিদ্ধান্তের ৩০ দিনের মধ্যে।

সময়সীমা কম। আলোচনা চললেও আগে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়ে দিন।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

শ্রম আইন ২০০৬ কি?

শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশের প্রধান শ্রম আইন। এতে নোটিশ, ক্ষতিপূরণ, গ্র্যাচুইটি, ছুটি, মজুরি, অভিযোগ ও শ্রম আদালতের প্রক্রিয়া আছে; ২০১৩ ও ২০১৮ সালে সংশোধিত হয়েছে; সর্বশেষ সংশোধন বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬, যা এপ্রিল ২০২৬-এ পাস হয়।

বিনা কারণে চাকরির অবসান করলে কত ক্ষতিপূরণ পাব?

মাসিক মজুরির স্থায়ী শ্রমিক: ১২০ দিনের নোটিশ বা বদলে মজুরি, সঙ্গে প্রতি পূর্ণ বছরে ৩০ দিনের মজুরি অথবা গ্র্যাচুইটি, যেটি বেশি।

গ্র্যাচুইটি কি ও কিভাবে হিসাব করা হয়?

প্রতি পূর্ণ বছরে কমপক্ষে ৩০ দিনের মজুরি, ১০ বছর পর প্রতি বছরে ৪৫ দিন; যেখানে আইন বা মালিকের স্কিমে বিধান আছে।

পদত্যাগ করলে কি কিছু পাব?

হ্যাঁ, ২০২৫ সালের সংশোধনের পর: কম মেয়াদে বছরে ৭ দিনের মজুরি, ৩ থেকে ১০ বছরে ১৫ দিন, ১০ বছরের বেশিতে ৩০ দিন বা গ্র্যাচুইটি, যদি নির্ধারিত নোটিশ দেন।

চূড়ান্ত পাওনা দিতে মালিক কত সময় পান?

চাকরি শেষের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সব পাওনা দিতে হয়।

বকেয়া বেতন পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র কিভাবে লিখব?

নিজের তথ্য, বকেয়া মাস ও অঙ্ক, আইনি সময়সীমা এবং তারিখসহ স্পষ্ট দাবি লিখুন। রেজিস্ট্রি ডাক বা ইমেইলে পাঠিয়ে প্রমাণ রাখুন।

শ্রম আদালত কি?

বিশেষ আদালত, যা অভিযোগ প্রক্রিয়ার পর বকেয়া মজুরি, অন্যায় চাকরিচ্যুতি ও সুবিধার মতো শ্রম আইনের বিরোধের বিচার করে।

ব্যবস্থাপকদের ক্ষেত্রে কি শ্রম আইন প্রযোজ্য?

মূলত ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাধারণত নয়। তাঁদের অধিকার চুক্তি ও দেওয়ানি আদালত থেকে আসে।

চাকরি ও ভোক্তা অধিকার বিষয়ে আরও পড়ুন

বেতন, চাকরির অবসান, গ্র্যাচুইটি ও ভোক্তার অভিযোগ।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

মজুরি, গ্র্যাচুইটি বা ক্ষতিপূরণ পাওনা?

আমরা আপনার পাওনা হিসাব করি, অভিযোগ ও দাবিনামা পাঠাই এবং প্রয়োজনে শ্রম আদালতে মামলা করি। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।