Skip to content

ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করার নিয়ম: অনলাইন, হটলাইন ১৬১২১ ও আপনি কী পাবেন

দোকানে বেশি দাম নিয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দিয়েছে, নাকি অনলাইনের অর্ডার আসেইনি? ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ দ্রুত ও কম খরচে অভিযোগের পথ দিয়েছে, আর বিক্রেতার জরিমানা হলে তার এক-চতুর্থাংশ আপনি পান। শর্ত একটাই, ৩০ দিনের সময়সীমা। এখানে আছে কোন বিষয়ে অভিযোগ করা যায়, কীভাবে করবেন, আর কখন আদালতে যাবেন।

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১
শেয়ার করুন
শপিং ব্যাগ, রসিদ ও মোবাইল: ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ
এক নজরে
  • সমস্যার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ
  • হটলাইন ১৬১২১, সঙ্গে লিখিত, ইমেইল ও অনলাইন অভিযোগ
  • আদায় হওয়া জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী পান
  • ক্ষতিপূরণের জন্য আলাদা দেওয়ানি মামলা লাগে

এই গাইডে: ভোক্তা অধিকারে কি কি বিষয়ে অভিযোগ করা যায় · ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করার নিয়ম, ধাপে ধাপে · অনলাইন কেনাকাটা ও ই-কমার্সের অভিযোগ · শুধু জরিমানা নয়, ক্ষতিপূরণ পাওয়া · যেভাবে অভিযোগ সফল হয়

সংক্ষেপে উত্তর

সমস্যার ৩০ দিনের মধ্যে রসিদ ও প্রমাণসহ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিতভাবে, ইমেইলে বা অনলাইনে অভিযোগ করা যায়। অধিদপ্তর দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে বিক্রেতাকে জরিমানা করতে পারে; ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ধারা ৭৬(৪) অনুযায়ী আদায় হওয়া জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী পান। অনেক অভিযোগ শুনানিতেই টাকা ফেরত বা পণ্য বদলে মীমাংসা হয়। পূর্ণ ক্ষতিপূরণের জন্য আলাদা দেওয়ানি মামলা লাগে।

ভোক্তা অধিকারে কি কি বিষয়ে অভিযোগ করা যায়

সমস্যাউদাহরণ
নির্ধারিত বা লেখা দামের বেশি নেওয়াএমআরপি বা সরকার-নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া
ভেজাল বা অনিরাপদ পণ্যমাছে ফরমালিন, মসলায় রং
মেয়াদোত্তীর্ণ বা নকল পণ্যমেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বা খাবার; নকল পণ্য
মিথ্যা বিজ্ঞাপনপণ্য বা সেবা যে দাবি পূরণ করে না
ওজন বা পরিমাপে কমকারসাজির দাঁড়িপাল্লা, কম ভরা প্যাকেট
টাকা নিয়ে পণ্য বা সেবা না দেওয়াঅনলাইন অর্ডার না আসা, সেবা না দেওয়া
মূল্য তালিকা বা রসিদ না দেওয়াদোকানে দাম প্রদর্শন না করা বা রসিদ দিতে অস্বীকার

ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর ও বিমা কোম্পানির বিরোধ সাধারণত আগে তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যায়, যদিও অধিদপ্তর অনেক সেবা-সংক্রান্ত অভিযোগও নেয়।

রসিদ ও প্রমাণসহ ভোক্তা অধিকারের অভিযোগ ফরম

ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করার নিয়ম, ধাপে ধাপে

  1. প্রমাণ রাখুন: রসিদ বা ইনভয়েস, অর্ডারের স্ক্রিনশট, পণ্যের ছবি, পেমেন্টের রেকর্ড, চ্যাট মেসেজ।
  2. অভিযোগ লিখুন নিজের নাম, ঠিকানা, ফোন ও জাতীয় পরিচয়পত্র, বিক্রেতার নাম-ঠিকানা, কী ও কবে ঘটেছে, এবং আপনি কী চান (টাকা ফেরত, বদল, ব্যবস্থা)।
  3. ৩০ দিনের মধ্যে জমা দিন ইমেইলে বা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের অনলাইন ফরমে, ঢাকার কার্যালয় বা জেলা কার্যালয়ে সরাসরি, অথবা হটলাইন ১৬১২১-এ ফোন করে শুরু করুন।
  4. শুনানিতে উপস্থিত থাকুন। দুই পক্ষকে ডাকা হয়। মূল কাগজ সঙ্গে নিন।
  5. ফলাফল: জরিমানা, মীমাংসা বা খারিজ। জরিমানা আদায় হলে ২৫ শতাংশ আপনি পান।

ধারা ৬০ অনুযায়ী কারণ উদ্ভবের ৩০ দিন পর করা অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, তাই বিক্রেতার সঙ্গে কথা চললেও অভিযোগ করে রাখুন।

অনলাইন কেনাকাটা ও ই-কমার্সের অভিযোগ

  • ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ অনুযায়ী একই শহরে ৫ দিনে ও অন্যত্র ১০ দিনে ডেলিভারি, আর অর্ডার বাতিলের ১০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে হয়।
  • রেকর্ড থাকে এমন মাধ্যমে টাকা দিন; ক্যাশ অন ডেলিভারি বা এসক্রো ধরনের পেমেন্ট সবচেয়ে নিরাপদ।
  • আগে বিক্রেতাকে লিখিতভাবে জানান, তারপর অর্ডার আইডি ও স্ক্রিনশটসহ ৩০ দিনের মধ্যে অধিদপ্তরে অভিযোগ করুন।
  • অগ্রিম টাকা নিয়ে উধাও হওয়া ভুয়া পেজের মতো প্রতারণায় থানায় জিডি বা অভিযোগও করুন।

শুধু জরিমানা নয়, ক্ষতিপূরণ পাওয়া

অধিদপ্তর বিক্রেতাকে শাস্তি দেয়; ক্ষতিপূরণ দেয় না। টাকা হারালে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, যেমন ত্রুটিপূর্ণ পণ্যে, ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলা করা যায়, সাধারণত তিন বছরের মধ্যে। আগে বিক্রেতাকে আইনজীবীর নোটিশ দিলে প্রায়ই মীমাংসা হয়। অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত রেখে দিন; এটি ভালো প্রমাণ।

যেভাবে অভিযোগ সফল হয়

  • একটি অভিযোগে একটি লেনদেন, স্পষ্ট তারিখ ও অঙ্ক।
  • রসিদ যুক্ত করুন। কেনার প্রমাণ ছাড়া বেশিরভাগ অভিযোগ টেকে না।
  • লিখিত প্রাপ্তিস্বীকার বা ট্র্যাকিং নম্বর চেয়ে নিন।
  • অভিযোগ চলাকালে অনলাইনে মানহানিকর অভিযোগ পোস্ট করবেন না; তথ্যের মধ্যে থাকুন।
এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
ভোক্তা অভিযোগের ধাপ
১

প্রমাণ রাখুন

রসিদ, স্ক্রিনশট, ছবি।

২

লিখে ফেলুন

কে, কী, কবে, আর আপনি কী চান।

৩

৩০ দিনে জমা

ইমেইল, অনলাইন ফরম, অফিস বা হটলাইন ১৬১২১।

৪

শুনানিতে যান

জরিমানা বা মীমাংসা; জরিমানার ২৫% আপনার।

৩০ দিনের সময়সীমা কঠোর। আগে অভিযোগ, পরে আলোচনা।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করার নিয়ম কী?

রসিদ ও প্রমাণসহ ৩০ দিনের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিতভাবে, ইমেইলে বা অনলাইনে। হটলাইন ১৬১২১-এ ফোন করেও শুরু করা যায়।

ভোক্তা অধিকার অভিযোগ নাম্বার কত?

হটলাইন ১৬১২১।

ভোক্তা অধিকারে অভিযোগের সময়সীমা কত?

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ধারা ৬০ অনুযায়ী কারণ উদ্ভবের ৩০ দিনের মধ্যে।

অভিযোগকারী কি জরিমানার অংশ পান?

হ্যাঁ। ধারা ৭৬(৪) অনুযায়ী আদায় হওয়া জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী পান।

অনলাইন শপ ডেলিভারি না দিলে কি অভিযোগ করা যায়?

হ্যাঁ। অর্ডার আইডি ও স্ক্রিনশটসহ ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ করুন। ২০২১ সালের নির্দেশিকায় একই শহরে ৫ দিনে ও অন্যত্র ১০ দিনে ডেলিভারির কথা বলা আছে।

অধিদপ্তর কি বিক্রেতাকে আমাকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলতে পারে?

অধিদপ্তর জরিমানা করে এবং প্রায়ই টাকা ফেরতের মীমাংসা করায়, তবে পূর্ণ ক্ষতিপূরণের জন্য সাধারণত তিন বছরের মধ্যে দেওয়ানি মামলা লাগে।

ঢাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কোথায়?

প্রধান কার্যালয় কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে; সারা দেশে জেলা কার্যালয় আছে।

বাংলাদেশে ভোক্তাদের সুরক্ষা দেয় কোন আইন?

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, যা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রয়োগ করে।

চাকরি ও ভোক্তা অধিকার বিষয়ে আরও পড়ুন

বেতন, চাকরির অবসান, গ্র্যাচুইটি ও ভোক্তার অভিযোগ।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

বিক্রেতা বা অনলাইন শপ প্রতারণা করেছে?

আমরা অভিযোগ লিখি, শুনানিতে আপনার পক্ষে থাকি এবং নোটিশ বা দেওয়ানি মামলায় ক্ষতিপূরণ আদায় করি। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।