Skip to content

নাম সংশোধন করার নিয়ম: এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন, সার্টিফিকেট ও পাসপোর্ট

এনআইডিতে এক বানান, এসএসসি সার্টিফিকেটে আরেক, জমির দলিলে তৃতীয়: এতে পাসপোর্ট, ব্যাংক হিসাব, চাকরি বা উত্তরাধিকার আটকে যায়। প্রতিটি রেকর্ডের আলাদা অফিস ও পদ্ধতি আছে। এখানে আছে সেগুলো, প্রতিটিতে কী কাগজ লাগে, আর কোন ক্রমে করলে সময় বাঁচে।

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সংশোধন নীতিমালাজন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪নোটারি অধ্যাদেশ ১৯৬১
শেয়ার করুন
আইডি কার্ড, সিলসহ সনদ ও পেনসিল: এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধনে নাম সংশোধন
এক নজরে
  • যে রেকর্ডের ওপর অন্যগুলো নির্ভর করে সেটি আগে ঠিক করুন, সাধারণত এসএসসি সার্টিফিকেট বা জন্ম নিবন্ধন
  • এনআইডি সংশোধনের আবেদন অনলাইনে; ধরন অনুযায়ী নির্বাচন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত দেন
  • জন্ম নিবন্ধন সংশোধন অনলাইন সিস্টেমে আবেদন করে স্থানীয় নিবন্ধকের কাছে
  • হলফনামা সংশোধনে সহায়ক; পুরো নাম পরিবর্তনে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও লাগে

এই গাইডে: কোন রেকর্ড আগে সংশোধন করবেন · এনআইডি নাম সংশোধন · জন্ম নিবন্ধনে নাম সংশোধন · এসএসসি, এইচএসসি ও অন্যান্য সার্টিফিকেট · হলফনামা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, খতিয়ান ও দলিল

সংক্ষেপে উত্তর

নাম সংশোধনের একক কোনো অফিস নেই। এনআইডি সংশোধন হয় নির্বাচন কমিশনের অনলাইন এনআইডি সেবায়, জন্ম নিবন্ধন অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সিস্টেম ও স্থানীয় নিবন্ধকের মাধ্যমে, শিক্ষাগত সনদ শিক্ষা বোর্ডে, আর পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে, যা এনআইডি অনুসরণ করে। সঠিক নাম দেখায় এমন কাগজ জোগাড় করুন, বড় ভুল হলে হলফনামা করুন, আর যে রেকর্ডের ওপর অন্যগুলো নির্ভর করে সেটি দিয়ে শুরু করে ক্রমানুসারে সংশোধন করুন।

কোন রেকর্ড আগে সংশোধন করবেন

অফিসগুলো নতুন আবেদন পুরনো রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। কাজের ক্রম:

  1. এসএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট (যাঁদের আছে), কারণ এটি নাম ও বয়সের সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ।
  2. জন্ম নিবন্ধন, যাতে সার্টিফিকেটের সঙ্গে মেলে।
  3. এনআইডি, সার্টিফিকেট ও জন্ম নিবন্ধনকে প্রমাণ হিসেবে দিয়ে।
  4. পাসপোর্ট, ব্যাংক, টিআইএন ও চাকরির রেকর্ড, যা এনআইডি অনুসরণ করে।
  5. খতিয়ান ও দলিল, যার জন্য প্রায়ই আলাদা ধাপ লাগে।

এনআইডি নাম সংশোধন

  • কোথায়: অনলাইনে এনআইডি সেবা পোর্টাল বা এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপে, মুখ ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের পর।
  • কাগজ: এসএসসি বা অন্য পরীক্ষার সনদ, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট, আর প্রয়োজনে বাবা-মায়ের এনআইডি বা নিকাহনামা। বেশি কাগজ দিলে অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়ে।
  • কে সিদ্ধান্ত দেন: জুলাই ২০২৬ থেকে সংশোধনের ধরন অনুযায়ী উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা আবেদন নিষ্পত্তি করছেন; সবচেয়ে গুরুতর ধরনের আবেদন কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি হয়।
  • ফি: আবেদনের সময় অনলাইনে দিতে হয়। আবেদনের সময় ফি দেখানো হয়, আর বারবার সংশোধনে বেশি লাগে।
  • পরামর্শ: শুনানিতে ডাকা হতে পারে। যা আপলোড করেছেন তার মূল কপি নিয়ে যান।
নাম সংশোধনের সঠিক ক্রম

জন্ম নিবন্ধনে নাম সংশোধন

অনলাইন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সিস্টেমে আবেদন করে প্রিন্ট করা আবেদন ও প্রমাণসহ সেই নিবন্ধক অফিসে জমা দিন যেখানে জন্ম নিবন্ধন হয়েছিল (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন)। প্রমাণ থাকলে নিবন্ধক বানান বা তথ্য সংশোধন করতে পারেন। জন্মতারিখ সংশোধনে বেশি যাচাই হয়। অগ্রগতি দেখতে আবেদন নম্বর রেখে দিন।

এসএসসি, এইচএসসি ও অন্যান্য সার্টিফিকেট

সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধন করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, সাধারণত স্কুল বা কলেজের মাধ্যমে। বোর্ড সাধারণত মূল সনদ ও নম্বরপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জন্ম নিবন্ধন ও হলফনামা চায়। শুধু বানান নয়, পুরো নাম পরিবর্তন হলে সাধারণত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও লাগে। বোর্ডের কমিটি সিদ্ধান্ত দেয়; কয়েক মাস লাগতে পারে, তাই আগেভাগে শুরু করুন।

হলফনামা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, খতিয়ান ও দলিল

  • হলফনামা: নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শপথ করা বিবৃতি যে দুটি নাম একই ব্যক্তির। ওপরের প্রতিটি অফিসে সহায়ক প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগে।
  • পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি: নাম পরিবর্তনে লাগে, যেমন বিয়ে বা ধর্মান্তরের পর, আর বোর্ড ও পাসপোর্ট অফিস প্রায়ই চায়।
  • খতিয়ান: খতিয়ানে ভুল নাম এসি ল্যান্ড সংশোধন করেন, আর চূড়ান্ত প্রকাশের পর ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে।
  • দলিল: রেজিস্ট্রি দলিলের ভুল একই পক্ষগণের সই করা রেজিস্ট্রি সংশোধনী দলিলে ঠিক করা হয়।
এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
নাম সংশোধনের ধাপ
১

অমিলগুলো লিখুন

প্রতিটি রেকর্ড ও তার বানান।

২

মূল রেকর্ড ঠিক করুন

সাধারণত এসএসসি সার্টিফিকেট।

৩

হলফনামা করুন

পুরো নাম বদলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও।

৪

ক্রমানুসারে আবেদন

জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, তারপর বাকিগুলো।

বেশিরভাগ আবেদন বাতিল হয় দুর্বল প্রমাণের কারণে। সঠিক নাম দেখায় এমন সব কাগজ দিন।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

এনআইডি নাম সংশোধন করার নিয়ম কী?

এনআইডি সেবা পোর্টাল বা এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপে অনলাইনে আবেদন করুন, সঠিক নামের প্রমাণ আপলোড করুন, ফি দিন, আর ডাকলে শুনানিতে যান।

এনআইডি নাম সংশোধন করতে কতদিন লাগে?

সংশোধনের ধরন ও অপেক্ষমাণ আবেদনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ বানান সংশোধন দ্রুত হয়; বড় পরিবর্তনে বেশি সময় ও শুনানি লাগতে পারে।

নাম সংশোধনের জন্য আবেদনে কী কাগজ লাগে?

এসএসসি বা অন্য পরীক্ষার সনদ, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট থাকলে, বাবা-মায়ের এনআইডি, আর হলফনামা। শুনানিতে মূল কপি নিন।

জন্মনিবন্ধনে নাম সংশোধন কিভাবে করব?

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সিস্টেমে আবেদন করে প্রিন্ট কপি ও কাগজপত্র সেই নিবন্ধক অফিসে জমা দিন যেখানে জন্ম নিবন্ধন হয়েছিল।

সার্টিফিকেট নাম সংশোধন করার নিয়ম কী?

সাধারণত স্কুলের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করুন: মূল সনদ, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জন্ম নিবন্ধন ও হলফনামাসহ।

নাম সংশোধনের হলফনামা কী?

নোটারি বা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শপথ করা বিবৃতি যে দুটি বানান বা নাম একই ব্যক্তির। প্রতিটি অফিসে আবেদনে সহায়ক।

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি কি লাগে?

পুরো নাম পরিবর্তনে হ্যাঁ। ছোট বানান সংশোধনে সাধারণত লাগে না, যদি না অফিস চায়।

দলিলের নাম সংশোধন কিভাবে হয়?

একই পক্ষগণের সই করা রেজিস্ট্রি সংশোধনী দলিলে। খতিয়ানের ভুল এসি ল্যান্ড বা ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে যায়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

কাগজপত্রে নাম মিলছে না?

আমরা হলফনামা ও পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি তৈরি করি, সংশোধনের সঠিক ক্রম ঠিক করি, আর খতিয়ান ও দলিল সংশোধন করাই। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।