Skip to content

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭: বিয়ের বয়স, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শাস্তি

বাল্যবিবাহের হারে বাংলাদেশ এখনো বিশ্বে সবচেয়ে ওপরের দিকে। বয়স নিয়ে আইন স্পষ্ট, আর বর থেকে বাবা-মা, কাজী পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবার শাস্তির বিধান আছে। এখানে আছে নিয়মগুলো, পরিকল্পিত বাল্যবিবাহ কিভাবে থামাবেন, আর বহুল সমালোচিত বিশেষ বিধানটি।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা ২০১৮মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯
শেয়ার করুন
স্কুলব্যাগ ও খাতার পাশে তালাবদ্ধ আংটি — বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭
এক নজরে
  • বিয়ের জন্য মেয়ের বয়স ১৮ ও ছেলের ২১ হতে হবে
  • ইউএনও, পুলিশ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পারেন
  • অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিয়ে করলে প্রাপ্তবয়স্কের ২ বছর পর্যন্ত, ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয়
  • বাবা-মা, বিয়ে পড়ানো ব্যক্তি ও কাজী: ৬ মাস থেকে ২ বছর, বা ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা

এই গাইডে: বাংলাদেশে বিয়ের আইনগত বয়স · কিভাবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যায় · বাল্য বিবাহের শাস্তি কি · বিশেষ বিধান (ধারা ১৯) · বাল্যবিবাহ কি বৈধ?

সংক্ষেপে উত্তর

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী নারী ও ২১ বছরের কম বয়সী পুরুষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, আর যে বিয়ের যেকোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক সেটিই বাল্যবিবাহ। পরিকল্পিত বাল্যবিবাহের খবর যে কেউ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানাতে পারেন, তাঁরা বিয়ে বন্ধ করতে পারেন; আদালতও নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন। অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিয়ে করা প্রাপ্তবয়স্ক, বাবা-মা বা অভিভাবক, বিয়ে পড়ানো ব্যক্তি ও নিবন্ধক সবার কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় হতে পারে। অপরাধগুলো আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপসের অযোগ্য, আর মোবাইল কোর্ট বিচার করতে পারে।

বাংলাদেশে বিয়ের আইনগত বয়স

ধারা ২ অনুযায়ী বিয়ের জন্য প্রাপ্তবয়স্কতার বয়স নারীর ১৮ ও পুরুষের ২১। যেকোনো পক্ষ এর কম হলে সেটি বাল্যবিবাহ। নিবন্ধনের আগে নিবন্ধককে জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পরীক্ষার সনদ দেখে বয়স যাচাই করতে হয়। বয়সের ভুয়া কাগজ ব্যবহারও অপরাধ।

কিভাবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যায়

  1. সঙ্গে সঙ্গে কর্মকর্তাকে জানান: উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পুলিশ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর, অথবা ১০৯ হেল্পলাইন বা ৯৯৯-এ ফোন করুন। ধারা ৪ অনুযায়ী এঁরা মৌখিক বা লিখিত তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
  2. কর্মকর্তারা বিয়ে বন্ধ করতে পারেন ঘটনাস্থলেই, আর প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে পারেন।
  3. আদালতের নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫): আদালত বিয়ে না হওয়ার আদেশ দিতে পারেন। নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গে ৬ মাস পর্যন্ত, ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয়।

জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি (ধারা ৩) প্রতিরোধ কার্যক্রম সমন্বয় করে।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭-এর শাস্তি

বাল্য বিবাহের শাস্তি কি

কেশাস্তি
অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিয়ে করা প্রাপ্তবয়স্ক (ধারা ৭)২ বছর পর্যন্ত, ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয়
বিয়ে করা অপ্রাপ্তবয়স্ক (ধারা ৭)১ মাস পর্যন্ত আটকাদেশ, ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয়
বাবা-মা বা অভিভাবক (ধারা ৮)৬ মাস থেকে ২ বছর, ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয়
বিয়ে পড়ানো বা আয়োজনকারী (ধারা ৯)৬ মাস থেকে ২ বছর, ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয়
বিবাহ নিবন্ধক (কাজী) (ধারা ১১)৬ মাস থেকে ২ বছর, ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয়, এবং লাইসেন্স বাতিল
মিথ্যা অভিযোগ (ধারা ৬)৬ মাস পর্যন্ত, ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয়

অপরাধগুলো আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপসের অযোগ্য (ধারা ১৪), তাই পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই ব্যবস্থা নিতে পারে, আর মামলা ব্যক্তিগতভাবে মিটমাট করা যায় না।

বিশেষ বিধান (ধারা ১৯)

ধারা ১৯ “বিশেষ প্রেক্ষাপটে” অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ ও বাবা-মা বা অভিভাবকের সম্মতিতে, ২০১৮ সালের বিধিমালার পদ্ধতি মেনে অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়ের সুযোগ দেয়। এমন বিয়ে অপরাধ নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই বিধানকে ফাঁকফোকর বলে ব্যাপক সমালোচনা করেছে। এটি বিরল ক্ষেত্রের জন্য, আর আগেই আদালতের আদেশ লাগে; ইতিমধ্যে হয়ে যাওয়া বিয়েকে বৈধতা দিতে এটি ব্যবহার করা যায় না।

একটি পরিবর্তন আসছে। সরকার ২০২৬ সালে জানিয়েছে, আইন সংশোধন করে বিয়ের নিবন্ধনে কাগজের জন্মসনদের বদলে অনলাইন জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে, আর বিশেষ বিধানে অপ্রাপ্তবয়স্ক বিয়ের সুযোগ বন্ধ হবে। অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এটি খসড়া, আইন নয়; ১৮ ও ২১ বছরের নিয়ম আর উপরের শাস্তিই বহাল।

বাল্যবিবাহ কি বৈধ?

আইনটি বাল্যবিবাহকে শাস্তিযোগ্য করেছে, কিন্তু বাতিল ঘোষণা করেনি। মুসলিমদের ক্ষেত্রে অভিভাবক অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মেয়ের বিয়ে দিলে, দাম্পত্য সম্পর্ক না হয়ে থাকলে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর আইনে নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে মেয়ে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন (খিয়ার-উল-বুলুগ), আর মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯ এটিকে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে স্বীকার করে। দেনমোহর ও ভরণপোষণের অধিকার থাকে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরামর্শ নিন।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
বাল্যবিবাহের খবর পেলে
১

আগেভাগে ব্যবস্থা

বিয়ের তারিখের আগে।

২

কর্মকর্তাকে জানান

ইউএনও, পুলিশ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান।

৩

১০৯ বা ৯৯৯

হেল্পলাইন ২৪ ঘণ্টা খোলা।

৪

নিষেধাজ্ঞা চান

আদালত বিয়ে বন্ধ করতে পারেন।

সরল বিশ্বাসে খবর দেওয়া সুরক্ষিত। শুধু ইচ্ছাকৃত মিথ্যা অভিযোগ শাস্তিযোগ্য।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাল্য বিবাহ কি?

যে বিয়ের যেকোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, অর্থাৎ নারী ১৮ বা পুরুষ ২১ বছরের কম, সেটিই বাল্যবিবাহ।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন কত সালে হয়?

২০১৭ সালে, ১৯২৯ সালের পুরনো আইনের জায়গায়। বিধিমালা হয় ২০১৮ সালে।

বাল্য বিবাহের শাস্তি কি?

অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিয়ে করা প্রাপ্তবয়স্কের ২ বছর পর্যন্ত, ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয়। বাবা-মা, আয়োজনকারী ও কাজীর ৬ মাস থেকে ২ বছর বা ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

কিভাবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যায়?

ইউএনও, পুলিশ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বা ইউপি চেয়ারম্যানকে জানান, বা ১০৯ বা ৯৯৯-এ ফোন করুন। আদালতও নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন।

বাল্যবিবাহ রেজিস্ট্রি করলে কাজীর কী হয়?

৬ মাস থেকে ২ বছর কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, এবং নিবন্ধন লাইসেন্স বাতিল।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ধারা ১৯ কী?

বিশেষ বিধান: বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশ ও বাবা-মায়ের সম্মতিতে বিয়ের সুযোগ।

বাল্যবিবাহ কি অবৈধ বা বাতিল?

আইন শাস্তি দেয়, তবে বিয়েকে বাতিল ঘোষণা করে না। কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবকের দেওয়া বিয়ে মুসলিম মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।

বাল্যবিবাহের মামলা কি আপসে মেটানো যায়?

না। অপরাধগুলো আপসের অযোগ্য। এগুলো আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য।

পরিবার ও বিয়ে বিষয়ে আরও পড়ুন

তালাক, বিয়ে, সন্তানের হেফাজত, দেনমোহর ও ভরণপোষণ।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

বাল্যবিবাহ থামাতে বা এর পরিণতি সামলাতে চান?

আমরা দ্রুত প্রশাসন ও আদালতের সঙ্গে ব্যবস্থা নিই, আর যাঁদের বিয়ে হয়ে গেছে তাঁদের বিচ্ছেদ, দেনমোহর ও ভরণপোষণে পরামর্শ দিই। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।