Skip to content

হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন: নিয়ম, কাগজপত্র, ফি ও আপনার অধিকার

বাংলাদেশে বেশিরভাগ হিন্দু বিয়ে ধর্মীয় রীতিতে হয়, নিবন্ধন হয় না। রেজিস্ট্রেশন ঐচ্ছিক, কিন্তু না থাকলে পাসপোর্ট, ভিসা, ভরণপোষণ বা উত্তরাধিকারের সময় স্ত্রীর পক্ষে বিয়ে প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যায়। এখানে আছে রেজিস্ট্রেশন কীভাবে হয়, খরচ কত, আর বিয়ে ভাঙার মুখে আইন কী সুরক্ষা দেয়।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন ২০১২হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৩হিন্দু বিবাহিত নারীর পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ আইন ১৯৪৬
শেয়ার করুন
শাঁখা-পলা, সিঁদুরের কৌটা ও কলমসহ রেজিস্ট্রেশন বই — বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন
এক নজরে
  • রেজিস্ট্রেশন ঐচ্ছিক; নিবন্ধন ছাড়া শাস্ত্রীয় বিয়েও বৈধ
  • সরকার-লাইসেন্সপ্রাপ্ত হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক রেজিস্ট্রি করেন
  • বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী কনের বয়স ১৮, বরের ২১ হতে হবে
  • বাংলাদেশে হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদ নেই; পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ পাওয়া যায়

এই গাইডে: হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কি বাধ্যতামূলক? · রেজিস্ট্রেশনের ধাপ · বয়স, সম্মতি ও কাগজপত্র · হিন্দু কোর্ট ম্যারেজ ও আন্তঃধর্মীয় বিয়ে · হিন্দু স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ ও ভরণপোষণ

সংক্ষেপে উত্তর

ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হিন্দু বিয়ে নিবন্ধন হোক বা না হোক, বৈধ। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন ২০১২ অনুযায়ী দম্পতি সরকার-লাইসেন্সপ্রাপ্ত হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কাছে দুজনের তথ্য ও দুজন সাক্ষীসহ আবেদন করে বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে পারেন। প্রচলিত ফি ১,০০০ টাকা। রেজিস্ট্রেশন দম্পতিকে, বিশেষ করে স্ত্রীকে, পাসপোর্ট, ভিসা, ভরণপোষণ ও উত্তরাধিকারের জন্য সরকারি প্রমাণ দেয়। বাংলাদেশে হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের সুযোগ নেই, তবে স্ত্রী পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন।

হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কি বাধ্যতামূলক?

না। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন ২০১২-এর ধারা ৩ অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ঐচ্ছিক, আর রেজিস্ট্রি না করলে বিয়ে অবৈধ হয় না। মুসলিম বিয়েতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং না করা অপরাধ; হিন্দু বিয়েতে তা নয়।

তবু রেজিস্ট্রি করে রাখা খুবই জরুরি। পাসপোর্ট, স্পাউস ভিসা, ব্যাংকের নমিনি, ভরণপোষণ মামলা বা উত্তরাধিকার বিরোধে নিবন্ধন সনদই বিয়ের সবচেয়ে সহজ প্রমাণ।

রেজিস্ট্রেশনের ধাপ

  1. নিবন্ধক খুঁজুন: আপনার উপজেলা বা সিটি কর্পোরেশনের হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক।
  2. আবেদন পূরণ করুন: নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, বিয়ের তারিখ ও স্থান।
  3. কাগজ জমা দিন: দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আর বিয়েতে উপস্থিত দুজন সাক্ষীর তথ্য।
  4. নিবন্ধকের সামনে সই করুন সাক্ষীসহ, এবং ফি দিন।
  5. সনদ সংগ্রহ করুন বা নিবন্ধন বইয়ের সত্যায়িত কপি নিন।

বিয়ের পরে, এমনকি কয়েক বছর পরেও রেজিস্ট্রি করা যায়, যদি স্বামী-স্ত্রী দুজনই আবেদন করতে পারেন।

হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বয়স, সম্মতি ও কাগজপত্র

  • বয়স: কনের বয়স অন্তত ১৮, বরের অন্তত ২১। নিবন্ধক বাল্যবিবাহ রেজিস্ট্রি করতে পারেন না।
  • সম্মতি: দুজনের একসঙ্গে আবেদন করা উচিত। এক পক্ষ রাজি না হলে অন্য পক্ষকে বিয়ে প্রমাণে আদালতের সাহায্য নিতে হতে পারে।
  • কাগজ: জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ, ছবি, সাক্ষীর তথ্য, আর সম্ভব হলে বিয়ের প্রমাণ (ছবি, নিমন্ত্রণপত্র, পুরোহিতের প্রত্যয়ন)।

হিন্দু কোর্ট ম্যারেজ ও আন্তঃধর্মীয় বিয়ে

নোটারির সামনে সই করা হলফনামা বিয়ে নয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়া আইনি রেকর্ড চাইলে হিন্দু দম্পতি সাধারণত বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ অনুযায়ী সরকার-নিযুক্ত রেজিস্ট্রারের সামনে বিয়ে করেন। এই আইনে হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ ও জৈনরা নিজ ধর্ম ত্যাগ না করেই পরস্পরকে বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু হিন্দু ও মুসলিমের বিয়ে এই আইনে করতে হলে দুজনকেই ঘোষণা দিতে হয় যে তাঁরা কোনো ধর্ম পালন করেন না, যার উত্তরাধিকারে গুরুতর প্রভাব আছে। আগে পরামর্শ নিন।

হিন্দু স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ ও ভরণপোষণ

বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ আইন নেই, আর আদালত হিন্দু বিয়েকে অবিচ্ছেদ্য হিসেবে দেখেন। স্বামীর নিষ্ঠুরতা, পরিত্যাগ বা দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রী হিন্দু বিবাহিত নারীর পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ আইন ১৯৪৬ অনুযায়ী পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন। ভরণপোষণের মামলা হয় পারিবারিক আদালতে। পারিবারিক সহিংসতা আইন ২০১০-এর সুরক্ষাও নিতে পারেন।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
হিন্দু বিয়ে রেজিস্ট্রির ধাপ
১

নিবন্ধক খুঁজুন

উপজেলা বা সিটি কর্পোরেশন।

২

কাগজ গুছিয়ে নিন

এনআইডি, ছবি, সাক্ষীর তথ্য।

৩

সই ও ফি

দুজন এবং দুজন সাক্ষী।

৪

সনদ রাখুন

পাসপোর্ট, ভিসা, ভরণপোষণে প্রমাণ।

বিয়ের পরেও রেজিস্ট্রি করা যায়। বিয়ে প্রমাণের দরকার পড়ার আগেই করে ফেলুন।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কি বাধ্যতামূলক?

না। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন ২০১২ অনুযায়ী ঐচ্ছিক, আর নিবন্ধন ছাড়াও বিয়ে বৈধ। তবে প্রমাণের জন্য রেজিস্ট্রি করা উচিত।

হিন্দু বিয়ে কোথায় রেজিস্ট্রি করতে হয়?

আপনার উপজেলা বা সিটি কর্পোরেশন এলাকার সরকার-লাইসেন্সপ্রাপ্ত হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কাছে।

হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ফি কত?

২০১৩ সালের বিধিমালা অনুযায়ী প্রচলিত ফি ১,০০০ টাকা। বর্তমান ফি নিবন্ধকের কাছ থেকে জেনে নিন।

হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ফরমের সঙ্গে কী কাগজ লাগে?

স্বামী-স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন, ছবি, দুজন সাক্ষীর তথ্য, আর বিয়ের তারিখ ও স্থান।

কয়েক বছর পরে কি বিয়ে রেজিস্ট্রি করা যায়?

হ্যাঁ। স্বামী-স্ত্রী দুজন আবেদন করলে বিয়ের পরেও রেজিস্ট্রি করা যায়।

হিন্দু কোর্ট ম্যারেজ কিভাবে করব?

নোটারি করা হলফনামা বিয়ে নয়। সরকারি রেজিস্ট্রারের সামনে বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ অনুযায়ী সিভিল বিয়ে করা যায়।

বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ কিভাবে করতে হয়?

হিন্দু আইনে বাংলাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদের বিধান নেই। স্ত্রী ১৯৪৬ সালের আইন অনুযায়ী পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন।

হিন্দু স্ত্রী ভরণপোষণের মামলা কোথায় করবেন?

পারিবারিক আদালতে, যেখানে সব ধর্মের ভরণপোষণ মামলা হয়।

পরিবার ও বিয়ে বিষয়ে আরও পড়ুন

তালাক, বিয়ে, সন্তানের হেফাজত, দেনমোহর ও ভরণপোষণ।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

হিন্দু বিয়ে রেজিস্ট্রি বা প্রমাণ করতে চান?

আমরা রেজিস্ট্রেশন, বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে, এবং ভরণপোষণ ও পৃথক বাসস্থানের মামলায় সহায়তা করি। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।