Skip to content

মেয়েরা কিভাবে ডিভোর্স দেয়: তালাক-ই-তাফউইজ, খুলা ও আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ

বাংলাদেশে অনেক নারীকে বলা হয় শুধু স্বামীই তালাক দিতে পারেন। কথাটি ভুল। মুসলিম স্ত্রীর বিয়ে থেকে বের হওয়ার তিনটি আইনি পথ আছে, যার দুটিতে স্বামীর সম্মতি লাগে না। এখানে আছে প্রতিটি পথ কীভাবে কাজ করে, দেনমোহরের কী হয়, আর কোন ভুলে কাগজে-কলমে বিয়ে থেকে যায় তা কীভাবে এড়াবেন।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১, ধারা ৭, ৮মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩
শেয়ার করুন
চিহ্নিত শর্তসহ কাবিননামা, আংটি ও চাবি — বাংলাদেশে স্ত্রীর তালাকের অধিকার (তাফউইজ ও খুলা)
এক নজরে
  • কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া যায়
  • খুলা: সমঝোতায় তালাক, সাধারণত দেনমোহরের কিছু বা পুরোটা ছেড়ে
  • নিষ্ঠুরতা বা দুই বছর ভরণপোষণ না দেওয়ার মতো কারণে আদালতে তালাক
  • প্রতিটি পথের শেষে চেয়ারম্যানকে নোটিশ ও ৯০ দিন

এই গাইডে: তিন পথের তুলনা · তালাক-ই-তাফউইজ: ১৮ নম্বর ঘরের ব্যবহার · খুলা তালাক কি ও খুলা তালাকের নিয়ম · পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ · তালাকের পর

সংক্ষেপে উত্তর

বাংলাদেশে মুসলিম স্ত্রী তিনভাবে বিয়ে শেষ করতে পারেন। কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া থাকলে তিনি নিজেই তালাক দিতে পারেন (তালাক-ই-তাফউইজ)। স্বামীর সঙ্গে সমঝোতায় খুলা করতে পারেন, সাধারণত দেনমোহরের কিছু বা পুরোটা ফিরিয়ে দিয়ে। অথবা মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯-এর কারণে পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ চাইতে পারেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানকে নোটিশ যায় এবং ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়।

তিন পথের তুলনা

পথস্বামীর সম্মতিদেনমোহর
তালাক-ই-তাফউইজ (১৮ নম্বর ঘর)এখন লাগে না; তিনি কাবিননামায়ই ক্ষমতা দিয়েছেনঅপরিশোধিত পুরো দেনমোহর প্রাপ্য
খুলালাগেসাধারণত সমঝোতা অনুযায়ী ফেরত বা মাফ
আদালতের তালাক (১৯৩৯ সালের আইন)লাগে নাঅপরিশোধিত পুরো দেনমোহর প্রাপ্য
স্ত্রীর তালাকের তিন পথ: তালাক-ই-তাফউইজ, খুলা ও আদালতের তালাক

তালাক-ই-তাফউইজ: ১৮ নম্বর ঘরের ব্যবহার

  1. কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘর দেখুন। স্বামী তালাকের ক্ষমতা দিয়ে থাকলে সেখানে লেখা শর্তগুলো খেয়াল করুন।
  2. লিখিত তালাকের ঘোষণায় সই করুন।
  3. এলাকার চেয়ারম্যান (বা মেয়র বা প্রশাসক) বরাবর নোটিশ পাঠান, স্বামীকে কপিসহ, প্রাপ্তিস্বীকারসহ রেজিস্ট্রি ডাকে।
  4. ৯০ দিন অপেক্ষা করুন। চেয়ারম্যান আপসের জন্য সালিশি পরিষদ গঠন করেন; পরিষদ তালাক আটকাতে পারে না।
  5. নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তালাক নিবন্ধন করে সত্যায়িত কপি নিন।

১৮ নম্বর ঘর ফাঁকা বা কাটা থাকলে এই পথ নেই। খুলা বা আদালতের তালাক বেছে নিন।

খুলা তালাক কি ও খুলা তালাকের নিয়ম

খুলায় স্ত্রী তালাক চান আর স্বামী রাজি হন, সাধারণত স্ত্রী দেনমোহরের কিছু বা পুরোটা ছেড়ে দেন বা উপহার ফেরত দেন। সমঝোতা লিখিত করুন: অঙ্ক, সন্তানের হেফাজত ও ভরণপোষণ, কার জিনিস কে রাখবেন। তারপর নোটিশ ও ৯০ দিনের প্রক্রিয়া। চাপে করা খুলা, বা সন্তানের ভরণপোষণ কেড়ে নেওয়া খুলা চ্যালেঞ্জ করা যায়।

পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ

মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯-এর ধারা ২ অনুযায়ী স্ত্রী আদালতের কাছে বিয়ে ভাঙার ডিক্রি চাইতে পারেন, অন্যান্য কারণের মধ্যে যদি:

  • চার বছর ধরে স্বামীর খোঁজ না থাকে;
  • দুই বছর ধরে স্বামী ভরণপোষণ না দেন;
  • সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করেন;
  • সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হয়;
  • তিন বছর ধরে দাম্পত্য দায়িত্ব পালন না করেন;
  • পুরুষত্বহীন হন, বা দুই বছর ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ থাকেন বা গুরুতর রোগে আক্রান্ত হন;
  • ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ১৯ বছরের আগে, সহবাস ছাড়া, তিনি বিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন;
  • নিষ্ঠুর আচরণ করেন, যেমন নিয়মিত মারধর, অসৎ জীবনযাপন, অনৈতিক জীবনে বাধ্য করা, স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা বা ধর্মপালনে বাধা;
  • মুসলিম আইনে স্বীকৃত অন্য কোনো কারণ।

ডিক্রির পর আদালত চেয়ারম্যানকে কপি পাঠান, আর ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়।

তালাকের পর

  • ইদ্দত: তিন মাস, গর্ভবতী হলে সন্তান জন্ম পর্যন্ত। এ সময়ের ভরণপোষণ স্বামী দেবেন।
  • সন্তান: ছোট সন্তানের দৈনন্দিন হেফাজত মা পান; বাবাকে ভরণপোষণ দিতে হয়।
  • আবার বিয়ে: ইদ্দতের পর, নিবন্ধিত তালাকের কাগজসহ।
  • দেনমোহর: বাকি অঙ্ক পারিবারিক আদালতে দাবি করুন; সময়সীমা সাধারণত তিন বছর।
এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
স্ত্রীর তালাকের ধাপ
১

পথ বেছে নিন

১৮ নম্বর ঘর, খুলা, বা আদালত।

২

নোটিশ বা ডিক্রি

চেয়ারম্যানকে নোটিশ, বা আদালতের ডিক্রি।

৩

৯০ দিন

সালিশি পরিষদ; তালাক কার্যকর।

৪

নিবন্ধন ও দাবি

কাজীর কাছে নিবন্ধন; দেনমোহর ও ভরণপোষণ।

আগে ১৮ নম্বর ঘর দেখুন। এটিই ঠিক করে আপনার স্বামীর সম্মতি লাগবে, নাকি আদালত।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

স্ত্রী কি স্বামীকে তালাক দিতে পারেন?

হ্যাঁ। কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরের ক্ষমতায়, সমঝোতায় খুলার মাধ্যমে, অথবা মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯-এর কারণে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে।

খোলা তালাক কি?

স্ত্রীর উদ্যোগে, স্বামীর সম্মতিতে তালাক, সাধারণত স্ত্রী দেনমোহরের কিছু বা পুরোটা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে।

খোলা তালাকের নিয়ম কী?

শর্তগুলো লিখিত করুন, স্বামীকে কপিসহ চেয়ারম্যানকে নোটিশ দিন, ৯০ দিন অপেক্ষা করুন, তারপর কাজীর কাছে নিবন্ধন করুন।

তালাক-ই-তাফউইজ কি?

কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে স্বামীর দেওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে স্ত্রীর তালাক।

কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘর ফাঁকা থাকলে কী করব?

অর্পিত তালাক দেওয়া যাবে না। খুলা চান, অথবা আইনের কারণে পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করুন।

স্ত্রী তালাক দিলে কি দেনমোহর পান?

হ্যাঁ, অর্পিত ক্ষমতায় ও আদালতের তালাকে বাকি পুরো দেনমোহর প্রাপ্য। খুলায় সমঝোতা অনুযায়ী।

কোন কারণে স্ত্রী আদালতে তালাক পেতে পারেন?

চার বছর স্বামীর খোঁজ না থাকা, দুই বছর ভরণপোষণ না দেওয়া, অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে, সাত বছরের কারাদণ্ড, পুরুষত্বহীনতা, মানসিক অসুস্থতা বা নিষ্ঠুরতাসহ বিভিন্ন কারণে।

স্ত্রীর তালাক কতদিন পর কার্যকর হয়?

চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিন পর, গর্ভবতী হলে সন্তান জন্মের পর।

পরিবার ও বিয়ে বিষয়ে আরও পড়ুন

তালাক, বিয়ে, সন্তানের হেফাজত, দেনমোহর ও ভরণপোষণ।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

নিরাপদে বিয়ে থেকে বের হতে চান?

আমরা সঠিক পথ বেছে নিতে পরামর্শ দিই, নোটিশ লিখে পাঠাই বা পারিবারিক আদালতে মামলা করি, এবং আপনার দেনমোহর ও সন্তানের অধিকার রক্ষা করি। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।