Skip to content

পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩: কোন মামলা চলে, কী বদলেছে ও মামলা কীভাবে চলে

বাংলাদেশে তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজতের বিরোধ যায় পারিবারিক আদালতে। ২০২৩ সালে এই আদালত গঠনকারী ১৯৮৫ সালের অধ্যাদেশের জায়গায় এসেছে পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩। বেশিরভাগ প্রক্রিয়া একই আছে, তবে ফি ও আপিল বদলেছে। এখানে আছে আদালত কী শোনে, মামলা কীভাবে এগোয় আর প্রতিটি ধাপে কী আশা করবেন।

পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০
শেয়ার করুন
বিচারকের হাতুড়ি, মামলার ফাইল ও ছোট খেলনা ঘর — পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩
এক নজরে
  • পাঁচ বিষয়: বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার, দেনমোহর, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও হেফাজত
  • আরজির কোর্ট ফি এখন ২০০ টাকা
  • বিচারের আগে ও পরে আপসের চেষ্টা
  • আপিল যায় জেলা জজের নেতৃত্বে পারিবারিক আপিল আদালতে

এই গাইডে: পারিবারিক আদালতে কোন মামলা চলে · ২০২৩ সালে কী বদলেছে · পারিবারিক আদালতে মামলা কীভাবে চলে · ডিক্রি কার্যকর করা · আপিল · পারিবারিক আদালত কোথায়

সংক্ষেপে উত্তর

পারিবারিক আদালত হলো সিভিল জজের নেতৃত্বে একটি দেওয়ানি আদালত, যা পাঁচ ধরনের পারিবারিক বিরোধের বিচার করে: বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত। পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫-এর জায়গা নিয়েছে। বেশিরভাগ প্রক্রিয়া একই রেখে আরজির ফি ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করেছে এবং জেলা জজের নেতৃত্বে পারিবারিক আপিল আদালত গঠন করেছে। পুরোনো আইনে চলমান মামলাগুলো চলবে।

পারিবারিক আদালতে কোন মামলা চলে

মামলাসাধারণ দাবি
বিবাহবিচ্ছেদমুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯-এর কারণে স্ত্রীর তালাক
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারএক পক্ষ অন্য পক্ষকে সংসারে ফেরার আদেশ চান
দেনমোহরঅপরিশোধিত তাৎক্ষণিক বা বিলম্বিত মোহর
ভরণপোষণবিয়ে চলাকালে ও ইদ্দতে স্ত্রীর এবং সন্তানের ভরণপোষণ
অভিভাবকত্ব ও হেফাজতসন্তান কার কাছে থাকবে, সাক্ষাৎ, বাবার অভিভাবকত্ব

স্ত্রী সাধারণত যেখানে থাকেন সেখানেই মামলা করতে পারেন। যৌতুক বা নির্যাতনের মতো ফৌজদারি বিষয় অন্য আদালতে যায় এবং একই সময়ে চলতে পারে।

আরজি থেকে আপিল পর্যন্ত পারিবারিক আদালতের মামলার ধাপ

২০২৩ সালে কী বদলেছে

  • পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ রহিত হয়ে পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ এসেছে।
  • আরজির কোর্ট ফি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে।
  • জেলা জজের নেতৃত্বে পারিবারিক আপিল আদালত গঠন করা হয়েছে।
  • আপস ও পাঁচ ধরনের মামলাসহ বেশিরভাগ প্রক্রিয়া একই আছে।
  • পুরোনো অধ্যাদেশে দায়ের করা মামলা সেভাবেই চলবে।

পারিবারিক আদালতে মামলা কীভাবে চলে

  1. আরজি: দাবি, ঘটনা, নির্ভরযোগ্য কাগজ (কাবিননামা, নোটিশ, জন্মসনদ) ও সাক্ষীর তালিকা।
  2. সমন: অপর পক্ষের কাছে যায়, তিনি লিখিত জবাব দেন।
  3. বিচারপূর্ব আপস: বিচারক বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেন। অনেক দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা এখানেই শেষ হয়।
  4. বিচার: সাক্ষ্য ও সাক্ষী।
  5. বিচার-পরবর্তী আপস: রায়ের আগে আরও একবার চেষ্টা।
  6. রায় ও ডিক্রি।

যেসব জেলায় আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন ২০২৬ কার্যকর, সেখানে পারিবারিক বিরোধ প্রথমে লিগ্যাল এইড অফিসে মামলাপূর্ব মধ্যস্থতায় যায়।

ডিক্রি কার্যকর করা

দেনমোহর বা ভরণপোষণের ডিক্রি টাকার ডিক্রির মতো কার্যকর হয়: বেতন, ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি থেকে। খেলাপি স্বামীকে নির্দিষ্ট মেয়াদে আটক রাখার আদেশও আদালত দিতে পারেন। মামলা চলাকালে অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ চাওয়া যায়। প্রতিটি প্রাপ্ত টাকার রেকর্ড রাখুন।

আপিল

আপিল যায় জেলা জজের নেতৃত্বে পারিবারিক আপিল আদালতে, সাধারণত ডিক্রির ৩০ দিনের মধ্যে। রায়ের সত্যায়িত কপি সঙ্গে রাখুন। এরপর শুধু আইনের প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন করা যায়।

পারিবারিক আদালত কোথায়

প্রতিটি জেলার সিভিল জজ (আগের নাম সহকারী জজ) আদালতে এবং অনেক উপজেলা চৌকি আদালতে পারিবারিক আদালত বসে। ঢাকায় এটি ঢাকা জজ কোর্ট চত্বরে। আপনার আইনজীবী এলাকাভিত্তিক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে মামলা করেন।

এটি সাধারণ তথ্য, আপনার মামলার পরামর্শ নয়। এখানে আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনার কাগজপত্র, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট জেলার চর্চাই ঠিক করবে আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।
পারিবারিক আদালতের মামলা
১

আরজি ও ফি

দাবি, কাগজ, সাক্ষী; ২০০ টাকা ফি।

২

আপস

বিচারের আগে বিচারক মীমাংসার চেষ্টা করেন।

৩

বিচার ও ডিক্রি

সাক্ষ্য, শেষ আপসের চেষ্টা, রায়।

৪

কার্যকর বা আপিল

ডিক্রি জারি, বা জেলা জজের কাছে আপিল।

শুরু থেকে কাগজপত্র ঠিক থাকলে বেশিরভাগ দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা আপসেই মেটে।পরামর্শের সময় নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

পারিবারিক আদালত কাকে বলে?

সিভিল জজের নেতৃত্বে দেওয়ানি আদালত, যা বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং অভিভাবকত্ব ও হেফাজতের মামলার বিচার করে।

পারিবারিক আদালতে কোন কোন মামলা চলে?

পাঁচ ধরনের: বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত।

পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩-এ কী বদলেছে?

১৯৮৫ সালের অধ্যাদেশের জায়গা নিয়েছে, আরজির ফি ২৫ টাকা থেকে ২০০ টাকা করেছে এবং জেলা জজের নেতৃত্বে পারিবারিক আপিল আদালত গঠন করেছে। বেশিরভাগ প্রক্রিয়া একই আছে।

পারিবারিক আদালতে মামলার কোর্ট ফি কত?

২০২৩ সালের আইনে আরজিতে ২০০ টাকা, সঙ্গে আইনজীবী ও আনুষঙ্গিক খরচ।

পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ কি এখনো চলে?

না। পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ এর জায়গা নিয়েছে, তবে এর অধীনে দায়ের করা মামলা চলবে।

পারিবারিক আদালত কোথায় মামলা করব?

এলাকাভিত্তিক এখতিয়ারসম্পন্ন পারিবারিক আদালতে; দেনমোহর, ভরণপোষণ ও তালাকের মামলায় সাধারণত স্ত্রী যেখানে থাকেন সেখানে।

পারিবারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল কোথায়?

জেলা জজের নেতৃত্বে পারিবারিক আপিল আদালতে, সাধারণত ডিক্রির ৩০ দিনের মধ্যে।

পারিবারিক মামলার আগে কি মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক?

আদালতকে আপসের চেষ্টা করতে হয়। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন ২০২৬ কার্যকর জেলাগুলোতে আগে লিগ্যাল এইড অফিসে মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা হয়।

পরিবার ও বিয়ে বিষয়ে আরও পড়ুন

তালাক, বিয়ে, সন্তানের হেফাজত, দেনমোহর ও ভরণপোষণ।

এই বিষয়ের সব লেখা →
শেয়ার করুন

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম প্রশ্ন বা মতামত আপনিই লিখুন।

মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য প্রকাশের আগে চেম্বার থেকে যাচাই করা হয়। মামলার গোপন তথ্য, ফোন নম্বর বা লিংক দেবেন না। এখানে দেওয়া উত্তর সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের জন্য চেম্বারে যোগাযোগ করুন।

পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আদালতে যাচ্ছেন?

আমরা তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও হেফাজতের মামলা করি ও মোকাবিলা করি, আর আগে মীমাংসার চেষ্টা করি। লিখিত প্রাথমিক মূল্যায়ন বিনামূল্যে।